📄 সমাজে অহরহ পরকিয়া, ডিভোর্স, দাম্পত্য জীবনে অশান্তির মূল কারণ পরিবারের মধ্যে ইসলামের অনুপস্থিতি
যে পরিবারে ইসলাম থাকবে না, সে পরিবারে থাকবেনা আল্লাহভীতি আর থাকবে না নিজ কর্মের জবাবদিহিতা। এতে করে শয়তানের পরিকল্পনা অনুযায়ী যাচ্ছেতাই করে যাওয়া যায়। যার দরুণ ঘরে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও পরনারীর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ কিছু অনৈসলামিক পুরুষের জন্য মামুলি ব্যাপার।
যাদের মনে তাকওয়া নেই তাদের আকর্ষণ নিজ স্ত্রী কেন্দ্রিক হয় না। তারা হারাম পথে নিজ চাহিদা মিটাতে শুরু করে। চোখের যিনা করে। স্ত্রীর সৌন্দর্য তাঁর কাছে ফিকে হয়ে যায়, একপর্যায়ে স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এমনকি পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। এরপর পারিবারিক অশান্তি ও ডিভোর্সের মত ঘটনাও ঘটে। অন্যদিকে তাকাওয়াহীন মেয়ে স্বামীর আনুগত্য করে না, নিজ ইজ্জত সম্মানকে পরপুরুষ হতে হিফাজত করে না। আমানতের খিয়ানত করে। এভাবে সমাজে বিপর্যয় নেমে আসে।
এটা হল আল্লাহর ভীতি না থাকার ফল। আল্লাহভীতি থাকলে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর আল্লাহর জন্য নিজেদের চোখ ও অন্তরকে হেফাজত করে এবং আল্লাহর জন্য একে অপরকে গভীরভাবে ভালবাসে। ঐ ভালবাসা বিয়ের দিন যেমন থাকে, বিয়ের ৩০ বছর পরেও একই রকম থাকে। আর এটা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য রহমত। তারা আল্লাহর জন্য নিজেদের চরিত্র হেফাজত করেছেন বলে আল্লাহ তাদের দু'জনের মধ্যে এমন গভীর ভালবাসা স্থাপন করে দিয়েছেন-ইসলামের বিপরীত স্রোতের মানুষগুলোর জন্য যা শুধু কল্পনা!
আমাদের সমাজে তথাকথিত মা-বাবারা তাদের সন্তানদের বিয়ে দেয়ার সময় তাকওয়া দেখে বিয়ে দিতে চায় না। তারা দেখে-ছেলে কত টাকার মালিক, কত উচ্চে তার বংশ, কতগুলো ডিগ্রী আছে ছেলের বাস্কেটে, কত স্যালাররি জব করে ইত্যাদি। ৩২
অথচ একবারের জন্য ভাবতে চায় না যে, ছেলের কাছে সারা জীবনের জন্য তার মেয়েকে দিচ্ছে, সে ছেলের চরিত্র ঠিক কিনা বা ছেলেটির মধ্যে আল্লাহভীরুতা আছে কিনা!
একইভাবে দেখা যায় ছেলেদের ক্ষেত্রে—সুন্দরী স্ত্রী খুঁজে, তারা তাকওয়াবান স্ত্রীর কথা ভুলে যায়। একসময় দেখা যায়, সেই সুন্দরী স্ত্রী তাকে ফেলে চলে যায় বা পরকীয়ায় পতিত হয় বা তার নিজের রূপের অহংকারে সংসারে সবসময় অশান্তি লাগিয়ে রাখে। অথচ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়াতে যত সম্পদ রয়েছে, তার মধ্যে উত্তম সম্পদ হচ্ছে একজন নেককার স্ত্রী। ৩৩
আমাদের মা-বাবাদের উচিত তাদের কন্যাদের সু-পাত্রস্থ করতে চাইলে দ্বীনদার, পরহেজগার, তাকওয়াবান যুবকদের সাথে বিয়ে দেয়া। এতে করে কন্যাও সুখী হলো, সমাজেও পরকিয়া, ডিভোর্সের মত ঘটনা অনেকাংশে কমে গেল। এই ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা হল— যার দ্বীনদারী ও আখলাক-চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, এমন কেউ প্রস্তাব দিলে তার সাথে তোমরা বিবাহ সম্পন্ন কর। তা না করলে পৃথিবীতে ফিতনা দেখা দিবে ও ব্যাপক ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়বে। ৩৪
আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন। আমিন! ৩২
টিকাঃ
৩২. * লিখেছেন: আশরাফুল ইসলাম।
৩৩. সহিহ মুসলিম: ১৪৬৭।
৩৪. সুনানু তিরমিযি: ১০৮৪।
৩২ (পুনশ্চ). লিখেছেন: Sabina Yesmin
📄 ইউনিভার্সিটিতে, ফেসবুকে ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব এখন স্বাভাবিক ব্যাপার
