📄 একটি বাস্তবমুখী শিক্ষনীয় গল্প
ঘটনা: ১
দোস্ত জানিস? করিম চাচা নাকি তার ১৬ বছরের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে...।
দোস্ত, বলিস কি? এটা তো জঘন্য অপরাধ, চল এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি।
ঠিক বলেছিস, চল চেয়ারম্যান সাহেবকে জানাই।
অতঃপর এলাকার মাতব্বরদের হস্তক্ষেপে বিয়ে পন্ডুল।
ঘটনা: ২
দোস্ত জানিস? করিম চাচার কলেজ পড়ুয়া মেয়েটা নাকি প্রেম করে...।
দোস্ত, মেয়ের বয়স যেনো কত?
১৬ চলছে মনে হয়...।
দোস্ত, ওহহ! তাহলে তো প্রেম করবেই, এটাই তো প্রেম করার বয়স, সমস্যা কি?
ঘটনা: ৩
দোস্ত জানিস? ঘটনাতো একটা ঘটে গেলো, ছি ছি! বলতেও আমার লজ্জা লাগতেছে, মেয়েটা এমন কাজ করতে পারলো?
দোস্ত, আরে ঘটনা কি আগে বল।
আরে ঐ যে করিম চাচার কলেজ পড়ুয়া মেয়েটা প্রেম করতো যে, সে নাকি এখন প্রেগন্যান্ট।
দোস্ত, আরে আমি আগেই জানতাম মেয়েটা এমন খারাপ, এসব মেয়েদের জন্যই সমাজের আজ এই অবস্থা, নাহহহ! মুখ দেখানোর আর জায়গা রাখলোনা। এদের মা-বাপ গুলাই বা কেমন? একটা মেয়েকে ঠিকভাবে রাখতে পারলোনা, এমন মা-বাপের মরে যাওয়া উচিৎ...।
হ্যাঁ, এটাই আমাদের সমাজ, এই সমাজ আপনাকে ভালো কাজে বাধা দিবে, খারাপ কাজে উৎসাহিত করবে, ফলাফলস্বরুপ খারাপ পরিণতিতে ধিক্কার দিবে।
এরা আপনাকে সরাসরি হত্যা করবেনা, কিন্তু বেঁচে থাকার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিবে।
যেই বয়সটা মেয়ের বিয়ের জন্য সবচে' উপযুক্ত ছিলো, সেই বয়সে তাকে বিয়ে দিতে বাধা দিবে, পরে তাকে সমাজ নষ্টার পরিচয় দিবে।
সবকিছু হারিয়ে করিম চাচারা যখন নিজেদের এই পৃথিবীর অযোগ্য মনে করে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করবে, তখন এরা জানাজায় দাঁড়িয়ে বলবে—করিম মিয়া কেমন ছিলো? ভালো ছিলো, ভালো ছিলো, ভালো ছিলো বলে মুখে ফেনা তুলবে। হায়রে পতি, হায়রে কর্ণধার, হায়রে সমাজ। একদিন এর জবাব দিতেই হবে।
📄 বাল্যবিয়ে বন্ধ নয় বরং বাল্য প্রেম-ভালোবাসার নষ্টামি বন্ধ করুন
নাস্তিক, নারীবাদী পতিতাদের প্রভু আমেরিকা-ইউরোপ ওপেন সেক্সের দেশ। তাদের বিবাহের আইন ১৪-১৬ হলে বাংলাদেশে ১৮ বছর কেনো? বাংলাদেশে প্রতিদিন জিনার কারণে কয়েক ডজন জারজ নবজাতক শিশু ডাস্টবিন, নদী- নালায় ফেলে হত্যা করা হয়। বর্তমান মোবাইলের কারণে কথিত প্রেম ভালোবাসা পানির মত সহজ হয়ে গিয়েছে। নিচে কিছু দৈনিক নিউজ পেপার দেখুন, কিভাবে জিনার শিশুকে হত্যা করা হচ্ছে।
১। কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা: জেলার পুরাতন রেলস্টেশন এলাকার রাস্তার পাশে একটি ডাস্টবিন থেকে এক নবজাতক কন্যা শিশুকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১টায় ওই নবজাতককে উদ্ধার করেন স্থানীয় দুই ব্যক্তি।
লিঙ্ক : www.dailyinqilab.com/article/13900/কুড়িগ্রামে-ডাস্টবিনে-নবজাতক/
২। নারায়ণগঞ্জ : ৮ এপ্রিল ২০১৭। ভূমিষ্ট হয়েই ডাস্টবিনে জায়গা হয়েছে এক নবজাতক কন্যার।
লিঙ্ক : www.banglanews24.com/national/news/bd/566304.details/
৩। ডাস্টবিনে নবজাতক : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬। ফুটফুটে একটি নবজাতক শিশু ঘুমিয়ে আছে। মায়ের প্রশান্তির আঁচলে নয়, ডাস্টবিনে। মানুষরুপি কোন পিশাচ তাকে ফেলে যায় রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনের ডাস্টবিনে।
লিঙ্ক: http://www.amar-sangbad.com/bangladesh/articles/36302/
৪। অবৈধ সম্পর্ক; রাজধানীতে প্রায়ই মিলছে নবজাতকের লাশ!
