📄 বিবাহে প্রচলিত কু-প্রথা
১. চন্দ্রবর্ষের কোনো মাসে বা কোনো দিনে অথবা বর, কনের জন্ম তারিখে বা তাদের পূর্ব পুরুষের মৃত্যুর তারিখে বিয়ে-শাদী হওয়া অথবা যেকোনো সৎ কাজ করার জন্য ইসলামি শরিয়তে বা ইসলামি দিন-তারিখের কোনো বিধি নিষেধ নেই। বরং উপরিউক্ত কাজগুলো বিশেষ কোনো মাসে বা যেকোনো দিনে করা যাবে না বলে মনে করাই হল কুসংস্কার।
২. বিবাহ উৎসবে অথবা অন্য যেকোনো উৎসবে পটকা-আতশবাজি ফুটানো, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা, রংবাজী করা বা রঙ দেওয়ার ছড়াছড়ি ইসলামের দৃষ্টিতে অপচয় ও নাজায়েজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ।
৩. বাঁশের কুলায় চন্দন, মেহেদি, হলুদ, কিছু ধান-দূর্বাঘাস, কিছু কলা, সিঁদুর ও মাটির চাটি নেওয়া হয়। মাটির চাটিতে তেল নিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। স্ত্রী বরের কপালে তিনবার হলুদ লাগায়, এমনকি মূর্তিপূজার ন্যায় কুলাতে রাখা আগুন জ্বালানো চাটি বর-কনের মুখের সামনে ধরা হয় ও আগুনের ধোঁয়া ও কুলা হেলিয়ে-দুলিয়ে বাতাস দেওয়া হয়-এগুলো হিন্দুয়ানী প্রথা ও অনৈসলামিক কাজ। এগুলো সমাজ থেকে বাদ দিতে হবে।
৪. বরের আত্মীয়রা কনেকে কোলে তুলে বাসর ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া অথবা বরের কোলে করে মুরুব্বীদের সামনে স্ত্রীর বাসর ঘরে গমনের নীতি একটি বেহায়াপনা, নির্লজ্জতা ও অনৈসলামিক কাজ। এটা ভয়াবহ গুনাহ।
৫. বরের ভাবী ও অন্য যুবতী মেয়েরা বরকে সমস্ত শরীরে হলুদ মাখিয়ে গোসল করিয়ে দেওয়া নির্লজ্জ কাজ-যা ইসলাম সমর্থন করে না।
৬. বর ও কনেকে হলুদ বা গোসল করতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাথার উপর বড় চাদরের চার কোনা চার জনের ধরা-এটা হিন্দুয়ানী প্রথা।
৭. বিবাহ করতে যাওয়ার সময় বরকে পিঁড়িতে বসিয়ে দই-ভাত খাওয়ানো ইসলামিক প্রথা নয়।
৮. বিবাহ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর বরকে দাঁড় করিয়ে সালাম দেওয়ানোর প্রথা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) দ্বারা প্রমাণিত নয়।
৯. বর ও কনের মুরুব্বীদের কদমবুসি করা একটি মারাত্মক গুনাহের কাজ। বিয়ে তো নয়, এমনকি যেকোনো সময় কদমবুসি করা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) দ্বারা কোনো কালে প্রমাণিত নয়। কদমবুসি করার সময় সালাতের রুকু-সিজদার মত অবস্থা হয়। এটা শরিক। বেশি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে হিন্দুয়ানী প্রণামকে প্রথা হিসেবে নিয়ে আসা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য নয়।
হে আল্লাহ! দয়া করে আপনি আমাদের সুন্নাত তরীকায় বিবাহ করার তাওফিক দিন। আমিন।
টিকাঃ
৫৮ ** লিখেছেন: হুসাইন বিন সোহরাব।
📄 বাংলার গ্রাম্য বিয়ে : কোনটি ইসলামে আছে বলুন?
দেখুন গ্রামের বিয়ের হালচাল:
* মেয়েকে দেখতে যায় ছেলের বন্ধু, দুলা ভাই, বড় ভাই ও ছেলের বাবা।
* দুই মাস তিন মাস আগে ছেলে নিজে মেয়ের হাত ধরে আংটি পরায়।
* শুরু হয় কামভাব জাগানো প্রেমের গল্প। হালাল সর্ম্পক তৈরি হবার পূর্বে হারামে তারা ডুবে যায়।
* অন্য পুরুষ ভাড়া করে বিয়েতে ভিডিও করা।
* মেয়ের বাড়িতে বিয়ের ওলিমা করা।
* যৌতুক বা একঘর ফার্ণিচার চাওয়া।
* বিয়ে বাড়িতে পাঁচতলা বিশিষ্ট গেইট দেওয়া।
* হলুদ অনুষ্ঠান ও শিরক মিশ্রিত গীতিগান গাওয়া।
* মেয়ের গোসলের পানি দুলাভাই কলসির মুখে গামছা পেঁচিয়ে নিয়ে আসা এবং শালীদের কাছে বকসিস চাওয়া অথবা ছেলের গোসলের পানি ভাবি ঐভাবে নিয়ে আসা।
* মেয়েকে ভাবি গোসল করানো এবং অন্যের নিকট বলা অমুকের শরীর নরম অথবা দুলাভাই শালাকে গোসল করানো এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলা।
* ছেলে মাথায় হিন্দুদের মত তাজ পরা।
* বিয়ের গেটে দুলহা রুমাল মুখে দিয়ে বসে থাকা আর শালীরা দুলা ভাইয়ের গলায় ফুলের মালা দেওয়া, অন্যান্য যুবকেরা মেয়েদের ছবি উঠানো এবং তিরস্কার করা, অতঃপর এক গ্লাসে হলুদের গুড়া আরেক গ্লাসে জুস দিয়ে বরকে পরীক্ষা করা।
* বর স্টেজে রুমাল মুখে দিয়ে বসে থাকে আর মেয়ের পিতা না গিয়ে অন্যান্য মুরুব্বি গিয়ে মেয়ের হাতে পান-সুপারি দিয়ে মেয়েকে পিড়াপিড়ি করে কবুল বলার জন্য।
* এরপর ছেলের কাছে এসে খুৎবা পড়ে আবার ছেলেকে পিড়াপিড়ি করে, অবশেষে হাত তুলে সম্মিলিত মুনাজাত।
* লোক ভেদে গোটা মুরগি বিতরন।
• ছেলেকে বাসর ঘরে মেয়ের কাছে যেতে বকশিসের জন্য দরজা বন্ধ করে পরীক্ষা করা।
• ছেলের বাসর ঘরে স্ত্রীর মাথায় হাত রেখে দুআ না পড়া এবং মিষ্টান্নের ব্যবস্থা না করা।
• মোহর পরিশোধের নিয়ত বা পরিশোধ না করে ক্ষমা চাওয়া।
• মিলনের পূর্বে দুআ না পড়া।
এখন বলুন—আপনার বিয়েতে ইসলামি কোন কাজটা হয়েছে? উপরের কোনোটিই শরীয়ত সমর্থিত নয়।
টিকাঃ
From: Ajhwaz/সঙ্গী।