📄 কেন তাড়াতাড়ি বিয়ে করা প্রয়োজন?
তাড়াতাড়ি বিয়ে করা প্রয়োজন নিম্নোক্ত কারণে:
১. সুরা নুর ভালো করে অধ্যয়ণ করলে দেখবেন, সবচেয়ে বড় গুনাহের একটা হচ্ছে যিনা করা। আর যিনার শাস্তি সবচে' কঠোর। যিনার শাস্তি : অবিবাহিত যিনাকারীকে মুমিনদের একটি দলের উপস্থিতিতে ১০০ বেত্রাঘাত। বিবাহিত যিনাকারীদের প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতে হবে। এবার দেখা যাক, আমাদের দেশে সমাজে কুরআনের এই বিধান আছে কিনা? সোজা উত্তর—নাই। বরং আমাদের দেশে যিনার কোনো শাস্তিই নাই। পতিতালয় থেকে যাদের গ্রেফতার করে ৫৪ ধারায়, তিনদিন পরে তাদের জামিন হয়ে যায়। কারো সাজা হতে শুনি নাই। তাহলে এবার চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন, বর্তমান সমাজের ভয়ংকর বাস্তব চিত্র।
২. আজকে চকবাজার কেয়ারী ইলিশিয়ামের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়েছিলাম। এ চল্লিশ মিনিটে যতটা ছেলে-মেয়ে দেখেছি, তার মধ্যে ৯০% জোড়া-জোড়া। সবাই কিন্তু স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং অবিবাহিত। এখন চিন্তা করে দেখুন—তারা কেন এই বয়সেই জোড়া হিসেবে আছে? আমরা মনে করি, বিয়ে মানে শুধুই শারীরিক চাহিদা পূরণ। আসলে কি তাই? তাহলে এই যে ছেলে-মেয়েগুলো যুগলে চলাফেরা করছে, তারা সবাই কি শারীরিক সম্পর্ক করে? এটার উত্তর নিশ্চয় সবাই না। তাহলে তারা কি চায়? হ্যাঁ, এক ভাইয়ের পোস্টে দেখেছিলাম। সে লিখেছে, তার মন সবসময় বোরিং ফিল করে। কিন্তু তার যেসব বন্ধুদের গার্লফ্রেন্ড আছে, তারা পড়ালেখার মাঝে মাঝে গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে, এরপর খুবই প্রফুল্ল মনে স্টাডি করে, যদিও এটা গুনাহ এবং শয়তান কর্তৃক সৃষ্টি হওয়া ক্ষণিকের ভালোলাগা ও প্রশান্তি তাহলে কি বুঝা যায়? একটা ছেলে বা মেয়ের শুধুই শারীরিক চাহিদা নয়, মানসিক চাহিদাটাও রয়েছে। শারীরিক স্বস্তি এবং মানসিক প্রশান্তি পায় বলেই রাত জেগে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডরা পরস্পরের সাথে কথা বলে।
৩. হযরত আদম আলাইহিস সালামকে যখন আল্লাহ সৃষ্টি করে জান্নাতে রেখেছিলেন, তখন তিনি এতো নেয়ামতের মধ্যে থেকেও একাকিত্ববোধ করছিলেন। সেজন্যই আল্লাহ তায়ালা দয়া করে তার একাকিত্ব দূর করার জন্য জীবনসঙ্গিনী হিসেবে হযরত হাওয়া আলাইহাস সালামকে সৃষ্টি করেছিলেন। শারীরিক সম্পর্কটা হচ্ছে পরে বংশ বৃদ্ধি করার জন্য। এখন যদি শারীরিক আকর্ষণ তীব্রভাবে না থাকতো, তাহলে মানুষ বংশবৃদ্ধিতে যথেষ্ট আগ্রহী হয়তো নাও হত। এখনো ক্ষেত্র বিশেষে সেটা দেখা যায়।
৪. মানুষের তিনটি চাহিদা। প্রথমত-পেটের চাহিদা, দ্বিতীয়ত-মানসিক চাহিদা, তৃতীয়ত-শারীরিক চাহিদা। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা এভাবেই সৃষ্টি করেছেন। আবার এসব চাহিদা পূরণের সুনির্দিষ্ট নীতিমালাও বলে দিয়েছেন। উপরের তিনটি চাহিদার মধ্যে দ্বিতীয়টি অপর দুটির সাথে সম্পৃক্ত। যখন কেউ বৈধ উপায়ে পেটের চাহিদা পূরণ করতে না পারে, তখনি সে অবৈধ উপায়ে সে চাহিদা পূরণ করে। এক্ষেত্রে আপনি যতই আইন আর গুনাহের কথা বলেন না কেন, আপনি সেটা বন্ধ করতে পারবেন না। অনুরূপভাবে, শারীরিক চাহিদা যখন কেউ বৈধভাবে পূরণ করতে না পারে, তখন সে অবৈধ পথে তা পূরণ করে। এক্ষেত্রেও আপনার আইন আর নিয়ম অকার্যকর। যা বর্তমানে আমরা সবাই প্রতিনিয়ত দেখছি। তাহলে দেখা যায়, এসব চাহিদা পূরণের দুটো উপায়, বৈধ অথবা অবৈধ পথ। আপনি বৈধ পথকে যত কঠিন করবেন, ততই অবৈধ পথে পা বাড়াবে।
