📄 প্রেমের বিয়ে টিকেনা কেন?
একদল তরুণ-তরুণী হালাল প্রেমের নামে পাপের সাগরে ডুবে থাকে। বোরখা পরে, পর্দা করে বা গায়ে পাঞ্জাবী দিয়ে ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে প্রেমকে কখনো হালাল করা যায়না। যেভাবেই হোক না কেন একজন ছেলে ও মেয়ের মাঝে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক হারাম। আল্ট্রা মডার্নের এই যুগে ছেলে-মেয়ের বিবাহের জন্য নাকি আগে থেকে আন্ডারস্টান্ডিং লাগে। close up-এর অশ্লীল 'কাছে আসার গল্পের' নামে কিছুদিন গুণাহের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া লাগে। এভাবে বিয়ে হলে নাকি সংসার ভাল হয়। এটা ডাহা মিথ্যা কথা। মরীচিকা ছাড়া কিছুই নয়।
প্রেমের বিয়ে কিভাবে বরকতময় হতে পারে অথচ এর শুরুই হয়েছে মহান আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে। আল্লাহর রাগকে সাথে করে নিয়ে কিভাবে সুখের সংসার হয়? প্রেমের সম্পর্ক চলাকালীন ছেলে-মেয়ে উভয়ে নিজেকে ভাল হিসেবে উপস্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করে। এক প্রকার মিথ্যা অভিনয় করে যায়। এই মিথ্যা অভিনয় থেকে সৃষ্টি হয় পরস্পরের প্রতি অগাধ চাহিদা, আশা ও বিশ্বাস। উভয়ে ভাবতে থাকে সে আমার জন্য পারফেক্ট। বিয়ের পর মিথ্যা অভিনয় আর থাকেনা, তখন প্রকাশ পায় আসল চেহারা। এক ছাদের নীচে বাস্তব জীবন শুরু হয়। মানুষ তো আর কেউ দুধে ধোয়া তুলসী পাতা নয়। আশা অনুযায়ী আর ফল পাওয়া যায়না। শুরু হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন। প্রেম করে বিয়ে করার ফলে অধিকাংশ সময়ই দুই পরিবারের মাঝে দূরত্ব থেকে যায়। এই টানাপোড়নে তখন মাথার ছায়া হয়ে অভিজ্ঞ কেউ আর সমঝোতা করতে আসেনা। একটি সংসার ভেঙ্গে যায়। স্বপ্ন মাটিতে আঁছড়ে পড়ে।
অন্যদিকে অজানা অচেনা একটা ছেলে বা মেয়ে প্রথম ভালভাবে কথা ও দেখার সুযোগ পায় বাসর ঘরে। পরস্পরে এক প্রকার আশংকা সাথে নিয়ে ও আশার পারদ একদম নিয়ে রেখে সংসার শুরু করে। উভয়ের আশংকা যেন বাস্তবে রুপ না নেয় এজন্য উভয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে ভালোটা দেওয়ার। সাথে থাকে মহান রব্বের সন্তুষ্টি। মাথার ছায়া হিসেবে থাকে অভিজ্ঞ পরিবারের অভিভাবক। একটি সংসারে ধীরে ধীরে ভালবাসার বীজ রোপিত হয়। যতদিন যায় আল্লাহ চাইলে সেটা বাড়তে থাকে। বৃদ্ধ বয়সে সেই মায়ার টানটা আরো বেশী হয়। এক অকৃত্রিম ভালবাসা ও মায়া। মিডিয়ার রঙ্গীন জগতের নায়ক-নায়িকারা আদর্শ কাপল নয়। আমাদের আদর্শ কাপল প্রিয় নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার স্ত্রীগণ। আমাদের বুঝমান মা ও বাবারা। আমাদের দাদা ও দাদীরা। আমাদের নানা ও নানীরাও। আদর্শ কাপল এরাই। মরীচিকার পিছনে ছুটতে থাকা প্রিয় যুবক-যুবতী ভাই ও বোনেরা! এক্ষণি লাগাম দাও! ক্ষণিকের কলুষিত ভালবাসার চেয়ে চিরন্তন নিষ্কলুষ ভালবাসা অনেক শ্রেয়।
টিকাঃ
Islam: The Way to Success.
