📘 বিভ্রান্তির বেড়া জালে মুসলিম সমাজ > 📄 দাজ্জাল

📄 দাজ্জাল


কিয়ামত আসবে, তার পূর্বে দাজ্জাল বলে একটি লোক আসবে এবং ইয়াহুদীদের নেতা হবে---এ কথা বিশ্বাস করলে কি ইসলাম যুক্তিহীন হয়ে যাবে?
নূর আলম বলেন, 'এর সকল বর্ণনাই অসঙ্গতিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন।' (তত্ত্ব... ১২পৃঃ) যে কথা মুহাদ্দিসীনগণ বলেননি, সে কথা অনুবাদ পড়ে বলে দিলেন! এটিও যেন এক অলৌকিক ও অসাধারণ ধারণা!
ইবনে সাইয়াদ ও দাজ্জাল একই লোক নয়, মদীনার একটি লোককে দাজ্জাল ধারণা করা হয়েছিল মাত্র। সুতরাং তার আসলত্বে অবিশ্বাস জন্মাবে কেন?
নূর আলম সাহেবের অভিমত, 'ঈসা আঃ ও মূসা আঃ এর সঙ্গে মেহেরাজে অবস্থানরত ছিল দাজ্জাল।' (তত্ত্ব..... ১৪পৃঃ)
আছে কোথাও এক সঙ্গে থাকার কথা? পাঠক লক্ষ্য করুন হাদীসঃ-
رَأَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي مُوسَى رَجُلًا آدَمَ طُوَالًا جَعْدًا كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى رَجُلًا مَرْبُوعًا مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبِطَ الرَّأْسِ وَرَأَيْتُ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ فِي آيَاتِ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ { فَلَا تَكُنْ فِي مَرْيَة من لقائه }
মহানবী ﷺ বলেন, “যে রাতে আমাকে ইসরায় নিয়ে যাওয়া হয়, সে রাতে আমি মূসাকে দেখি, তিনি ছিলেন দীর্ঘদেহী বাদামী রংবিশিষ্ট ও কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট। ঠিক যেন তিনি শানুআহ গোত্রের লোক। আমি ঈসাকেও দেখলাম, মাঝারি উচ্চতাসম্পন্ন সাদা-লালে মিশ্রিত মধ্যমদেহী এবং মাথার চুল সোজা। দোযখের দারোগা ও দাজ্জালকেও দেখলাম। আল্লাহ সে রাতে যে সকল নিদর্শন দেখিয়েছেন, সেগুলির মধ্যে এ হল কয়েকটি। (আল্লাহ বলেন,) 'সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে তুমি সন্দিহান হয়ো না।” (বুখারী ৩২৩৯নং)
উক্ত বর্ণনায় কি দাজ্জালকে ভাল লোক অথবা সে মুসা-ঈসার (মেহেরাজের) সাথী লোক বলে প্রমাণিত হচ্ছে? সুতরাং এমন 'তাহকীক’ কি ধোঁকা নয়?
রসূলের সাথে দাজ্জালের তওয়াফের ব্যাপারে যখন বর্ণনা অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হচ্ছে, তখন সহীh হাদীসকে উড়িয়ে না দিয়ে উলামাদের কাছে ব্যাখ্যা নিন। তার কোন সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা খুঁজে বের করুন। যেমনঃ-
১। এটা হল স্বপ্নের কথা। জীবিত ও জাগরণ অবস্থায় সে মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না।
২। তওয়াফ করলেই দাজ্জাল ভাল লোক ধারণা করা ভুল। কারণ মক্কা বিজয়ের পূর্বে কাফের-মুশরিকরাও তওয়াফ করত, বরং উলঙ্গ নারী-পুরুষও তওয়াফ করত।
৩। স্বপ্নে একই সময় ঈসা ও দাজ্জালকে তওয়াফ করতে দেখা গেছে অতএব তাদের আপোসে কোন পার্থক্য নেই---এ ধারণা ভুল। বিধায় নূর আলম কথিত 'গ্রীনরুমে একই পাত্রে নাস্তা খাওয়া এবং স্টেজে এসে পরস্পর যুদ্ধ করার' (তত্ত্ব... ১৪পৃঃ) উদাহরণটি পরিহাস বৈ কিছু নয়।।
আসলে বর্ণনাসমূহকে গঠনমূলক করেন মুহাদ্দিসীনগণ। তাঁরাই বিভিন্ন বর্ণনার বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করেন। তাঁদেরকে এড়িয়ে অথবা কলা দেখিয়ে আপনি সরাসরি কুরআন-হাদীস বুঝতে গেলে অধিক বিভ্রান্ত হবেন। আর 'সম্ভবতঃ এই ছিল, মনে হয় এই ছিল' বলে জ্ঞানের আলো ছেড়ে কল্পনা ও ধারণার অন্ধকার জগতে বিচরণ হবে।
নূর আলম সাহেব বলেন, 'দাজ্জালের স্থায়ী ঠিকানা নাই।' (তত্ত্ব... ১৫পৃঃ)
দাজ্জালের স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে কী করবেন? তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার তো আমাদের দরকার নেই। বরং তার নাম শুনলেই যথাসম্ভব তার কাছাকাছি না হওয়ার চেষ্টা করতে হবে আমাদেরকে; নচেৎ ফিতনায় পড়তে হবে। তবুও হাদীসে বলা হয়েছে, দাজ্জাল খুরাসানে আবির্ভূত হবে। (সিলসিলাহ সহীহাহ ১৫৯১নং) কিন্তু তার আসলত্বের পরিচিতি ও প্রচার হবে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায়। (মুসলিম ২ ১৩৭নং)
নূর আলম সাহেবের জিজ্ঞাসা, 'বর্তমানে সে কোথায় আছে?' (তত্ত্ব... ১৫পৃঃ)
বর্তমানে সে রূহের জগতে আছে। পূর্বে যাদেরকে দেখা গেছে তারা দাজ্জাল নয়। মি'রাজ ও স্বপ্নের দেখা, আদম (আঃ)-এর দাউদ, মুহাম্মাদ (আলাইহিমাস সালাম)কে দেখার মত। মহানবী ﷺ-এর অন্যান্য নবীদেরকে দেখার মত, কিছু জাহান্নামী দেখার মত। ইত্যাদি।
নূর আলমের প্রশ্ন, 'তার বয়স কত?' (তত্ত্ব... ১৫পৃঃ)
তার বয়স আপনার-আমার বয়সের মতোই। আদম-হাওয়া ছাড়া দাজ্জালের বয়স এবং অন্যান্য মানুষ সকলের (রূহের) বয়স সমান।
নূর আলমের সিদ্ধান্ত, 'মহান আল্লাহ দুনিয়া দখল করার ক্ষমতা কোন নবী ও রসূলকে দেননি।' (তত্ত্ব... ১৬পৃঃ)---এ কথার দলীল কী? কুরআনের ঐ আয়াত তার দলীল নয়। গায়বী বিষয়ের সাথে সারা দুনিয়ার মালিক হওয়ার সাথ কী?