লিঙ্ক: www.thakurgaoerkhabor.com/অবৈধ-সম্পর্ক-রাজধানীতে-প/
আওয়ামীলীগ, বিএনপি রাজনীতিবিদরা, নাস্তিকরা ও প্রথম আলোর সুশীলরা কি জানে! ইউরোপ আমেরিকায় তাদের প্রভু রাষ্ট্রগুলোতে মেয়েরা ১৮ বছরের নীচেও বিয়ে করতে পারে? যেসব সুশীল গোষ্ঠী 'আধুনিকতা'র দোহাই দিয়ে বাল্য বিবাহের বিরোধিতা করছে, তাদের উচিত হবে ইউরোপ-আমেরিকায় তাদের প্রভুরাষ্ট্রগুলোতে মেয়েদের সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স কত, তা ইন্টারনেট ব্যবহার করে জেনে নেয়া। উইকিপিডিয়ার একটি আর্টিকেলে ইউরোপের দেশগুলোর সর্বনিম্ন বিয়ের বয়সের তালিকা দেয়া হয়েছে। তাতে রয়েছে-আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে ১২, ১৩, ১৪, ১৫ বছরের মেয়ে বিবাহ দেওয়ার আইন আছে।
১. অস্ট্রিয়ায় মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৮, কিন্তু কোর্টের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে।
২. বেলজিয়ামে আদালতের অনুমতিতে ১৮ বছর বয়সের কমে বিয়ে হতে পারে।
৩. বুলগেরিয়ায় আদালতের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে।
৪. ডেনমার্কে রাজার অনুমতিতে ১৫ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে।
৫. ফ্রান্সে পিতা-মাতার সম্মতিতে ১৮ বছরের নীচে বিয়ে হতে পারে।
৬. জার্মানিতে আদালত ও পিতা-মাতার ইচ্ছায় ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে।
৭. ইটালিতে আদালতের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে।
উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে, আমেরিকায় বহু স্টেটে মেয়েরা কোর্টের অনুমতি নিয়ে কম বয়সে বিয়ে করে। সূত্র: http://googl/N2DLSB
এছাড়াও পৃথিবীর অনেক দেশে বিবাহের কোন সর্বনিম্ন বয়স নাই, যার যখন ইচ্ছা সে বিবাহ করতে পারবে ও দিতে পারবে। উপরের লিঙ্কে বিস্তারিত তথ্য আছে। তাহলে আমাদের দেশে কেন ১৮-এর আগে বিয়েতে বাধা দেয়া হয়?
📄 ১৮ বছরের নিচে বিয়ে থামান, কিন্তু ১২ বছরের মেয়েকে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেন কেন?
