📄 অধিক বয়সে বিয়ে করার পরিণতি! একটু ভাবুন নিজের সর্বনাশ ডেকে আনছেন নাতো!
অধিক বয়সে বিয়ে করা নারী-পুরুষ কারোর জন্য উচিত নয় এবং তা মোটেই সুখকর নয়। অধিক বয়সে বিয়ে আপনাকে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রনায় ধুকে ধুকে দংশন করেই ছাড়বে। এটাই চিরন্তন সত্য। সম্প্রতি বিজ্ঞানিদের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে-যেসকল নারীরা অধিক বয়সে বিয়ে করেন, তাদের অধিকাংশের সন্তান উৎপত্তির ডিম্ব শুকিয়ে যাওয়ার দরুণ সন্তান গর্ভে আসেনা। তারা সন্তান ধারণক্ষমতা শূণ্য হয়ে পড়ে। বহু গবেষণা ও উদাহরণ পর্যালোচনার পর তারা এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সৃষ্টিজগতের প্রতিটি বস্তুর একটি সুনির্দিষ্ট সময় থাকে। যা যে সময়ে করা প্রয়োজন, তা ঐ সময়ে যদি করে ফেলা না হয়, সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুরুষের ক্ষেত্রে ২০-২৫ এর মধ্যে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৫-১৮-এর মধ্যে বিয়েবন্ধন হয়ে যাওয়া অতীব জরুরী। এটাই তৃপ্ত ও সুখের জীবন। উভয়ের মধ্যে ৫/৭ বছরের অধিক ব্যবধান না হওয়া উচিত।
মেট্রিক পাশ করার পর যে মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায়, সে স্বামী-সন্তান নিয়ে অনাবিল সুখে থাকে। যা অপরের কাছে ঈর্ষার জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। পক্ষান্তরে যে মেয়েটি নিজের ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে অবিবাহিতা অবস্থায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর হওয়ার জন্য জীবনটা সঁপে দিলেন, তিনি হারালেন মাতৃত্বের সম্মান! হয়ে গেলেন কৃত্রিম ইজারা! জীবনটা হয়ে উঠলো একটি নাটক! কোথাও কোথাও প্রেম, লিভ টুগেদার, অফিসের বস কর্তৃক উত্যক্ত, ডেটিং এবং অবৈধ সম্পর্ক ধ্বংস করে দেয় চরিত্র নামের পবিত্রতা! এই হলো তার অধিক শিক্ষা অর্জনের চরম পাওয়া! আমার মেয়ের ব্যাপারে আমি খুবই সচেতন। মেট্রিক পাশ করার পর প্রথমে বিয়ের চেষ্টা। বিয়ের পরবর্তী সময়ে স্বামীর দ্বায়িত্বে থেকে পড়ার সুযোগ হয়ে থাকলে ঠিক আছে, নচেৎ নয়। একজন মেট্রিক পাশ বিবাহিতা সুখী নারীর সামনে অবিবাহিতা চাকুরীজীবি মাস্টার্স পাশ নারীর অবস্থান একজন মুসলিমের কাছে নিশ্চয় হাস্যকর ও লজ্জাজনক।
বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশে গড় বিয়ের বয়স প্রায় ত্রিশ। কিন্তু একজন মেয়ে প্রথম যৌনমিলনে লিপ্ত হয় গড়ে সাড়ে ষোল বছর বয়সে। এরপর প্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছর) হলে লিভ টুগেদারে যায় কিংবা ইচ্ছেমত পছন্দের পার্টনার খুঁজে নেয়। ফলে তাদের জন্য বিয়ের অতটা প্রয়োজন হয় না। আমাদের দেশের বর্তমানে পশ্চিমা সমাজকে অনুসরণ করতে গিয়ে মেয়েরা এখন লেখাপড়া শেষ করে অর্থাৎ আটাশ বা ত্রিশের কাছাকাছি গিয়ে বিয়ে করতে ইচ্ছুক হচ্ছে। কিন্তু সমস্যাটা কোথায় তৈরি হচ্ছে? এদেশে একটা মেয়ের পিরিওড শুরু হয় গড়ে ১২-১৩ বছর বয়সে। সে বিয়ে করছে ৩০ বছর বয়সে। আর পিরিওড বন্ধ হচ্ছে গড়ে ৪৯ বছর বয়সে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, কেউ যদি ত্রিশ বছর বয়সে বিয়ে করে, তাহলে তার প্রজননকাল (১৩ থেকে ৪৯ বছর) এর প্রথম অর্ধেক সময়ই সে অবিবাহিত অবস্থায় কাটাচ্ছে। এরপর ত্রিশে