📄 বিয়ে করে বউকে খাওয়াবি কী?
এই প্রশ্নটা এখন এত ব্যাপক জনপ্রিয় ও প্রচার-প্রসার হয়ে গেছে যে, এর দ্বারা বুঝা যায়, বর্তমানে পৃথিবীর 'শ্রেষ্ঠ খাদক ও মহাখাদক' হলো 'বউ'।
এ প্রসঙ্গে জনৈক ভাই বলেন- “স্বর্ণ-রূপা তো আর খাওয়ানো সম্ভব না। তাই 'ভাত-তরকারি-ডাল' এসব খাওয়াবো (আল্লাহ তাউফিক দিলে)।”
আরেক জনৈক ভাই বলেন- “বউ কি সারাদিন শুধু খাইতেই থাকবে, খাইতেই থাকবে? খাইতেই থাকবে? খাইতেই থাকবে?"
📄 বেকারত্ব! প্রতিবন্ধকতা না মহৌষধ?
বেকারত্ব বিয়ের জন্য প্রতিবন্ধকতা নয় বরং বিয়ে হচ্ছে বেকার সমস্যা দূরীকরণের মহৌষধ। আমরা বেকার হলে বিয়ে করতে চাই না, সাহস পাই না, মেয়ের অভিভাবকরা বেকার ছেলেদের কাছে তাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। আচ্ছা বিয়ের পরে কতজন যুবক বেকার থেকেছে? আমরা অনেক জটিল সমীকরণ নিয়ে পড়ে থাকলেও সহজ সমীকরণ মিলাতে পারছি না, যখন একজন সুস্থ স্বাভাবিক পুরুষ একজন মহিলাকে বিয়ে করল, তার মধ্যে একধরনের দায়বদ্ধতা থেকেই নিজ উদ্যেগে কিছু করার চেষ্টা করে, তার মধ্যে স্নায়ুচাপ কাজ করে, আর কিছু করতে বলার জন্য একজন সার্বক্ষণিক উপদেষ্টা তো নিয়োগ দেয়াই হইল...।
আমাদের সমাজের প্রচলিত সবচেয়ে গোঁড়া প্রথার একটি হচ্ছে বিয়ে করতে হলে ছেলেকে অবশ্যই নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে অর্থাৎ ব্যাংক ব্যালন্সে, নিজস্ব বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকতে হবে আরো কত কি! সামাজিকতার নামে বিয়ের পরে অনেক খরচ করে অনুষ্ঠান করতে হয় (কম খরচের বিয়ে হচ্ছে সুন্নতি বিয়ে), এরপরে বাচ্চা হলে উন্নত মানের স্কুলে পড়াতে হবে। পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স না হলে প্রাইভেটে অনেক খরচ করে পড়াতে হবে, সেজন্যই বিয়ের আগেই বিশালাকৃতির ব্যাংক ব্যালেন্স থাকতে হবে। দুই মিনিট বেঁচে থাকব তার নিশ্চয়তা নেই, মেতে আছি ৪০ বছরের প্ল্যানিং নিয়ে!
আচ্ছা, আমরা যদি ভেবেই নিই—আমাদের ফ্যামিলি মেইনটেইন করতে অনেক খরচ হবে, সন্তানদের পড়াতে অনেক খরচ হবে, সেই নেশায় বুঁদ করে জীবন-যৌবন নষ্ট করে ন্যায়-অন্যায়, হালাল-হারাম পরোয়া না করে টাকা কামাতে ব্যস্ত থাকি, তাহলে আল্লাহ রহমতটা দিবেন কোথায়? ইনকামে? না সিরাতুল মুস্তাকিমে? বান্দা যা চাইবে আল্লাহ তাকে তা-ই দেবেন, আমরা যদি টেনশন চেয়েই নেই, তাহলে আল্লাহ কেন তা বাড়িয়ে দেবেন না?