বাল্যবিয়ে নাকি বাংলাদেশের আইনত নিষিদ্ধ। একজন নারী-পুরুষ পরস্পর সম্মতিতে বৈধ উপায়ে বিয়ে করবে, এটা মানতে পারেন না বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু এই সরকার-ই কিন্তু ১৮ বছরের নিচে বহু নারীকে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেয়। বাংলাদেশের সংবিধানে বড় করে লেখা আছে—গণিকাবৃত্তি নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অনুচ্ছেদ: ১৮-এর ২।
কিন্তু তারপরও সরকার অনুমোদিত বাংলাদেশে ১৪ থেকে ১৮টি গণিকা বা পতিতালয় আছে। এসব যৌনপল্লীতে সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী পতিতা রয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে, এসব লাইসেন্সধারী পতিতাদের একটি বড় অংশ হচ্ছে ১৮ বছরের নিচে। এরা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের থেকে লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছে। যে ম্যাজিস্ট্রেট ১৮ বছরের নিচে বিয়েতে বাধা দেয়, সেই ম্যাজিস্ট্রেট ১২ বছরের মেয়েকে ১৮ বছর বানিয়ে লাইসেন্স বানিয়ে দেন। বিভিন্ন জরিপে ম্যাজিস্ট্রেটদের এসব কিছু ফাঁস হয়।
The Global March Against Child Labour -এর হিসেব মতে, বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে পতিতার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। ২০০৫ সালে মার্কিন সরকারের মানবাধিকার রিপোর্ট অনুসারে অবশ্য ১৮ এর নিচে পতিতার সংখ্যা ছিলো ২৯ হাজারের বেশি। এসব শিশু পতিতারা শরীরবৃদ্ধির জন্য গরু মোটতাজাকরণ ট্যাবলেট খায় এবং দৈনিক গড়ে ১৫-২০ জন পুরুষের সাথে মিলিত হয়।
গত ২০১৬ সালের ৩১শে অক্টোবর ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কান্দাপাড়া পতিতাপল্লী নিয়ে একটি রিপোর্ট করে। রিপোর্টে সাংবাদিক জানায়, এ পতিতাপল্লীতে একটি নারী প্রবেশ করে ১২-১৪ বছর বয়সে।
সূত্র: http://ind.pn/2dUUOgO
একটু চিন্তা করে দেখুন, কেউ ফোন করে বললো ১৮ বছর বয়সের নিচে কোন নারীর বিয়ে হচ্ছে, এটা শুনে ইউএনও, ম্যাজিস্ট্রেট দৌড় দিয়ে যায় বিয়ে ভাঙ্গতে। টাঙ্গাইলের ইউএনও ইসরাত সাদমীন দৌড়ে যান মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে দিতে। এরপর ঐ মেয়ের সাথে পোজ দিয়ে ছবি তুলে সেই ছবি দেশজুড়ে ছড়িয়ে কৃতিত্ব জাহির করেন। কিন্তু বিদেশী মিডিয়ায় যখন সেই টাঙ্গাইল জেলার ১৪ বছর বয়সের আসমা, ১৭ বছর বয়সের কাজল, ১৫ বছর বয়সের পাখি, ১৭ বছর বয়সের সুমাইয়া নামক পতিতাদের দেখা যায় খদ্দরকে আলিঙ্গনরত অবস্থায়, তখন এরা কোথায় থাকে? সূত্র: http://bit.ly/2vgGsj3
তখন কেন ইসরাত সাদমীন দৌড়ে যান না। কেন তাদের পতিতালয় থেকে উদ্ধার করেন না। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রায় আইন প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু শিশু পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে আইন আছে। বিধির ৩৭২, ৩৭৩, ৩৬৪.ক ও ৩৬৬.ক ধারায় বেশ্যাবৃত্তির জন্য অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্রয় ও বিক্রয়ের শাস্তির বিধান বর্ণিত হয়েছে। এসব আইন অনুসারে দন্ডিত ব্যক্তির ১০-১৪ বছরের জেল হতে পারে। এই আইনগুলো কেন ইসরাত সাদমীন প্রয়োগ করেন না? ইসরাত সাদমীনদের বলতে চাই, বৈধ বিয়ে হলে কেন আপনাদের এত কষ্ট, কেন এত আইন?
