📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 মেয়ের বাড়ি থেকে কি দিল?

📄 মেয়ের বাড়ি থেকে কি দিল?


বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিবাহ করা নবিগণের (আলাহিস সালাতু ওয়াসসালাম) সুন্নাত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিয়ে করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে করে না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইমাম রাগিব রহিমাহুল্লাহ বলেন, বিয়েকে দুর্গ বলা হয়েছে, কেননা (বিয়ে) স্বামী-স্ত্রী উভয়কে সকল প্রকার লজ্জাজনক কাজ থেকে দুর্গবাসীদের মতোই বাঁচিয়ে রাখে। তবে এই পবিত্র কর্ম পালন করতে গিয়ে মাঝে মাঝে কিছু কু-প্রথা মানা হয়। যা অনুচিত। আসুন নবিগণের (আলাহিস সালাতু ওয়াসসালাম) এই সুন্নাতকে সুন্নাত তরিকায় পালন করি।

বিয়ের পর ছেলের আত্মীয়দের এটা এখন খুবই কমন প্রশ্ন। এমনভাবে জিজ্ঞাসা করবে—যেন মেয়ের বাড়ি থেকে কিছু পাওয়া ছেলের পরিবারের জন্মগত অধিকার। ছি ছি ছি...। সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল তো আরও একধাপ উপরে। বাংলাদেশের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতির দিক থেকে এই দুই বিভাগের লোক এগিয়ে, কিন্তু এই দুই এলাকাতেই এই কুপ্রথা অধিক দেখা যায়। বিয়ের সময় ছেলে পক্ষের হাজার লোক খাওয়াতে হবে, মণকে মণ ছেলের বাড়িতে মিষ্টি দিতে হবে...। সে মিষ্টি আবার কম দামী হলে এলাকায় মানসম্মান থাকবে না, আজব। তাই বেশি দামী হতে হবে। বিয়ের পর কুরবানির ঈদে মেয়ের বাড়ি থেকে গরু গিফট কিংবা জ্যেষ্ঠ মাসে ট্রাকভর্তি ফল-ফলাদি না দিলে ছেলেপক্ষের মান ইজ্জত থাকে না। এমনকি পবিত্র মাহে রামাদানে ভ্যানভর্তি ইফতার ছেলেপক্ষের বাড়িতে না পাঠালে জাত গেল জাত গেল বলে রব উঠে!!

মেয়ের বাড়ি থেকে ফার্ণিচার না দিলে বরপক্ষ সমাজে মুখ দেখাতে পারে না! পাত্র কিছু না চাইলেও তার মুরুব্বিরা এদিক থেকে একধাপ এগিয়ে থাকে। এসব নাকি না দিলে নতুন পরিবেশে মেয়ে অনেক সমস্যায় পড়বে (ফালতু যতসব কুসংস্কার)। বিয়ের পরপরই মেয়ের সাথে বাড়িভর্তি ফার্ণিচার না গেলে সে মেয়ের আজীবন খোঁটা শুনতে হয়। আর খোঁটা দেওয়ার জন্য কিছু মহিলা সম্প্রদায় যেন রেডি হয়েই থাকে (এ যেন মহিলাদের জিনগত সমস্যা!)। যদি মেয়ের পরিবার কিছু দেয়ও, তখন শুরু হয় তুলনা...। বোনের ছেলে বিয়ে করে বাড়িভর্তি ফার্ণিচার পেল, আমার ছেলে বিয়ে করে মাত্র একটা খাট, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল আর দুটো সোফা পেল! অনেককেই দেখেছি এটা নিয়ে গর্ব করে। কিন্তু একটা হিন্দুয়ানি প্রথা কিভাবে মুসলিম দেশের ট্রাডিশন হতে পারে, সেটা মাথায় আসে না। আমরা কেমন মুসলিম।