পরীক্ষা স্বরূপ আল্লাহ দাজ্জালকে সারা দুনিয়ায় স্বাধীনতা দেবেন, দখল করার ক্ষমতা নয়। পরন্তু ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, পূর্বে চার ব্যক্তি দুনিয়ার মালিক হয়েছে। তাদের মধ্যে দু'জন মু'মিন : সুলাইমান ও যুলক্বারনাইন এবং দু'জন কাফেরঃ নমরূদ ও বুখতে নাস্ত্র। (তফসীর বাহরুল মুহীত্ব ৬/১ ১৬ প্রভৃতি)
নূর আলম সাহেব বলেছেন, 'দাজ্জালের কথা কুরআনে আসেনি।' (তত্ত্ব... সংযোজনী ২পৃঃ)
কিন্তু দ্বিতীয় অহীতে যখন সে কথা এসেছে, তখন মু'মিনদের সে কথা মেনে নেওয়া ওয়াজেব। আর মেনে নিতে বাধা কোথায়? এতে তার দ্বীন-দুনিয়ার কোন্ ক্ষতি সাধিত হবে?
আল-কুরআনে তো বহু কিছু আসেনি। তা বলে কি সে সব অস্বীকার করবেন, যদিও তা সহীh হাদীসে এসেছে?
আল-কুরআনে অধিকাংশ নবীর নাম আসেনি, তাহলে তাঁদের প্রতি কি ঈমান রাখবেন না?
আল-কুরআনে মাক্কামে ইব্রাহীমের কথা এসেছে, কিন্তু হাজারে আসওয়াদ ও যমযমের কথা আসেনি, তাহলে কি তার প্রকৃতত্বকে অমান্য করবেন?
আল-কুরআনে তো 'মেহেরাজ' (মি'রাজ) শব্দ আসেনি, তা বলে কি তা অবিশ্বাস করবেন? আপনি যদি বিশ্বাস না করেন, না করতে পারেন। কিন্তু মু'তাযিলা ফির্কার বিশ্বাস আহলে সুন্নাহর ঘাড়ে কেন চাপাতে চান? আকরাম খাঁয়ের আশ্রম থেকে আক্কেলের ঘোড়ায় চড়ে যুক্তির চাবুক মেরে সহীh হাদীস তথা ইসলামের সাহাবা, তাবেঈন, আয়েম্মা, মুহাদ্দিসীন, মুফাস্সিরীন ও হক্কানী উলামার উপর আক্রমণ কেন চালান? ইসলামের দরদে, নাকি ইসলামকে বস্তুবাদের কাছাকাছি করার লক্ষ্যে?
নূর আলম বলেছেন, 'সে .....জন্ম নেবে.... না অবতরণ করবে? এর কোন সুব্যাখ্যা হাদীসে নাই। কাজেই দাজ্জালের বর্ণনাগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।' (তত্ত্ব... সংযোজনী ২পৃঃ)
বাঃ! যুক্তিবাদীদের কী চমৎকার যুক্তি! মুখের জোরে ও কলমের ক্ষুরে উড়িয়ে দিতে পারলেই তো হল। যেহেতু সেই কিয়ামত ছাড়া তার হিসাব নেওয়ার তো কেউ নেই। অথচ কোন বিষয়ের বিশদ বর্ণনা না থাকলেও সহীh দলীলকে ভিত্তি ক'রে তার প্রতি ইজমালী ঈমান আনতে আমরা বাধ্য।
ঐ দেখুন না, 'ইয়া'জুজ-মা'জুজ' ও 'দা-ব্বাতুল আর্য' সম্বন্ধে আমরা বিস্তারিত কিছু জানতে পারি না, তবুও তা কুরআনে এসেছে বলে ঈমান রাখি। অতএব দাজ্জালের কথা সহীh হাদীসে আসার কারণে তার এত সব গায়বী খুঁটিনাটি ব্যাপার যদি না-ই জানতে পারলাম, তাহলে কি তার আগমনের প্রতি ঈমান রাখা জরুরী নয়?