গিয়ে বিয়ে করছে। বাকি অর্ধেক প্রজননকাল সে বিবাহিত অবস্থায় কাটাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম অর্ধেক প্রজননকালই সবচে' বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টাতেই একজন মানুষের শারীরিক চাহিদা ও অনুভূতি সবচে' বেশি থাকে। পশ্চিমারা এসময় বিয়ে না করলেও তাদের শারীরিক চাহিদা ঠিকই মেটাচ্ছে, কেননা তারা ধর্মের নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলে না, উপরন্তু তাদের ধর্মবোধ প্রায় শূণ্য, আর পরকাল নিয়ে অতটা চিন্তাবোধও নেই। পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই বিষয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ছেলেদের যৌনআকাঙ্খা বিশ বছরে সর্বোচ্চ লেভেলে থাকে, তা আটাশ বছর পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে। এরপর চল্লিশ বছর পর্যন্ত ধীরে ধীরে কমতে থাকে। চল্লিশ বছর পর এই কমার হার দ্রুত হয়। একজন পঁয়তাল্লিশ বছরের লোকের অনুভুতি একজন পঁচিশ বছরের লোকের অনুভূতি অপেক্ষা অর্ধেক হয়। এই কারণে দেখা যায়, একটা নির্দিষ্ট বয়স পার হলে অনেকে বাকি জীবন বিয়ে ছাড়াই থেকে যায়।
তাহলে পশ্চিমা চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে দেরি করে বিয়ে করার ফলে ক্ষতি কাদের হচ্ছে? যৌন-সম্পর্কের ফ্রিকুয়েন্সি বা পরিমাণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন ২০-২৯ বছর বয়সী বিবাহিত মেয়েদের ৭২ ভাগ সপ্তাহে ৪ বার বা এর থেকে বেশি যৌনমিলন করে, সেখানে ৩০-৩৯ বয়সীদের সংখ্যা মাত্র ২৮ ভাগ। একজন মেয়ে যদি ত্রিশ বছরে বিয়ে করে, তার স্বামীর বয়স কমপক্ষে পঁয়ত্রিশ হবে ধরে নেওয়া যায়, কিংবা তার বেশিও হতে পারে। ফলে, একটা গ্যাপ তৈরি হয়, এর ফলে একজন অন্যজনের চাহিদা মেটানোর ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে, এদেশে পরকিয়ার হার বা বহুগামিতার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। আমার অনেক রোগীকে পেয়েছি এই সমস্যা নিয়ে আসতে। অনেকে একটু সুশীল সেজে বলতে পারে—বিয়ের মানেই কি শুধু সেক্সুয়ালিটি বুঝাতে চাচ্ছি কি না। না, সেটা না। কিন্তু প্রচলিত আইনে বিয়ের সংজ্ঞাতেও এই জিনিসটাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনি মেডিকেল সায়েন্সেও। যদি না হত, impotence তথা পুরুষত্বহীনতা বিয়ে বিচ্ছেদের একটা অন্যতম কারণ হত না। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই বাস্তবতা।
এবার আসি দ্বিতীয় পয়েন্টে... এটি সবচে' গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দেশে বিয়ের বয়স বেশি, তাদের ফার্টিলিটি রেট বা সন্তানধারণ ক্ষমতার হারও অনেক কম। তারা দেরীতে বিয়ে করছে, অন্যদিকে তাদের জনসংখ্যাও কমছে। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, ত্রিশের পর থেকে মেয়েদের সন্তানধারণ ক্ষমতা কমতে থাকে। পঁয়ত্রিশের পর থেকে এই ক্ষমতা আরো দ্রুত কমতে থাকে এবং চল্লিশে গিয়ে এই ক্ষমতা অর্ধেকে নেমে আসে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্রমোসোমাল, এবনরমাল বাচ্চা হওয়ার হারও বাড়তে থাকে। ত্রিশ বছরে প্রথম বাচ্চা নিলে প্রতি ৩৬৫টি বাচ্চার মধ্যে একজন ও চল্লিশ বছরে বাচ্চা নিলে প্রতি ৬৩টি বাচ্চার মধ্যে একজন বাচ্চা ক্রমোসোমাল এবনরমালিটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। তাছাড়া