অথচ ইসলাম ধর্মে মেয়ের পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠান করে খাওয়ানোর ব্যাপারে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কাবনি বা আকদ যদি পাত্রীর বাসায় হয় তখন মেয়েপক্ষ কিছু আপ্যায়ন করাতে চাইলে করাবে, না করালেও তাতে সমস্যা নেই। শতশত মানুষ নিয়ে বরপক্ষ বরযাত্রা নামে পাত্রী পক্ষের বাসায় বা সন্টোরে হাজির হয়ে নানান রকমের খাবার খাবে এমন প্রথা মুসলিম সমাজে কখনোই ছিল না। এই খাওয়ানোর আনুষ্ঠানকিতা সম্পূর্ণ ছেলের পরিবারের উপর। যা ওলিমা নামে পরিচিত। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিয়ের খবর শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন— أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ. ওলিমার আয়োজন করো, যদিও তা একটিমাত্র ছাগল দ্বারা হয়।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও বিয়ের ওলিমা বা ভোজের আয়োজন করেছেন, সাহাবিদেরকেও অল্প পরিসরে হলেও তা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কোন নারীদের এ বিষয়ে কিছু নির্দেশ দেননি। এরপরেও কোন মেয়ের পরিবার যদি নিজের ইচ্ছায় খাওয়াতে চায়, সেটা তাদের ঐচ্ছিক ব্যাপার। কিন্তু অনুষ্ঠান করার জন্য, লোক খাওয়ানোর জন্য মেয়ের পরিবারের উপর জোর করে কোন শর্ত বা বোঝা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশে বিয়ে উপলক্ষে লেনদেন প্রথা বেশ জনপ্রিয় (এটা উপহারও নাকি বলে)। অথচ বিয়ের সময় শর্ত হিসেবে মেয়ের পরিবারের কাছে থেকে কিছু তো নেওয়া যাবেই না, বিয়ের পরেও জোর করে কোন কিছু আদায় করা যাবে না। সেটা যৌতুক বা গিফট—যে নামেই হোক না কেন। ইসলামে এটি নিষিদ্ধ।

বরং বিয়ের সময় স্বামী উল্টো স্ত্রীকে দিতে বাধ্য থাকবে, যেটার নাম মোহরানা। এটি দেওয়া ফরজ। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে আদেশ দিয়েছেন, আর তোমরা নারীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও, অতঃপর যদি তারা তোমাদের জন্য তা থেকে খুশি হয়ে কিছু ছাড় দেয়, তাহলে তোমরা তা সানন্দে তৃপ্তিসহকারে খাও। এখানেই শেষ নয়, বাকি জীবন স্ত্রী ও বাচ্চার ভরণ পোষণসহ পারিবারিক সকল অর্থনৈতিক দায়িত্ব স্বামীর একার। এমনকি স্ত্রীর যদি নিজস্ব কোনো সম্পদ বা ইনকাম থাকে, সেই ইনকামে স্বামীর কোন অধিকার নেই। স্ত্রী চাইলে সেটা নিজের জন্য খরচ করতে পারে কিংবা সংসারেও কাজে লাগাতে পারে, সেটা তার সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছা।

তবে স্ত্রীর পরিবার স্বেচ্ছায় ছেলেকে কোন হাদিয়া দিতে চাইলে সেটা নেওয়া বৈধ। কারণ, এটা উপহার। যে কেউ যে কাউকে উপহার দিতে পারে—যেমন, বন্ধু বন্ধুকে, স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, প্রতিবেশি আরেক প্রতিবেশীকে ইত্যাদি ইত্যাদি। এতে সম্প্রীতি বাড়ে, এটা ভিন্ন ব্যাপার। তবে "আমি বিয়ে করেছি, মেয়ের বাবা এখন আমাকে উপহার দিবে” মনে মনে এমন প্রত্যাশা করলে সেটা আর উপহার থাকে না বরং এমন প্রত্যাশা ত্যাগ করা উচিত। এটা উপহার না, একপ্রকার (নব্য) যৌতুক। এতে অন্তরে লোভ তৈরি হয়। একজন মেয়ে আপনার সংসারে আসছে, সংসার সামলিয়ে রাখছে, আপনার সন্তানকে দশ মাস পেটে রেখে জন্ম দিয়ে বংশরক্ষা করছে, তিনবেলা রান্না করে খাওয়াচ্ছে, নিজে রান্না করার পরেও আপনি বাসায় না ফেরা পর্যন্ত না খেয়ে অপেক্ষা করছে, অফিস থেকে ফিরে নোংরা হয়ে যাওয়া কাপড় পর্যন্ত ধুয়ে পরিস্কার করে দিচ্ছে। এগুলোই তো অনেক বেশি কিছু পাওয়া। যে মেয়েটি এতো কিছু করছে, তার কাছ থেকে বিয়ে উপলক্ষে গিফট বা যৌতুক কিভাবে আশা করা যায়? বরং আমাদের উচিত—সেই মেয়েটিকেই বাকী জীবন সুখে রাখার চেষ্টা করা। বিয়ের পর একজন মেয়ে তার সবকিছু ছেড়ে আপনার কাছে আসে। যে মেয়ে এমন স্যাক্রিফাইস করে আসে, সে নিজেই তো আমাদের জন্য জীবনের সবচে' বড় গিফট। এরপরও যারা পবিত্র সম্পর্কের শুরুতেই এসব হারাম কাজ দিয়ে শুরু করে, তারা আর যাইহোক দ্বীনদার হতে পারেনা। তাই সাবধান!