📘 বিভ্রান্তির বেড়া জালে মুসলিম সমাজ > 📄 ইমাম মাহদী

📄 ইমাম মাহদী


যুক্তিবাদীরা ইমাম মাহদীর আগমনকে অস্বীকার করেছেন, অথচ তা অবিশ্বাস্য বিবেক-বহির্ভূত নয়।
শিয়াপন্থীরাও নিজেদের মতের সমর্থনে বহু হাদীস গড়েছে। কিন্তু ইমাম মাহদীর হাদীস তাদের গড়া নয়। কারণ ঐ ইমাম ও তাদের ইমামের মাঝে নাম ছাড়া অন্য কোন সাদৃশ্য নেই।
নূর আলম বলেন, 'শিয়াদের ইমাম মেহেদী হলেন তাদের ১২তম ইমাম। তাদের মতে তিনি অন্তর্ধান হয়েছেন। তাঁকে জীবিত অথবা মৃত খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের মতে তিনি ফিরে আসবেন।' (তত্ত্ব... ১৭পৃঃ) তাই শিয়ারা সিরদাবের দরজায় তাঁর অপেক্ষা ক'রে প্রত্যহ আশায় থেকে বলে, 'উখরুজ ইলাইনা ইয়া মাওলানা!' (আপনি আমাদের মাঝে আবির্ভূত হন, হে আমাদের সর্দার!) অতঃপর নিরাশ হয়ে ফিরে আসে।
পক্ষান্তরে সহীh হাদীসে যে ইমামের কথা আছে, তিনি জন্ম নেবেন। আহলে বায়ত হযরত ফাতেমার বংশে তাঁর জন্ম হবে। আল্লাহর রসূল ﷺ-এর নাম ও তাঁর নাম এবং উভয়ের পিতার নাম এক হবে। তিনি বড় সুদর্শন পুরুষ হবেন। আল্লাহ তাঁর দ্বারায় ইসলামের সার্বিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করবেন। তিনি ন্যায়পরায়ণ বাদশা হবেন। তখন পৃথিবী শান্তি ও ইনসাফে ভরে উঠবে। যেমন, তাঁর আগে অশান্তি ও যুলমে পরিপূর্ণ থাকবে। (সহীহুল জামে’ ৫ ১৮০নং)
যদি মাহদী, ঈসা ও দাজ্জালের আগমনকে সত্য বলে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে আপনার ঈমান ও ইসলামের কী ক্ষতি হবে? পক্ষান্তরে যদি মেনে না নেন, তাহলে সহীh হাদীসকে অস্বীকার করা হবে। আর তার পরিণাম নিশ্চয়ই শুভ নয়। ইয়া'জুজ-মা'জুজের কথা তো কুরআনে আছে। কিন্তু তার সঠিক হদীস কি পেয়েছেন? যুল-ক্বারনাইনের প্রাচীরের সন্ধান কি লাভ করেছেন? সুতরাং গায়বী বিষয়ে গায়বীভাবে ঈমান রাখতে দোষ কি? বস্তুবাদী হঠকারী ছাড়া সহীh প্রমাণ থাকতেও কোন মুসলিম কি তা অস্বীকার করে? ভবিষ্যতে একজন ন্যায়পরায়ণ বাদশা আগমন করবেন---এই বিশ্বাসে কি ইসলাম অযৌক্তিক হয়ে যায়?

📘 বিভ্রান্তির বেড়া জালে মুসলিম সমাজ > 📄 ঈসা (আঃ)-এর পুনরাগমন

📄 ঈসা (আঃ)-এর পুনরাগমন


যুক্তিবাদীদের প্রতিভূ নূর আলমের দাবী, ঈসা (আঃ)-এর পুনরাগমনের কথা 'বাইবেলে আছে, কুরআনে নেই।' (তত্ত্ব... ১৯পৃঃ)
কুরআন পূর্বের কিতাবগুলিকে বিকৃত করা হয়েছে বললেও তার সকল তথ্যকে মিথ্যা বলেনি। বিশেষ ক'রে যে তথ্যের সমর্থন কুরআন ও সহীh হাদীসে রয়েছে, সে তথ্য মুসলিমদের বিশ্বাস করতে কোন বাধা নেই। এ কথা যুক্তিযুক্ত নয় যে, কোন কথা পূর্ববর্তী কিতাবে আছে বলেই, সে কথা আমাদের কিতাবে থাকলে তা ভুল বা অবাস্তব; বিশ্বাসের অযোগ্য। মহানবী ﷺ-এর সুসংবাদ যে সকল পূর্ববর্তী কিতাবে আছে, সেগুলির তথ্য কি ভুল বলতে পারবেন?
যদি কোন খবর পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে থাকে এবং আমাদের কুরআন অথবা সুন্নাহতে তার সমর্থন পাওয়া যায়, তাহলে তা মানতে বা বিশ্বাস করতে কোন দোষ নেই। সে কথা তওরাত-ইঞ্জীল আসমানী গ্রন্থে আছে বলেই তা ভিত্তিহীন হয় না। এমন বহু কথা কুরআনে আছে, যা তওরাত-ইঞ্জীলে আছে। যাতে মনে হয়, পূর্ববর্তী কিতাবগুলি মনুষ্য কর্তৃক বিকৃত হলেও তার কিছু কিছু তথ্য আসমানী থেকে গেছে। আর তারই সমর্থন কুরআন করেছে। অনুরূপভাবে যদি কোন কথার সমর্থন সহীh হাদীস দ্বারা হয়ে থাকে, তাহলে তা মানতে বা বিশ্বাস করতে 'আধুনিক ঈমান' নষ্ট হবে কেন?
শুধু বিশ্বাসই নয়, পূর্ববর্তী আসমানী শরীয়তও আমাদের শরীয়ত; যদি আমাদের শরীয়তে তা মনসূখ না হয়। বরং মহানবী ﷺ বলেছেন, “আমার নিকট থেকে পৌঁছে দাও; যদিও তা একটি আয়াত হয়। বানী ইস্রাঈল থেকে হাদীস বর্ণনা কর, কোন দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন নিজের ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।” (আহমাদ ৬৪৮-৬, বুখারী ৩৪৬ ১, তিরমিযী ২৬৬৯নং)
নূর আলমের লিখিত একবাক্যে 'তখনকার আলেম থেকে শুরু করে আজকের আলেম পর্যন্ত সকল আলেমই হয় কোরাণ ঠিকমত পড়েননি, না হয় কোরাণ আদৌ বোঝেননি' (তত্ত্ব.....২০পৃঃ) বলা কি নেহাতই বেআদবী ও দুঃসাহসিকতার পরিচয় নয়? 'কোরাণ' কি আপনি আর আপনার রূহানী উস্তাযগণ একাই বুঝলেন? কুরআনের এক শ্রেণীর অনুবাদ পড়েই কুরআন-বুঝিলকার হয়ে গেলেন? সুবহানাকা হাযা বুহতানুন আযীম।
সত্যই মুসলিম সমাজ বড় বিভ্রান্তি ও ধোঁকার শিকার। সমাজ বড় বোকা। এ সমাজ রসূল, সাহাবা, তাবেঈন, আয়েম্মাহ, মুহাদ্দিসীন, মুফাস্সিরীন ও উলামায়ে কিরাম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছে; যাঁরা 'কোরাণ'ই পড়েননি অথবা বোঝেননি!
