📄 বাল্যবিবাহ নয়, বাল্য লিভ-টুগেদার বাতিল করুন!
বেশ কিছুদিন আগের কথা। গিয়েছিলাম সাইবার ক্যাফেতে। ছোট ছোট খোপ, ভেতরে কম্পিউটার ব্রাউজিং করছে অনেকে। খোপের দরজার সীমানা এতটুকু যে, ভেতরে দেখার উপায় নেই বসে থাকা মানুষটি ঠিক কি করছে। হঠাৎ ঢিলা করে সিটকিনি আটকানোয় সম্ভবত কোন খোপের দরজা খুলে গেলো। ভেতরের দৃশ্য অবলোকনে আমি বেশ অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। দেখলাম-সম্ভবত পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণীর কোন ছাত্র কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে মনোযোগ দিয়ে মনিটরে কিছু দেখছে, তার এক হাত বিশেষ কাজে ব্যস্ত, অন্যহাত মাউসে। শরীরে কম্পন, ঘাড় বেয়ে দরদর করে ঘাম নামছে। মনিটরের দিকে তাকিয়ে কি দেখলাম সেটা আর নাই বললাম। ছেলেটার কষ্ট দেখে সেই দিন খুব মায়াই হলো। ভাবলাম-"আহহারে! বেচারা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছে।"
কিছুদিন আগে এক নাস্তিককে দেখলাম সমকামীতার পক্ষে বেশ প্রচারণা চালাতে।
তার দাবি-কারো যদি পেছন দিক দিয়ে করার ইচ্ছা হয়, সেটাকে আপনি গুরুত্ব দেবেন না কেন? সে তো মানুষ, তার কি ইচ্ছার কোন মূল্য নেই? তার ইচ্ছাকে দমন করা কি মানবতাবিরোধী নয়?
একটু পর ঐ লোকটাকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আপনি কি ১৮ বছরের নিচে বিয়ে বিরোধী? সে বললো-অবশ্যই। আমি বললাম-অধিকাংশ ছেলেমেয়ের শারীরিক সক্ষমতা চলে আসে ১২-১৪ বছরের মধ্যে। সেই সময় তার ইচ্ছাকে আপনি আইন করে নিষিদ্ধ করে দিলেন এটা কী মানবতাবিরোধী নয়?
আমার এ বক্তব্যের পর সে দেখলাম চুপ হয়ে গেলো। আসলে সমাজের স্ট্যান্ডার্ড মূল্যবোধ কিন্তু মানুষই চালু করে। যেমন-ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্রকারীরা এখন বাংলাদেশের সমাজে যে স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম (মূল্যবোধ) চালু করতে চাইছে, তা হলো-
১) ১৮ বছরের নিচে বিয়ে করা খারাপ।
২) সমকামীতা ভালো জিনিস।
৩) লিভ-টুগেদার খারাপ কিছু নয়।
৪) প্রয়োজনে গর্ভপাত করিয়ে শিশু ভ্রুণকে হত্যা করেন। এতে কোন অন্যায় হবে না।
৫) নারীরা ছোট থেকে ছোটতর পোষাক পরবে, কিন্তু কোন পুরুষ সেদিকে তাকালে অন্যায় হবে।
৬) মায়েরা তার ছেলেকে মাসিকের কথা বলবে, মেয়ে তার বাবাকে দিয়ে সেনোরা কিনাবে।
৭) জাতীয় পর্যায়ে ধর্মের কোন অস্তিত্ব থাকবে না, ধর্ম থাকবে ধর্মালয় বা ঘরের গোপন প্রকোষ্ঠে।
৮) মুসলমানরা অন্য ধর্মকে কালচার হিসেবে পালন করতে পারবে, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরা মুসলমানদের রীতি-নীতি পালন করতে পারবে না।
৯) দাড়ি-টুপি জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের পোষাক। কেউ ইসলাম ধর্ম পালন করলেই তাকে সন্দেহের চোখে দেখতে হবে।
১০) ধর্ম মানুষকে ব্যাকডেটেড করে, ধর্মহীনতা মানুষকে আধুনিক করে।
১১) যারা নাচ-গান, নাটক-সিনেমা ও খেলাধুলা করে, তারা সমাজে সর্বোচ্চ শ্রেণীর (সেলিব্রেটি) লোক, আর যারা ধর্ম-কর্ম করে, তারা সমাজে নিচু শ্রেণীর লোক।