টিকাঃ
১. সুনানু দারিমি। কিতাবুন নিকাহ।
২. মুফরাদাত।
৫৫. সহিহ বুখারি।
৫৬. সূরা নিসা : ৪।
২২. লিখেছেন: Md Bodruzzama Ahmed

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বিয়ের নামে চট্টগ্রামে আসলে হচ্ছেটা কি?

📄 বিয়ের নামে চট্টগ্রামে আসলে হচ্ছেটা কি?


বোন বড় হয়েছে। বিয়ের কথাবার্তা চলছে। পারিবারিকভাবে মতের মিল হওয়ার পর আব্দ-এর দিন ধার্য করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে ছেলের বাড়ি থেকে নাকি রাতে ৫০ জন আমার বোনকে দেখতে আসবে। নতুন আত্মীয়। তাদের জন্য যেমন তেমন খাবার করা যাবেনা। অনেক টাকার বাজার করলাম। দেখলাম ওরা বেশকিছু মিষ্টি নিয়ে এসেছে। ওরা চলে যাওয়ার পর মা জানালো সকালে বোনের শ্বশুর বাড়িতে মিষ্টি নিতে হবে আরো সাথে কত কী! আর সস্তা মিষ্টি চলবেনা। দামী নিতে হবে, তাও কমপক্ষে দশ কেজি। বরপক্ষ নাকি সমাজকে দিতে হবে। নয়তো সমাজ নাকি বদনাম করবে। এ কেমন সমাজ মাথায় আসেনা। ব্যাপারটা এমন যে, মিষ্টি কোনোদিন চোখে দেখেনি, খায়নি এই কু-সমাজ। আব্দ-এর দিন মসজিদে মিষ্টি খাওয়ানো হইসে, সেটা যথেষ্ট না।

আব্দ-এর আগে বিয়ের চুক্তিগুলো হয়ে যায়। আমার বাবা এলাকার মুরব্বীদের সাথে কথা বলে ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেয়-কাবিন ১৫ লক্ষ টাকা, স্বর্ণ দশ ভরি দিলে উনি আত্মীয়তা করতে রাজি। বরপক্ষও কনফার্ম করে-এক হাজার মানুষ না খাওয়ালে আর ফার্ণিচার ঠিকঠাক না দিলে ওরা আত্মীয়তা করবেনা। শেষ পর্যন্ত সবকিছু মেনে নিয়ে বিয়েটা ঠিক হয়। এসব বিষয়ে বড়দের মুখের উপর বলতে নেই দেখে কিছু বলতে পারলাম না। বরপক্ষ একহাজার। আমাদের ৫০০-৭০০ মানুষ হবে এমন একটা হিসাব করে আয়োজন করা হয়। বাসায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল অমুকের তমুককেও দাওয়াত করতে হবে। কাজে কামে নাকি আত্মীয়স্বজনের পরিচয়। তাই বলে লতা দিয়ে পাতা!! ঐ যে বড়দের উপর কথা বলতে নেই!