এখানে কেউ কাউকে বানায় পাতানো বোন, কেউ বলে আম্মা, অনেকে আবার খুব আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলে— 'আমাদের বন্ধুত্বে কোনও খাঁদ নাই, we are just friends! ধর্মের দোহাই দিয়েও অনেকে চ্যাট বা কমেন্টে মেতে উঠেন। কিন্তু এসকল আপনি, তুমি, তুই ডাক আর নানান সম্বোধনের আড়ালে অনেকেই আসল ব্যাপারটা ধরতে পারে না যে—পরিচিত হই না হই, নন মাহরাম কিন্তু নন মাহরামই! আলাপচারিতায় বা 'বন্ধুত্বে' যতই আপন ভাব আসুক না কেন শয়তান উপস্থিত হবেই এবং গুনাহের পথে টেনে নিয়ে যাবে।
এই ধারণাটা আমাদের অন্তরে আসে না, কারণ, গায়রে মাহরাম কারা সেটার সংজ্ঞা অনেকের জানা নাই। মাহরাম শব্দের শাব্দিক অর্থ: হারাম, যা হালালের বিপরীত। অর্থাৎ যাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম। মাহরামদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ী, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সঙ্গত হয়েছো তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে, যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের বদলে তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দুই বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা, পূর্বে যা হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু। ৩৬
আর ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, আর তাদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে, যা এমনিতেই প্রকাশিত হয় তা ব্যতীত। তাদের ঘাড় ও বুক যেন মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের মহিলাগণ, স্বীয় মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজেদের গোপন শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। *
অর্থাৎ এই ১৪ জন ছাড়া সকলেই যেমন—বন্ধু-বান্ধব, কাজিন, দুলাভাই, দেবর, দূর সম্পর্কের মামা, চাচারা বেগানা এবং তাদের সাথে পর্দা করা লাগবে। এমনকি যারা বিয়ে বাড়ির ওয়েটার, মাছ-সব্জি বিক্রেতা, ঘরের কাজের মানুষদের ধর্তব্যের মধ্যে ধরেন না, তাদেরও এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মনে রাখা খুব দরকার, হিজাব বা পর্দা মানে শুধু পোশাক নয়, পোশাক তো হিজাবের অংশ মাত্র। তাই সবারই এর গুরুত্ব অনুধাবন করা উচিত।
টিকাঃ
৩৬. সুরা নিসা: ২৩।
*. সুরা নুর: ৩১।
📄 প্রেমের বিয়ে টিকেনা কেন?
একদল তরুণ-তরুণী হালাল প্রেমের নামে পাপের সাগরে ডুবে থাকে। বোরখা পরে, পর্দা করে বা গায়ে পাঞ্জাবী দিয়ে ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে প্রেমকে কখনো হালাল করা যায়না। যেভাবেই হোক না কেন একজন ছেলে ও মেয়ের মাঝে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক হারাম। আল্ট্রা মডার্নের এই যুগে ছেলে-মেয়ের বিবাহের জন্য নাকি আগে থেকে আন্ডারস্টান্ডিং লাগে। close up-এর অশ্লীল 'কাছে আসার গল্পের' নামে কিছুদিন গুণাহের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া লাগে। এভাবে বিয়ে হলে নাকি সংসার ভাল হয়। এটা ডাহা মিথ্যা কথা। মরীচিকা ছাড়া কিছুই নয়।
প্রেমের বিয়ে কিভাবে বরকতময় হতে পারে অথচ এর শুরুই হয়েছে মহান আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে। আল্লাহর রাগকে সাথে করে নিয়ে কিভাবে সুখের সংসার হয়? প্রেমের সম্পর্ক চলাকালীন ছেলে-মেয়ে উভয়ে নিজেকে ভাল হিসেবে উপস্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করে। এক প্রকার মিথ্যা অভিনয় করে যায়। এই মিথ্যা অভিনয় থেকে সৃষ্টি হয় পরস্পরের প্রতি অগাধ চাহিদা, আশা ও বিশ্বাস। উভয়ে ভাবতে থাকে সে আমার জন্য পারফেক্ট। বিয়ের পর মিথ্যা অভিনয় আর থাকেনা, তখন প্রকাশ পায় আসল চেহারা। এক ছাদের নীচে বাস্তব জীবন শুরু হয়। মানুষ তো আর কেউ দুধে ধোয়া তুলসী পাতা নয়। আশা অনুযায়ী আর ফল পাওয়া যায়না। শুরু হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন। প্রেম করে বিয়ে করার ফলে অধিকাংশ সময়ই দুই পরিবারের মাঝে দূরত্ব থেকে যায়। এই টানাপোড়নে তখন মাথার ছায়া হয়ে অভিজ্ঞ কেউ আর সমঝোতা করতে আসেনা। একটি সংসার ভেঙ্গে যায়। স্বপ্ন মাটিতে আঁছড়ে পড়ে।
