📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে?

📄 বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে?


একজন দ্বীনহীন মানুষকে বিয়ে করার আগে আপনি যদি ভাবেন-বিয়ের পর বুঝিয়ে মানিয়ে ঠিক করে নিবেন তবে এটা ভুল। অনেকেই ভাবে এই দুরন্তপনা, আনমনা বয়সে একটু আধটু উদ্ভট উশৃঙ্খল তো হবেই। বিয়ের পরই সব ঠিক হয়ে যাবে। নিজ সন্তান হলে তো একেবারে পাক্কা মুমিন-মুসলমান! তাদের জন্য। এই দুরন্তপনা, আনমনা, উঠতি, চঞ্চল বয়সটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই বয়সে যদি কারো ভিতর ধর্মের বিধিবিধান মানার ক্ষেত্রে উদাসিনতা দেখা দেয়, তো তার দ্বারা বাকি বয়সটায় ধর্ম মেনে চলার সম্ভাবনা নেহায়েত অসম্ভবে পরিণত হয়।

একজন দ্বীনহীন মানুষকে বিয়ে করার আগে আপনি যদি ভাবেন বিয়ের পর বুঝিয়ে মানিয়ে ঠিক করে নিব তবে এটা ভুল। আপনি যদি ভাবেন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হলো মাটির মত, ইচ্ছে হলেই দাওয়াত দিয়ে সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারব। এটা ভাবাও ভুল। প্রিয় ভাই! হেদায়েত আল্লাহর হাতে, আপনার হাতে নয়। আপনি যাকে চাইবেন তাকেই সঠিক পথে আনতে পারবেন না, যদি আল্লাহ তাকে হেদায়াতের পথ না দেখান। অনেকে বলে কৌশল খাটিয়েই তো স্বামী স্ত্রীকে, অথবা স্ত্রী স্বামীকে পথে নিয়ে আসতে পারে। যত কৌশল অবলম্বন করুক, কিছুই এত সহজে হয়না। ঐ মানুষটিকে কিভাবে এত সহজে ঐ লেভেল থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা যায়, যাকে তার বাবা মা ইসলামের সাথে পরিচিত করিয়ে দেয়নি? যারা নামকা ওয়াস্তে মুসলিম, আল্লাহর হুকুম পালনের ধারে কাছেও যায়না, তাদেরকে কিভাবে এত সহজে ঠিক করা যায়? সুরা নূরের এই আয়াতটির সঠিক ব্যাখ্যাটা জানতে মন চায়, যেখানে বলা হয়েছে-"ভালোর জন্য ভালো, আর খারাপের জন্য খারাপ।"

যে বিন্দু পরিমাণ ইসলাম মেনে চলতে চান তাদের প্রতি অনুরোধ-নেককার পুরুষ অথবা নারীকে বিয়ে করুন। যাকে বিয়ে করলে আপনার আমল অনেক ভালো হবে। আপনার ঈমান আরো বৃদ্ধি পাবে। ইসলামের উপর চলা সহজ হবে। এমন যেন না হয়—কাউকে হেদায়াতের সঠিক পথ দেখাতে গিয়ে নিজেই বিয়ে করে অন্ধকারে হারিয়ে যান। নিজেই তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আবার গোমরাহ হয়ে যান। ৪৮

ইসলামে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বর্তমানের উপর ভিত্তি করে করে, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার উপর ভিত্তি করে নয়। একজন দ্বীনদার ছেলে বা মেয়েকে বেদ্বীন ছেলে বা মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়া যাবে না। এটা অন্যায় ও যুলুম। আপনি ঠিকই ভবিষ্যতে ছেলে দ্বীনদার হবে এই আশা করে নিজ সন্তানকে ধনী ছেলের সাথে বিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু একজন দ্বীনদার ছেলে ভবিষ্যতে ধনী হবে এই আশা করে নিজ মেয়েকে তার বিয়ে দেন না। এটা কী তাওয়াক্কুল? এটা ঈমানের দুর্বলতা বৈ আর কিছু নয়। ৪৯

টিকাঃ
৪৮. সংগৃহীত।
৪৯. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বর্তমান সময়ে ২০-২২ বছরের কোন যুবক যদি বিবাহ করতে চায়!

📄 বর্তমান সময়ে ২০-২২ বছরের কোন যুবক যদি বিবাহ করতে চায়!


২০-২২ বছরের কোন যুবক যদি বিয়ে করতে চায় তাহলে সমাজ বলবে ছেলেটার লাজ-লজ্জা সব গেল। কিন্তু ২০-২২ বছরের কোন যুবককে পার্কে, রিক্সায় কোন মেয়ের সাথে অশালীন অবস্থায় দেখা গেলে তখন সমাজের লাজ-লজ্জা যায় না। কারণ, সমাজের চোখে সেটা আধুনিকতা। যে আধুনিকতা একজন যুবকের বেহায়াপনা থেকে বাঁচার আকুতি শুনতে চায়না কিন্তু একজন যুবককে একজন যুবতীর সাথে নষ্টামি করার অনুমতি দেয়, সে আধুনিকতাকে ছুঁড়ে ফেলুন।

একজন ২২ বছরের যুবক তার মোটামুটি আয়ের উপর ভরসা করে যখন বাসায় বিবাহ করার ইঙ্গিত দিবে, তখন বাসায় ছেলেটাকে নির্লজ্জ ভাবা হবে। কিন্তু রাত ১ টার পরও যখন ঐ ছেলের রুম থেকে ফোনে কথালাপের শব্দ শোনা যাবে, তখন অভিভাবকরা ভাববে ছেলে বড় হয়েছে, ছেলেকে স্বাধীনতা দেয়া দরকার। ছেলে বিয়ে করার জন্য বড় হয়নি কিন্তু ঠিকই ফালতু-হারাম কাজের জন্য বড় হয়েছে। একসময় দেখা যায়, ঐ ফালতু কাজের জন্য বড় হওয়া ছেলেটি মা-বাবার মুখে চুন-কালি মেখে পালিয়ে বিয়ে করে। বাবা-মায়ের দেখাশোনা মেয়ে বিয়ে করে না। আর বিয়ে করতে চাওয়া আল্লাহভীরু সেই ছেলেটি ঠিকই মা-বাবার হৃদয় নরম হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকে। যদিও তার অভিভাবক ছাড়া বিয়ে জায়েজ আছে। এই হচ্ছে আমাদের কলুষিত সমাজ ব্যবস্থা!

টিকাঃ
সংগৃহীত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00