📄 বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে—এর সমাধান জেনে নিন
কেন বাল্যবিবাহের নামে সরকার, ইউএনও, পুলিশের হাতে লাঞ্চিত হতে যাবেন? ওরা যদি এসেই পড়ে বিয়ে ভাঙতে, আইনের ভয় দেখাতে বা লাঞ্চিত করতে, জাষ্ট বলে দিন যে, আমরা উভয়পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে-ওদের বিয়ে হচ্ছেনা আগামী ৫ বছরের মধ্যে, কিন্তু ওরা একত্রে বসবাস করবে, দেখবেন শাস্তি ও লাঞ্চনার পরিবর্তে সরকারী নিরাপত্তা আপনার অনুকূলে চলে এসেছে। কি অদ্ভুত আইন! মনে রাখবেন, সরকারের কাছে বিয়ে বলতে প্রমাণস্বরূপ শুধু রেজিষ্ট্রিকেই বুঝায়, যা বিয়ের কোন শর্তই নয়। দরকার নেই এমন প্রমাণের। সাম্প্রতিক সময়ের 'ইউ.এন.ও'-র কাজ দেখে এটাই ছিল আমার চিন্তাভাবনা। আমার এই ভাবনাটার প্রতিফলন আমার চেয়েও সুন্দর করে তুলে ধরেছেন আরেক ভাই, যা নিচে দেয়া হলো,
বাল্যবিবাহ : অদ্ভুত এক প্রতিবন্ধকতা; মজাদার সমাধান
[ক]
আজ যায়েদ এবং যাকিয়ার বিয়ে। পুরো পাড়ায় হৈ-হুল্লুড়। যায়েদ এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে। তার বয়স কেবল ২১। প্রথম ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছে, এসেই বাবার কাছে আবেদন 'ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য বিয়ে করা দরকার...'। একমাত্র পুত্রের কথা, কিভাবে ফেলা যায়! দাদা-চাচাদের নিয়ে পুত্রবধুর সন্ধানে নামলেন। সৌভাগ্যক্রমে বেশ দ্রুতই মেয়ে পাওয়া গেল। যায়েদের পুরাতন এক সহপাঠীর বোন! তারপরে বলা যায় জরুরী ভিত্তিতে বিয়ের আয়োজন করা হল!!
[খ]
যায়েদের বিয়ে উপলক্ষে বন্ধু এবং কাজিনরা দুদিন আগেই বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে। বিয়ের আয়োজনে শুধু তারা না, পাড়ার বুড়ো থেকে বাচ্চা অনেককে দৌড়ঝাঁপ করছে। বাংলার ট্র্যাডিশন অনুযায়ী বিয়ের অনুষ্ঠান মেয়ের বাড়িতে হচ্ছে, কিন্তু ছেলেবাড়ির লোকজনও আছে অনেক। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, দুপক্ষ একত্রে ওলিমার আয়োজন হয়েছে, দুজনের বাড়িতেই অর্থের একটু টানাপড়েন চলছে কি না...!
যাকিয়ার বাবা উঠানের এক কোনায় বসে দুজন মুরব্বির সাথে নিচু আওয়াজে কথা বলছেন, আবার মাঝেমধ্যে হাঁকডাক দিয়ে আয়োজনের তদারকিও করছেন। তিনি বলেছেন- 'হাশেম ভাই! আপনার টাকাটা তাহলে কয়েকমাস পর নেন! আমার ইচ্ছা ছিল এ মাসেই সব টাকা দিয়ে দেয়ার, কিন্তু বিয়ের আয়োজনের জন্য দিতে পারিনি। আর কিছু দিন ধৈর্য ধরুন।'
[গ]
জুমার পরেই খাওয়া-দাওয়ার আয়েজন করা হয়েছে, কাছের এক মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ধীরে ধীরে সবাই এদিকে আসছে। হঠাৎ কি হল-একটা কালো কাচের জিপ এবং একটা পুলিশের গাড়ি হর্ণ বাজাতে বাজাতে রাস্তায় উদিত হল। সবার চোখ সেদিকে। কি হয়েছে? কি হয়েছে? কাকে ধরতে পুলিশ আসলো?
