📄 অনুবাদ-ভিত্তিক বিভ্রান্তির কতিপয় নমুনা
আরে দূর! ভুল কথা। সারা বাংলার কোন আলেম বুঝতে পারলেন না। আসলে তাঁরা বুঝবেন কী ক'রে? তাঁরা তো আর বাংলা জানেন না। তাঁরা তো আরবী-উর্দু পড়েছেন, কিন্তু বাংলাতে মূর্খ। আর বাংলাতে মূর্খ হলে আরবী কোন বাক্য গদ্য, না পদ্য অথবা অন্য কিছু---তা কিভাবে ধরতে পারবেন?
আরবী মহাকবি কুরআনকে 'আল্লাহর কালাম' বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ তিনি ছিলেন জওহরী, জওহর তো চিনবেনই। মনে হয় কোন বাঙ্গালী মহাকবি হলে আরো ভালোরূপে চিনতে পারতেন।
মহানবী ﷺ-এর আরবী দুআ কোন আরবী পণ্ডিতে বলতে পারলেন না, সেটা আদৌ দুআ নয়, কবিতা। সারা বিশ্বের আরব-আজমের কোন আলেমে বলতে পারলেন না, সেটা দুআ নয়, কবিতা মাত্র। মুহাদ্দিসীনগণ বলতে পারলেন না, সেটা দুআ নয়, কবিতাছত্র। শারেহীনে হাদীসগণ ধরতে পারলেন না, সেটা দুআ নয়, কবিতা। আর বাংলার একজন যুক্তিবাদী হাদীস-গবেষক সুগভীর ভাবনা ও বিশ্লেষণের কষ্টিপাথরে যাচাই ক'রে বলে দিলেন, 'ওটা একটি শরীর-ভিত্তিক কবিতা!' 'সোনা ও পিতলের পার্থক্য করে কষ্টিপাথর। আর ইসলামী শরীয়তের কষ্টিপাথর হল তাঁর গভীর ভাবনা ও বিশ্লেষণ!' (তত্ত্ব... ১পৃঃ)
সত্যপক্ষে তিনি পুরস্কারের যোগ্য। বরং তিনি নবী হওয়ার যোগ্য।
فإنا لله وإنا إليه راجعون.
অনুবাদ-ভিত্তিক বিভ্রান্তির কতিপয় নমুনা
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: আল্লাহ ছাড়া কোন হুকুমকর্তা বিধান দাতা নেই। আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই। আল্লাহ ছাড়া সৃষ্টিকর্তা নেই।
লা ইসলামা ইল্লা বিল-জামাআহঃ দল ছাড়া ইসলাম নেই।
মান খারাজা মিনাল জামাআতি.....: যে ব্যক্তি জামাআত (ইসলামী) থেকে বের হয়ে যাবে, সে ইসলামের রশিকে গলা থেকে খুলে ফেলবে।
খাদেমুল হারামাইন মালেক আব্দুল্লাহ : মক্কা-মদীনার দুই মসজিদের রক্ষাকর্তা বাদশা আব্দুল্লাহ। (আনন্দবাজার পত্রিকা ২/৩/১০)
লা তাক্বরাবা হাযিহিশ শাজারাহঃ এই গাছের নিকট যেও না, অর্থাৎ হে আদম! তুমি হাওয়ার কাছে যেও না। এখানে 'বৃক্ষ' আদি মাতা বিবি 'হাওয়া'। (কোরআন শরীফ, ডঃ ওসমান গনী ১২৭পৃঃ)
অথচ আরবী ভাষা যাঁরা জানেন, তাঁরা বুঝতে পারবেন যে, 'এ গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না' কেবল আদমকেই বলা হয়নি; বরং 'লা তাক্বরাবা' দ্বিবচনের শব্দ দিয়ে আদম-হাওয়া উভয়কেই বলা হয়েছিল। সুতরাং এটা কি অনুবাদের বিভ্রান্তি নয়?