বিয়ের দিন দেখলাম আমি যে বড় ভাইকে দাওয়াত দিলাম ওনি মোটর সাইকেলের পিছনে আরো দুজন এক্সট্রা মানুষ নিয়ে হাজির। ছোট ভাইয়ের বন্ধুরা নিজেদের বন্ধুদের নিয়ে হাজির যাদের কিনা ছোট ভাই নিজেই চিনেনা। ফলাফল খাবার সংকট। মানসম্মানের ব্যাপার। দ্রুত অতিরিক্ত বাজার করে রান্না করতে হল। প্রচলিত নিয়ম মেনে বিয়ের পর দিন বোনের শ্বশুর বাড়িতে আমাদের দুইশ জনের দাওয়াত। বৌ ভাত যাকে বলে। নিয়মের বাইরে যাওয়া যাবেনা বলে কিছু বলতে পারলাম না। অনেক টাকা গাড়ি ভাড়া, অন্যান্য খরচ গেলেও লতা দিয়ে পাতা হওয়া আত্মীয়দেরও দাওয়াত খাওয়াতে নিয়ে গেলাম। এরপর নাকি জামাইর বাড়ির দু'শজন খাওয়াতে হবে। নয়তো কথা থেকে যাবে। সেটাও করতে হলো ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

বাসায় প্রশ্ন করলাম এতকিছুর দরকার কি? বলল এটাই করতে হবে। এটাই সঠিক। আমাদের মেয়েকে এরা সুখে না রেখে যাবে কই? কিন্তু আসলেই কি এটা সুখ? লতা দিয়ে পাতা হওয়া আত্মীয়কে দাওয়াত করে খাওয়ালেই কি সুখ! যাইহোক, সব শেষ করলাম। কিছু টাকা ঋণ নিতে হলো বোনের সুখ কেনার জন্য। কিন্তু পরিপূর্ণ সুখ কিনতে রমজানের ঈদে জামাইর বাড়ির চৌদ্দ গোষ্ঠীর জন্য কাপড় দিতে হল। কোরবানীর ঈদে গরু দিতে হল। আর বারো মাসে তেরো রকমের জিনিস দিতে হল। এর মধ্যে বোনের বাচ্চা হয়। আকিকা করানোর সময় আবার গরু দিতে হল। বোনের দেবর, ননদের বিয়ে হলে স্বর্ণ দিতে হল। দাওয়াত খাওয়াতে হল। এতকিছু করতে করতে ঋণের টাকা অনেক মাথায়। নিজের বিয়ের বয়সটাও চলে যাচ্ছে। ঋণ শোধ করে, নিজের বিয়ের জন্যও এতকিছু করার প্রস্তুতি নিতে হবে। ততদিনে বুড়ো হয়ে যাব। বিয়ের আর দরকার কী!

দুঃখের বিষয় হল-যার সুখের জন্য এতকিছু করলাম, পারিবারিক জটিলতার কারণে তারই ডিভোর্স হয়ে গেল। তাহলে সুখ কোথায় গেল এখন? সুখ এমন এক জিনিস, যেটা টাকাতে পাওয়া যায় না। এর জন্য দরকার ইসলামের শিক্ষা আর সুন্দর একটা মন-মানসিকতা। যে বিয়েতে পদে পদে, ধাপে ধাপে ইসলামের বিধানকে অবজ্ঞা করা হল সে বিয়ে টিকবে কি করে? সে দাম্পত্য জীবনে শান্তি থাকবে কি করে? সুখের জন্য এসব জাস্ট তিন নাম্বার হাত 'অযুহাত' এই চট্টগ্রামে। এটা নিয়ে গর্বের কিছু নাই। নিজের পরিশ্রমের টাকা লতা দিয়ে পাতা হওয়া আত্মীয়দের খাওয়ানোর দরকার নেই। কেউ খুশি মনে সামর্থ আছে বলে এসব করলে বাধা নেই। তবে নিয়ম মেনে করতে গেলে অবশ্যই এতে সমস্যা আছে। এ কেমন সংস্কৃতি, যে নিয়মে বিয়ে করতে পাঁচ-সাত লক্ষ খরচ করতেই হবে! এসব অপসংস্কৃতির কারণে চট্টগ্রামে একটা মেয়ে বিয়ে দিতে যেমন বাপ ভাইয়ের পিঠের চামড়া চলে যায়, তেমনি ছেলে বিয়ে করতে গেলেও বয়স হয়ে মাথার চুল চলে যায় এতো টাকা ম্যানেজ করতে। আবার অনেক মেয়েকে এমন বলতে শুনা যায়—আমি বাবার একমাত্র মেয়ে সুতরাং আমার জন্য খরচ না করলে কার জন্য করবে? আসুন, আমরা শিক্ষিত জেনারেশন সব বুঝি, ইসলামের আলোতে ছেলে-মেয়ে উভয়ই নিজ অবস্থান থেকে বদলে যাই। আসুন ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ ও সুখী সমৃদ্ধ আদর্শ পরিবার গঠন করি。

