📄 সন্তানদেরকে সময়মত বিয়ে না দেয়া
আমাদের সমাজে বাবা-মায়েরা সন্তানদেরকে সময়মত বিয়ে দেন না। ফলে তারা অবৈধ যিনা, পতিতালয়ে যাওয়া, মাষ্টারবেশন, হারাম সম্পর্ক ইত্যাদি নানান মারাত্মক পাপ কাজে লিপ্ত হয়। এতে বাবা বা অভিভাবকরা দাইয়্যুস-এর খাতায় নাম লেখান। অন্যদিকে পরিবার মেনে না নেয়ায় সন্তানরা পালিয়ে বিয়ে করে কোনো অযোগ্য মানুষকে, এতে সমস্যা আরো বড় হয়। সন্তানদের উচিৎ পিতা-মাতাকে বুঝানো। বিয়ে করার জন্য পিতা-মাতাকে বলা। না বুঝলে অন্য কারও মাধ্যমে বুঝানো। বাংলাদেশের অনেক মানুষ দ্বীনদার নয়। বাংলাদেশে অশিক্ষিত মানুষ বেশি। ৮০% শিক্ষিত যদি কেউ বলে তাহলে সে মিথ্যা বলেছে।
এবার আরো কিছু কথা জেনে রাখুন, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا. হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একই ব্যক্তি হতে। আর তা থেকে তোমাদের স্ত্রীদেরকেও সৃষ্টি করেছেন। এরপর তা থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও। আর ভয় কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।
যারা বালেগ ও সুস্থ, তাদের জন্য বিয়ে কতটা জরুরী তা বোধ শক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের অজানা নয়। হে মা-বাবা! সন্তানের প্রতি যত্নবান ও যত্নশীল না হওয়ার জন্য আপনাদের কি বিপদ আসবে না—তাদেরকে ইহুদি খ্রিষ্টানদের কাজে ঠেলে দেয়ার জন্য? নিয়ম অনুযায়ী সন্তানকে বিয়ের জন্য জিজ্ঞাসা করা পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের দায়িত্ব। বাংলাদেশের প্রায় ৭০% মানুষ মনে করতে পারেন যে, টাকা পয়সা নাই, ছেলে খাওয়াবে কি? আবার অনেকে ছেলেকে তাগাদাও দেন না। এসকল ব্যাপারে সন্তানদের সাথে কথাবার্তাও বলেন না। এদিক দিয়ে সে যে সীমালঙ্ঘন করছে, সাথে আপনাকেও বিপদে ফেলছে, তা আপনি বুঝতে চেষ্টাও করেন না।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ. তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (নারী-পুরুষ) তাদের বিয়ে দিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও (বিয়ে দাও)। (দারিদ্রকে ভয় পেও না) তারা অভাবগ্রস্থ হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, মহাজ্ঞানী।
সমাজে অভিভাবকদের সন্তানদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে না দেওয়ার কারণে হেনস্থার স্বীকার হতে হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বিবাহ করেছেন। এই নির্মল পবিত্র কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেন- أَتَزَوْجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي. আমি নারীকে বিবাহ করি (তাই বিবাহ আমার সুন্নত)। অতএব যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”
সবচে' বেশী বরকতপূর্ণ ও উত্তম বিবাহ- وعن عائشة قالت: قال النبي صلى الله عليه وسلم : إن أعظم النكاح بركة أيسره مؤنة. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই সবচে' বেশি বরকত ও কল্যাণময় বিবাহ হচ্ছে সেটি, যেখানে খরচ কম হয় (অহেতুক খরচ হয় না)।