বাস্তবতার আলোকে আমরা এমপি, মন্ত্রী, সচিবদের মধ্যে যত পেরেশানি ও হাহাকার দেখি, স্বল্প বেতনে চাকরি করা মসজিদের ইমাম, স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষকদের ততটাই সুখী মনে হয়। আমরা মুসলিম। আমাদের জীবন বিধান হতে হবে 'ইসলাম' অর্থাৎ ইসলামি রীতিনীতি মেনেই জীবন পরিচালনা করতে হবে। বিয়ে একটি ধর্মীয় রীতি, একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ সবল পুরুষ/মহিলাকে বিয়ে করতে হবে, এখানে অর্থনৈতিক অবস্থা কোন প্রতিবন্ধকতা হতে পারবে না, ইস্টাবলিসমেন্ট কোন শর্ত নয়, মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে আল্লাহর রহমত ছাড়া টাকা-পয়সা কখনো সুখ দিতে পারে না। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুক আমিন।
টিকাঃ
লিখেছেন: Somonnoy Chowdhury Sourav
📄 নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বিয়ে করবেন ভাবছেন?
প্রবাস জীবনে দু'বছর ইউসুফ ভাই আমার অভিভাবক হিসেবে ছিলেন। গত সপ্তাহে প্রবাসকে বিদায় জানিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে গেলেন। ১৯৭৬ সালে মেট্রিক পাশ করে পারিবারিক ব্যবসায় জড়িয়ে গেলেন। অর্থের পিছু পড়ে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তিরানব্বই সনে এসে বিয়ে করেন। দু'বছর পরে তার কোলজুড়ে যখন কন্যা সন্তান এলো, আবারো টাকার পিছু নিয়ে পাড়ি জমালেন ইউরোপে। কয়েক বছরে প্রচুর পরিমান টাকা-পয়সা উপার্জন করেন। হৃদয়ে স্বপ্ন বুনেন দেশে এসে হাসপাতাল করবেন। দেশে আসা মাত্রই মা-বাবা, ভাই-বোনদের একের পর এক অসুস্থতা তাকে গ্রাস করলো। তার জমানো অর্থের অধিকাংশ ব্যয় করলেন তাদের সুস্থ করতে। দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন হাসপাতাল করা থেকে ফিরে এলেন। বাকি অর্থ দিয়ে চট্টগ্রাম এসে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করলেন। কয়েক বছরে ব্যবসা করেও পুঁজি উঠাতে হিমশিম খেতে হলো। তখন আবারো প্রবাসের ভূত মাথায় চেপে বসলো।
ছোট ভাইকে সেই ব্যবসা বুঝিয়ে দিয়ে ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ায় আসলেন। দেশে থাকতেই তিনি আরো দু'সন্তানের জনক হলেন। প্রবাসে তিনি একে একে এগারোটি বৎসর কাটিয়ে দিলেন। বয়সের কোটা ষাট পেরিয়ে গেছে। এখন আর আগের মত কাজে গেলে শরীরের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেননা। একটুতে হাঁপিয়ে উঠেন। অনেকের তাচ্ছিল্য দৃষ্টিও এড়িয়ে যান সন্তাদের ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। এখনো তার কোন সন্তানের লেখাপড়া শেষ হয়নি। মেয়ে এবং ছেলে অনার্স পড়ছে, আর ছোট ছেলে হিফজ পড়ছে। সব সময় পরিবার নিয়ে তিনি চিন্তিত থাকেন। ছেলের যদি একটা চাকরি হতো! এ যন্ত্রণার প্রবাস থেকে হয়তো তিনি মুক্তি পতেনে। রমজানের পাঁচদিন পূর্বে ছুটি কাটিয়ে যখন আবারো প্রবাসে এলেন। তখন জানতে পারলেন তার তেরো নাম্বার ভিসা আর লাগবেনা। সারা জীবনের কষ্টগুলো একত্রে জমাট বেঁধে এসে আরো কিছু কষ্ট চাপিয়ে গেলো তার নিয়তির উপর। যে প্রবাস তাকে পাঁচ ভাইয়ের চার ভাইয়ের মৃত্যুর সাথে উপহার দিয়েছে দু'বোনের মৃত্যুও! ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুয়ে থাকা একবোনকে জীবিত পাওয়ার আকুতি নিয়ে প্রবাসকে বিদায় জানালেন গত সপ্তাহে।