৫. আল্লাহ তায়ালা যিনার শাস্তি সবচে' কঠিন করেছেন। কারণ, অবৈধ পথে না গিয়ে যাতে বৈধ পথে যায়। আর সে বৈধ পথটা হচ্ছে বিয়ে। সেজন্য আল্লাহ তায়ালা বিয়ের পথটা সবচে' সহজ করেছেন। বর্তমানে কি দেখা যাচ্ছে? পৃথিবীর সবচে' কঠিন কাজ হচ্ছে বিয়ে, বিপরীতে সবচেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে যিনা। হিসেব করেই দেখুন-২০০-৫০০ টাকা খরচ করেই যে কেউ যিনা করতে পারছে। আর বিয়ে করতে হলে প্রথমেই লাগবে একটি ভালো অবস্থান, তারপরে সব মিলিয়ে কমপক্ষে ১০-১৫ লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে। তাহলে এবার বলুন, কেন মানুষ এতটাকা খরচ করে বিয়ে করবে, যেখানে ২০০ টাকায় কাজ শেষ।
৬. বিয়ের পথ কঠিন হলে যিনার পথ সহজ হবে এটাই স্বাভাবিক। পশ্চিমা সমাজ আর ইসলামের দুশমনেরা সেটাই চায়। আর আমরা মুসলমানরা তাদের সে ফাঁদেই পড়ে আছি। বের হওয়ার চেষ্টা তো দূরে থাক, চিন্তাও করিনা। কিন্তু তারা ঠিকই তাদের নিয়মে চলে। তাদের বিয়ের আগেই ৯৯%-এর সবকিছু আদান-প্রদান হয়ে যায়, তাই তারা বিয়ে করে ক্যারিয়ার গঠনের পরে। বাট, মুসলিম সমাজে সেটা কখনো সম্ভব নয়। আর সম্ভব না হলেই কি বিরত থাকে? নাহ, খুব কম সংখ্যক বিরত থাকে এখন। সেটা দিন দিন বাড়ছেই। আর সেটাই পশ্চিমারা চায়।
৭. ক্রুসেড চলাকালীন মুসলিমদেরকে যখন ইহুদি-খ্রিষ্টানরা কোনোভাবেই পরাস্ত করতে পারছিল না, তখন শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে সুন্দরী নারীদের মুসলিম সৈন্যদের পিছনে লেলিয়ে দিয়েছিল। কেন? কারণ, দীর্ঘদিন নারীসঙ্গ বঞ্চিত মুসলিম সৈন্যদের সহজেই আকৃষ্ট করা যাবে। তাতে করে অবৈধভাবে যিনা করার ফলে মুসলিম সৈন্যদের চারিত্রিক শক্তি নষ্ট হবে, ঈমান দুর্বল হয়ে যাবে। ফলে, যুদ্ধ করার জন্য ঈমানী শক্তি হারিয়ে ফেলবে। আর বর্তমান মুসলিম সমাজেও ইহুদি-খ্রিষ্টানরা সেই নগ্নতাকে ছড়িয়ে দিয়েছে। বিয়ে না করে যুব সমাজ তাদের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে।
৮. একটা ছেলে যদি জীবনের সবচে' কঠিন সময় প্রথম ত্রিশ বছর বিয়ে না করেই কাটিয়ে দেয়, তাহলে পরের রসকষহীন ত্রিশ বছরের জন্য কেনইবা বিয়ে করবে? তার মানে কি বিয়ে শুধু চাকরি করে অন্যজনের পিছনে খরচ করবে, আর বংশ ধরে রাখতে সন্তান উৎপাদন করবে এজন্যই? কারণ, ত্রিশ বছর পরে স্ত্রীর সাথে ভালবেসে কথা বলার টাইম নাই। শুধু চাকুরি, ব্যবসা আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। মন-মানসিকতা তখন পরিবর্তন হয়ে যায়। বয়সের গাম্ভীর্য চলে আসে। অপরপক্ষে মেয়েটা ২২-২৫ বছরের তরুণী। সে চাইবে—একটু খুনসুটি করতে, রোমান্টিক কথা শুনতে। কিন্তু বয়সের কারণে গাম্ভীর্য আসা, কাজ করে সারাদিন পরে ক্লান্ত মানুষটার তখন কি সে মুড থাকে? সেজন্যই এখন বেশিরভাগ সংসারে সুখ নেই, আছে সম্পর্কের টানাপোড়েন। আর উত্তাল সমুদ্রের মত এই প্রথম ত্রিশ বছর তরুণটা কি করে কাটায়? প্লিজ! নিজের সাথে মিলিয়ে দেখুন। জীবনের কঠিন সময়েই যদি সহধর্মিণীকে পাশে না পায়, তাহলে বাকি সময় পেয়ে কি করবেন? কারণ, শেষ ত্রিশ বছর এমনিতেই পার করে দেয়া যাবে।
