📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 বিয়ের আগে প্রেম করা আর বিয়ের পর সংসার করা—দুটো ভিন্ন জিনিস

📄 বিয়ের আগে প্রেম করা আর বিয়ের পর সংসার করা—দুটো ভিন্ন জিনিস


বিবাহপূর্ব প্রেম একটা ফ্যান্টাসি। এখানে ছেলে-মেয়ে উভয়েই নিজেকে সর্বোচ্চ উৎকৃষ্টরূপে উপস্থাপন করতে চায়। কদিন পরপর দেখা বা সপ্তাহে একদিন ডেটিং—ছেলেটি নিজের সামর্থ্যের সেরা উপস্থাপনটিই নিয়ে আসতে চায়, মেয়েটিও চায় তার প্রেমিক তাকে পরম সুন্দরী হিসেবেই দেখুক। তাই প্রেমের দিনগুলোতে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের নেতিবাচক ব্যাপারগুলো পরস্পরের কাছে প্রকাশ পায় না, দুজনেই তা যথাসম্ভব লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

সংসার জীবন আলাদা ব্যাপার। এখানে নিত্যদিনের অভ্যাস প্রকাশ পাবে, কৃত্রিম ভালোমানুষির পর্দা উন্মোচিত হবে। চব্বিশ ঘণ্টা একটা মানুষের সাথে থাকলে তাকে বোঝা যায়, চেনা যায়, সত্যিকারভাবেই চেনা যায়। প্রেমের সময়ের মত ক্ষণিকের দেখা আর ভাব বিনিময়ের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সহজাত আকর্ষণের চাপল্যভরা মোহনীয় সময়টা তাই সংসারজীবনে থাকে না। সংসারজীবনে আবেগের চেয়ে বাস্তবতার ভূমিকা বেশি। ভার্সিটির গেট থেকে বেরোলে যে মুখটি দেখার জন্য আকুলতা থাকত, জীবনযুদ্ধের সংগ্রামরত দিন- রাতের সংস্পর্শ সেই আকর্ষণটা আর রাখে না। নির্জনে বসে প্রেয়সীর হাত ধরে যে রোমান্টিসিজমে বুঁদ হওয়া সহজ, বিবাহিত জীবনে সারাদিন অফিস করে বাড়ি ফিরে কানের কাছে বাচ্চা ছেলের ঘ্যানঘ্যান আর বউয়ের অভিযোগের ফিরিস্তি শোনার মুহূর্তে সেই রোমান্টিসিজম থাকে না। মনে ঘোরে একই কথা-“তোমাকে তো বিয়ের আগে এমন মনে হয়নি!”

প্রেমের সম্পর্কগুলো ক্ষণিকের ভালো লাগা থেকে গড়ে ওঠা। ওটা আর একটা মানুষের সাথে জীবন কাটিয়ে দেওয়া এক ব্যাপার না। এজন্য যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ধৈর্য আর ত্যাগের দরকার, সেটা তথাকথিত প্রেমের সম্পর্কে কখনোই গড়ে ওঠা সম্ভব না। দাম্পত্য জীবনের সমস্যাগুলো একে অন্যের সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে সমাধান হয়ে যায় না। মনোমালিন্যের সময়টাতে পার্কে বসে ফুল বিনিময়ের স্মৃতিচারণে খেদ দূর হয় না, আরো বাড়ে।

সেক্যুলাররা প্রায়ই অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের দুর্নাম করতে গিয়ে বলে- 'ছোটবেলা থেকে আমরা শিখি অচেনা মানুষের দেওয়া খাবার না খেতে, অথচ অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের মাধ্যমে একজন অচেনা মানুষের সাথে বিছানায় শুইতে বাধ্য করা হয়!' যেমন-ড. জাফর ইকবাল বলেছিল, বিয়ের আগে অন্তত তিনবছর প্রেম করে পরস্পরকে 'চিনে' নেওয়া দরকার। বাহ, বাহ বাহ, মারহাবা। কি পরামর্শ! এই 'চিনে নেওয়া' কতটা সম্ভব সেটা প্রেম করে বিয়ে করা দম্পতিদের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। সাময়িক ভালো লাগা আর মা-বাবার পকেট ফাঁকা করা ফুর্তির দিনের উপলক্ষই যদি 'চিনে নেওয়া' হত তাহলে আর বিয়ের পর প্রিয় মানুষটির 'অন্যরূপ' দেখে কেউ হতাশ হত না।