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বিবাহে প্রচলিত কু-প্রথা

📄 বিবাহে প্রচলিত কু-প্রথা


১. চন্দ্রবর্ষের কোনো মাসে বা কোনো দিনে অথবা বর, কনের জন্ম তারিখে বা তাদের পূর্ব পুরুষের মৃত্যুর তারিখে বিয়ে-শাদী হওয়া অথবা যেকোনো সৎ কাজ করার জন্য ইসলামি শরিয়তে বা ইসলামি দিন-তারিখের কোনো বিধি নিষেধ নেই। বরং উপরিউক্ত কাজগুলো বিশেষ কোনো মাসে বা যেকোনো দিনে করা যাবে না বলে মনে করাই হল কুসংস্কার।
২. বিবাহ উৎসবে অথবা অন্য যেকোনো উৎসবে পটকা-আতশবাজি ফুটানো, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা, রংবাজী করা বা রঙ দেওয়ার ছড়াছড়ি ইসলামের দৃষ্টিতে অপচয় ও নাজায়েজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ।
৩. বাঁশের কুলায় চন্দন, মেহেদি, হলুদ, কিছু ধান-দূর্বাঘাস, কিছু কলা, সিঁদুর ও মাটির চাটি নেওয়া হয়। মাটির চাটিতে তেল নিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। স্ত্রী বরের কপালে তিনবার হলুদ লাগায়, এমনকি মূর্তিপূজার ন্যায় কুলাতে রাখা আগুন জ্বালানো চাটি বর-কনের মুখের সামনে ধরা হয় ও আগুনের ধোঁয়া ও কুলা হেলিয়ে-দুলিয়ে বাতাস দেওয়া হয়-এগুলো হিন্দুয়ানী প্রথা ও অনৈসলামিক কাজ। এগুলো সমাজ থেকে বাদ দিতে হবে।
৪. বরের আত্মীয়রা কনেকে কোলে তুলে বাসর ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া অথবা বরের কোলে করে মুরুব্বীদের সামনে স্ত্রীর বাসর ঘরে গমনের নীতি একটি বেহায়াপনা, নির্লজ্জতা ও অনৈসলামিক কাজ। এটা ভয়াবহ গুনাহ।
৫. বরের ভাবী ও অন্য যুবতী মেয়েরা বরকে সমস্ত শরীরে হলুদ মাখিয়ে গোসল করিয়ে দেওয়া নির্লজ্জ কাজ-যা ইসলাম সমর্থন করে না।
৬. বর ও কনেকে হলুদ বা গোসল করতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাথার উপর বড় চাদরের চার কোনা চার জনের ধরা-এটা হিন্দুয়ানী প্রথা।
৭. বিবাহ করতে যাওয়ার সময় বরকে পিঁড়িতে বসিয়ে দই-ভাত খাওয়ানো ইসলামিক প্রথা নয়।
৮. বিবাহ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর বরকে দাঁড় করিয়ে সালাম দেওয়ানোর প্রথা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) দ্বারা প্রমাণিত নয়।
৯. বর ও কনের মুরুব্বীদের কদমবুসি করা একটি মারাত্মক গুনাহের কাজ। বিয়ে তো নয়, এমনকি যেকোনো সময় কদমবুসি করা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) দ্বারা কোনো কালে প্রমাণিত নয়। কদমবুসি করার সময় সালাতের রুকু-সিজদার মত অবস্থা হয়। এটা শরিক। বেশি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে হিন্দুয়ানী প্রণামকে প্রথা হিসেবে নিয়ে আসা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য নয়।
হে আল্লাহ! দয়া করে আপনি আমাদের সুন্নাত তরীকায় বিবাহ করার তাওফিক দিন। আমিন।