ত্রিশের পর প্রথম বাচ্চা নিলে ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তনের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। ত্রিশের পরে বাচ্চা নিলে মিসক্যারিজ হয়ে বাচ্চা মরে যাওয়ার হার ও বাচ্চার ডাউন সিনড্রোম হওয়ার চান্স বেশি থাকে। এর পেছনে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিম্বানু ও শুক্রানুর গুণগত মান কমে যাওয়া দায়ী। পুরুষদের ক্ষেত্রে বয়স পঁয়তাল্লিশ বছর পার হয়ে গেলে বাবা হওয়ার সক্ষমতা বিশ বছরের পুরুষদের চেয়ে পাঁচগুণ কমে যায়। আমার নিজের অভিজ্ঞতাই বলি—আমার দেখামতে তরুণী (১৯-২২) বয়সী মায়েরাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যবান বাচ্চার জন্ম দেয়।
এবার আসি, দেরি করে বিয়ের ধারণা এলো কিভাবে? পৃথিবীতে যখন জনসংখ্যা বাড়তে থাকল, তখন বিজ্ঞানীরা এর পেছনে কারণ খুঁজতে লাগলো। ডেভিস এবং ব্লেকের ফ্রেমওয়ার্ক থেকে জনসংখ্যা বিজ্ঞানী জন বোনগার্টস একটা ফর্মুলা দেন। সেখানে তিনি দেখান—মেয়েরা দেরি করে বিয়ে করলে ফার্টিলিটি (সন্তানধারণের) হার কমে যায়। অন্যদিকে জনসংখ্যা বিজ্ঞানীরা আরেকটি ফর্মুলা দেন—মেয়েদের আয় বাড়লে ফার্টিলিটি কমে। মেয়েদের দেরীতে বিয়ের উৎসাহ ও তাদের আয় বৃদ্ধি কিভাবে করা যায়—এর পেছনে গবেষণায় দুটো জিনিস বের হয়ে আসে। একটা হল—নারীশিক্ষা বৃদ্ধি, আরেকটি হল—নারীর ক্ষমতায়ন। এই দুটো বিষয় নিয়ে ব্যাপক প্রচারের ফলে পৃথিবীর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসছে বটে, কিন্তু একসময় এর মূল অর্থই পাল্টে যেতে থাকে। দেরীতে বিয়ের ফলে একদিকে পরকিয়া, ডিভোর্স বাড়ছে, অন্যদিকে সন্তানধারণ ক্ষমতাও কমছে। জাপানের কোন মেয়ে এখন চল্লিশ বছরের আগে বিয়ে করতে চায় না, অথচ জাপানের জনসংখ্যা এখন কমে যাচ্ছে। কানাডায় প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ অভিবাসী নিতে হচ্ছে তাদের জনসংখ্যার সংখ্যা ঠিক রাখার জন্য, রাশিয়াতে বাচ্চা হলে বাসা দেওয়া হচ্ছে, তবুও কেউ বাচ্চা নিতে আগ্রহী নয়। অতএব, যারা দেরীতে বিয়ে করতে আগ্রহী, তারা ব্যাপারটা নিয়ে একটু ভেবে দেখুন।
টিকাঃ
Article from "The Khaleej Times" ৩১.০৭.২০১৭ ইং।
* লিখেছেন: Dr. Taraki Hasan Mehedi রেফারেন্স: ১. Increased infertility with age in men and women; Dunson et al. Journal of Obstetric and Gynaecology, (January ২০০৪). ২. Age and reproductive outcome: The fertility society of Australia ৩. The variability of female reproductive ageing; Velder ER et al. Pubmed, (Mar-Apr ২০০২). ৪. Changes with age in the level and duration of fertility in the menstrual cycle; David B. Dunson et all. Journal of human reproduction (২০০২). ৫. Durex Network Research Unit ২০০৯, Face of Global Sex report, ২০০৫-২০০৯, Oxford University Press. ৬. Nutritional status and age at menarche in a rural area of Bangladesh, Chowdhury S et al; Annals of Human Biology (May-Jun, ২০০০). ৭. Female sexual dysfunction in a population-based study in Iran: M R Safarinejad. International Journal of Impotence Research (২০০৬) ৮. Proximate determinants of fertility: John Bongaarts.