বস্তুত, বিয়ের আগের প্রেমের সময়টাতে শয়তান একে অন্যকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে দেখায়, ফলে হারাম সম্পর্কের মোহ যেমন বাড়ে, তেমনি পরস্পরের আসল রূপ ঢাকা পড়ে থাকে। বিয়ের পর শয়তান সরে যাওয়ায় তা সামনে এসে পড়ে। তখন এতদিন ধরে 'চেনা মানুষটি কেন 'অচেনা' লাগে। আল্লাহর ইচ্ছার ওপরে যে আপনার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়, সে আপনাকে সুখী করতে পারবে না, কোনদিন না। আর আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে, তাঁরই নির্দেশিত পন্থা মোতাবেক জীবন-সঙ্গীনীর দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দিয়ে যে ছেলে একটা ‘অচেনা’ মেয়ের হাত ধরতে পারে, আল্লাহ তায়ালা তার জীবনে একটা ম্যাজিক দিয়ে দেন। সেই ম্যাজিকের বলে নিতান্ত সাধারণ চেহারার মেয়েটি তার চোখে রাজকন্যার চেয়ে লাবণ্যময়ী হয়ে ওঠে, সন্তানেরা চক্ষুর শীতলতা হয়ে ওঠে। দ্বীনের পথে চলা স্বামী-স্ত্রীর জীবনে বিলাস থাকে না, বাহুল্য থাকেনা, কৃত্রিমতা থাকেনা; যেটা থাকে-তার নাম শান্তি। শান্তি সবাই খোঁজে। বেশিরভাগই খোঁজে শান্তির যিনি মালিক তাঁকে অসন্তুষ্ট করে। এটা আফসোসের বিষয়ই বটে。

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 ছেলে পেলে হালি খানিক প্রেম করুক, প্রেমের নামে জিনার সাগরে ডুবে ডুবে জল খেয়ে মরুক তাতে অভিভাবকদের কোন মাথা ব্যথা নেই

📄 ছেলে পেলে হালি খানিক প্রেম করুক, প্রেমের নামে জিনার সাগরে ডুবে ডুবে জল খেয়ে মরুক তাতে অভিভাবকদের কোন মাথা ব্যথা নেই


সমস্যা বাঁধবে কখন জানেন? যখন আপনি প্রচলিত ধ্যান ধারনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য, নিজের নফসকে হিফাজত করার জন্য একটা হালাল সম্পর্ক তথা বিয়ে করতে চাইবেন। তখন সমাজের চারপাশ থেকে হাজারো অজুহাত আমাদের সামনে পেশ করা হয়। অভিভাবকরা বলবে-বিয়ে করে বউকে খাওয়াবে কি? আগে গ্রাজুয়েশন শেষ কর, চাকরি কর, নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নাও ইত্যাদি ইত্যাদি। তো এগুলো শেষ করতে করতে আপনার বয়সতো শেষ হয়ে যাবে আর যৌবনেরও ১২টা বাজবে। বিশ্বাস করুন! সাহাবা কিরামদের যুগে বিয়ে জিনিসটা অতি সাধারণ ছিল। এমনও হয়েছে আল্লাহর রাসুলের ঘনিষ্ঠ সাহাবি বিয়ে করেছেন, আর আল্লাহর রাসুল নিজেই জানতে পারেননি।