সামনের গাড়ি থেকে ইউ.এন.ও সাহেবকে বের হতে দেখা গেল। আট-দশজন পুলিশ নিয়ে তিনি বিয়ের প্যান্ডেলের দিকে আসছেন। এসেই শিয়ালের মত গলা ছাড়লেন-'মেয়ের অভিভাবক কোথায়?' পাশে দাঁড়ানো মানুষের মত দেখতে পুলিশটা কানেকানে বলল-'স্যার, ছেলের বয়সও তো ২২ হয়নি!” ইউএনও আবার হাঁক ছাড়ল "এই ছেলের বাবাকেও ডাকো...।"
ইউএনও উঠানের একটি চেয়ারে বসে আছে। পুলিশগুলো বাঁ পাশে দাঁড়ানো। যাকিয়াদের উঠান ততক্ষণে লোকে লোকারণ্য, দু'জন মুরব্বি কিছুক্ষণ পর এসে উপস্থিত হলেন।
ইউএনও বললেন-আপনার সাহস কত বড়! আমার এলাকায় বাল্য বিবাহের আয়োজন করেছেন? জানেন আপনার কি শাস্তি হতে পারে?
বহুক্ষণ ধরে ইউএনও লোকটা হাঁকডাক করছে...। যাকিয়ার বাবা নিরীহ মানুষ, চুপচাপ শুনে যাচ্ছেন। যায়েদের বাবা বারবার পেছনের দিকে তাকাচ্ছে, বোধহয় কাকে যেন খুঁজছে!
এবার ভিড়ের পেছন থেকে আওয়াজ আসল, আওয়াজ আসাতে ইউএনও লোকটা আবার বললো—“আমি এখানে কথা বলছি, আপনারা হৈ-হুল্লুড় করেন কেন?”
কথা শেষ হওয়ার আগেই যায়েদ তার সামনে উপস্থিত!
-আসসালামু আলাইকুম আংকেল!!
[ঘ]
আধা মিনিট হল ইউএনওর মুখে কোনো শব্দ নেই! মাথা উঠিয়ে জিজ্ঞেস করলো—তাহলে তুমি কি বলতে চাও?
-আমি বলতে চাচ্ছি—আমি এখন থেকে যাকিয়ার সাথে 'জাস্ট লিভ টুগেদার' করবো! আপনার সংবিধান অনুযায়ী এটা বৈধ না অবৈধ? যদি আমি আর যাকিয়া একসাথে থাকি? যদি একে অপরের বাড়িতে বন্ধু হিসেবে যাতায়াত করি? আপনার সংবিধানের কোনো আইন আমাকে বাঁধা দিচ্ছে?
- তোমার বয়স কত? ইউএনও বলল।
- ২১
- আর যাকিয়ার?
- ১৬
-হ্যাঁ সংবিধানে এটা বৈধ, বাংলাদেশের সংবিধানে ১৪ বছরের পর কোনো ছেলে বা মেয়ে ফিজিক্যাল রিলেশনের (জিনা) জড়ানোর ব্যাপারে স্বাধীন!
-অর্থাৎ সংবিধান স্বীকার করছে ১৪ বছরেই এদেশের ছেলেমেয়েরা ফিজিক্যাল নিড ফিল করে, তাইতো? কিন্তু সেটা লিগ্যালভাবে পূরণ করতে মেয়েদের ১৮ আর ছেলেদের ২২ পর্যন্ত বসে থাকা লাগবে...। বাহ! ফাটাফাটি আইন, গরু-ছাগলের ঘিলু নিয়ে এসব আইন বানান?
-ইউএনও চুপ, তাঁর কপালে বিন্দু-বিন্দু ঘাম দেখা যাচ্ছে। কম বয়সী একটা ছেলের কাছে এরকম অপমান জীবনে কাউকে হতে দেখেছে বলে মনে পড়ছে না।
-যায়েদ বলল—কাজী সাহেব কই? এদিকে আসেন! আপনি ইউএনও সাহেবের সাথে চলে যান। আপনাকে দরকার নেই, আমার আজকে বিয়ে হচ্ছে না।
পাশে বসা যাকিয়ার বাবা বলল—বাবা, আমি তোমার কথা কিছুই বুঝলাম না!
যায়েদ বলল—প্লিজ! আপনি থামুন!! আপনি কেনো দুশ্চিন্তা করছেন? যার বুঝার সে ঠিকই বুঝেছে। আপনি শুধু দেখতে থাকেন...।
ইউএনও চেয়ার থেকে উঠে রাস্তায় দাঁড়ানো গাড়ির দিকে হাঁটা দিল, পেছনে পেছনে একপাল পুলিশ...!
[৬]
সবাই খানা খাচ্ছে খাক, আপনারা বসেন—উপস্থিত পাড়ার মুরব্বিদের উদ্দেশ্যে বলল যায়েদ। এবার ইমাম সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল—হুজুর আপনি বিয়ের খুতবা পড়ান। হুজুর বলল—আচ্ছা, কোনো সমস্যা নেই!