📄 কেন তাড়াতাড়ি বিয়ে করা প্রয়োজন?
তাড়াতাড়ি বিয়ে করা প্রয়োজন নিম্নোক্ত কারণে:
১. সুরা নুর ভালো করে অধ্যয়ণ করলে দেখবেন, সবচেয়ে বড় গুনাহের একটা হচ্ছে যিনা করা। আর যিনার শাস্তি সবচে' কঠোর। যিনার শাস্তি : অবিবাহিত যিনাকারীকে মুমিনদের একটি দলের উপস্থিতিতে ১০০ বেত্রাঘাত। বিবাহিত যিনাকারীদের প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতে হবে। এবার দেখা যাক, আমাদের দেশে সমাজে কুরআনের এই বিধান আছে কিনা? সোজা উত্তর—নাই। বরং আমাদের দেশে যিনার কোনো শাস্তিই নাই। পতিতালয় থেকে যাদের গ্রেফতার করে ৫৪ ধারায়, তিনদিন পরে তাদের জামিন হয়ে যায়। কারো সাজা হতে শুনি নাই। তাহলে এবার চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন, বর্তমান সমাজের ভয়ংকর বাস্তব চিত্র।
২. আজকে চকবাজার কেয়ারী ইলিশিয়ামের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়েছিলাম। এ চল্লিশ মিনিটে যতটা ছেলে-মেয়ে দেখেছি, তার মধ্যে ৯০% জোড়া-জোড়া। সবাই কিন্তু স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং অবিবাহিত। এখন চিন্তা করে দেখুন—তারা কেন এই বয়সেই জোড়া হিসেবে আছে? আমরা মনে করি, বিয়ে মানে শুধুই শারীরিক চাহিদা পূরণ। আসলে কি তাই? তাহলে এই যে ছেলে-মেয়েগুলো যুগলে চলাফেরা করছে, তারা সবাই কি শারীরিক সম্পর্ক করে? এটার উত্তর নিশ্চয় সবাই না। তাহলে তারা কি চায়? হ্যাঁ, এক ভাইয়ের পোস্টে দেখেছিলাম। সে লিখেছে, তার মন সবসময় বোরিং ফিল করে। কিন্তু তার যেসব বন্ধুদের গার্লফ্রেন্ড আছে, তারা পড়ালেখার মাঝে মাঝে গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে, এরপর খুবই প্রফুল্ল মনে স্টাডি করে, যদিও এটা গুনাহ এবং শয়তান কর্তৃক সৃষ্টি হওয়া ক্ষণিকের ভালোলাগা ও প্রশান্তি তাহলে কি বুঝা যায়? একটা ছেলে বা মেয়ের শুধুই শারীরিক চাহিদা নয়, মানসিক চাহিদাটাও রয়েছে। শারীরিক স্বস্তি এবং মানসিক প্রশান্তি পায় বলেই রাত জেগে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডরা পরস্পরের সাথে কথা বলে।
৩. হযরত আদম আলাইহিস সালামকে যখন আল্লাহ সৃষ্টি করে জান্নাতে রেখেছিলেন, তখন তিনি এতো নেয়ামতের মধ্যে থেকেও একাকিত্ববোধ করছিলেন। সেজন্যই আল্লাহ তায়ালা দয়া করে তার একাকিত্ব দূর করার জন্য জীবনসঙ্গিনী হিসেবে হযরত হাওয়া আলাইহাস সালামকে সৃষ্টি করেছিলেন। শারীরিক সম্পর্কটা হচ্ছে পরে বংশ বৃদ্ধি করার জন্য। এখন যদি শারীরিক আকর্ষণ তীব্রভাবে না থাকতো, তাহলে মানুষ বংশবৃদ্ধিতে যথেষ্ট আগ্রহী হয়তো নাও হত। এখনো ক্ষেত্র বিশেষে সেটা দেখা যায়।