সুবহান-আল্লাহ! চিন্তা করা যায়, যে মানুষগুলো নিজেদের অস্তিত্ব চিন্তাই করতে পারতেন না আল্লাহর রাসুলকে ছাড়া! তাঁরাই বিয়ের সময় আল্লাহর রাসুলকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেন নি। কারণ, তাদের কাছে বিয়ে জিনিসটা খুবই সিম্পল ছিল। ৪১
কারণ বিয়ে জিনিসটা তাঁদের কাছে ইবাদাত ছিল। তারা এটাকে রাসুলের নিদের্শমত সহজ করেছেন। এজন্য সে সমাজে যিনা জিনিসটা এত কঠিন ছিল। বাস্তবে বিয়ে যত কঠিন হবে জিনা তত সহজ হবে। যার চিত্র আজ আমরা আমাদের সমাজে দেখতে পাই। বিয়ে জিনিসটা সালাত সিয়ামের মতই একটা ইবাদাত। যখন ইবাদাত আল্লাহর রাসুলের পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে, তখন সেখানে আল্লাহর রহমত বিরাজমান হবে। আর নচেত লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে বিয়ে নামক যে সামাজিক ট্রেন্ড চালু হয়েছে সেটা নামে বিয়ে হলেও রাসুলের সুন্নাহ সম্মত বিয়ে নয়।

বিয়ে নিয়ে প্রাণপণ সংগ্রামে লিপ্ত এক ভাই বলেন- "অল্প বয়সে যখন আপনি বিয়ে করতে চাইবেন, এক দল মানুষ আপনাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। আবার এই মানুষগুলোই বেপর্দা মেয়ে মানুষ দেখে মুখ দিয়ে কুকুরের মত লালা ঝরায়! সুতরাং এই মানুষগুলো কি ভাববে তা নিয়ে না ভেবে আপনি আপনার চেষ্টাটুকু করে যান, ফলাফল আসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে ইনশা আল্লাহ।” ৪২

টিকাঃ
৪১. লিখেছেন: জুবায়ের হোসেন।
৪২. লিখেছেন: Sujan Ahmed

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 এখনকার মুসলিম তরুণদেরকে বিয়ের ব্যাপারে খুব উদাসীন দেখা যায়

📄 এখনকার মুসলিম তরুণদেরকে বিয়ের ব্যাপারে খুব উদাসীন দেখা যায়


সমাজের অনেকে অজ্ঞতা ও ভুল ধারণা নিয়েই পড়ে থাকে। সমাজে প্রচলিত বিয়ের সাথে যে ইসলামি বিয়ের আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে তা অনেকেরই জানার সুযোগ হয় না। এই লেখাটি মূলত তাদের জন্য।

বিয়ে কেন করবে?
বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। এমনকি বিয়েকে 'দ্বীনের অর্ধেক' হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। বিয়ের মাধ্যমেই নারী-পুরুষের মধ্যে হালাল সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এটা পরিবার গঠনের উপায়, সভ্যতা টিকিয়ে রাখার উপায়, মানবজাতির বংশরক্ষার উপায়। এটি চরিত্র রক্ষার উপায়, নিজের যৌন চাহিদাকে বৈধভাবে মেটানোর উপায়। যুবকরা খুব সহজেই পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ে, গান-বাজনায় সময় কাটায়, অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ে। প্রেমে পড়া তো একরকম ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। হস্তমৈথুনও খুব স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এগুলোর প্রতিটিই মারাত্মক গুনাহের কাজ। আর এই গুনাহগুলোর মাত্রা বেড়ে যাবার পেছনে অন্যতম কারণ হলো সময়মতো বিয়ে না করা। যুবক বয়সে তাদের বিয়ের চাহিদা থাকা খুবই স্বাভাবিক, বরং না থাকাটাই অস্বাভাবিক। সুতরাং গুনাহ থেকে বাঁচতে চাইলে বিয়ের বিকল্প কিছুই নেই।