হ্যাঁ, বোকা বলেই তো সমাজ তাদেরকে কথা বলার সুযোগ দেয় অথবা তাদের কুযুক্তিযুক্ত কুচিন্তার কথা নীরবে মেনে নেয়, যারা আরবী অনুবাদ পড়ে 'মুজতাহিদ' সেজে বসে নিজ ময়দানের বাইরে আক্কেলের ঘোড়া ছোটায়!
হ্যাঁ, এ তো নতুন বিশ্বের প্রত্যেক মানুষের অধিকার। চিন্তা-স্বাধীনতা, বাক্-স্বাধীনতা, যৌন-স্বাধীনতা না পেলে যে মানুষ পরাধীন থেকেই যায়। সুতরাং শ্রদ্ধেয়দেরকে শ্রদ্ধা করবে কেন? স্বেচ্ছাচারিতা যে বড় পবিত্র; বিশেষ ক'রে ভারতবর্ষের মতো (আসল অর্থে) 'ধর্মনিরপেক্ষ' দেশে।
নূর আলম লিখেছেন, 'মহান আল্লাহ আমাদেরকে সতর্ক করেছেন, যাতে আহলে কিতাবরা আমাদেরকে 'কাফির' বানিয়ে না ফেলে।' (তত্ত্ব... ২০পৃঃ) কিন্তু ঈসা (আঃ)-এর পুনরাগমনকে বিশ্বাস করলে 'কাফির' হতে হয়, তার প্রমাণ কী? পক্ষান্তরে তাঁর পুনরাগমনকে অবিশ্বাস করলেই মানুষ 'কাফির' হতে পারে; কারণ সে অবিশ্বাসী সহীh হাদীসকে অস্বীকার করে।
পক্ষান্তরে কুরআনে তাঁর পুনরাগমনের ইঙ্গিত রয়েছে। আর সেই ইঙ্গিতকে স্পষ্ট ক'রে দিয়েছে সহীh হাদীস। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{إِذْ قَالَ اللهُ يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَجَاعِلُ الَّذِينَ اتَّبَعُوكَ فَوْقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأَحْكُمُ بَيْنَكُمْ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ} (٥٥)
অর্থাৎ, (স্মরণ কর) যখন আল্লাহ বললেন, 'হে ঈসা! নিশ্চয় আমি তোমার নির্দিষ্ট কাল পূর্ণ করব এবং আমার কাছে তোমাকে তুলে নেব এবং যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদের মধ্যে থেকে তোমাকে পবিত্র (মুক্ত) করব। আর তোমার অনুসারিগণকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের উপর জয়ী করে রাখব, অতঃপর আমার কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন (ঘটবে)। তারপর যে বিষয়ে তোমাদের মতান্তর ঘটেছে, তার মীমাংসা করে দেব। (সূরা আলে ইমরান ৫৫ আয়াত)
তিনি অন্যত্র বলেছেন,
{ وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِّلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَاتَّبِعُونِ هَذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ} (٦١) سورة الزخرف
অর্থাৎ, নিশ্চয় ঈসা কিয়ামতের একটি নিদর্শন; সুতরাং তোমরা কিয়ামতে অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করো না এবং আমার অনুসরণ কর। এটিই সরল পথ। (সূরা যুখরুফ ৬ ১ আয়াত)
কিয়ামতের 'নিদর্শন' হয়ে তিনি এ পৃথিবীতে পুনরায় অবতরণ করবেন, সে কথা হাদীসে বলা হয়েছে; যে সহীh হাদীসকে মু'তাযিলাপন্থী বাস্তববাদীরা অস্বীকার করেছেন।
পক্ষান্তরে আয়াতের মূল শব্দ 'ইল্ম' বা 'আলাম' শব্দের (ক্ষমতা নেই বলে) তাহকীক না ক'রে তার এক অনুবাদ 'অগ্রদূত' নিয়ে তাহকীক ক'রে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, তিনি তো অগ্রেই দূত বা রসূল হয়েই চলে গেছেন! কিন্তু 'অগ্রদূত' দ্বারা উপলব্ধ অর্থ কি ঐ 'ইল্ম' বা 'আলাম' শব্দে আছে?
'অগ্রদূত' মানে অব্যবহিত পূর্বে পাঠানো বা আসা দূত। এখানে বাংলাতে 'দূত' মানে নবী বা রসূল নয়। যেমন চুম্বনকে মিলনের অগ্রদূত বা পূর্বদূত বলা হয়। আর সে 'দূত' মানে নবী বা রসূল নয়। 'কিয়ামতের অগ্রদূত' মানে তিনি কিয়ামতের আগে তার খবর নিয়ে আসবেন। তিনি তার নিদর্শন হয়ে আসবেন।
তিনি এ পৃথিবীতে আসবেন এবং স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করবেন, সে কথা অন্য এক আয়াতে মহান আল্লাহ আরো পরিষ্কার ক'রে বলেছেন,
{ وَإِن مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا }
অর্থাৎ, গ্রন্থধারীদের প্রত্যেকেই তার মৃত্যুর পূর্বে তাকে (ঈসাকে) বিশ্বাস করবেই এবং কিয়ামতের দিন সে (ঈসা) তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে। (সূরা নিসা ১৫৯ আয়াত)
এই আয়াত দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তাআলা নিজের অলৌকিক শক্তি দ্বারা ঈসা (আঃ)-কে জীবিত অবস্থায় সশরীরে আসমানে তুলে নিয়েছেন। বহুধা সূত্রে বর্ণিত হাদীসেও এ কথা প্রমাণিত আছে। এ সকল হাদীস হাদীসের সমস্ত গ্রন্থ ছাড়াও বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। সে সব হাদীসে ঈসা (আঃ)-কে আসমানে তুলে নেওয়া ছাড়াও পুনরায় প্রলয় দিবসের প্রাক্কালে পৃথিবীতে তাঁর অবতরণ এবং আরো বহু কথা তাঁর ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম ইবনে কাসীর (রহঃ) এই সমস্ত হাদীসগুলিকে বর্ণনা করার পর শেষে লিখেছেন যে, উল্লিখিত হাদীসগুলি রসূল ﷺ হতে বহুধা সূত্রে প্রমাণিত। এই হাদীসগুলির বর্ণনাকারিগণ হলেন: আবু হুরাইরাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, উসমান বিন আবুল আ'স, আবু