আপনাদের আইনগুলো কেন পতিতাপল্লীর শিশু পতিতাদের জন্য বন্ধ থাকে? কেন সেগুলো প্রয়োগ করেন না? জাতি আজ এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়।
টিকাঃ
১৭ লিখেছেন: Muhammad Shameem
📄 বাল্যবিবাহ নয়, বাল্য লিভ-টুগেদার বাতিল করুন!
বেশ কিছুদিন আগের কথা। গিয়েছিলাম সাইবার ক্যাফেতে। ছোট ছোট খোপ, ভেতরে কম্পিউটার ব্রাউজিং করছে অনেকে। খোপের দরজার সীমানা এতটুকু যে, ভেতরে দেখার উপায় নেই বসে থাকা মানুষটি ঠিক কি করছে। হঠাৎ ঢিলা করে সিটকিনি আটকানোয় সম্ভবত কোন খোপের দরজা খুলে গেলো। ভেতরের দৃশ্য অবলোকনে আমি বেশ অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। দেখলাম-সম্ভবত পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণীর কোন ছাত্র কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে মনোযোগ দিয়ে মনিটরে কিছু দেখছে, তার এক হাত বিশেষ কাজে ব্যস্ত, অন্যহাত মাউসে। শরীরে কম্পন, ঘাড় বেয়ে দরদর করে ঘাম নামছে। মনিটরের দিকে তাকিয়ে কি দেখলাম সেটা আর নাই বললাম। ছেলেটার কষ্ট দেখে সেই দিন খুব মায়াই হলো। ভাবলাম-"আহহারে! বেচারা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছে।"
কিছুদিন আগে এক নাস্তিককে দেখলাম সমকামীতার পক্ষে বেশ প্রচারণা চালাতে।
তার দাবি-কারো যদি পেছন দিক দিয়ে করার ইচ্ছা হয়, সেটাকে আপনি গুরুত্ব দেবেন না কেন? সে তো মানুষ, তার কি ইচ্ছার কোন মূল্য নেই? তার ইচ্ছাকে দমন করা কি মানবতাবিরোধী নয়?
একটু পর ঐ লোকটাকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আপনি কি ১৮ বছরের নিচে বিয়ে বিরোধী? সে বললো-অবশ্যই। আমি বললাম-অধিকাংশ ছেলেমেয়ের শারীরিক সক্ষমতা চলে আসে ১২-১৪ বছরের মধ্যে। সেই সময় তার ইচ্ছাকে আপনি আইন করে নিষিদ্ধ করে দিলেন এটা কী মানবতাবিরোধী নয়?
আমার এ বক্তব্যের পর সে দেখলাম চুপ হয়ে গেলো। আসলে সমাজের স্ট্যান্ডার্ড মূল্যবোধ কিন্তু মানুষই চালু করে। যেমন-ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্রকারীরা এখন বাংলাদেশের সমাজে যে স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম (মূল্যবোধ) চালু করতে চাইছে, তা হলো-
১) ১৮ বছরের নিচে বিয়ে করা খারাপ।
২) সমকামীতা ভালো জিনিস।
৩) লিভ-টুগেদার খারাপ কিছু নয়।
৪) প্রয়োজনে গর্ভপাত করিয়ে শিশু ভ্রুণকে হত্যা করেন। এতে কোন অন্যায় হবে না।
৫) নারীরা ছোট থেকে ছোটতর পোষাক পরবে, কিন্তু কোন পুরুষ সেদিকে তাকালে অন্যায় হবে।
৬) মায়েরা তার ছেলেকে মাসিকের কথা বলবে, মেয়ে তার বাবাকে দিয়ে সেনোরা কিনাবে।
৭) জাতীয় পর্যায়ে ধর্মের কোন অস্তিত্ব থাকবে না, ধর্ম থাকবে ধর্মালয় বা ঘরের গোপন প্রকোষ্ঠে।
৮) মুসলমানরা অন্য ধর্মকে কালচার হিসেবে পালন করতে পারবে, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরা মুসলমানদের রীতি-নীতি পালন করতে পারবে না।
৯) দাড়ি-টুপি জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের পোষাক। কেউ ইসলাম ধর্ম পালন করলেই তাকে সন্দেহের চোখে দেখতে হবে।
১০) ধর্ম মানুষকে ব্যাকডেটেড করে, ধর্মহীনতা মানুষকে আধুনিক করে।
