📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 প্রেম কি? যিনা কি? ও শাস্তি কি?

📄 প্রেম কি? যিনা কি? ও শাস্তি কি?


বিয়ের পূর্বে প্রেম = যিনা, (অবৈধ, হারাম)
বিয়ের পরে প্রেম = ইবাদত, (বৈধ, হালাল!)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শুনা কানের যিনা, আর যিনার কল্পনা ও আকাঙ্খা করা মনের যিনা। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়। ১৯

যিনা হারাম ও অত্যন্ত মন্দ কাজ। আল্লাহ তায়ালা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেছেন,
তোমরা যিনা-ব্যাভিচারের কাছেও যেওনা। তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ ও অত্যন্ত জঘন্য পথ। ২০

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আল্লাহর দৃষ্টিতে শিরকের পর সবচাইতে বড় গুনাহ হচ্ছে এমন কোন জরায়ুতে একফোটা বীর্য ফেলা, যা আল্লাহ তার জন্য হালাল করেননি। *

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنُ.
যিনাকারী যখন যিনা করে, সে তা ঈমানদার অবস্থায় করেনা। ২২

যিনার শাস্তি
যেসব বড় পাপ করলে দুনিয়াতেই কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, যিনা তার মধ্যে অন্যতম। দুনিয়াতে দু'টি বড় পাপের প্রতিক্রয়া খুবই নিন্দনীয়। যিনা তার একটি। যিনাকারীর বাস্তব বিচার বা সামাজিক বিচার যেমন অপমানজনক, তেমনি সমাজে দুর্নাম ছড়িয়ে যাওয়াও অপমানজনক। কাজেই যিনাকারী ইহকালেও ক্ষতিগ্রস্থ, পরকালেও ক্ষতিগ্রস্থ। এটা এমন একটা পাপ, যার মাধ্যম অনেক। যেমন-চোখ, হাত, পা, কান, মুখ, অন্তর ও লজ্জাস্থান। এগুলির দ্বারা মানুষ যিনার মত জঘন্য পাপ করে থাকে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,
তোমরা যিনা-ব্যাভিচারের কাছেও যেওনা। তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ ও অত্যন্ত জঘন্য পথ। ২৩

ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর আইন কার্যকর করার ব্যাপারে তাদের প্রতি দয়ামায়া তোমাদেরকে যেন প্রভাবিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাত দিনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাক। একদল মুমিন যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। ২৪

বর্তমানে একশ্রেণীর জ্ঞানহীন কিছু যুবক-যুবতী, লজ্জা-শরম ভুলে গিয়ে প্রেমে আসক্ত হয়ে যিনা করছে ও মা-বাবার অবাধ্য হচ্ছে। যৌনাচারের মত বিষাক্ত ভাইরাস ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে সমাজে। এরা মুসলিম নামের কলঙ্ক। সতর্ক করতে গেলে বিভিন্ন যুক্তি দেখায়, বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে (নিজের করা জঘন্যতম) পাপকে অস্বীকার করে। আর এই প্রেমের সাহায্যে কিছু (অজ্ঞ জ্ঞানপাপী) লোকেরা ইসলামিক লেবাস পড়ে টাকা কামিয়ে পাপের ভাগীদার হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা যেনো আমাদের সবাইকে সমাজে ছড়িয়ে থাকা অশ্লীল কাজকর্ম থেকে হেফাজত করেন। আমিন। ২৫

টিকাঃ
১৯. সহিহ বুখারি, মিশকাত: ৮৬; সহিহ মুসলিম : ২৬৫৭; সুনানু আবু দাউদ, সুনানু নাসাঈ।
২০. সুরা বনি ইসরাঈল: ৩২।
*. সহিহ বুখারি।
২২. সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।
২৩. সুরা বনি ইসরাঈল: ৩২।
২৪. সুরা নুর: ২।
২৫. লিখেছেন: Sabbir Khan

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 লাভ ম্যারেজ নয়, ম্যারেজ উইথ লাভ!

📄 লাভ ম্যারেজ নয়, ম্যারেজ উইথ লাভ!