৪. মানুষের তিনটি চাহিদা। প্রথমত-পেটের চাহিদা, দ্বিতীয়ত-মানসিক চাহিদা, তৃতীয়ত-শারীরিক চাহিদা। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা এভাবেই সৃষ্টি করেছেন। আবার এসব চাহিদা পূরণের সুনির্দিষ্ট নীতিমালাও বলে দিয়েছেন। উপরের তিনটি চাহিদার মধ্যে দ্বিতীয়টি অপর দুটির সাথে সম্পৃক্ত। যখন কেউ বৈধ উপায়ে পেটের চাহিদা পূরণ করতে না পারে, তখনি সে অবৈধ উপায়ে সে চাহিদা পূরণ করে। এক্ষেত্রে আপনি যতই আইন আর গুনাহের কথা বলেন না কেন, আপনি সেটা বন্ধ করতে পারবেন না। অনুরূপভাবে, শারীরিক চাহিদা যখন কেউ বৈধভাবে পূরণ করতে না পারে, তখন সে অবৈধ পথে তা পূরণ করে। এক্ষেত্রেও আপনার আইন আর নিয়ম অকার্যকর। যা বর্তমানে আমরা সবাই প্রতিনিয়ত দেখছি। তাহলে দেখা যায়, এসব চাহিদা পূরণের দুটো উপায়, বৈধ অথবা অবৈধ পথ। আপনি বৈধ পথকে যত কঠিন করবেন, ততই অবৈধ পথে পা বাড়াবে।
৫. আল্লাহ তায়ালা যিনার শাস্তি সবচে' কঠিন করেছেন। কারণ, অবৈধ পথে না গিয়ে যাতে বৈধ পথে যায়। আর সে বৈধ পথটা হচ্ছে বিয়ে। সেজন্য আল্লাহ তায়ালা বিয়ের পথটা সবচে' সহজ করেছেন। বর্তমানে কি দেখা যাচ্ছে? পৃথিবীর সবচে' কঠিন কাজ হচ্ছে বিয়ে, বিপরীতে সবচেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে যিনা। হিসেব করেই দেখুন-২০০-৫০০ টাকা খরচ করেই যে কেউ যিনা করতে পারছে। আর বিয়ে করতে হলে প্রথমেই লাগবে একটি ভালো অবস্থান, তারপরে সব মিলিয়ে কমপক্ষে ১০-১৫ লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে। তাহলে এবার বলুন, কেন মানুষ এতটাকা খরচ করে বিয়ে করবে, যেখানে ২০০ টাকায় কাজ শেষ।
৬. বিয়ের পথ কঠিন হলে যিনার পথ সহজ হবে এটাই স্বাভাবিক। পশ্চিমা সমাজ আর ইসলামের দুশমনেরা সেটাই চায়। আর আমরা মুসলমানরা তাদের সে ফাঁদেই পড়ে আছি। বের হওয়ার চেষ্টা তো দূরে থাক, চিন্তাও করিনা। কিন্তু তারা ঠিকই তাদের নিয়মে চলে। তাদের বিয়ের আগেই ৯৯%-এর সবকিছু আদান-প্রদান হয়ে যায়, তাই তারা বিয়ে করে ক্যারিয়ার গঠনের পরে। বাট, মুসলিম সমাজে সেটা কখনো সম্ভব নয়। আর সম্ভব না হলেই কি বিরত থাকে? নাহ, খুব কম সংখ্যক বিরত থাকে এখন। সেটা দিন দিন বাড়ছেই। আর সেটাই পশ্চিমারা চায়।
৭. ক্রুসেড চলাকালীন মুসলিমদেরকে যখন ইহুদি-খ্রিষ্টানরা কোনোভাবেই পরাস্ত করতে পারছিল না, তখন শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে সুন্দরী নারীদের মুসলিম সৈন্যদের পিছনে লেলিয়ে দিয়েছিল। কেন? কারণ, দীর্ঘদিন নারীসঙ্গ বঞ্চিত মুসলিম সৈন্যদের সহজেই আকৃষ্ট করা যাবে। তাতে করে অবৈধভাবে যিনা করার ফলে মুসলিম সৈন্যদের চারিত্রিক শক্তি নষ্ট হবে, ঈমান দুর্বল হয়ে যাবে। ফলে, যুদ্ধ করার জন্য ঈমানী শক্তি হারিয়ে ফেলবে। আর বর্তমান মুসলিম সমাজেও ইহুদি-খ্রিষ্টানরা সেই নগ্নতাকে ছড়িয়ে দিয়েছে। বিয়ে না করে যুব সমাজ তাদের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে।
৮. একটা ছেলে যদি জীবনের সবচে' কঠিন সময় প্রথম ত্রিশ বছর বিয়ে না করেই কাটিয়ে দেয়, তাহলে পরের রসকষহীন ত্রিশ বছরের জন্য কেনইবা বিয়ে করবে? তার মানে কি বিয়ে শুধু চাকরি করে অন্যজনের পিছনে খরচ করবে, আর বংশ ধরে রাখতে সন্তান উৎপাদন করবে এজন্যই? কারণ, ত্রিশ বছর পরে স্ত্রীর সাথে ভালবেসে কথা বলার টাইম নাই। শুধু চাকুরি, ব্যবসা আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। মন-মানসিকতা তখন