১১) যারা নাচ-গান, নাটক-সিনেমা ও খেলাধুলা করে, তারা সমাজে সর্বোচ্চ শ্রেণীর (সেলিব্রেটি) লোক, আর যারা ধর্ম-কর্ম করে, তারা সমাজে নিচু শ্রেণীর লোক।
১২) মূর্তিপূজকদের যেকোন ধর্মীয় রীতি সংস্কৃতি হিসেবে প্রচার করা।
আপনি দেখবেন, বিভিন্ন ইহুদিবাদী মিডিয়া কিন্তু এই স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেমকে (মূল্যবোধকে) স্ট্যান্ডার্ড বানানোর চেষ্টা করে এবং সেটাকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে সমাজকে বিচার করার জন্য প্রচারণা চালায়। সমস্যা হলো মুসলমানদের নিয়ে। তারা ঐ ষড়যন্ত্রকারীদের বানানো স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেমকে (মূল্যবোধকে) স্ট্যান্ডার্ড ধরে নেয় এবং সেটা অনুসরণেই জীবন পরিচালনা করে, ভুল হয় তখনই। কারণ, একজন মুসলমানের মানা উচিত ইসলাম ও মুসলমানদের বানানো মূল্যবোধ, ইহুদিবাদীদের বানানো কথিত 'মূল্যবোধ' নয়।
শুরু করেছিলাম বাল্যবিবাহ দিয়ে। 'বাল্যবিবাহ খারাপ' এটা কিন্তু ঐ ইহুদিবাদীদের বানানো স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম (মূল্যবোধ)-এর অংশ। যদিও তাদের সমাজে বাল্য লিভ-টুগেদার করা খারাপ কিছু নয়। এমনকি সেটা করতে গিয়ে যদি পেটে বাচ্চাও আসে, তবে সেই বাচ্চাটাকে হত্যা করাও খারাপ কিছু নয়। কিন্তু মুসলমানদের সামাজিক মূল্যবোধ কিন্তু সেরকম নয়। মুসলিমদের মূল্যবোধ হচ্ছে— বাল্যবিবাহ খারাপ কিছু নয়। তুমি করলেও করতে পারো, না করলেও করতে পারো। তবে তুমি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক করতে পারবে না। এটা হারাম। আর গর্ভপাত করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এখন আমার কথা হলো—মুসলিমদেরকে কেন অমুসলিমদের বানানো স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম (মূল্যবোধ) মানতে হবে? তাদের তো নিজস্ব স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম আছে। ইহুদিবাদীরা তাদের স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেমকে স্ট্যান্ডার্ড বানানোর জন্য ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। মুসলিমরা কেন তাদের স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেমকে প্রচার করেনি? মুসলিমরা যদি ইহুদিদের বানানো স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম মেনে নেয়, তবে কিন্তু ইচ্ছা-অনিচ্ছায় তারা ইহুদিবাদীদের কর্তৃত্ব মেনে নিলো। আর ইহুদিবাদীদের খপ্পরে পড়া মানেই তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হলো, আর মুসলিমরা পরাধীনতার শিকল পড়লো।
সবাই বলছে-"মুসলিমদের উদ্ধার করতে হবে", "মুসলিমদের উদ্ধার করতে হবে।" কিন্তু কিভাবে উদ্ধার করতে হবে সেটা কেউ জানে না। আসলে উদ্ধারের প্রথম স্টেপ হচ্ছে ইহুদিবাদীদের বানানো সেই স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেমের খাঁচা ভেঙ্গে নিজস্ব মূল্যবোধে ফিরে যাওয়া। এছাড়া মুসলমানদের উদ্ধার হওয়া কখনই সম্ভব নয়। তাই '১৮ বছরের নিচে বিয়ে করা খারাপ' এই স্যোশাল ভ্যালু সিস্টেম (মূল্যবোধ) থেকে মুসলমানদের অবশ্যই ফিরে আসা উচিত।
টিকাঃ
* লিখেছেন : মোহাম্মাদ নাজমুস সাকিব。