তুমি কি বিয়ের উপযুক্ত?
আমরা বিয়ের বয়সের ব্যাপারে খুবই ভুল ধারণার মধ্যে আছি। ত্রিশ বছর বয়স হয়ে যাচ্ছে, অথচ বিয়ের চিন্তাকে গুরুত্বই দিচ্ছে না—এমন উদাহরণ আমাদের সামনে আছে। অনেকে লাখ টাকা উপার্জনের আগে বিয়ের কথা ভাবতেই পারছে না। পাত্রীর অভিভাবকরা পাত্রের বেতন, ব্যাংক ব্যালেন্স, পৈতৃক সম্পত্তি—সব দেখছেন। মোটা অংকের মোহর ধার্য করা হচ্ছে। ফলে বিয়ে হয়ে পড়েছে কঠিন। ইসলামে বিয়ে কি এত কঠিন? না।

ইসলামে বিয়ে খুবই সহজ। ইসলাম বিয়ের জন্য এত কঠিন শর্ত দেয়নি। তবে কিছু শর্ত তো অবশ্যই দিয়েছে। সেগুলো নিয়েই আলোচনা করা যাক।
প্রথমত, শারীরিক ও যৌন সক্ষমতা। তুমি সেদিনই বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়েছ, যেদিন তোমার প্রথম স্বপ্নদোষ ঘটেছে। এখন তোমার বিয়ের জন্য ত্রিশ বছর বয়স হওয়ার কোনো দরকার আছে কি? বিশ-বাইশ বছর বয়স থেকেই তোমার বিয়ের চাহিদা অনুভূত হবার কথা। চাহিদা অনুভূত হবার পরও দেরি করা মানে তোমার ওপর কষ্ট চাপিয়ে দেয়া। ইসলামে বিয়ের কোনো ধরাবাঁধা বয়স নেই। তবে হ্যাঁ, স্ত্রীর যৌন অধিকার তাকে দিতে হবে। এটা স্বামীর দায়িত্ব। সুতরাং বয়সটা মূল ব্যাপার নয়, যৌন সুস্থতাই হলো বিয়ের পূর্বশর্ত।
দ্বিতীয়ত-আর্থিক ক্ষমতা। তুমি তোমার ছোটবোনের কথাই চিন্তা কর। স্ত্রীর ভরণ-পোষণ করতে পারবে না এমন কোনো ছেলের সাথে তুমি নিশ্চয়ই তাকে বিয়ে দিতে চাইবে না। স্ত্রীর যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বামীর। সুতরাং আর্থিক ক্ষমতা থাকাটাও বিয়ের শর্ত। কিন্তু কথা হলো, আর্থিক ক্ষমতা মানে কী? আর্থিক ক্ষমতা বলতে আমাদের সমাজ বোঝাতে চায় যে, বেশি বেতনের চাকরি করতে হবে, গাড়ি থাকতে হবে, বাড়ি থাকতে হবে ইত্যাদি। ইসলামে আর্থিক ক্ষমতা বলতে সেটা বোঝায় না। তুমি তোমার স্ত্রীর মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারবে—এটুকুই যথেষ্ট। সে হিসেবে ছোট-খাটো কোনো চাকরি বা ব্যবসাই আর্থিক ক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে পারে। থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে—তার জন্য তোমার সামর্থের মধ্যে সাধারণ বাড়িই যথেষ্ঠ। খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে—কিন্তু সে নিশ্চয়ই রাক্ষসের মতো খাবে না, বউ মানে মহাখাদক নয়। মৌলিক চাহিদা মেটানোই যথেষ্ট। বিলাসিতার সুযোগ নেই।