যায়েদ মুরব্বিদের দিকে তাকিয়ে বলল—এবার আপনাদের বলি কাহিনী, আমার বিয়ে এখনি এই ঘরে বসেই হয়ে যাবে, রেজিস্ট্রির চিন্তা আরো ৪-৫ বছর পর। অর্থাৎ সরকারের খাতায় আমি এই ক'বছর অবিবাহিতই থাকবো। কিন্তু আল্লাহর খাতায় তো দুজন কবুল বললেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। সরকারের দিকে তাকিয়ে আমার লাভ আছে নাকি?
-পাশ থেকে একজন বলল—'যদি এরমধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়?'
যায়েদ চোখ বন্ধ করে রাগটা গিলতে চেষ্টা করলো, তারপর আস্তে করে মুরব্বির দিকে তাকাল—“কি বললেন আপনি এইটা? বিয়ে কি ছাড়ার জন্য করছি? ডিভোর্স ফাইজলামির জিনিষ নাকি?!"
এবার যাকিয়ার বাবার দিকে তাকিয়ে আরেক মুরব্বি বলল, "জামাইয়ের মত জামাই পাইছো ব্যাপারী ভাই, আল্লাহর শোকর করো বেশি বেশি...।"
সবাই একযোগে হেসে উঠলো...।"
আমার মনে হয় বাল্যবিয়ের বিশেষ বিধান যা ১৯ ধারায় আছে সেটি ব্যাপক প্রচার দরকার। ডিসি অফিস, ম্যাজিস্ট্রেট অফিস, কাজী অফিস এবং মসজিদ-মাদরাসাগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া উচিত, বিশেষ বিধান বা ১৯ ধারা মোতাবেক বাল্যবিয়ে বাংলাদেশে এখন থেকে বৈধ। কোনো বাবা মা চাইলে সন্তানের স্বার্থেই তাকে বাল্যবিয়ে দিতে পারেন। কেউ বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে আসলে তাকে এই একটি কপি দিয়ে বলবেন- “বর্তমান আইনে বাল্যবিয়ে অভিভাবক চাইলে বৈধ। আইন দিয়ে প্রমাণ করুন-আমি অন্যায্য কাজ করছি।” সবাই এক হয়ে শক্ত ও জোরালো প্রতিবাদ করুন, দেখবেন যারা বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে আসছে, তারা লেজ গুটিয়ে পালাবে। যে আইনের কারণে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে বৈধ:
এটা প্রিন্ট দিয়ে বাল্যবিয়ের অভিভাবকরা সাথে রাখবেন। সংবিধানের ১৯ ধারাটি হলো-
"এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুকনা কেন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্ত বয়স্কেও সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশ এবং পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরনক্রমে বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না।”
টিকাঃ
গল্প: বাল্যবিবাহ, আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ।
১৬ সূত্র: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ (২০১৭ সনের ৬ নং আইন) ১১ মার্চ ২০১৭। http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_sections_detail.php...
📄 বাল্যবিয়ে নিয়ে দুই শয়তানের গোপন পরামর্শ!
দুই শয়তান নিজেদের মধ্যে বলছে:
আমাদের নতুন শ্লোগান হলো- যেখানেই থাকুন না কেন, শিশুবিবাহ ঠেকান।
- বস, আগে না বাল্য বিবাহ কইতেন? এখন দেহি 'শিশু'। পাঁচ ছয় বছরের কাউরে কেউ কি বিয়া দেয়নি?
দূর... তোর বুদ্ধি এখনো পাকেনি। তুই শিশুই রইয়া গ্যাছস। আসলে আমগো মূল কাম অইল মুসলিম জনসংখ্যা বাড়তে না দেওয়া। হেললাইগা আমগো অনেক দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা আছে। ১৮-এর নিচে 'শিশু' কইলে বেশি সহজ অয় কামডা।
কিন্তু এদের মাঝে ব্যভিচার-যিনা, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ তো আপনি কমানোর অপশন্স না দিয়া অশ্লীলতা, প্রেমের সবক, পতিতা চরিত্রদের সেলিব্রেটি বানায়া তাদের বিয়ার ইচ্ছা আরও বাড়ায়া দিতাছেন, তাইলে এইডা হিতে বিপরীত ঐয়া গেল না?