এভাবে অর্থের পিছনে ছুটে নিজ পরিবার, সন্তান থেকে দূরে থেকে, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার জীবন আমাদের কি দিবে? শুধু প্রবাস জীবন নয় যারা অর্থের লোভে ছুটতে ছুটতে জীবন শেষে করছেন, বিবাহসহ বড় অনেক স্বপ্ন ত্যাগ করে দিয়ে। কিংবা বিলম্বিত করছিলেন, তারা কি এর পরিণতি কল্পনা করতে পেরেছেন? উচিত তো ছিল আমাদের অল্পে তুষ্ট থাকা, এবং সুন্দর ঘর সংসার নির্মাণ করা, যার ভিত্তি হবে ভালোবাসা, সম্মান, দ্বীনদারিতা।
আমার চাচা জনাব মোস্তফা মাষ্টার। দীর্ঘদিন লেখাপড়া শেষে কয়েক বছর সরকারী চাকুরি করলেন। পঁয়ত্রিশের কোটায় এসে বিয়ে করলেন। তারও এক মেয়ে দুই ছেলে। বড় মেয়ে সবেমাত্র মেট্রিক পাশ করলো। নিজের বয়স আর ভবিষ্যত নিয়ে খুব হতাশ হয়ে পড়েন। এ হতাশা প্রায় সময় তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। বিশেষ করে সন্তানদের মানুষ করার বাসনায় দেরিতে বিয়ে করা হতাশাগ্রস্ত এমন অসংখ্য মানুষ আমাদের চারপাশে। এদের থেকেও কি আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারিনা? আজ আমরা শুধু ভাবি- নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বিয়ে করবো, কিংবা এতো টাকা জমিয়ে বিয়ে করবো। এটা ঠিক নয়। বয়স থাকতে বিয়ে করুন। বিয়ে করলে দায়িত্বের চাপে নিজের পায়ে এমনিতেই দাঁড়িয়ে যাবেন, কাউকে বলতে হবে না।
📄 ভবিষ্যতে বউ ‘ফি সাবিলিল্লাহ’য় যেতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে?
যারা বিয়ের সামর্থ রাখেন এবং কোনো শরঈ উজর ছাড়া বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুধুমাত্র এই ভেবে যে-ভবিষ্যতে বউ 'ফি সাবিলিল্লাহ'র কাজে যেতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে-তারা নিশ্চিত নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকার মধ্যে আছেন। যে যেতে পারবে, সে বিয়ে করলেও পারবে। আর যে পারবে না, সে না করলেও পারবে না। এখানে আল্লাহর কবুলিয়াত শর্ত। কবুলিয়াতের জন্য দুআ না করে আপনি কাজের আগেই বৈরাগ্যতা বেছে নিচ্ছেন। তাও আবার এই ফিতনার স্বর্ণযুগে! সুবহানাল্লাহ, আপনিতো বেশ পরহেজগার! আপনি চেষ্টা করলে আর আল্লাহ কবুল করলে কে আপনাকে আটকাতে পারে? আপনি এখনি যেহেতু সন্দেহের মধ্যে আছেন 'যদি যেতে না পারেন', কাজের সময় আপনি আসলেই পিছুটান মারতে পারেন, বিয়ে না করলেও।
জনৈক সাহাবি বলেছিলেন "আমি যদি জানি যে, আর মাত্র ১০ দিন বাঁচবো, তবুও ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য বিয়ে করবো।" আর আপনি যদি সাহাবির চেয়েও মহাপুরুষ হন এই নব্য জাহিলিয়্যাতের যুগে, নারী ফেতনার যুগে, তবে তো আপনাকে স্যালুট! জনৈক ভাইয়ের একটা কথা মনে পড়লো- "বিয়ে না করলেই ইবনে তাইমিয়্যাহ হওয়া যায় না।" ৪৭
টিকাঃ
* সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত। লিখেছেন: Monirul Islam
৪৭. লিখেছেন: Nazim Shakil II