📄 বই লেখার পথ যাঁদের
পরিশেষে বলি, লেখার যদি কারো নেশা হয়, অথবা পেশা, কেউ ভাড়াটিয়া লেখক হন অথবা ক্রীতকলম, যদি আপনি মুসলিম হন, তাহলে আমাদের এই নসীহত গ্রহণ করুন, পরকালে মুক্তি পাবেন।
وما من كاتب إلا سيفنى ... ويبقى الدهر ما كتبت يداه
فلا تكتب بكفك غير شيء ... يسرك في القيامة أن تراه
অর্থাৎ, প্রত্যেক লেখকই এ দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে থেকে যাবে তা, যা তার হস্ত লিপিবদ্ধ করেছে। সুতরাং তুমি তোমার হস্ত দ্বারা এমন জিনিস ছাড়া অন্য কিছু লিপিবদ্ধ করবে না, যা দর্শন করে কিয়ামতে আনন্দবোধ করতে পার।
আর যদি অল্প বিদ্যার লেখক হন, অথবা ধার করা বুদ্ধির লেখক হন অথবা অনুবাদ পড়ুয়া লেখক হন এবং বলেন, 'অনুবাদ ভুল হলে সেই অনুযায়ী আমার ভুল' (তত্ত্ব....৫পৃঃ)--- তাহলে বলব, আপনার লেখার কী প্রয়োজন? মুসলিমরা কি আপনার ঐ লেখার মুখাপেক্ষী? ইমাম যাহাবী এই শ্রেণীর লেখককে সম্বোধন ক'রে বলেন,
دع عنك الكتابة لست منها ... ولو سودت وجهك بالمداد
অর্থাৎ, বর্জন কর লেখালেখি করা, তুমি তার যোগ্য নও। বরং তার চেয়ে কালি দিয়ে তুমি নিজ চেহারা কালো কর, (সেটাই ভাল)। (তাযকিরাতুল হুফ্ফায ১/৪)
মা আয়েশা (রাঃ) আল্লাহর রসূল ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'মহিলাদের দায়িত্বে কি জিহাদ আছে?' জওয়াবে তিনি বলেছিলেন, “তাদের দায়িত্বে এমন জিহাদ আছে, যাতে কোন প্রকার মারকাট নেই; হজ্জ ও উমরাহ।” (ইবনে মাজাহ, মিশকাত ২৫৩৪নং) সুতরাং যুক্তিবাদীদের উদ্দেশ্যে আমাদের বক্তব্য হল, যুদ্ধ যদি না জানা থাকে, তাহলে যুদ্ধক্ষেত্রে না নামাই উত্তম। তাতে ইজ্জত বাঁচবে, জান বাঁচবে।
أقول لها إذا جشأت وجاشت ... مكانك تحمدي أو تستريحي
অর্থাৎ, যখনই মহিলা নাচন-কুদন দেখায়, তখনই আমি তাকে বলি, 'স্বস্থানে অবস্থান কর। তাতে তুমি প্রশংসিতা হবে অথবা আরামে থাকবে।'
উদারচিত্ত পাঠক! রাগ করবেন না। এতে আমি নিজেকেও নসীহত করি। কিন্তু আমার লেখা পেশা না হলেও, নেশা বটে। বরং ওয়াজেব না হলে লিখতামই না। বাংলায় দুর্বল হয়েও ওয়াজেব আদায়ে ত্রুটি করি না। আর মনকে বলি, 'নিজের ঘর যদি কাচ-নির্মিত হয়, তাহলে খবরদার অপরকে পাথর ছুঁড়িস না।'
--(সমাপ্ত)--