লিখেছেন: Sadia Sultana Mim
📄 হালাল প্রেম বনাম হারাম প্রেম!
প্রেম হল অস্থায়ী আবেগ—যা হারাম।
আর বিয়ে হল স্থায়ী বাস্তবতা—যা হালাল।
প্রেমিক হতে হয়তো যোগ্যতা লাগে না, কিন্তু স্বামী হতে হলে যোগ্যতা ঠিকই লাগে। এই জিনিসটাই বেশিরভাগ ছেলে বুঝতে চায় না। এজন্য রোমিও, মজনু, ফরহাদ, তাহসান তারাই হয়।
যাইহোক, ইমারজেন্সিতে এক পেসেন্ট এসেছে। তার পছন্দের মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সে বিষ খেয়েছে। ট্রিটমেন্টের পর এক ফাঁকে গিয়ে একাকি দেখা করলাম।
- কিসে পড় তুমি?
- অনার্স ফার্স্ট ইয়ার।
- আর মেয়ে?
- ইন্টার।
- মেয়ের জামাই কি করে?
- একটা কোম্পানিতে চাকরী।
- দেখ, আজ তুমি মেয়ের জন্য বিষ খেয়ে হাসপাতালের বেডে পড়ে আছো, আর মেয়েটি আরেকজনের বাড়িতে গিয়ে পৃথিবীর সবচে' সুখী নারীতে পরিণত হয়ে বসে আছে। দীর্ঘদিনের চেনা মানুষটি তার কাছে এখন হয়ে গেছে সবচে' অচেনা। আর যে লোকটিকে বিয়ে করেছে, সেই একদম অচেনা মানুষটিই এখন তার সবচে' চেনা। এখন মেয়েটিকে না পাওয়ার কষ্টে নিজেকে হয়তো নষ্ট করছে। কিন্তু এক সময় মেয়েটির জন্য এই অনুভূতি আর থাকবেও না। মানুষ যেখানে নিজের মৃত মা-বাবার কষ্ট কয়েকদিন পর ভুলে যায়, সেখানে এই কষ্ট তো তেমন কিছুই না... একসময় ঠিকই ভুলে যাবে মেয়েটিকে... কিন্তু ততক্ষণে সব হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও ব্যর্থ একজন ব্যক্তি হবে।
যে সময়টা এভাবে নষ্ট করে অপচয় করেছ, সেই সময়টা নিজের ক্যারিয়ারের পেছনে দাও। চাকরি কর। এমনি তখন বিয়ে করার জন্য অনেক মেয়ে পাবে। সুন্দরী মেয়ের মা-বাবরাই এসে তোমাকে খুঁজে নিবে। মাথায় এটা খুব ভালোভাবে ঢুকে নাও "প্রেমিক হতে হয়তো যোগ্যতা লাগে না, কিন্তু স্বামী হতে হলে যোগ্যতা ঠিকই লাগে।”
তাকিয়ে দেখি ছেলেটি কাঁদছে। মনে হল ছেলেটি বুঝেছে। "বিরহই আসলে সত্যিকার প্রেম, কিন্তু সে প্রেম মূল্যহীন।” ৪০
টিকাঃ
৪০. লিখেছেন: ডা. তারাকী হাসান মেহেদী।
📄 বিয়ের আগে প্রেম করা আর বিয়ের পর সংসার করা—দুটো ভিন্ন জিনিস
বিবাহপূর্ব প্রেম একটা ফ্যান্টাসি। এখানে ছেলে-মেয়ে উভয়েই নিজেকে সর্বোচ্চ উৎকৃষ্টরূপে উপস্থাপন করতে চায়। কদিন পরপর দেখা বা সপ্তাহে একদিন ডেটিং—ছেলেটি নিজের সামর্থ্যের সেরা উপস্থাপনটিই নিয়ে আসতে চায়, মেয়েটিও চায় তার প্রেমিক তাকে পরম সুন্দরী হিসেবেই দেখুক। তাই প্রেমের দিনগুলোতে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের নেতিবাচক ব্যাপারগুলো পরস্পরের কাছে প্রকাশ পায় না, দুজনেই তা যথাসম্ভব লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।