উমামা, নাওয়াস বিন সামআন, আব্দুল্লাহ বিন আম্র বিন আ'স, মুজাম্মে' বিন জারিয়াহ, আবু সারীহাহ এবং হুযাইফা বিন উসায়েদ (রাঃ) প্রমুখ সাহাবাবৃন্দ। এই সমস্ত হাদীসে তিনি কোথায় ও কিভাবে অবতরণ করবেন তা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দিমাশকের মিনারা শারক্বিয়াতে ফজরের নামাজের ইকামতের সময় অবতরণ করবেন। তিনি শূকর হত্যা করবেন, ক্রুস ভেঙ্গে ফেলবেন ও জিযিয়া কর বাতিল ক'রে দেবেন। তাঁর শাসনামলে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ মুসলমান হয়ে যাবে। তিনিই দাজ্জালকে হত্যা করবেন, তাঁর যুগেই ইয়া'জুজ ও মা'জুজ ও তাদের ফিতনা-ফাসাদের প্রকাশ ঘটবে এবং তাঁর বদ্দুআতে তারা বিনাশ ও ধ্বংস হয়ে যাবে।
আলোচ্য আয়াতে )قبل موته( এর মধ্যে (তার) সর্বনামটি থেকে কিছু মুফাস্সিরগণের মতে খ্রিষ্টানকে বুঝানো হয়েছে। এমতাবস্থায় আয়াতের ব্যাখ্যা এই যে, প্রত্যেক খ্রিষ্টানই নিজ অন্তিম মুহূর্তে ঈসা (আঃ)-এর নবুঅতের সত্যতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনবে। কিন্তু সেই মুহূর্তের ঈমান তাদের আদৌ কোন উপকারে আসবে না। দ্বিতীয় ব্যাখ্যা যা সালাফ ও বহু মুফাস্সির কর্তৃক সমর্থিত, তা হলো موته )তার মৃত্যু) শব্দের সর্বনামে ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আয়াতের অর্থ হবে, যখন তিনি দ্বিতীয়বার দুনিয়াতে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করার পর, ইসলামের প্রচার ও প্রসার কাজে মগ্ন হবেন এবং ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে যারা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করবে, তাদেরকে নিধন ও নিশ্চিহ্ন করবেন, সর্বত্র ইসলামের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হবে। অবশিষ্ট আহলে কিতাবরা ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যুর পূর্বেই তাঁর প্রতি যথাযথ ঈমান আনবে। সহীh হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, রসূল ﷺ বলেছেন, “যাঁর হাতে আমার জীবন আছে সেই সত্তার কসম! অবশ্যই এমন এক দিন আসবে, যেদিন তোমাদের মধ্যে ঈসা ইবনে মারয়‍্যাম একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকরূপে অবতরণ করবেন, ক্রুস ভেঙ্গে চুরমার করবেন, শূকর নিধন করবেন, জিযিয়া কর বাতিল করবেন, মাল-সম্পদ এত বেশী হবে যে, (দান বা সাদকা) গ্রহণ করার মত লোক থাকবে না। সেই সময় একটি সিজদাহ দুনিয়া এবং তার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তার থেকেও উত্তম হবে।” (অর্থাৎ, কিয়ামত নিকটে জানার কারণে ইবাদত মানুষের কাছে অতি প্রিয় হবে।) এ হাদীস বর্ণনার পর আবু হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, তোমরা ইচ্ছা করলে, কুরআন কারীমের এ আয়াত পাঠ করতে পার,
(وَإِنْ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِه) অর্থাৎ, আহলে কিতাবদের এমন কেউ থাকবে না, যে তার মৃত্যুর পূর্বে অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে। (বুখারী : কিতাবুল আম্বিয়া, ৩৪৪৮নং) এই হাদীস এত অধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তার ফলে তা 'মুতাওয়াতির' হাদীসের পর্যায়ভুক্ত। আর এই 'মুতাওয়াতির' শুদ্ধ বর্ণনার ভিত্তিতেই আহলে সুন্নাহর সর্বসম্মত আক্বীদাহ মতে ঈসা (আঃ) আসমানে জীবিত আছেন এবং কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি দুনিয়াতে আসবেন, দাজ্জালকে হত্যা করবেন, সমস্ত ধর্মের অবসান ঘটাবেন, সর্বত্র ইসলামের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করবেন। ইয়া'জুজ ও মা'জুজ তাঁর সময়েই প্রকাশ হবে এবং তাঁর বদ্দুআর কারণে ইয়া'জুজ ও মা'জুজের ফিতনার অবসান ঘটবে। (তফসীর আহসানুল বায়ান ১৫৪পৃঃ)
সবচেয়ে বড় হাস্যকর উক্তি যে, 'সকল নবী ও রসূলগণই কেয়ামতের অগ্রদূত।' আদম (আঃ) থেকে নিয়ে মুহাম্মাদ ﷺ পর্যন্ত সবাই 'কিয়ামতের অগ্রদূত', তাহলে পশ্চাতের দূত কে থাকল? অগ্রের অর্থ কি থাকল? আয়াতে সে কথার উল্লেখ কেন এল? আয়াতের উপকারিতাটা কি? ধারণাবশে 'হয়তো' 'সম্ভবত' বলে কি শিক্ষিত সমাজকে বোঝানো যায়? মহান আল্লাহ বলেন,
{ وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنَّا إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ عَلَيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ}
অর্থাৎ, তাদের অধিকাংশ লোক শুধু ধারণার অনুসরণ করে; নিশ্চয়ই বাস্তব ব্যাপারে ধারণা কোন কাজে আসে না। তারা যা করছে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সুপরিজ্ঞাত। (সূরা ইউনুস ৩৬ আয়াত)
যদি বলেন, 'আমি আয়াতের দ্বিতীয় তফসীর মানি', তাহলে আমরা বলব, 'প্রথম তফসীরকে অমান্য করবেন কেন? আপনার মনঃপুত নয় বলে?'