মোহাজের অর্থ হাজিরান বা উপস্থিত ব্যক্তি। যাঁরা মহানবীর হিযরত কালে মদীনায় তাঁর নিকট হাজির হয়ে তথায় বসবাস স্থাপন করেছিলেন। (কোরআন শরীফ, ডঃ ওসমান গনী ১৪৯পৃঃ)
পাঠক! বুঝতেই পারছেন, محاضر আর مهاجر এক নয়। আর এ কথাও বুঝতে পারছেন যে, আরবী কিন্তু সহজ জিনিস নয়।
অবিল-আখেরাতি হুম ইউকিনূন: তারা শেষ নবীর উপরেও একীন রাখে। (মুহাম্মাদ ﷺ শেষ নবী নন।)
ভুল বুঝা অনুবাদের কাস্তে দ্বারা আরো ফসল দেখুনঃ-
ইসলামে সকলের অধিকার সমান।
নর-নারীর সমান অধিকার আছে ইসলামে।
ইসলামে সাম্যবাদ (কমিউনিজম) আছে।
আল্লাহ সব জায়গায় আছেন। আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। আল্লাহ সর্বময়। (কোরআন শরীফ, ডঃ ওসমান গনী ৩৪পৃঃ)
আল্লাহ মানব অন্তরে থাকেন। (ঐ ৪২পৃঃ)
আল্লাহ কুদরতের আসনে আসীন আছেন। (তফসীরঃ আকরাম খাঁ)
আরশ : সিংহাসন---আকাশ ও পৃথিবী জুড়ে অবস্থিত, যা বিশ্বাসীদের অন্তরে অবস্থিত। (কোরআন শরীফ, ডঃ ওসমান গনী ১১৫পৃঃ)
আল্লাহর কুদরতী হাতে আদমকে সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ নিরাকার। (কোরআন শরীফ, ডঃ ওসমান গনীঃ মুখবন্ধ ৭৭পৃঃ)
আল্লাহ দিক-বর্জিত, অসীম, তিনি সীমা-পরিধির ঊর্ধ্বে।
জিহাদের নামে সন্ত্রাস।
আরো অনেক কিছু।
📄 বই লেখার পথ যাঁদের
পরিশেষে বলি, লেখার যদি কারো নেশা হয়, অথবা পেশা, কেউ ভাড়াটিয়া লেখক হন অথবা ক্রীতকলম, যদি আপনি মুসলিম হন, তাহলে আমাদের এই নসীহত গ্রহণ করুন, পরকালে মুক্তি পাবেন।
وما من كاتب إلا سيفنى ... ويبقى الدهر ما كتبت يداه
فلا تكتب بكفك غير شيء ... يسرك في القيامة أن تراه
অর্থাৎ, প্রত্যেক লেখকই এ দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে থেকে যাবে তা, যা তার হস্ত লিপিবদ্ধ করেছে। সুতরাং তুমি তোমার হস্ত দ্বারা এমন জিনিস ছাড়া অন্য কিছু লিপিবদ্ধ করবে না, যা দর্শন করে কিয়ামতে আনন্দবোধ করতে পার।
আর যদি অল্প বিদ্যার লেখক হন, অথবা ধার করা বুদ্ধির লেখক হন অথবা অনুবাদ পড়ুয়া লেখক হন এবং বলেন, 'অনুবাদ ভুল হলে সেই অনুযায়ী আমার ভুল' (তত্ত্ব....৫পৃঃ)--- তাহলে বলব, আপনার লেখার কী প্রয়োজন? মুসলিমরা কি আপনার ঐ লেখার মুখাপেক্ষী? ইমাম যাহাবী এই শ্রেণীর লেখককে সম্বোধন ক'রে বলেন,
دع عنك الكتابة لست منها ... ولو سودت وجهك بالمداد
অর্থাৎ, বর্জন কর লেখালেখি করা, তুমি তার যোগ্য নও। বরং তার চেয়ে কালি দিয়ে তুমি নিজ চেহারা কালো কর, (সেটাই ভাল)। (তাযকিরাতুল হুফ্ফায ১/৪)
মা আয়েশা (রাঃ) আল্লাহর রসূল ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'মহিলাদের দায়িত্বে কি জিহাদ আছে?' জওয়াবে তিনি বলেছিলেন, “তাদের দায়িত্বে এমন জিহাদ আছে, যাতে কোন প্রকার মারকাট নেই; হজ্জ ও উমরাহ।” (ইবনে মাজাহ, মিশকাত ২৫৩৪নং) সুতরাং যুক্তিবাদীদের উদ্দেশ্যে আমাদের বক্তব্য হল, যুদ্ধ যদি না জানা থাকে, তাহলে যুদ্ধক্ষেত্রে না নামাই উত্তম। তাতে ইজ্জত বাঁচবে, জান বাঁচবে।
أقول لها إذا جشأت وجاشت ... مكانك تحمدي أو تستريحي
অর্থাৎ, যখনই মহিলা নাচন-কুদন দেখায়, তখনই আমি তাকে বলি, 'স্বস্থানে অবস্থান কর। তাতে তুমি প্রশংসিতা হবে অথবা আরামে থাকবে।'
উদারচিত্ত পাঠক! রাগ করবেন না। এতে আমি নিজেকেও নসীহত করি। কিন্তু আমার লেখা পেশা না হলেও, নেশা বটে। বরং ওয়াজেব না হলে লিখতামই না। বাংলায় দুর্বল হয়েও ওয়াজেব আদায়ে ত্রুটি করি না। আর মনকে বলি, 'নিজের ঘর যদি কাচ-নির্মিত হয়, তাহলে খবরদার অপরকে পাথর ছুঁড়িস না।'
--(সমাপ্ত)--