৯. আমরা যারা এই অবৈধ প্রেম-ভালবাসায় ডুবে থাকা ছেলে-মেয়েদের দেখে ফতোয়া স্মরণ করি—তারা কি ভেবে দেখেছি? তাদের জন্য কী করতেছি বা আদৌ এর থেকে তাদের বের করে আনার পথ কী? আপনি তাদেরকে যতই আইন, নৈতিকতা, কুরআন, হাদিসের বুলি আওড়িয়ে যান না কেন, কোনো লাভ হবেনা। প্রমাণ তো দেখতেই পাচ্ছেন। সুতরাং নিষেধ করার পাশাপাশি কার্যকরী পদক্ষপে নেয়া জরুরী। আর প্রত্যেকে নিজ কর্মের জন্য দায়ী, তাই নিজ গুনাহের ভার সমাজের উপর চাপিয়ে হালকা করা যাবে না। তাকওয়া অবলম্বন করতে হবে।
১০. বর্তমান সমাজ থেকে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অবৈধ প্রেম-ভালবাসা থেকে বের করে আনতে বিয়ের কোনো বিকল্প নেই। যদি ঈমানদার, দ্বীনদার, চরিত্রবান, ইসলামি আদর্শে উজ্জিবিত তরুণ প্রজন্ম গড়তে চাই, তাহলে বিয়ে ছাড়া ভিন্ন কোনো পথ নেই। আমি বলছিনা কিশোর বয়সে বিয়ে করিয়ে দিতে হবে। ছেলেদের ১৮-২১ আর মেয়েদের ১৫-১৬-এর পর বিয়ে করিয়ে দিন। যদিও ইসলামে বালেগ হওয়ার সাথে সাথে বিয়ে করিয়ে দিতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। যাইহোক এই সময়ে বিয়ে করিয়ে দিলে দেখবেন তাদের চরিত্র ৯০ ভাগ পবিত্র হয়ে গেছে ইনশা আল্লাহ।
টিকাঃ
* বিস্তারিত দেখুন, সুরা নুর: ২৪।
'লিখেছেন: Revival Muhammad Abdullah ভাই।
📄 দেরিতে বিয়ে হতে পারে আপনার দাম্পত্য জীবনে অশান্তির কারণ
যেসব কারণে আমাদের সমাজের যুবকরা বিয়ে করতে পারে না, তা হলো- ১. পারিবারিক কারণ। ২. ক্যারিয়ার গঠন। ৩. প্রবাস জীবন। ৪. মাদকাসক্ত। ৫. পর্ণমুভি দেখা, ও হস্তমৈথুন করার কারণে পুরুষত্ব হারিয়ে ফেলা।
আসুন একটু ব্যাখ্যা করি।
১. অনেকের ফ্যামিলিতে যুবক ভাইটির বিয়ের উপযুক্ত ২/৩ জন বোন থাকার কারণে ঐ বোনগুলো বিয়ে দেওয়া শেষ না করা পর্যন্ত উপযুক্ত ভাইটির বয়স এসে দাঁড়ায় ৩৫ থেকে ৩৭। ঘরে বিয়ে উপযুক্ত বোন রেখে অনেকেই বিয়ে করতে চান না। শেষে ৩৭ বছর বয়সে এসে ১৭ বছর বয়সী মেয়ে বিয়ে করে ৩/৪ বছর ঘর সংসার করার পর মেয়েটা যখন বুঝতে পারে-স্বামীর বয়সের সাথে তার বয়সের গ্যাপের কারণে চিন্তা চেতনায়, পছন্দ-অপছন্দের মাঝে ব্যবধান অনেক, তখনই সংসারে নেমে আসে অশান্তি। যদিও এটা বুঝার ভুল নতুবা বয়সের পার্থক্য তেমন স্পর্শকর বিষয় নয়।
২. অনেকেই আবার বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা শেষ করে ক্যারিয়ার গঠন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ৪২/৪৫ বছর বয়সে এসে বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনায় বিয়ে করতে রাজি হন। বিয়ে করেন ২০ বছর বয়সী মেয়েকে, মেয়েটার যখন পূর্ণযৌবন (৩০) আপনার বয়স তখন ৫৫, এটাও হতে পারে অশান্তির কারণ।