নূর আলম সাহেব বলেছেন, মহানবী সঃ বলিয়াছেন, “আমি যাহা বলিব অন্ধের ন্যায় তাহার অনুসরণ করিবে না। তা সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত কথা কি না প্রথমে তাহা তাহকীক করিয়া লইবে। যদি তোমরা তাহাকে ন্যায়সঙ্গত কাজ বলিয়া মনে কর, তবেই তাহার অনুসরণ করিও। (মোস্তফা চরিত ৪৬১-৪৬২পৃঃ) 'অথচ তাহকীকের ব্যাপারে বর্ণনাকারী, লেখক, পাঠক, প্রচারক ও শ্রোতা সকলেই চরম অবহেলা করেছি, যার ফলে মিথ্যা জাল গল্পগুলিও ইসলাম ধর্মের প্রধান অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।' (তত্ত্ব... ১৫পৃঃ)
যে নবী ﷺ শরীয়তের ব্যাপারে নিজের মনগড়া কিছু বলেন না, সেই নবীর কথা তাহকীক কে করবে? মু'তাযিলা ও আকরাম খাঁয়ের মত আলেম ও তাঁর অন্ধ অনুসারীরা?
মহান আল্লাহ বলেন,
وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى (۱) مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى (۲) وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى (۳) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (٤) عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى} (٥) سورة النجم
অর্থাৎ, শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয় এবং সে মনগড়া কথাও বলে না। তা তো অহী, যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়। তাকে শিক্ষা দান করে চরম শক্তিশালী, (ফিরিস্তা জিব্রাঈল)। (সূরা নাজম ১-৫ আয়াত)
সুতরাং ঐ হাদীস কি জাল ও ভিত্তিহীন নয়? নাকি মনের খোরাক বলে ঐ অচল হাদীসকে মানা যাবে?
পক্ষান্তরে জনাব! দাজ্জাল আসবে, ইমাম মাহদী নামক এক ইমাম আসবেন, ঈসা নবী আসবেন---এ কথা বিশ্বাস করা কি অযৌক্তিক? বিজ্ঞানের যুক্তিতে তা যুক্তিসঙ্গত না হলে, বিজ্ঞান তো জ্বিন, ফিরিস্তা, পুনরুত্থান, পুনরুজ্জীবন কিছুকেই স্বীকার করে না। আপনিও কি তাই করবেন? যদি তাই হয়, তাহলে বলার কিছু নেই।
নূর আলম সাহেব লিখেছেন, 'তবে এ কথা সত্য যে, সে যুগের লেখকগণ আজকের মত এতটা সুযোগ-সুবিধা পাননি। সে কারণে যাচাই-বাছাই করার অবকাশও তাঁরা পাননি।” (তত্ত্ব... ১.৫পৃঃ)
বড় আশ্চর্য কথা! আজকে তাহকীক করার মত সুযোগ-সুবিধার যন্ত্র কী পেয়ে গেলেন? কী সেই 'পরশমণি' যার পরশে তাহকীক ক'রে সহীh হাদীসকেও এমনকি কুরআনের প্রকাশ্য উক্তিকেও উড়িয়ে দেওয়া যায়? কোন্ মানদণ্ডে আপনি ঠিক-বেঠিককে ওজন করবেন? বৈজ্ঞানিক, নাকি বেজ্ঞানিক? কোন্ কষ্টিপাথরে আপনি বিচার করবেন, সে সকল কাহিনী বাস্তব না গল্প? স্বেচ্ছাচারিতার, না অনুসরণের?
পরন্তু ঐ তাহকীকও তো পুরনো। মুসলিম সমাজ এ কথা বিশ্বাস করে না যে, অনুরূপ সহীh হাদীস অস্বীকারকারী আক্কেল আলীদের দাবী আজকের আধুনিক। সেই মু'তাযিলা, জাহমিয়্যাহ প্রভৃতি ফির্কার তাহকীক আজকের ঐ আধুনিক তাহকীক। বাংলার মাটির মুসলমান গত ৫০/৬০ বছর আগে ঐ সকল যুক্তি ও তাহকীক শুনেছে এবং যে ঈমান খারাপ করার সে করেছে, বাকী যাঁরা খণ্ডন করার তাঁরা তা করেছেন এবং আহলে সুন্নাহর ঈমান বহাল রেখেছেন। তার কিছু অংশ আমরা উদ্ধৃত করেছি।
আগেই বলেছি, জাল হাদীসের জঞ্জাল থেকে সহীh হাদীসকে মুক্ত করার জন্য কারো বিবেক-বুদ্ধি, যওক-যুক্তি, ধারণা-বাসনা ফলপ্রসূ নয়। তার জন্য একমাত্র ফলপ্রসূ ছিল ইন্সুল ইসনাদ, ইলমুর রিজাল, ইলমুল জারহি অত-তা'দীল ইত্যাদি। আর তারই ফল স্বরূপ মুহাদ্দিসীনগণ চিহ্নিত করেন সহীh-যয়ীফ। তারই সারনির্যাস হল সহীহায়ন (বুখারী-মুসলিম)।
নূর আলমের যুক্তি, 'এত বড় সম্মানের পদে আসীন হওয়ার পর ইসা আঃকে সাধারণ ক’রে প্রেরণ করবেন এমন কথা প্রকৃত (?) ইমানদারগণের বিশ্বাস করা এবং মেনে নেওয়া বড়ই কষ্টকর এবং অসম্ভব।' (তত্ত্ব... ২ ১পৃঃ)
আল্লাহই জানেন, প্রকৃত ঈমানদার কে বা কারা? 'আল্লাহু আ'লামু বিঈমানিকুম।' ঈসা (আঃ) জননেতা হয়ে পুনরাগমন করবেন, শেষ রসূল ও শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মতি হয়ে আসবেন, তাতে তাঁর অসম্মানের কি আছে? এতে সম্মানের উপর আরো সম্মানের বৃদ্ধি, নূরের উপর নূর। এ কথা মেনে নিতে ঈমানদারদের কষ্টের কি আছে?