পরিবর্তন হয়ে যায়। বয়সের গাম্ভীর্য চলে আসে। অপরপক্ষে মেয়েটা ২২-২৫ বছরের তরুণী। সে চাইবে—একটু খুনসুটি করতে, রোমান্টিক কথা শুনতে। কিন্তু বয়সের কারণে গাম্ভীর্য আসা, কাজ করে সারাদিন পরে ক্লান্ত মানুষটার তখন কি সে মুড থাকে? সেজন্যই এখন বেশিরভাগ সংসারে সুখ নেই, আছে সম্পর্কের টানাপোড়েন। আর উত্তাল সমুদ্রের মত এই প্রথম ত্রিশ বছর তরুণটা কি করে কাটায়? প্লিজ! নিজের সাথে মিলিয়ে দেখুন। জীবনের কঠিন সময়েই যদি সহধর্মিণীকে পাশে না পায়, তাহলে বাকি সময় পেয়ে কি করবেন? কারণ, শেষ ত্রিশ বছর এমনিতেই পার করে দেয়া যাবে।
৯. আমরা যারা এই অবৈধ প্রেম-ভালবাসায় ডুবে থাকা ছেলে-মেয়েদের দেখে ফতোয়া স্মরণ করি—তারা কি ভেবে দেখেছি? তাদের জন্য কী করতেছি বা আদৌ এর থেকে তাদের বের করে আনার পথ কী? আপনি তাদেরকে যতই আইন, নৈতিকতা, কুরআন, হাদিসের বুলি আওড়িয়ে যান না কেন, কোনো লাভ হবেনা। প্রমাণ তো দেখতেই পাচ্ছেন। সুতরাং নিষেধ করার পাশাপাশি কার্যকরী পদক্ষপে নেয়া জরুরী। আর প্রত্যেকে নিজ কর্মের জন্য দায়ী, তাই নিজ গুনাহের ভার সমাজের উপর চাপিয়ে হালকা করা যাবে না। তাকওয়া অবলম্বন করতে হবে।
১০. বর্তমান সমাজ থেকে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অবৈধ প্রেম-ভালবাসা থেকে বের করে আনতে বিয়ের কোনো বিকল্প নেই। যদি ঈমানদার, দ্বীনদার, চরিত্রবান, ইসলামি আদর্শে উজ্জিবিত তরুণ প্রজন্ম গড়তে চাই, তাহলে বিয়ে ছাড়া ভিন্ন কোনো পথ নেই। আমি বলছিনা কিশোর বয়সে বিয়ে করিয়ে দিতে হবে। ছেলেদের ১৮-২১ আর মেয়েদের ১৫-১৬-এর পর বিয়ে করিয়ে দিন। যদিও ইসলামে বালেগ হওয়ার সাথে সাথে বিয়ে করিয়ে দিতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। যাইহোক এই সময়ে বিয়ে করিয়ে দিলে দেখবেন তাদের চরিত্র ৯০ ভাগ পবিত্র হয়ে গেছে ইনশা আল্লাহ।
টিকাঃ
* বিস্তারিত দেখুন, সুরা নুর: ২৪।
'লিখেছেন: Revival Muhammad Abdullah ভাই।
📄 দেরিতে বিয়ে হতে পারে আপনার দাম্পত্য জীবনে অশান্তির কারণ
যেসব কারণে আমাদের সমাজের যুবকরা বিয়ে করতে পারে না, তা হলো- ১. পারিবারিক কারণ। ২. ক্যারিয়ার গঠন। ৩. প্রবাস জীবন। ৪. মাদকাসক্ত। ৫. পর্ণমুভি দেখা, ও হস্তমৈথুন করার কারণে পুরুষত্ব হারিয়ে ফেলা।
আসুন একটু ব্যাখ্যা করি।
১. অনেকের ফ্যামিলিতে যুবক ভাইটির বিয়ের উপযুক্ত ২/৩ জন বোন থাকার কারণে ঐ বোনগুলো বিয়ে দেওয়া শেষ না করা পর্যন্ত উপযুক্ত ভাইটির বয়স এসে দাঁড়ায় ৩৫ থেকে ৩৭। ঘরে বিয়ে উপযুক্ত বোন রেখে অনেকেই বিয়ে করতে চান না। শেষে ৩৭ বছর বয়সে এসে ১৭ বছর বয়সী মেয়ে বিয়ে করে ৩/৪ বছর ঘর সংসার করার পর মেয়েটা যখন বুঝতে পারে-স্বামীর বয়সের সাথে তার বয়সের গ্যাপের কারণে চিন্তা চেতনায়, পছন্দ-অপছন্দের মাঝে ব্যবধান অনেক, তখনই সংসারে নেমে আসে অশান্তি। যদিও এটা বুঝার ভুল নতুবা বয়সের পার্থক্য তেমন স্পর্শকর বিষয় নয়।