৩. অনেকে আবার পড়াশুনা শেষ করে চাকরির মুখ না দেখে পাড়ি জমান প্রবাসে। একটানা একযুগ (বারো বছর) থেকে এসে ৩৮ বছর বয়সে মেয়ে খুঁজেন ১৪ বছরের এবং বিয়েও করেন সেই মেয়েকে। বিয়ের ৪ মাস পর ফুড়ুৎ কইরা উড়াল মারেন আকাশে, এদিকে আপনার স্ত্রীটাও পরকিয়ার সুযোগ খুঁজে। এটাও হতে পারে আপনার দাম্পত্য জীবনে অশান্তির কারণ।
📄 সন্তানদেরকে সময়মত বিয়ে না দেয়া
আমাদের সমাজে বাবা-মায়েরা সন্তানদেরকে সময়মত বিয়ে দেন না। ফলে তারা অবৈধ যিনা, পতিতালয়ে যাওয়া, মাষ্টারবেশন, হারাম সম্পর্ক ইত্যাদি নানান মারাত্মক পাপ কাজে লিপ্ত হয়। এতে বাবা বা অভিভাবকরা দাইয়্যুস-এর খাতায় নাম লেখান। অন্যদিকে পরিবার মেনে না নেয়ায় সন্তানরা পালিয়ে বিয়ে করে কোনো অযোগ্য মানুষকে, এতে সমস্যা আরো বড় হয়। সন্তানদের উচিৎ পিতা-মাতাকে বুঝানো। বিয়ে করার জন্য পিতা-মাতাকে বলা। না বুঝলে অন্য কারও মাধ্যমে বুঝানো। বাংলাদেশের অনেক মানুষ দ্বীনদার নয়। বাংলাদেশে অশিক্ষিত মানুষ বেশি। ৮০% শিক্ষিত যদি কেউ বলে তাহলে সে মিথ্যা বলেছে।
এবার আরো কিছু কথা জেনে রাখুন, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا. হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একই ব্যক্তি হতে। আর তা থেকে তোমাদের স্ত্রীদেরকেও সৃষ্টি করেছেন। এরপর তা থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও। আর ভয় কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।
যারা বালেগ ও সুস্থ, তাদের জন্য বিয়ে কতটা জরুরী তা বোধ শক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের অজানা নয়। হে মা-বাবা! সন্তানের প্রতি যত্নবান ও যত্নশীল না হওয়ার জন্য আপনাদের কি বিপদ আসবে না—তাদেরকে ইহুদি খ্রিষ্টানদের কাজে ঠেলে দেয়ার জন্য? নিয়ম অনুযায়ী সন্তানকে বিয়ের জন্য জিজ্ঞাসা করা পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের দায়িত্ব। বাংলাদেশের প্রায় ৭০% মানুষ মনে করতে পারেন যে, টাকা পয়সা নাই, ছেলে খাওয়াবে কি? আবার অনেকে ছেলেকে তাগাদাও দেন না। এসকল ব্যাপারে সন্তানদের সাথে কথাবার্তাও বলেন না। এদিক দিয়ে সে যে সীমালঙ্ঘন করছে, সাথে আপনাকেও বিপদে ফেলছে, তা আপনি বুঝতে চেষ্টাও করেন না।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ. তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (নারী-পুরুষ) তাদের বিয়ে দিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও (বিয়ে দাও)। (দারিদ্রকে ভয় পেও না) তারা অভাবগ্রস্থ হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, মহাজ্ঞানী।
সমাজে অভিভাবকদের সন্তানদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে না দেওয়ার কারণে হেনস্থার স্বীকার হতে হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বিবাহ করেছেন। এই নির্মল পবিত্র কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেন- أَتَزَوْجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي. আমি নারীকে বিবাহ করি (তাই বিবাহ আমার সুন্নত)। অতএব যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”
