📄 বোনেরা বেকার ছেলেদের বিয়ে করবেন না! এটা অনেক উত্তম একটা ব্যাপার
ইদানীং সমস্যা হচ্ছে-বোনেরা বেকার ছেলে বলতে বুঝে-যার চাকরি নেই সেই বেকার। তারা ব্যবসায়ী ছেলেদেরকেও বেকারের খাতায় খুব সহজেই ফেলে দিচ্ছে। পারিবারিক ব্যবসা আছে, কিন্তু পাত্রী খোঁজার সময় ছেলে কি করে এর উত্তর চাকরি করে যদি না পাওয়া যায়, তাহলে বোনদের ফ্যামিলি অনেকটা না-এর মতোই চুপ হয়ে যায়। তারা বিশ্বাস করে, ব্যবসায়ে লাভ-লস বলে একটা ব্যাপার আছে। এ মাসে লাভ করলে আগামি মাসে যে লস করবে না, এর কি গ্যারান্টি আছে। তাই তাদের নিকট চাকুরিজীবি ছেলেদেরই বেশি পছন্দ। কিন্তু চাকরিও যে আজকাল থাকছে না সে বাস্তবতাও বোনদের বোঝা উচিত। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলেরই বিজয় হচ্ছে। চাকরির ব্যাপারে বোনদেরকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বুঝা উচিত। এখানে চাকরি এতো সহজ নয়। বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষিতদের কত পার্সেন্ট বেকার, কী কারণে বেকার এ সমস্ত খোঁজখবর একটু রাখা উচিত। ধরে নিলাম অনেক কষ্টে কারো চাকরি হল। কিন্তু চাকরি হওয়াই শেষ কথা নয়, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো যেভাবে তাদের কর্মীদের ছাটাই করছে, সেখানে আপনি একমাত্র চাকরি দিয়ে কিভাবে (একটা ছেলের ভরণপোষণের সামর্থ আছে কি নেই) বিবেচনা করছেন। বর্তমানে অনেক চাকরির ক্ষেত্রেই দেখা যায়-বিশেষ করে আইটি সেক্টরের কাজগুলো কন্টাকচুয়াল অর্থাৎ পার্মানেন্ট না। এ ছেলেগুলো তাহলে এখন কী করবে? আমার তো মনে হয় না কোন পাত্রী দেখতে যাওয়ার পর যদি বলে-আমার চাকরি এখনও পার্মানেন্ট হয়নি, তখন বোনদের ফ্যামিলি ঐ ছেলের ব্যাপারে আর হ্যাঁ বলার মানসিকতা রাখবে!
বিয়ের ব্যাপারে ছেলেদের দুটো বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়। এক-সে মেয়ের ভরণপোষণ দিতে পারবে কিনা। দুই-শারিরীকভাবে সামর্থ কিনা। এখন কোন বেকার ছেলে যদি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, তখন এটা উচিত হবে যে, তাকে স্পষ্ট করে জিজ্ঞেস করা- তুমি মেয়ের ভরণপোষন কিভাবে চালাবে। তার উত্তর বিভিন্ন রকম হতে পারে।
১. আমি ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছি বা ব্যবসা করব।
২. আমার গত চাকরি থেকে বা গত ব্যবসা থেকে কিছু টাকা রেখেছি, তা দিয়ে কয়েক মাস আশা করি ভালো করেই চলে যাবে। এর মাঝে আল্লাহ চাহে তো একটা চাকরি বা ব্যবসা দাঁড় করাতে পারব।
৩. আমার বাবার ব্যবসার হাল ধরেছি, তা দিয়েই ইনশা আল্লাহ আমাদের চলে যাবে। এগুলো মোটামুটি সন্তোষজনক উত্তর। আর এ ছেলেগুলোর সামর্থ আছে বলেই তারা বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিন্তু বোনেরা যদি মনে করে-এগুলো কোন যোগ্যতা হল! তাহলে বিষয়টা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল ঠেকানোর মত দাঁড়াবে। 'নো জব, নো ম্যারিজ'-এ টাইপের অদৃশ্য সাইনবোর্ড থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত বিয়ের ব্যাপারে আমাদের এ সমাজে কোন অগ্রগতি হবে বলে মনে হয় না।
দুটো ব্যাপার খেয়াল করুন, এক-ছেলেরা বয়স হওয়ার পরেও বিয়ে করতে পারছে না। ওদিকে মেয়েদের বিয়ের বয়স হয়ে যাওয়ার পরেও উচ্চশিক্ষা শেষ না করিয়ে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অনেকটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপর বয়স বেড়ে যায়। ছেলেদের সাইকোলজিই এরকমভাবে তৈরি হয়ে গিয়েছে যে, তারা এখন আর মাস্টার্স পড়ুয়া কোন মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি নয়। মেয়েদের সাইকোলজি যেরকম চাকরি ছাড়া ছেলে বিয়ে করবে না ঠিক সেরকম। অর্থাৎ শয়তানের বানানো নিজস্ব ফাঁদে পড়ে আল্টিমেটলি আমরা সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
টিকাঃ
* লিখেছেন: সাখাওয়াত রহমান, ২০শে জুলাই, ২০১৫ ইং।
১৪ লিখেছেন: Muhammad Saowabullah
📄 পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কবিতায় বাল্যবিবাহের তথ্য!
"কবর"
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে সেই দিশে।
বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!
হেস নাহ হেস নাহ কোন দাদু, সেই তামাক মাজন পেয়ে,
দাদি যে তোমার কত খুশি হত দেখিতিস যদি চেয়ে!
নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, এতদিন পরে এলে,
পথপানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেঁদে মরি আঁখিজলে।
আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝুম নিরালায়!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন সো ভেস্থ (বেহেশত) নসিব হয়।
তারপর এই শূণ্য জীবনে যত কাটিয়াছি পাড়ি
যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
প্রতিক্রিয়া : আহ! কবিতাটি হৃদয়ে নাড়া দিলো।