অন্যদিকে অজানা অচেনা একটা ছেলে বা মেয়ে প্রথম ভালভাবে কথা ও দেখার সুযোগ পায় বাসর ঘরে। পরস্পরে এক প্রকার আশংকা সাথে নিয়ে ও আশার পারদ একদম নিয়ে রেখে সংসার শুরু করে। উভয়ের আশংকা যেন বাস্তবে রুপ না নেয় এজন্য উভয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে ভালোটা দেওয়ার। সাথে থাকে মহান রব্বের সন্তুষ্টি। মাথার ছায়া হিসেবে থাকে অভিজ্ঞ পরিবারের অভিভাবক। একটি সংসারে ধীরে ধীরে ভালবাসার বীজ রোপিত হয়। যতদিন যায় আল্লাহ চাইলে সেটা বাড়তে থাকে। বৃদ্ধ বয়সে সেই মায়ার টানটা আরো বেশী হয়। এক অকৃত্রিম ভালবাসা ও মায়া। মিডিয়ার রঙ্গীন জগতের নায়ক-নায়িকারা আদর্শ কাপল নয়। আমাদের আদর্শ কাপল প্রিয় নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার স্ত্রীগণ। আমাদের বুঝমান মা ও বাবারা। আমাদের দাদা ও দাদীরা। আমাদের নানা ও নানীরাও। আদর্শ কাপল এরাই। মরীচিকার পিছনে ছুটতে থাকা প্রিয় যুবক-যুবতী ভাই ও বোনেরা! এক্ষণি লাগাম দাও! ক্ষণিকের কলুষিত ভালবাসার চেয়ে চিরন্তন নিষ্কলুষ ভালবাসা অনেক শ্রেয়।
টিকাঃ
Islam: The Way to Success.
লিখেছেন: Sadia Sultana Mim
📄 হালাল প্রেম বনাম হারাম প্রেম!
প্রেম হল অস্থায়ী আবেগ—যা হারাম।
আর বিয়ে হল স্থায়ী বাস্তবতা—যা হালাল।
প্রেমিক হতে হয়তো যোগ্যতা লাগে না, কিন্তু স্বামী হতে হলে যোগ্যতা ঠিকই লাগে। এই জিনিসটাই বেশিরভাগ ছেলে বুঝতে চায় না। এজন্য রোমিও, মজনু, ফরহাদ, তাহসান তারাই হয়।
যাইহোক, ইমারজেন্সিতে এক পেসেন্ট এসেছে। তার পছন্দের মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সে বিষ খেয়েছে। ট্রিটমেন্টের পর এক ফাঁকে গিয়ে একাকি দেখা করলাম।
- কিসে পড় তুমি?
- অনার্স ফার্স্ট ইয়ার।
- আর মেয়ে?
- ইন্টার।
- মেয়ের জামাই কি করে?
- একটা কোম্পানিতে চাকরী।
- দেখ, আজ তুমি মেয়ের জন্য বিষ খেয়ে হাসপাতালের বেডে পড়ে আছো, আর মেয়েটি আরেকজনের বাড়িতে গিয়ে পৃথিবীর সবচে' সুখী নারীতে পরিণত হয়ে বসে আছে। দীর্ঘদিনের চেনা মানুষটি তার কাছে এখন হয়ে গেছে সবচে' অচেনা। আর যে লোকটিকে বিয়ে করেছে, সেই একদম অচেনা মানুষটিই এখন তার সবচে' চেনা। এখন মেয়েটিকে না পাওয়ার কষ্টে নিজেকে হয়তো নষ্ট করছে। কিন্তু এক সময় মেয়েটির জন্য এই অনুভূতি আর থাকবেও না। মানুষ যেখানে নিজের মৃত মা-বাবার কষ্ট কয়েকদিন পর ভুলে যায়, সেখানে এই কষ্ট তো তেমন কিছুই না... একসময় ঠিকই ভুলে যাবে মেয়েটিকে... কিন্তু ততক্ষণে সব হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও ব্যর্থ একজন ব্যক্তি হবে।
যে সময়টা এভাবে নষ্ট করে অপচয় করেছ, সেই সময়টা নিজের ক্যারিয়ারের পেছনে দাও। চাকরি কর। এমনি তখন বিয়ে করার জন্য অনেক মেয়ে পাবে। সুন্দরী মেয়ের মা-বাবরাই এসে তোমাকে খুঁজে নিবে। মাথায় এটা খুব ভালোভাবে ঢুকে নাও "প্রেমিক হতে হয়তো যোগ্যতা লাগে না, কিন্তু স্বামী হতে হলে যোগ্যতা ঠিকই লাগে।”
তাকিয়ে দেখি ছেলেটি কাঁদছে। মনে হল ছেলেটি বুঝেছে। "বিরহই আসলে সত্যিকার প্রেম, কিন্তু সে প্রেম মূল্যহীন।” ৪০
টিকাঃ
৪০. লিখেছেন: ডা. তারাকী হাসান মেহেদী।