পবিত্র কুরআনের সুরা নিসার ৩ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
নারীদের মধ্য হতে তোমাদের পছন্দমত দু'টি, তিনটি কিংবা চারটিকে বিয়ে করে নাও; কিন্তু যদি তোমরা আশংকা কর যে, তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে পারবেনা, তাহলে মাত্র একটি অথবা তোমাদের ডান হাত যার অধিকারী (ক্রীতদাসী), এটা আরও উত্তম; এটা অবিচার না করার নিকটবর্তী। ২৬

এখানে আল্লাহ তায়ালা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন- “তোমাদের পছন্দমত" সেইসব নারীদেরকে বিয়ে করতে। আর আমাদের সমাজে "যদি কোন মেয়েকে ভালো লাগে ও পছন্দ হয়" তাকে বিয়ে করতে কি পরিমাণ কষ্ট পোহাতে হয় তা আশপাশের অবস্থা দেখে আমরা বুঝতে পারি। ছেলে পড়াশোনা শেষ করে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একটা চাকরি যোগাড় করার পর বাবা-মা'র খেয়ালে আসে যে ছেলের বিয়ে দেয়া দরকার। শুরু হয় পাত্রী খোঁজার মহাযজ্ঞ। তারপর মা-বাবার পছন্দ, বোনের পছন্দ, ভাবির পছন্দ, মামার পছন্দ, অমুকের ভাসুরের পছন্দ, সবার পছন্দ শেষ করে পাত্রের পছন্দ হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়। লাজুক ছেলে তখন সলজ্জে উত্তর দেয়- 'আপনারা মুরুব্বী মানুষ, আপনারা যা ভালো বুঝেন তাই করেন।' এটি হচ্ছে টিপিকাল বাঙ্গালি ভালো ছেলে।

একবার এক নারী (সম্ভবত তার নাম লায়লা বিনতে কায়েস ইবনুল খাতিম) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে তার সাথে নিজেকে বিয়ের জন্য সরাসরি প্রস্তাব পেশ করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকেন। মহিলার কথা শুনে পাশে থাকা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কন্যা বলে উঠলেন- 'মেয়েটা কত নির্লজ্জই না ছিল।'
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন-'সে তোমার তুলনায় অনেক ভালো ছিল। সে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল এবং নিজেকে তাঁর নিকট বিয়ের জন্য পেশ করেছিলো।' পরবর্তীতে এক সাহাবি তাকে বিয়ের জন্য আগ্রহী হলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিয়ে দিয়ে দেন।

খানসা বিনতে খিদাম রাদিয়াল্লাহু আনহার স্বামী উহুদ যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করলে তার বাবা তাকে এক ব্যক্তির নিকট বিয়ে দিয়ে দেন। তখন হযরত খানসা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, 'আমার পিতা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন, অথচ আমি আমার সন্তানের চাচাকে অধিক পছন্দ করি।' তার কথাগুলো লক্ষ্য করুন। তার বিয়ে হয়ে যাবার পর তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জানান-তার স্বামী হিসেবে তার সন্তানের চাচাকে তিনি বেশী পছন্দ করবেন। এরপর যা ঘটলো তা হল, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিয়ে ভেঙ্গে দিলেন। ২৭

এ ধরণের আরেকটি ঘটনা পাওয়া যায় মুগিরা ইবনু শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রে। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর পর তার কন্যাকে তার চাচা কুদামাহ বিয়ে দিয়ে দেন ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে। কিন্তু ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রথম সারির একজন সাহাবি হওয়া সত্ত্বেও মেয়েটি এ বিয়েতে রাজি ছিলনা, কারণ সে মুগীরা ইবনু শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পছন্দ করতো এবং সে চেয়েছিল, যেন মুগীরা ইবনু শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বিয়ে করেন। অবশেষে তার চাচা এ বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে মুগিরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে তার বিয়ে দেন।

ইসলাম মানবমনের কি চমৎকার মূল্যায়নই না করেছে। সুবহানাল্লাহ। কোন নাটক নভেলে পাওয়া যাবে এরকম একটি ঘটনা? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরামর্শ হলো,
اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا، فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا.
তুমি আগে গিয়ে তাকে দেখে নাও, কেননা এটি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতিতে সহায়ক হবে। **

আপনি কোন মুসলিমাহর প্রতি আকৃষ্ট হবেন এটাই স্বাভাবিক, কেননা এটা আপনার ফিতরাত। সুরা আর-রূমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন,
আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে—তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন যুগলদের, যেন তোমরা তাদের মধ্যে স্বস্তি পেতে পার, আর তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেম ও করুণা সৃষ্টি করেছেন।

কোন মুসলিমাহ বোনের দ্বীনদারী, চরিত্র আপনার ভালো লাগতেই পারে। তবে এ ভালোবাসার একটা সীমারেখা রয়েছে। যদি তাকে পেতে চান, তাহলে চিরদিনের জন্য তাকে আপন করে নিন; দুই মাস বা দুই বছরের জন্য নয়। কাউকে পছন্দ করলে ইসলামের মূলনীতিটা হল—
তোমরা যখন বিয়ের জন্য এমন ছেলে বা মেয়ে পেয়ে যাবে, যার দ্বীনদারী চরিত্র ও জ্ঞান-বুদ্ধিকে তোমরা পছন্দ করবে, তো তখনই তার সাথে বিয়ের সম্বন্ধ স্থাপন করো।