অতঃপর নূর আলমের সিদ্ধান্ত, 'ইমানের প্রশ্নে কোরাণ ছাড়া অন্য কোন গ্রন্থের উপর বিশ্বাস করা ইমানদারের কাজ নয়।' (তত্ত্ব... ৩৫পৃঃ)
এ কথা হল সে যুগের কুরআন-ভিত্তিক যুক্তিবাদীদের; যারা নিজেদের সীমিত জ্ঞানের নিকষে সহীh হাদীস অস্বীকার করে। কুরআনের ব্যাখ্যা কেবল কুরআন হলে, অনেক আয়াত যুক্তিবাদীদের যুক্তিযুক্তি খেলায় পরিণত হবে, যেমন হয়েছেও। যেহেতু অধিকাংশ আয়াতের ব্যাখ্যা কুরআনে পাওয়া যায় না। কুরআনের ব্যাখ্যা হাদীসে আছে, আর সেই ব্যাখ্যা নিয়ে যুক্তিবাদীরা নামায-রোযা করেন। আবার সমস্ত ব্যাখ্যা হাদীসেও পাওয়া যায় না, ফলে সাহাবাগণের ব্যাখ্যাও নিতে হয়।
পাঠক বলুন তো, সহীh হাদীস তথা সাহাবীর ব্যাখ্যাকে আপনি প্রাধান্য দেবেন, নাকি আপনার মনোগত, জ্ঞানগত ব্যাখ্যাকে? কী জানি আপনার মন ও জ্ঞান আবার কোন্ কোন্ ঘাটের জল খেয়ে খেয়ে পরিপক্বতা লাভ করেছে? কী গ্যারান্টি আছে যে, আপনার জ্ঞান ও যুক্তিটাই সঠিক?
বলাই বাহুল্য যে, দাজ্জাল, মাহদী ও ঈসা---এ তিনের আগমনের মৌলিক ভিত্তি হল সেই সহীh হাদীস, যে সহীh হাদীস মেনে যুক্তিবাদীরা নিয়মিত নামায পড়েন, রোযা রাখেন। তাঁরা অবশ্য হাদীস নামক (?) গ্রন্থগুলিকে একেবারেই বর্জন করতে পারেন না। নচেৎ হয়তো তাঁরা দিল-কা'বায় নামায পড়তেন অথবা যুক্তিযুক্ত সংখ্যক রাকআতে নামায পড়তেন এবং নিজেদের মতলব হাসিলের সময়---জাল বা যয়ীফ হলেও---হাদীস পেশ ক'রে তথাকথিত যুক্তিকে সমৃদ্ধ করতেন না।
প্রিয় পাঠক! তাহলে বলুন, তাঁরা কি কুরআন-ভিত্তিক যুক্তিবাদী, নাকি হাদীস-ভিত্তিক অথবা খামখেয়াল-ভিত্তিক?

📘 বিভ্রান্তির বেড়া জালে মুসলিম সমাজ > 📄 স্বপ্ন

📄 স্বপ্ন


ইসলামী বিধানে যা পাওয়া যায়, তাতে বুঝা যায় যে, স্বপ্ন ৩ প্রকারঃ-
১। সত্য স্বপ্নঃ যা আল্লাহর তরফ থেকে বান্দাকে দেখানো হয়। ফিরিস্তা মানুষরূপে তার আত্মর সাথে কথা বলে অথবা উদাহরণ স্বরূপ কোন ঘটনা তাকে দেখানো হয়, অথবা আল্লাহর তরফ হতেই তার মনে সত্য কল্পনার ছবি ফুটে ওঠে এবং তা স্বপ্নে দৃষ্ট হয়। যা বাস্তবে সত্য ঘটে অথবা তার তা'বীর (তাৎপর্য) সত্য হয়। এই ধরনের স্বপ্ন নবুঅতের ৪৬তম অংশের এক অংশ। কারণ, সত্য স্বপ্ন নবুঅতের অহীর মত না হলেও তা আল্লাহরই তরফ হতে ইলহাম হয়। (মুসলিম ২২৬৩)
২। এমন বস্তুর স্বপ্ন দেখে যার ছবি মানুষ নিজ কল্পনায় ও খেয়ালে মনের পর্দায় খুব বেশীরূপে অঙ্কিত ও চিত্রিত করে থাকে। তাই যা কামনা অথবা আশঙ্কা করে তাই দেখে থাকে স্বপ্নে। এ ধরনের স্বপ্ন অলীক, যার কোনও তাৎপর্য নেই।
৩। এক ধরনের স্বপ্ন; যা দেখে মানুষ অত্যন্ত ভয় পায়। অথবা কষ্ট ও দুঃখ পায়। এ ধরনের স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে হয়। কারণ, শয়তান মুসলিমকে কষ্ট ও দুঃখ দিয়ে খুব তৃপ্তি পায়। (কুঃ ৫৮/১০) যেহেতু শয়তান মুসলিমের প্রকৃত দুশমন।
শয়তানের স্বপ্ন দেখাবার ক্ষমতা আছে এবং তার মাধ্যমে মুসলিমকে ভ্রষ্ট অথবা দুঃখগ্রস্ত করতে পারে। নেক বান্দাদের উপর তার কোন আধিপত্য নেই ঠিকই। তবুও মহান আল্লাহ শয়তান থেকে আমাদেরকে সাবধান করেছেন। শয়তানের পদাঙ্কানুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। শয়তান মানুষকে ভুলিয়ে দেয়, নবীকেও ভুলিয়ে দেয়। নবী ও মুসলিমকে কষ্ট দেয়। উদাহরণ স্বরূপঃ-
ঐ (বক্তা) তো শয়তান; যে (তোমাদেরকে) তার (কাফের) বন্ধুদের ভয় দেখায়; সুতরাং যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তাহলে তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় কর। (সূরা আলে ইমরান ১৭৫ আয়াত)
তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবই; তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করবই, আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব, ফলে তারা পশুর কর্ণচ্ছেদ করবেই এবং তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবেই।' আর যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে। আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা ছলনা মাত্র। (সূরা নিসা ১১৯-১২০)
শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামাযে বাধা দিতে চায়! অতএব তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না? (সূরা মাইদাহ ৯১ আয়াত)