সবচে' বেশী বরকতপূর্ণ ও উত্তম বিবাহ- وعن عائشة قالت: قال النبي صلى الله عليه وسلم : إن أعظم النكاح بركة أيسره مؤنة. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই সবচে' বেশি বরকত ও কল্যাণময় বিবাহ হচ্ছে সেটি, যেখানে খরচ কম হয় (অহেতুক খরচ হয় না)।
আমাদের আজকের সমাজের একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো-আমরা বিয়েকে নানাবিধ অহেতুক খরচের বেড়াজালে বন্দী করে একটি বিভীষিকাময় কর্মযজ্ঞে পরিণত করেছি। এখন বিয়ের নাম নিতে গেলেই আসে লাখ লাখ টাকার বান্ডিল হাতে রাখতে হবে। যার কারণে লক্ষ লক্ষ যুবক আজ বিবাহের নাম নিতেও ভয় পায়। এভাবে অনৈসলামিক আর অপসাংস্কৃতিক কালচার আমাদের যুব সমাজকে বিবাহের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করছে। ইসলাম যেখানে বালেগ হওয়া এবং নূন্যতম আর্থিক সঙ্গতি থাকলে বিবাহের অনুমতি দিয়েছে, সেখানে আমাদের সমাজ এখন বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য ১৮/২০ বছর এবং ছেলেদের জন্য ক্যারিয়ার গঠন নামক শর্তের বেড়াজালে ৩০/৩৫ বছরের অলিখিত শর্তারোপ করেছে। কিছুদিন যাবত টেলিভিশনে প্রচারিত একটি কোম্পানীর বিজ্ঞাপনও এই থিউরী সম্প্রচার করছে। বলা হচ্ছে, বিয়েতে অনেক খরচ, তার চেয়ে বড় মোবাইল কিনে প্রেম করেন, আর খরচ করেন। অথচ এর অনেক আগেই ছেলে-মেয়ে বালেগ ও প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যায়। আমাদের বর্তমান সমাজে একটি তরুণ-তরুণীর সামনে অন্যায়-অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার সকল উপায়-উপকরণ খুবই সহজলভ্য। কিন্তু বিবাহ কঠিন। যার কারণে যিনা- ব্যভিচার ও ধর্ষণের বিস্তৃতি ঘটছে। পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণে আমাদের রাষ্ট্র ও বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর অব্যাহত প্রচেষ্টায় এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করেছে, যেখানে যুবক-যুবতীদের বিবাহ বহির্ভূত প্রেম-ভালোবাসা আর যিনা-ব্যভিচার খুব সহজ একটা বিষয় হয়ে গেছে। কিন্তু ধর্ম ও সমাজ স্বীকৃত বৈধ বিবাহকে দেয়া হয়েছে নির্বাসন। তাই দিন যত যাচ্ছে, যিনা-ব্যভিচার, ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন ততই বেড়ে চলছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিবাহকে সহজ ও সাবলীল করার বিকল্প নেই।
টিকাঃ
* লিখেছেন: Md Bodruzzama Ahmed
* সূরা নিসা: ১।
১০ সুরা নুর: ৩২।
১১ সহিহ বুখারি : ৫০৬৩।
১২ বাইহাকি। ইমান অধ্যায়।
📄 বোনেরা বেকার ছেলেদের বিয়ে করবেন না! এটা অনেক উত্তম একটা ব্যাপার
ইদানীং সমস্যা হচ্ছে-বোনেরা বেকার ছেলে বলতে বুঝে-যার চাকরি নেই সেই বেকার। তারা ব্যবসায়ী ছেলেদেরকেও বেকারের খাতায় খুব সহজেই ফেলে দিচ্ছে। পারিবারিক ব্যবসা আছে, কিন্তু পাত্রী খোঁজার সময় ছেলে কি করে এর উত্তর চাকরি করে যদি না পাওয়া যায়, তাহলে বোনদের ফ্যামিলি অনেকটা না-এর মতোই চুপ হয়ে যায়। তারা বিশ্বাস করে, ব্যবসায়ে লাভ-লস বলে একটা ব্যাপার আছে। এ মাসে লাভ করলে আগামি মাসে যে লস করবে না, এর কি গ্যারান্টি আছে। তাই তাদের নিকট চাকুরিজীবি ছেলেদেরই বেশি পছন্দ। কিন্তু চাকরিও যে আজকাল থাকছে না সে বাস্তবতাও বোনদের বোঝা উচিত। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলেরই বিজয় হচ্ছে। চাকরির ব্যাপারে বোনদেরকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বুঝা উচিত। এখানে চাকরি এতো সহজ নয়। বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষিতদের কত পার্সেন্ট বেকার, কী কারণে বেকার এ সমস্ত খোঁজখবর একটু রাখা উচিত। ধরে নিলাম অনেক কষ্টে কারো চাকরি হল। কিন্তু চাকরি হওয়াই শেষ কথা নয়, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো যেভাবে তাদের কর্মীদের ছাটাই করছে, সেখানে আপনি একমাত্র চাকরি দিয়ে কিভাবে (একটা ছেলের ভরণপোষণের সামর্থ আছে কি নেই) বিবেচনা করছেন। বর্তমানে অনেক চাকরির ক্ষেত্রেই দেখা যায়-বিশেষ করে আইটি সেক্টরের কাজগুলো কন্টাকচুয়াল অর্থাৎ পার্মানেন্ট না। এ ছেলেগুলো তাহলে এখন কী করবে? আমার তো মনে হয় না কোন পাত্রী দেখতে যাওয়ার পর যদি বলে-আমার চাকরি এখনও পার্মানেন্ট হয়নি, তখন বোনদের ফ্যামিলি ঐ ছেলের ব্যাপারে আর হ্যাঁ বলার মানসিকতা রাখবে!
বিয়ের ব্যাপারে ছেলেদের দুটো বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়। এক-সে মেয়ের ভরণপোষণ দিতে পারবে কিনা। দুই-শারিরীকভাবে সামর্থ কিনা। এখন কোন বেকার ছেলে যদি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, তখন এটা উচিত হবে যে, তাকে স্পষ্ট করে জিজ্ঞেস করা- তুমি মেয়ের ভরণপোষন কিভাবে চালাবে। তার উত্তর বিভিন্ন রকম হতে পারে।
১. আমি ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছি বা ব্যবসা করব।
২. আমার গত চাকরি থেকে বা গত ব্যবসা থেকে কিছু টাকা রেখেছি, তা দিয়ে কয়েক মাস আশা করি ভালো করেই চলে যাবে। এর মাঝে আল্লাহ চাহে তো একটা চাকরি বা ব্যবসা দাঁড় করাতে পারব।
৩. আমার বাবার ব্যবসার হাল ধরেছি, তা দিয়েই ইনশা আল্লাহ আমাদের চলে যাবে। এগুলো মোটামুটি সন্তোষজনক উত্তর। আর এ ছেলেগুলোর সামর্থ আছে বলেই তারা বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিন্তু বোনেরা যদি মনে করে-এগুলো কোন যোগ্যতা হল! তাহলে বিষয়টা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল ঠেকানোর মত দাঁড়াবে। 'নো জব, নো ম্যারিজ'-এ টাইপের অদৃশ্য সাইনবোর্ড থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত বিয়ের ব্যাপারে আমাদের এ সমাজে কোন অগ্রগতি হবে বলে মনে হয় না।
দুটো ব্যাপার খেয়াল করুন, এক-ছেলেরা বয়স হওয়ার পরেও বিয়ে করতে পারছে না। ওদিকে মেয়েদের বিয়ের বয়স হয়ে যাওয়ার পরেও উচ্চশিক্ষা শেষ না করিয়ে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অনেকটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপর বয়স বেড়ে যায়। ছেলেদের সাইকোলজিই এরকমভাবে তৈরি হয়ে গিয়েছে যে, তারা এখন আর মাস্টার্স পড়ুয়া কোন মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি নয়। মেয়েদের সাইকোলজি যেরকম চাকরি ছাড়া ছেলে বিয়ে করবে না ঠিক সেরকম। অর্থাৎ শয়তানের বানানো নিজস্ব ফাঁদে পড়ে আল্টিমেটলি আমরা সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
টিকাঃ
* লিখেছেন: সাখাওয়াত রহমান, ২০শে জুলাই, ২০১৫ ইং।
১৪ লিখেছেন: Muhammad Saowabullah