টিকাঃ
৫৮ ** লিখেছেন: হুসাইন বিন সোহরাব।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বাংলার গ্রাম্য বিয়ে : কোনটি ইসলামে আছে বলুন?

📄 বাংলার গ্রাম্য বিয়ে : কোনটি ইসলামে আছে বলুন?


দেখুন গ্রামের বিয়ের হালচাল:
* মেয়েকে দেখতে যায় ছেলের বন্ধু, দুলা ভাই, বড় ভাই ও ছেলের বাবা।
* দুই মাস তিন মাস আগে ছেলে নিজে মেয়ের হাত ধরে আংটি পরায়।
* শুরু হয় কামভাব জাগানো প্রেমের গল্প। হালাল সর্ম্পক তৈরি হবার পূর্বে হারামে তারা ডুবে যায়।
* অন্য পুরুষ ভাড়া করে বিয়েতে ভিডিও করা।
* মেয়ের বাড়িতে বিয়ের ওলিমা করা।
* যৌতুক বা একঘর ফার্ণিচার চাওয়া।
* বিয়ে বাড়িতে পাঁচতলা বিশিষ্ট গেইট দেওয়া।
* হলুদ অনুষ্ঠান ও শিরক মিশ্রিত গীতিগান গাওয়া।
* মেয়ের গোসলের পানি দুলাভাই কলসির মুখে গামছা পেঁচিয়ে নিয়ে আসা এবং শালীদের কাছে বকসিস চাওয়া অথবা ছেলের গোসলের পানি ভাবি ঐভাবে নিয়ে আসা।
* মেয়েকে ভাবি গোসল করানো এবং অন্যের নিকট বলা অমুকের শরীর নরম অথবা দুলাভাই শালাকে গোসল করানো এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলা।
* ছেলে মাথায় হিন্দুদের মত তাজ পরা।
* বিয়ের গেটে দুলহা রুমাল মুখে দিয়ে বসে থাকা আর শালীরা দুলা ভাইয়ের গলায় ফুলের মালা দেওয়া, অন্যান্য যুবকেরা মেয়েদের ছবি উঠানো এবং তিরস্কার করা, অতঃপর এক গ্লাসে হলুদের গুড়া আরেক গ্লাসে জুস দিয়ে বরকে পরীক্ষা করা।
* বর স্টেজে রুমাল মুখে দিয়ে বসে থাকে আর মেয়ের পিতা না গিয়ে অন্যান্য মুরুব্বি গিয়ে মেয়ের হাতে পান-সুপারি দিয়ে মেয়েকে পিড়াপিড়ি করে কবুল বলার জন্য।
* এরপর ছেলের কাছে এসে খুৎবা পড়ে আবার ছেলেকে পিড়াপিড়ি করে, অবশেষে হাত তুলে সম্মিলিত মুনাজাত।
* লোক ভেদে গোটা মুরগি বিতরন।
• ছেলেকে বাসর ঘরে মেয়ের কাছে যেতে বকশিসের জন্য দরজা বন্ধ করে পরীক্ষা করা।
• ছেলের বাসর ঘরে স্ত্রীর মাথায় হাত রেখে দুআ না পড়া এবং মিষ্টান্নের ব্যবস্থা না করা।
• মোহর পরিশোধের নিয়ত বা পরিশোধ না করে ক্ষমা চাওয়া।
• মিলনের পূর্বে দুআ না পড়া।

এখন বলুন—আপনার বিয়েতে ইসলামি কোন কাজটা হয়েছে? উপরের কোনোটিই শরীয়ত সমর্থিত নয়।

টিকাঃ
From: Ajhwaz/সঙ্গী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00