আবার অভিভাবকদেরকে বলা হচ্ছে—
যদি এমন কেউ তোমার কাছে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসে, যার চরিত্র এবং তাকওয়া সন্তোষজনক, তাহলে তার কাছে (তোমার মেয়েকে) বিয়ে দাও। যদি এমনটি না কর, তাহলে পৃথিবীতে মারাত্মক রকম ফিতনা ও বিপর্যয় দেখা দিবে।

এটাই অবৈধ সম্পর্কের সাথে এর মাঝে পর্দা টেনে দিয়েছে। আপনি কাউকে পছন্দ করতে পারবেন কিন্তু তার সাথে কোনরূপ সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না। বিয়ের প্রস্তাব সংক্রান্ত হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। কোন নারীকে পছন্দ হলে তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে হবে তার অভিভাবকদের মাধ্যমে। এরপর তার মতামতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। খুব ভালো নয় বিষয়টা? কত সম্মানজনক। মানব হৃদয়ের কত নিকটবর্তী বিষয়।

টিকাঃ
২৬. সুরা নিসা: ৩।
২৭. সহিহ বুখারি: ৫১৩৮, ৬৯৪৫।
**. সহিহ বুখারি: ৫১৩৮, ৬৯৪৫।

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 সমাজে অহরহ পরকিয়া, ডিভোর্স, দাম্পত্য জীবনে অশান্তির মূল কারণ পরিবারের মধ্যে ইসলামের অনুপস্থিতি

📄 সমাজে অহরহ পরকিয়া, ডিভোর্স, দাম্পত্য জীবনে অশান্তির মূল কারণ পরিবারের মধ্যে ইসলামের অনুপস্থিতি


যে পরিবারে ইসলাম থাকবে না, সে পরিবারে থাকবেনা আল্লাহভীতি আর থাকবে না নিজ কর্মের জবাবদিহিতা। এতে করে শয়তানের পরিকল্পনা অনুযায়ী যাচ্ছেতাই করে যাওয়া যায়। যার দরুণ ঘরে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও পরনারীর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ কিছু অনৈসলামিক পুরুষের জন্য মামুলি ব্যাপার।

যাদের মনে তাকওয়া নেই তাদের আকর্ষণ নিজ স্ত্রী কেন্দ্রিক হয় না। তারা হারাম পথে নিজ চাহিদা মিটাতে শুরু করে। চোখের যিনা করে। স্ত্রীর সৌন্দর্য তাঁর কাছে ফিকে হয়ে যায়, একপর্যায়ে স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এমনকি পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। এরপর পারিবারিক অশান্তি ও ডিভোর্সের মত ঘটনাও ঘটে। অন্যদিকে তাকাওয়াহীন মেয়ে স্বামীর আনুগত্য করে না, নিজ ইজ্জত সম্মানকে পরপুরুষ হতে হিফাজত করে না। আমানতের খিয়ানত করে। এভাবে সমাজে বিপর্যয় নেমে আসে।

এটা হল আল্লাহর ভীতি না থাকার ফল। আল্লাহভীতি থাকলে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর আল্লাহর জন্য নিজেদের চোখ ও অন্তরকে হেফাজত করে এবং আল্লাহর জন্য একে অপরকে গভীরভাবে ভালবাসে। ঐ ভালবাসা বিয়ের দিন যেমন থাকে, বিয়ের ৩০ বছর পরেও একই রকম থাকে। আর এটা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য রহমত। তারা আল্লাহর জন্য নিজেদের চরিত্র হেফাজত করেছেন বলে আল্লাহ তাদের দু'জনের মধ্যে এমন গভীর ভালবাসা স্থাপন করে দিয়েছেন-ইসলামের বিপরীত স্রোতের মানুষগুলোর জন্য যা শুধু কল্পনা!