আমাদের আজকের সমাজের একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো-আমরা বিয়েকে নানাবিধ অহেতুক খরচের বেড়াজালে বন্দী করে একটি বিভীষিকাময় কর্মযজ্ঞে পরিণত করেছি। এখন বিয়ের নাম নিতে গেলেই আসে লাখ লাখ টাকার বান্ডিল হাতে রাখতে হবে। যার কারণে লক্ষ লক্ষ যুবক আজ বিবাহের নাম নিতেও ভয় পায়। এভাবে অনৈসলামিক আর অপসাংস্কৃতিক কালচার আমাদের যুব সমাজকে বিবাহের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করছে। ইসলাম যেখানে বালেগ হওয়া এবং নূন্যতম আর্থিক সঙ্গতি থাকলে বিবাহের অনুমতি দিয়েছে, সেখানে আমাদের সমাজ এখন বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য ১৮/২০ বছর এবং ছেলেদের জন্য ক্যারিয়ার গঠন নামক শর্তের বেড়াজালে ৩০/৩৫ বছরের অলিখিত শর্তারোপ করেছে। কিছুদিন যাবত টেলিভিশনে প্রচারিত একটি কোম্পানীর বিজ্ঞাপনও এই থিউরী সম্প্রচার করছে। বলা হচ্ছে, বিয়েতে অনেক খরচ, তার চেয়ে বড় মোবাইল কিনে প্রেম করেন, আর খরচ করেন। অথচ এর অনেক আগেই ছেলে-মেয়ে বালেগ ও প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যায়। আমাদের বর্তমান সমাজে একটি তরুণ-তরুণীর সামনে অন্যায়-অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার সকল উপায়-উপকরণ খুবই সহজলভ্য। কিন্তু বিবাহ কঠিন। যার কারণে যিনা- ব্যভিচার ও ধর্ষণের বিস্তৃতি ঘটছে। পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণে আমাদের রাষ্ট্র ও বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর অব্যাহত প্রচেষ্টায় এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করেছে, যেখানে যুবক-যুবতীদের বিবাহ বহির্ভূত প্রেম-ভালোবাসা আর যিনা-ব্যভিচার খুব সহজ একটা বিষয় হয়ে গেছে। কিন্তু ধর্ম ও সমাজ স্বীকৃত বৈধ বিবাহকে দেয়া হয়েছে নির্বাসন। তাই দিন যত যাচ্ছে, যিনা-ব্যভিচার, ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন ততই বেড়ে চলছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিবাহকে সহজ ও সাবলীল করার বিকল্প নেই।
টিকাঃ
* লিখেছেন: Md Bodruzzama Ahmed
* সূরা নিসা: ১।
১০ সুরা নুর: ৩২।
১১ সহিহ বুখারি : ৫০৬৩।
১২ বাইহাকি। ইমান অধ্যায়।
📄 বোনেরা বেকার ছেলেদের বিয়ে করবেন না! এটা অনেক উত্তম একটা ব্যাপার
ইদানীং সমস্যা হচ্ছে-বোনেরা বেকার ছেলে বলতে বুঝে-যার চাকরি নেই সেই বেকার। তারা ব্যবসায়ী ছেলেদেরকেও বেকারের খাতায় খুব সহজেই ফেলে দিচ্ছে। পারিবারিক ব্যবসা আছে, কিন্তু পাত্রী খোঁজার সময় ছেলে কি করে এর উত্তর চাকরি করে যদি না পাওয়া যায়, তাহলে বোনদের ফ্যামিলি অনেকটা না-এর মতোই চুপ হয়ে যায়। তারা বিশ্বাস করে, ব্যবসায়ে লাভ-লস বলে একটা ব্যাপার আছে। এ মাসে লাভ করলে আগামি মাসে যে লস করবে না, এর কি গ্যারান্টি আছে। তাই তাদের নিকট চাকুরিজীবি ছেলেদেরই বেশি পছন্দ। কিন্তু চাকরিও যে আজকাল থাকছে না সে বাস্তবতাও বোনদের বোঝা উচিত। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলেরই বিজয় হচ্ছে। চাকরির ব্যাপারে বোনদেরকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বুঝা উচিত। এখানে চাকরি এতো সহজ নয়। বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষিতদের কত পার্সেন্ট বেকার, কী কারণে বেকার এ সমস্ত খোঁজখবর একটু রাখা উচিত। ধরে নিলাম অনেক কষ্টে কারো চাকরি হল। কিন্তু চাকরি হওয়াই শেষ কথা নয়, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো যেভাবে তাদের কর্মীদের ছাটাই করছে, সেখানে আপনি একমাত্র চাকরি দিয়ে কিভাবে (একটা ছেলের ভরণপোষণের সামর্থ আছে কি নেই) বিবেচনা করছেন। বর্তমানে অনেক চাকরির ক্ষেত্রেই দেখা যায়-বিশেষ করে আইটি সেক্টরের কাজগুলো কন্টাকচুয়াল অর্থাৎ পার্মানেন্ট না। এ ছেলেগুলো তাহলে এখন কী করবে? আমার তো মনে হয় না কোন পাত্রী দেখতে যাওয়ার পর যদি বলে-আমার চাকরি এখনও পার্মানেন্ট হয়নি, তখন বোনদের ফ্যামিলি ঐ ছেলের ব্যাপারে আর হ্যাঁ বলার মানসিকতা রাখবে!