২. অনেকেই আবার বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা শেষ করে ক্যারিয়ার গঠন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ৪২/৪৫ বছর বয়সে এসে বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনায় বিয়ে করতে রাজি হন। বিয়ে করেন ২০ বছর বয়সী মেয়েকে, মেয়েটার যখন পূর্ণযৌবন (৩০) আপনার বয়স তখন ৫৫, এটাও হতে পারে অশান্তির কারণ।
৩. অনেকে আবার পড়াশুনা শেষ করে চাকরির মুখ না দেখে পাড়ি জমান প্রবাসে। একটানা একযুগ (বারো বছর) থেকে এসে ৩৮ বছর বয়সে মেয়ে খুঁজেন ১৪ বছরের এবং বিয়েও করেন সেই মেয়েকে। বিয়ের ৪ মাস পর ফুড়ুৎ কইরা উড়াল মারেন আকাশে, এদিকে আপনার স্ত্রীটাও পরকিয়ার সুযোগ খুঁজে। এটাও হতে পারে আপনার দাম্পত্য জীবনে অশান্তির কারণ।
📄 সন্তানদেরকে সময়মত বিয়ে না দেয়া
আমাদের সমাজে বাবা-মায়েরা সন্তানদেরকে সময়মত বিয়ে দেন না। ফলে তারা অবৈধ যিনা, পতিতালয়ে যাওয়া, মাষ্টারবেশন, হারাম সম্পর্ক ইত্যাদি নানান মারাত্মক পাপ কাজে লিপ্ত হয়। এতে বাবা বা অভিভাবকরা দাইয়্যুস-এর খাতায় নাম লেখান। অন্যদিকে পরিবার মেনে না নেয়ায় সন্তানরা পালিয়ে বিয়ে করে কোনো অযোগ্য মানুষকে, এতে সমস্যা আরো বড় হয়। সন্তানদের উচিৎ পিতা-মাতাকে বুঝানো। বিয়ে করার জন্য পিতা-মাতাকে বলা। না বুঝলে অন্য কারও মাধ্যমে বুঝানো। বাংলাদেশের অনেক মানুষ দ্বীনদার নয়। বাংলাদেশে অশিক্ষিত মানুষ বেশি। ৮০% শিক্ষিত যদি কেউ বলে তাহলে সে মিথ্যা বলেছে।
এবার আরো কিছু কথা জেনে রাখুন, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا. হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একই ব্যক্তি হতে। আর তা থেকে তোমাদের স্ত্রীদেরকেও সৃষ্টি করেছেন। এরপর তা থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও। আর ভয় কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।
যারা বালেগ ও সুস্থ, তাদের জন্য বিয়ে কতটা জরুরী তা বোধ শক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের অজানা নয়। হে মা-বাবা! সন্তানের প্রতি যত্নবান ও যত্নশীল না হওয়ার জন্য আপনাদের কি বিপদ আসবে না—তাদেরকে ইহুদি খ্রিষ্টানদের কাজে ঠেলে দেয়ার জন্য? নিয়ম অনুযায়ী সন্তানকে বিয়ের জন্য জিজ্ঞাসা করা পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের দায়িত্ব। বাংলাদেশের প্রায় ৭০% মানুষ মনে করতে পারেন যে, টাকা পয়সা নাই, ছেলে খাওয়াবে কি? আবার অনেকে ছেলেকে তাগাদাও দেন না। এসকল ব্যাপারে সন্তানদের সাথে কথাবার্তাও বলেন না। এদিক দিয়ে সে যে সীমালঙ্ঘন করছে, সাথে আপনাকেও বিপদে ফেলছে, তা আপনি বুঝতে চেষ্টাও করেন না।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ. তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (নারী-পুরুষ) তাদের বিয়ে দিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও (বিয়ে দাও)। (দারিদ্রকে ভয় পেও না) তারা অভাবগ্রস্থ হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, মহাজ্ঞানী।