বললাম তো, আমগো মূল কাম মুসলিম জনসংখ্যা কমানো। এহন ধর, মুসলিমদের সন্তানদের মধ্যে যিনা-ব্যভিচার বাড়লো, তাদের ঈমান-আমল শেষ! এরপর ধর এদের এইট্স, গনোরিয়া-টনোরিয়াসহ বিভিন্ন রোগে মইরা সাবাড় বা ভবিষ্যৎ শেষ! এরপর ধর এরা বেশি বয়সে বিয়া করলো। বাচ্চা নিল। বাচ্চাগুলা অটিজম, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হইল (কী মজা!)। ক্যারিয়ার টেরিয়ারের লালচ দেহাইয়া এদের এনিহাউ আমরা বুঝাইতাম পারছি—বাচ্চা মানে ঝামেলা। তা এখন এর মাঝে কেউ প্রেম-টেম, আকাম-কুকাম যাই করুক। শিশু মনে এগুলো হয়ে যেতেই পারে। আর শিশুর জন্য 'হ্যাঁ' বলার শ্লোগান দিয়া ব্যাপারগুলা স্বাভাবিক বানায়া দিতাছি।
বহুত আচ্ছা! হেললাইগাই তো আপনি বড় শয়তান। হি হি হি।
📄 একটি বাস্তবমুখী শিক্ষনীয় গল্প
ঘটনা: ১
দোস্ত জানিস? করিম চাচা নাকি তার ১৬ বছরের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে...।
দোস্ত, বলিস কি? এটা তো জঘন্য অপরাধ, চল এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি।
ঠিক বলেছিস, চল চেয়ারম্যান সাহেবকে জানাই।
অতঃপর এলাকার মাতব্বরদের হস্তক্ষেপে বিয়ে পন্ডুল।
ঘটনা: ২
দোস্ত জানিস? করিম চাচার কলেজ পড়ুয়া মেয়েটা নাকি প্রেম করে...।
দোস্ত, মেয়ের বয়স যেনো কত?
১৬ চলছে মনে হয়...।
দোস্ত, ওহহ! তাহলে তো প্রেম করবেই, এটাই তো প্রেম করার বয়স, সমস্যা কি?
ঘটনা: ৩
দোস্ত জানিস? ঘটনাতো একটা ঘটে গেলো, ছি ছি! বলতেও আমার লজ্জা লাগতেছে, মেয়েটা এমন কাজ করতে পারলো?
দোস্ত, আরে ঘটনা কি আগে বল।
আরে ঐ যে করিম চাচার কলেজ পড়ুয়া মেয়েটা প্রেম করতো যে, সে নাকি এখন প্রেগন্যান্ট।
দোস্ত, আরে আমি আগেই জানতাম মেয়েটা এমন খারাপ, এসব মেয়েদের জন্যই সমাজের আজ এই অবস্থা, নাহহহ! মুখ দেখানোর আর জায়গা রাখলোনা। এদের মা-বাপ গুলাই বা কেমন? একটা মেয়েকে ঠিকভাবে রাখতে পারলোনা, এমন মা-বাপের মরে যাওয়া উচিৎ...।
হ্যাঁ, এটাই আমাদের সমাজ, এই সমাজ আপনাকে ভালো কাজে বাধা দিবে, খারাপ কাজে উৎসাহিত করবে, ফলাফলস্বরুপ খারাপ পরিণতিতে ধিক্কার দিবে।
এরা আপনাকে সরাসরি হত্যা করবেনা, কিন্তু বেঁচে থাকার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিবে।
যেই বয়সটা মেয়ের বিয়ের জন্য সবচে' উপযুক্ত ছিলো, সেই বয়সে তাকে বিয়ে দিতে বাধা দিবে, পরে তাকে সমাজ নষ্টার পরিচয় দিবে।
সবকিছু হারিয়ে করিম চাচারা যখন নিজেদের এই পৃথিবীর অযোগ্য মনে করে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করবে, তখন এরা জানাজায় দাঁড়িয়ে বলবে—করিম মিয়া কেমন ছিলো? ভালো ছিলো, ভালো ছিলো, ভালো ছিলো বলে মুখে ফেনা তুলবে। হায়রে পতি, হায়রে কর্ণধার, হায়রে সমাজ। একদিন এর জবাব দিতেই হবে।
📄 বাল্যবিয়ে বন্ধ নয় বরং বাল্য প্রেম-ভালোবাসার নষ্টামি বন্ধ করুন
নাস্তিক, নারীবাদী পতিতাদের প্রভু আমেরিকা-ইউরোপ ওপেন সেক্সের দেশ। তাদের বিবাহের আইন ১৪-১৬ হলে বাংলাদেশে ১৮ বছর কেনো? বাংলাদেশে প্রতিদিন জিনার কারণে কয়েক ডজন জারজ নবজাতক শিশু ডাস্টবিন, নদী- নালায় ফেলে হত্যা করা হয়। বর্তমান মোবাইলের কারণে কথিত প্রেম ভালোবাসা পানির মত সহজ হয়ে গিয়েছে। নিচে কিছু দৈনিক নিউজ পেপার দেখুন, কিভাবে জিনার শিশুকে হত্যা করা হচ্ছে।
১। কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা: জেলার পুরাতন রেলস্টেশন এলাকার রাস্তার পাশে একটি ডাস্টবিন থেকে এক নবজাতক কন্যা শিশুকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১টায় ওই নবজাতককে উদ্ধার করেন স্থানীয় দুই ব্যক্তি।
লিঙ্ক : www.dailyinqilab.com/article/13900/কুড়িগ্রামে-ডাস্টবিনে-নবজাতক/
২। নারায়ণগঞ্জ : ৮ এপ্রিল ২০১৭। ভূমিষ্ট হয়েই ডাস্টবিনে জায়গা হয়েছে এক নবজাতক কন্যার।
লিঙ্ক : www.banglanews24.com/national/news/bd/566304.details/
৩। ডাস্টবিনে নবজাতক : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬। ফুটফুটে একটি নবজাতক শিশু ঘুমিয়ে আছে। মায়ের প্রশান্তির আঁচলে নয়, ডাস্টবিনে। মানুষরুপি কোন পিশাচ তাকে ফেলে যায় রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনের ডাস্টবিনে।
লিঙ্ক: http://www.amar-sangbad.com/bangladesh/articles/36302/
৪। অবৈধ সম্পর্ক; রাজধানীতে প্রায়ই মিলছে নবজাতকের লাশ!
লিঙ্ক: www.thakurgaoerkhabor.com/অবৈধ-সম্পর্ক-রাজধানীতে-প/
আওয়ামীলীগ, বিএনপি রাজনীতিবিদরা, নাস্তিকরা ও প্রথম আলোর সুশীলরা কি জানে! ইউরোপ আমেরিকায় তাদের প্রভু রাষ্ট্রগুলোতে মেয়েরা ১৮ বছরের নীচেও বিয়ে করতে পারে? যেসব সুশীল গোষ্ঠী 'আধুনিকতা'র দোহাই দিয়ে বাল্য বিবাহের বিরোধিতা করছে, তাদের উচিত হবে ইউরোপ-আমেরিকায় তাদের প্রভুরাষ্ট্রগুলোতে মেয়েদের সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স কত, তা ইন্টারনেট ব্যবহার করে জেনে নেয়া। উইকিপিডিয়ার একটি আর্টিকেলে ইউরোপের দেশগুলোর সর্বনিম্ন বিয়ের বয়সের তালিকা দেয়া হয়েছে। তাতে রয়েছে-আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে ১২, ১৩, ১৪, ১৫ বছরের মেয়ে বিবাহ দেওয়ার আইন আছে।
১. অস্ট্রিয়ায় মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৮, কিন্তু কোর্টের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে।
২. বেলজিয়ামে আদালতের অনুমতিতে ১৮ বছর বয়সের কমে বিয়ে হতে পারে।
৩. বুলগেরিয়ায় আদালতের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে।
৪. ডেনমার্কে রাজার অনুমতিতে ১৫ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে।
৫. ফ্রান্সে পিতা-মাতার সম্মতিতে ১৮ বছরের নীচে বিয়ে হতে পারে।
৬. জার্মানিতে আদালত ও পিতা-মাতার ইচ্ছায় ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে।
৭. ইটালিতে আদালতের অনুমতিতে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হতে পারে।
উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে, আমেরিকায় বহু স্টেটে মেয়েরা কোর্টের অনুমতি নিয়ে কম বয়সে বিয়ে করে। সূত্র: http://googl/N2DLSB
এছাড়াও পৃথিবীর অনেক দেশে বিবাহের কোন সর্বনিম্ন বয়স নাই, যার যখন ইচ্ছা সে বিবাহ করতে পারবে ও দিতে পারবে। উপরের লিঙ্কে বিস্তারিত তথ্য আছে। তাহলে আমাদের দেশে কেন ১৮-এর আগে বিয়েতে বাধা দেয়া হয়?