আমাদের সমাজে তথাকথিত মা-বাবারা তাদের সন্তানদের বিয়ে দেয়ার সময় তাকওয়া দেখে বিয়ে দিতে চায় না। তারা দেখে-ছেলে কত টাকার মালিক, কত উচ্চে তার বংশ, কতগুলো ডিগ্রী আছে ছেলের বাস্কেটে, কত স্যালাররি জব করে ইত্যাদি। ৩২
অথচ একবারের জন্য ভাবতে চায় না যে, ছেলের কাছে সারা জীবনের জন্য তার মেয়েকে দিচ্ছে, সে ছেলের চরিত্র ঠিক কিনা বা ছেলেটির মধ্যে আল্লাহভীরুতা আছে কিনা!
একইভাবে দেখা যায় ছেলেদের ক্ষেত্রে—সুন্দরী স্ত্রী খুঁজে, তারা তাকওয়াবান স্ত্রীর কথা ভুলে যায়। একসময় দেখা যায়, সেই সুন্দরী স্ত্রী তাকে ফেলে চলে যায় বা পরকীয়ায় পতিত হয় বা তার নিজের রূপের অহংকারে সংসারে সবসময় অশান্তি লাগিয়ে রাখে। অথচ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়াতে যত সম্পদ রয়েছে, তার মধ্যে উত্তম সম্পদ হচ্ছে একজন নেককার স্ত্রী। ৩৩

আমাদের মা-বাবাদের উচিত তাদের কন্যাদের সু-পাত্রস্থ করতে চাইলে দ্বীনদার, পরহেজগার, তাকওয়াবান যুবকদের সাথে বিয়ে দেয়া। এতে করে কন্যাও সুখী হলো, সমাজেও পরকিয়া, ডিভোর্সের মত ঘটনা অনেকাংশে কমে গেল। এই ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা হল— যার দ্বীনদারী ও আখলাক-চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, এমন কেউ প্রস্তাব দিলে তার সাথে তোমরা বিবাহ সম্পন্ন কর। তা না করলে পৃথিবীতে ফিতনা দেখা দিবে ও ব্যাপক ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়বে। ৩৪
আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন। আমিন! ৩২

টিকাঃ
৩২. * লিখেছেন: আশরাফুল ইসলাম।
৩৩. সহিহ মুসলিম: ১৪৬৭।
৩৪. সুনানু তিরমিযি: ১০৮৪।
৩২ (পুনশ্চ). লিখেছেন: Sabina Yesmin

📘 বিয়ে অর্ধেক দ্বীন > 📄 ইউনিভার্সিটিতে, ফেসবুকে ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব এখন স্বাভাবিক ব্যাপার

📄 ইউনিভার্সিটিতে, ফেসবুকে ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব এখন স্বাভাবিক ব্যাপার


এখানে কেউ কাউকে বানায় পাতানো বোন, কেউ বলে আম্মা, অনেকে আবার খুব আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলে— 'আমাদের বন্ধুত্বে কোনও খাঁদ নাই, we are just friends! ধর্মের দোহাই দিয়েও অনেকে চ্যাট বা কমেন্টে মেতে উঠেন। কিন্তু এসকল আপনি, তুমি, তুই ডাক আর নানান সম্বোধনের আড়ালে অনেকেই আসল ব্যাপারটা ধরতে পারে না যে—পরিচিত হই না হই, নন মাহরাম কিন্তু নন মাহরামই! আলাপচারিতায় বা 'বন্ধুত্বে' যতই আপন ভাব আসুক না কেন শয়তান উপস্থিত হবেই এবং গুনাহের পথে টেনে নিয়ে যাবে।

এই ধারণাটা আমাদের অন্তরে আসে না, কারণ, গায়রে মাহরাম কারা সেটার সংজ্ঞা অনেকের জানা নাই। মাহরাম শব্দের শাব্দিক অর্থ: হারাম, যা হালালের বিপরীত। অর্থাৎ যাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম। মাহরামদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ী, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সঙ্গত হয়েছো তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে, যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের বদলে তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দুই বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা, পূর্বে যা হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু। ৩৬

আর ঈমানদার নারীদেরকে বলে দাও তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, আর তাদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে, যা এমনিতেই প্রকাশিত হয় তা ব্যতীত। তাদের ঘাড় ও বুক যেন মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের মহিলাগণ, স্বীয় মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজেদের গোপন শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। *

অর্থাৎ এই ১৪ জন ছাড়া সকলেই যেমন—বন্ধু-বান্ধব, কাজিন, দুলাভাই, দেবর, দূর সম্পর্কের মামা, চাচারা বেগানা এবং তাদের সাথে পর্দা করা লাগবে। এমনকি যারা বিয়ে বাড়ির ওয়েটার, মাছ-সব্জি বিক্রেতা, ঘরের কাজের মানুষদের ধর্তব্যের মধ্যে ধরেন না, তাদেরও এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মনে রাখা খুব দরকার, হিজাব বা পর্দা মানে শুধু পোশাক নয়, পোশাক তো হিজাবের অংশ মাত্র। তাই সবারই এর গুরুত্ব অনুধাবন করা উচিত।

টিকাঃ
৩৬. সুরা নিসা: ২৩।
*. সুরা নুর: ৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00