১২) মূর্তিপূজকদের যেকোন ধর্মীয় রীতি সংস্কৃতি হিসেবে প্রচার করা।
আপনি দেখবেন, বিভিন্ন ইহুদিবাদী মিডিয়া কিন্তু এই স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেমকে (মূল্যবোধকে) স্ট্যান্ডার্ড বানানোর চেষ্টা করে এবং সেটাকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে সমাজকে বিচার করার জন্য প্রচারণা চালায়। সমস্যা হলো মুসলমানদের নিয়ে। তারা ঐ ষড়যন্ত্রকারীদের বানানো স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেমকে (মূল্যবোধকে) স্ট্যান্ডার্ড ধরে নেয় এবং সেটা অনুসরণেই জীবন পরিচালনা করে, ভুল হয় তখনই। কারণ, একজন মুসলমানের মানা উচিত ইসলাম ও মুসলমানদের বানানো মূল্যবোধ, ইহুদিবাদীদের বানানো কথিত 'মূল্যবোধ' নয়।
শুরু করেছিলাম বাল্যবিবাহ দিয়ে। 'বাল্যবিবাহ খারাপ' এটা কিন্তু ঐ ইহুদিবাদীদের বানানো স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম (মূল্যবোধ)-এর অংশ। যদিও তাদের সমাজে বাল্য লিভ-টুগেদার করা খারাপ কিছু নয়। এমনকি সেটা করতে গিয়ে যদি পেটে বাচ্চাও আসে, তবে সেই বাচ্চাটাকে হত্যা করাও খারাপ কিছু নয়। কিন্তু মুসলমানদের সামাজিক মূল্যবোধ কিন্তু সেরকম নয়। মুসলিমদের মূল্যবোধ হচ্ছে— বাল্যবিবাহ খারাপ কিছু নয়। তুমি করলেও করতে পারো, না করলেও করতে পারো। তবে তুমি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক করতে পারবে না। এটা হারাম। আর গর্ভপাত করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এখন আমার কথা হলো—মুসলিমদেরকে কেন অমুসলিমদের বানানো স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম (মূল্যবোধ) মানতে হবে? তাদের তো নিজস্ব স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম আছে। ইহুদিবাদীরা তাদের স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেমকে স্ট্যান্ডার্ড বানানোর জন্য ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। মুসলিমরা কেন তাদের স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেমকে প্রচার করেনি? মুসলিমরা যদি ইহুদিদের বানানো স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম মেনে নেয়, তবে কিন্তু ইচ্ছা-অনিচ্ছায় তারা ইহুদিবাদীদের কর্তৃত্ব মেনে নিলো। আর ইহুদিবাদীদের খপ্পরে পড়া মানেই তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হলো, আর মুসলিমরা পরাধীনতার শিকল পড়লো।
সবাই বলছে-"মুসলিমদের উদ্ধার করতে হবে", "মুসলিমদের উদ্ধার করতে হবে।" কিন্তু কিভাবে উদ্ধার করতে হবে সেটা কেউ জানে না। আসলে উদ্ধারের প্রথম স্টেপ হচ্ছে ইহুদিবাদীদের বানানো সেই স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেমের খাঁচা ভেঙ্গে নিজস্ব মূল্যবোধে ফিরে যাওয়া। এছাড়া মুসলমানদের উদ্ধার হওয়া কখনই সম্ভব নয়। তাই '১৮ বছরের নিচে বিয়ে করা খারাপ' এই স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম (মূল্যবোধ) থেকে মুসলমানদের অবশ্যই ফিরে আসা উচিত।
টিকাঃ
* লিখেছেন : মোহাম্মাদ নাজমুস সাকিব。