সংসার জীবন আলাদা ব্যাপার। এখানে নিত্যদিনের অভ্যাস প্রকাশ পাবে, কৃত্রিম ভালোমানুষির পর্দা উন্মোচিত হবে। চব্বিশ ঘণ্টা একটা মানুষের সাথে থাকলে তাকে বোঝা যায়, চেনা যায়, সত্যিকারভাবেই চেনা যায়। প্রেমের সময়ের মত ক্ষণিকের দেখা আর ভাব বিনিময়ের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সহজাত আকর্ষণের চাপল্যভরা মোহনীয় সময়টা তাই সংসারজীবনে থাকে না। সংসারজীবনে আবেগের চেয়ে বাস্তবতার ভূমিকা বেশি। ভার্সিটির গেট থেকে বেরোলে যে মুখটি দেখার জন্য আকুলতা থাকত, জীবনযুদ্ধের সংগ্রামরত দিন- রাতের সংস্পর্শ সেই আকর্ষণটা আর রাখে না। নির্জনে বসে প্রেয়সীর হাত ধরে যে রোমান্টিসিজমে বুঁদ হওয়া সহজ, বিবাহিত জীবনে সারাদিন অফিস করে বাড়ি ফিরে কানের কাছে বাচ্চা ছেলের ঘ্যানঘ্যান আর বউয়ের অভিযোগের ফিরিস্তি শোনার মুহূর্তে সেই রোমান্টিসিজম থাকে না। মনে ঘোরে একই কথা-“তোমাকে তো বিয়ের আগে এমন মনে হয়নি!”
প্রেমের সম্পর্কগুলো ক্ষণিকের ভালো লাগা থেকে গড়ে ওঠা। ওটা আর একটা মানুষের সাথে জীবন কাটিয়ে দেওয়া এক ব্যাপার না। এজন্য যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ধৈর্য আর ত্যাগের দরকার, সেটা তথাকথিত প্রেমের সম্পর্কে কখনোই গড়ে ওঠা সম্ভব না। দাম্পত্য জীবনের সমস্যাগুলো একে অন্যের সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে সমাধান হয়ে যায় না। মনোমালিন্যের সময়টাতে পার্কে বসে ফুল বিনিময়ের স্মৃতিচারণে খেদ দূর হয় না, আরো বাড়ে।
সেক্যুলাররা প্রায়ই অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের দুর্নাম করতে গিয়ে বলে- 'ছোটবেলা থেকে আমরা শিখি অচেনা মানুষের দেওয়া খাবার না খেতে, অথচ অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের মাধ্যমে একজন অচেনা মানুষের সাথে বিছানায় শুইতে বাধ্য করা হয়!' যেমন-ড. জাফর ইকবাল বলেছিল, বিয়ের আগে অন্তত তিনবছর প্রেম করে পরস্পরকে 'চিনে' নেওয়া দরকার। বাহ, বাহ বাহ, মারহাবা। কি পরামর্শ! এই 'চিনে নেওয়া' কতটা সম্ভব সেটা প্রেম করে বিয়ে করা দম্পতিদের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। সাময়িক ভালো লাগা আর মা-বাবার পকেট ফাঁকা করা ফুর্তির দিনের উপলক্ষই যদি 'চিনে নেওয়া' হত তাহলে আর বিয়ের পর প্রিয় মানুষটির 'অন্যরূপ' দেখে কেউ হতাশ হত না।
বস্তুত, বিয়ের আগের প্রেমের সময়টাতে শয়তান একে অন্যকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে দেখায়, ফলে হারাম সম্পর্কের মোহ যেমন বাড়ে, তেমনি পরস্পরের আসল রূপ ঢাকা পড়ে থাকে। বিয়ের পর শয়তান সরে যাওয়ায় তা সামনে এসে পড়ে। তখন এতদিন ধরে 'চেনা মানুষটি কেন 'অচেনা' লাগে। আল্লাহর ইচ্ছার ওপরে যে আপনার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়, সে আপনাকে সুখী করতে পারবে না, কোনদিন না। আর আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে, তাঁরই নির্দেশিত পন্থা মোতাবেক জীবন-সঙ্গীনীর দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দিয়ে যে ছেলে একটা ‘অচেনা’ মেয়ের হাত ধরতে পারে, আল্লাহ তায়ালা তার