আল্লাহ তায়ালা অভাবগ্রস্থদের বিয়ের মাধ্যমে অভাব দূর করে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাছাড়া সবার রিযিক আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। কেউ তার চেয়ে বেশি পাবে না, কেউ তার চেয়ে কমও পাবে না। যার জন্য যেটুকু নির্ধারিত আছে সেটুকুই সে পাবে। সুতরাং তোমার স্ত্রী এসে তোমার খাবারে ভাগ বসাবে না। তার রিযিক তার জন্যই। বিয়ের আগে তাকে যিনি খাবার দিয়েছেন, বিয়ের পরও তিনিই দেবেন। আমাদের উচিত, আল্লাহর ওপরই ভরসা করা।
বিয়ের মোহর কম হওয়া ভালো। এতে বিয়েতে বরকত থাকে। সুতরাং পাত্রীপক্ষের উচিত হবে—পাত্রপক্ষের সামর্থের দিকে খেয়াল রেখে কম মোহর চাওয়া। তবে পাত্রীর সম্মান ও অধিকার যেন রক্ষা করা হয় সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। কাজেই সামর্থ থাকলে বেশি দিতেও দোষ নেই। ইসলামে মোহরের কোন উর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। আর হ্যাঁ, মোহরের পুরোটাই বিয়ের সময় নগদ পরিশোধ করে ফেলা উচিত, বাকি না রাখাই ভালো।

বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচের কথাটাও প্রাসঙ্গিকভাবে চলে আসে। গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে যতো রকমের আনুষ্ঠানিকতা করা হয়, তার প্রায় সবগুলোই ইসলাম সম্মত নয়। এই সকল অনুষ্ঠানগুলো মুশরিক এবং নাসারাদের থেকে এসেছে। অবশ্যই এইসব বর্জন করতে হবে। এসব অনুষ্ঠানে যেমন হাজারো গুনাহের কাজ হয়, অন্যদিকে তেমন অতিরিক্ত খরচ হয়। বিয়ের অনুষ্ঠান বলতে ইসলামে শুধু মাত্র ওলিমাকে বুঝানো হয়। আকদের পর পাত্রপক্ষ খুশী হয়ে মানুষদের দাওয়াত দিয়ে সামর্থ অনুযায়ী আপ্যায়ন করাবে। হ্যাঁ, আকদের দিন কনেপক্ষ স্বেচ্ছায় কোনো আনুষ্ঠানকিতা পালন করতে চাইলে সেটার অনুমতি রয়েছে।

ভরণ-পোষণের জন্য শুধু আর্থিকভাবে সামর্থ হলেই চলবে না, সকল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও তোমাকে নিতে হবে। যদিও মৌলিক চাহিদা মেটানোর মধ্যেই ব্যাপারটা চলে এসেছে, তবুও একটু বিশেষভাবে এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি। তোমার স্ত্রী যেন ঠিকমতো দ্বীন পালন করতে পারে, তা তোমাকেই নিশ্চিত করতে হবে। তাকে সময়মতো নামায পড়ার সুযোগ দিতে হবে। সে যেন পরিপূর্ণভাবে পর্দা রক্ষা করে চলতে পারে সে ব্যবস্থাও তোমাকে করে দিতে হবে। বস্তুত, যৌথ পরিবারে থেকে পর্দা রক্ষা করে চলা খুবই কঠিন। [প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, শ্বশুরবাড়ির মধ্যে শ্বশুর, নানা-শ্বশুর, দাদা-শ্বশুর প্রমুখ ব্যক্তির সাথে দেখা করা ও কথা বলা মেয়েদের জন্য জায়েজ। কিন্তু দেবরের সাথে, ভাশুরের সাথে, ননদের স্বামীর সাথে কিংবা দেবরের ও ননদের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সাথে দেখা করা নিষিদ্ধ এবং অপ্রয়োজনে কথা বলাও নিষিদ্ধ; প্রয়োজনে কথা বলতে হলে পর্দা রক্ষা করে বলতে হবে।] স্ত্রীর অধিকারের প্রতি ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। তার যেন কোনো সমস্যা না হয় তা তোমাকে নিশ্চিত করতে হবে। তার দায়িত্বের অতিরিক্ত কিছু তার ওপর চাপিয়ে দেয়া যাবে না। ৪৩

টিকাঃ
৪৩. লেখক: তৌহিদ তিয়াস।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00