বিয়ের ব্যাপারে ছেলেদের দুটো বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়। এক-সে মেয়ের ভরণপোষণ দিতে পারবে কিনা। দুই-শারিরীকভাবে সামর্থ কিনা। এখন কোন বেকার ছেলে যদি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, তখন এটা উচিত হবে যে, তাকে স্পষ্ট করে জিজ্ঞেস করা- তুমি মেয়ের ভরণপোষন কিভাবে চালাবে। তার উত্তর বিভিন্ন রকম হতে পারে।
১. আমি ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছি বা ব্যবসা করব।
২. আমার গত চাকরি থেকে বা গত ব্যবসা থেকে কিছু টাকা রেখেছি, তা দিয়ে কয়েক মাস আশা করি ভালো করেই চলে যাবে। এর মাঝে আল্লাহ চাহে তো একটা চাকরি বা ব্যবসা দাঁড় করাতে পারব।
৩. আমার বাবার ব্যবসার হাল ধরেছি, তা দিয়েই ইনশা আল্লাহ আমাদের চলে যাবে। এগুলো মোটামুটি সন্তোষজনক উত্তর। আর এ ছেলেগুলোর সামর্থ আছে বলেই তারা বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিন্তু বোনেরা যদি মনে করে-এগুলো কোন যোগ্যতা হল! তাহলে বিষয়টা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল ঠেকানোর মত দাঁড়াবে। 'নো জব, নো ম্যারিজ'-এ টাইপের অদৃশ্য সাইনবোর্ড থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত বিয়ের ব্যাপারে আমাদের এ সমাজে কোন অগ্রগতি হবে বলে মনে হয় না।
দুটো ব্যাপার খেয়াল করুন, এক-ছেলেরা বয়স হওয়ার পরেও বিয়ে করতে পারছে না। ওদিকে মেয়েদের বিয়ের বয়স হয়ে যাওয়ার পরেও উচ্চশিক্ষা শেষ না করিয়ে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অনেকটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপর বয়স বেড়ে যায়। ছেলেদের সাইকোলজিই এরকমভাবে তৈরি হয়ে গিয়েছে যে, তারা এখন আর মাস্টার্স পড়ুয়া কোন মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি নয়। মেয়েদের সাইকোলজি যেরকম চাকরি ছাড়া ছেলে বিয়ে করবে না ঠিক সেরকম। অর্থাৎ শয়তানের বানানো নিজস্ব ফাঁদে পড়ে আল্টিমেটলি আমরা সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
টিকাঃ
* লিখেছেন: সাখাওয়াত রহমান, ২০শে জুলাই, ২০১৫ ইং।
১৪ লিখেছেন: Muhammad Saowabullah
📄 পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কবিতায় বাল্যবিবাহের তথ্য!
"কবর"
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে সেই দিশে।
বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!
হেস নাহ হেস নাহ কোন দাদু, সেই তামাক মাজন পেয়ে,
দাদি যে তোমার কত খুশি হত দেখিতিস যদি চেয়ে!
নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, এতদিন পরে এলে,
পথপানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেঁদে মরি আঁখিজলে।
আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝুম নিরালায়!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন সো ভেস্থ (বেহেশত) নসিব হয়।
তারপর এই শূণ্য জীবনে যত কাটিয়াছি পাড়ি
যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
প্রতিক্রিয়া : আহ! কবিতাটি হৃদয়ে নাড়া দিলো।