সমাজে অভিভাবকদের সন্তানদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে না দেওয়ার কারণে হেনস্থার স্বীকার হতে হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বিবাহ করেছেন। এই নির্মল পবিত্র কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেন- أَتَزَوْجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي. আমি নারীকে বিবাহ করি (তাই বিবাহ আমার সুন্নত)। অতএব যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”
সবচে' বেশী বরকতপূর্ণ ও উত্তম বিবাহ- وعن عائشة قالت: قال النبي صلى الله عليه وسلم : إن أعظم النكاح بركة أيسره مؤنة. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই সবচে' বেশি বরকত ও কল্যাণময় বিবাহ হচ্ছে সেটি, যেখানে খরচ কম হয় (অহেতুক খরচ হয় না)।
আমাদের আজকের সমাজের একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো-আমরা বিয়েকে নানাবিধ অহেতুক খরচের বেড়াজালে বন্দী করে একটি বিভীষিকাময় কর্মযজ্ঞে পরিণত করেছি। এখন বিয়ের নাম নিতে গেলেই আসে লাখ লাখ টাকার বান্ডিল হাতে রাখতে হবে। যার কারণে লক্ষ লক্ষ যুবক আজ বিবাহের নাম নিতেও ভয় পায়। এভাবে অনৈসলামিক আর অপসাংস্কৃতিক কালচার আমাদের যুব সমাজকে বিবাহের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করছে। ইসলাম যেখানে বালেগ হওয়া এবং নূন্যতম আর্থিক সঙ্গতি থাকলে বিবাহের অনুমতি দিয়েছে, সেখানে আমাদের সমাজ এখন বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য ১৮/২০ বছর এবং ছেলেদের জন্য ক্যারিয়ার গঠন নামক শর্তের বেড়াজালে ৩০/৩৫ বছরের অলিখিত শর্তারোপ করেছে। কিছুদিন যাবত টেলিভিশনে প্রচারিত একটি কোম্পানীর বিজ্ঞাপনও এই থিউরী সম্প্রচার করছে। বলা হচ্ছে, বিয়েতে অনেক খরচ, তার চেয়ে বড় মোবাইল কিনে প্রেম করেন, আর খরচ করেন। অথচ এর অনেক আগেই ছেলে-মেয়ে বালেগ ও প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যায়। আমাদের বর্তমান সমাজে একটি তরুণ-তরুণীর সামনে অন্যায়-অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার সকল উপায়-উপকরণ খুবই সহজলভ্য। কিন্তু বিবাহ কঠিন। যার কারণে যিনা- ব্যভিচার ও ধর্ষণের বিস্তৃতি ঘটছে। পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণে আমাদের রাষ্ট্র ও বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর অব্যাহত প্রচেষ্টায় এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করেছে, যেখানে যুবক-যুবতীদের বিবাহ বহির্ভূত প্রেম-ভালোবাসা আর যিনা-ব্যভিচার খুব সহজ একটা বিষয় হয়ে গেছে। কিন্তু ধর্ম ও সমাজ স্বীকৃত বৈধ বিবাহকে দেয়া হয়েছে নির্বাসন। তাই দিন যত যাচ্ছে, যিনা-ব্যভিচার, ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন ততই বেড়ে চলছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিবাহকে সহজ ও সাবলীল করার বিকল্প নেই।
টিকাঃ
* লিখেছেন: Md Bodruzzama Ahmed
* সূরা নিসা: ১।
১০ সুরা নুর: ৩২।
১১ সহিহ বুখারি : ৫০৬৩।
১২ বাইহাকি। ইমান অধ্যায়।