জীবনে একটা ম্যাজিক দিয়ে দেন। সেই ম্যাজিকের বলে নিতান্ত সাধারণ চেহারার মেয়েটি তার চোখে রাজকন্যার চেয়ে লাবণ্যময়ী হয়ে ওঠে, সন্তানেরা চক্ষুর শীতলতা হয়ে ওঠে। দ্বীনের পথে চলা স্বামী-স্ত্রীর জীবনে বিলাস থাকে না, বাহুল্য থাকেনা, কৃত্রিমতা থাকেনা; যেটা থাকে-তার নাম শান্তি। শান্তি সবাই খোঁজে। বেশিরভাগই খোঁজে শান্তির যিনি মালিক তাঁকে অসন্তুষ্ট করে। এটা আফসোসের বিষয়ই বটে。
📄 ছেলে পেলে হালি খানিক প্রেম করুক, প্রেমের নামে জিনার সাগরে ডুবে ডুবে জল খেয়ে মরুক তাতে অভিভাবকদের কোন মাথা ব্যথা নেই
সমস্যা বাঁধবে কখন জানেন? যখন আপনি প্রচলিত ধ্যান ধারনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য, নিজের নফসকে হিফাজত করার জন্য একটা হালাল সম্পর্ক তথা বিয়ে করতে চাইবেন। তখন সমাজের চারপাশ থেকে হাজারো অজুহাত আমাদের সামনে পেশ করা হয়। অভিভাবকরা বলবে-বিয়ে করে বউকে খাওয়াবে কি? আগে গ্রাজুয়েশন শেষ কর, চাকরি কর, নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নাও ইত্যাদি ইত্যাদি। তো এগুলো শেষ করতে করতে আপনার বয়সতো শেষ হয়ে যাবে আর যৌবনেরও ১২টা বাজবে। বিশ্বাস করুন! সাহাবা কিরামদের যুগে বিয়ে জিনিসটা অতি সাধারণ ছিল। এমনও হয়েছে আল্লাহর রাসুলের ঘনিষ্ঠ সাহাবি বিয়ে করেছেন, আর আল্লাহর রাসুল নিজেই জানতে পারেননি।
সুবহান-আল্লাহ! চিন্তা করা যায়, যে মানুষগুলো নিজেদের অস্তিত্ব চিন্তাই করতে পারতেন না আল্লাহর রাসুলকে ছাড়া! তাঁরাই বিয়ের সময় আল্লাহর রাসুলকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেন নি। কারণ, তাদের কাছে বিয়ে জিনিসটা খুবই সিম্পল ছিল। ৪১
কারণ বিয়ে জিনিসটা তাঁদের কাছে ইবাদাত ছিল। তারা এটাকে রাসুলের নিদের্শমত সহজ করেছেন। এজন্য সে সমাজে যিনা জিনিসটা এত কঠিন ছিল। বাস্তবে বিয়ে যত কঠিন হবে জিনা তত সহজ হবে। যার চিত্র আজ আমরা আমাদের সমাজে দেখতে পাই। বিয়ে জিনিসটা সালাত সিয়ামের মতই একটা ইবাদাত। যখন ইবাদাত আল্লাহর রাসুলের পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে, তখন সেখানে আল্লাহর রহমত বিরাজমান হবে। আর নচেত লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে বিয়ে নামক যে সামাজিক ট্রেন্ড চালু হয়েছে সেটা নামে বিয়ে হলেও রাসুলের সুন্নাহ সম্মত বিয়ে নয়।
বিয়ে নিয়ে প্রাণপণ সংগ্রামে লিপ্ত এক ভাই বলেন- "অল্প বয়সে যখন আপনি বিয়ে করতে চাইবেন, এক দল মানুষ আপনাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। আবার এই মানুষগুলোই বেপর্দা মেয়ে মানুষ দেখে মুখ দিয়ে কুকুরের মত লালা ঝরায়! সুতরাং এই মানুষগুলো কি ভাববে তা নিয়ে না ভেবে আপনি আপনার চেষ্টাটুকু করে যান, ফলাফল আসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে ইনশা আল্লাহ।” ৪২
টিকাঃ
৪১. লিখেছেন: জুবায়ের হোসেন।
৪২. লিখেছেন: Sujan Ahmed