স্মরণ কর, শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করেছিল এবং বলেছিল, 'আজ মানুষের মধ্যে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হবে না, আর আমি অবশ্যই তোমাদের সহযোগী (প্রতিবেশী)।' অতঃপর দু'দল যখন পরস্পরের সম্মুখীন হল, তখন সে পিছু হটে সরে পড়ল ও বলল, 'নিশ্চয় তোমাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। নিশ্চয় আমি তা দেখি, যা তোমরা দেখতে পাও না। নিশ্চয় আমি আল্লাহকে ভয় করি।' আর আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর। (সূরা আনফাল ৪৮ আয়াত)
(ইউসুফ) তাদের মধ্যে যে মুক্তি পাবে মনে করল, তাকে বলল, 'তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলো।' কিন্তু শয়তান তাকে তার প্রভুর কাছে তার বিষয় বলবার কথা ভুলিয়ে দিল; (অথবা শয়তান ইউসুফকে তার প্রভুর স্মরণ ভুলিয়ে দিল।) সুতরাং (ইউসুফ) কয়েক বছর কারাগারে থেকে গেল। (সূরা ইউসুফ ৪২ আয়াত)
মূসার সাথী (তাকে) বলল, 'আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তানই ওর কথা আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল; মাছটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল।' (সূরা কাহফ ৬৩ আয়াত)
আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী প্রেরণ করেছি তাদের কেউ যখনই আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে। কিন্তু শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ তা বিদূরিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুদৃঢ় করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা হাজ্জ ৫২ আয়াত)
স্মরণ কর, আমার দাস আইয়ুবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে আহবান করে বলেছিল, শয়তান তো আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্টে ফেলেছে। (সূরা স্বা-দ ৪১ আয়াত)
অবশ্য এ কথা সত্য যে, আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত কোন ক্ষতিই হয় না, শয়তানও কোন ক্ষতি করতে পারে না; যদি না আল্লাহ চান।
শয়তানের দোহাই দিয়ে কেউ বাঁচতেও পারবে না। পাপ করলে তার শাস্তি ভুগতে হবে।
মোটকথা, অধিকাংশ স্বপ্ন মনের অবচেতন অবস্থার খেয়াল অথবা শয়তানের কারসাজি। আর প্রথম শ্রেণীর স্বপ্ন মু'মিনরা দেখে থাকে, যা ভাল স্বপ্ন এবং তা আল্লাহর তরফ থেকে দেখানো হয়। মহান আল্লাহ মুমিনের মনে যা ভালো দেখাবার ইচ্ছা তা প্রক্ষিপ্ত করেন। আর ভালোর মাপকাঠি হল শরীয়ত। তাকে সাবধান করেন, সতর্ক করেন, সুসংবাদ দেন ইত্যাদি। তবে স্বপ্ন দিব্য দর্শন নয়, স্বপ্নাদেশ কোন শরীয়ত নয়; যেহেতু শরীয়ত সম্পূর্ণ। বরং তার তাবীর ও ব্যাখ্যা করতে হয়। শয়তান স্বপ্ন দেখাতে পারে, যেহেতু সে তো আমাদের রক্তশিরায় চলমান হতে পারে। পক্ষান্তরে কোন মানুষ কাউকে স্বপ্ন দেখাতে পারে না।
আর মু'মিনের স্বপ্ন সত্য হওয়ার অর্থ এ নয় যে, সে যা দেখে তাই সত্য। ব্যভিচার করতে দেখলে তাই সত্য, পাপ করা দেখলে তার শাস্তি পাবে। বরং তার তা'বীর সঠিক হলে সত্যরূপে প্রকাশ পাবে। উদাহরণ স্বরূপঃ এক পাপী স্বপ্ন দেখল, সে স্বপ্নে পথ চলছে; কিন্তু তার পথ ভুল হয়ে যাচ্ছে অথবা যেখানে যাওয়ার কথা সেখানে সে পৌঁছতে পারছে না অথবা কোন ভয়ঙ্কর স্থানে সে পৌঁছচ্ছে। তখন কারো নিকট সে তার তা'বীর জানল যে, সে যে পথে চলছে, তা ভুল পথ। অতঃপর সে তওবা ক'রে খাঁটি মুসলিম ব্যক্তিতে পরিণত হল।
নবী ছাড়া অনবীর স্বপ্ন এবং তার তা'বীরের কথাও কুরআনে এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন,
وَدَخَلَ مَعَهُ السِّجْنَ فَتَيَانِ قَالَ أَحَدُهُمَا إِنِّي أَرَانِي أَعْصِرُ خَمْراً وَقَالَ الآخَرُ إِنِّي أَرَانِي أَحْمِلُ فَوْقَ رَأْسِي خُبْرًا تَأْكُلُ الطَّيْرُ مِنْهُ نَبِّئْنَا بِتَأْوِيلِهِ إِنَّا نَرَاكَ مِنْ الْمُحْسِنِينَ (٣٦) قَالَ لا يَأْتِيكُمَا طَعَam তُرْزَقَانِهِ إِلَّا نَبَّأْتُكُمَا بِتَأْوِيلِهِ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَكُمَا ذَلِكُمَا مِمَّا عَلَّمَنِي رَبِّي ....... يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَمَّا أَحَدُكُمَا فَيَسْقِي رَبَّهُ خَمْراً وَأَمَّا الْآخَرُ فَيُصْلَبُ فَتَأْكُلُ الطَّيْرُ مِنْ رَأْسِهِ قُضِيَ الْأَمْرُ الَّذِي فِيهِ تَسْتَفْتِيَانِ (٤١)
অর্থাৎ, তার সাথে দু'জন যুবক কারাগারে প্রবেশ করল। তাদের একজন বলল, 'আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি (আঙ্গুর) নিড়ে মদ তৈরী করছি' এবং অপরজন বলল, 'আমি স্বপ্নে দেখলাম আমি আমার মাথায় রুটি বহন করছি এবং পাখি তা হতে খাচ্ছে। আমাদেরকে আপনি এর তাৎপর্য জানিয়ে দিন, আমরা আপনাকে সৎকর্মপরায়ণ দেখছি।' ইউসুফ বলল, 'তোমাদেরকে যে খাদ্য দেওয়া হয়, তা আসবার পূর্বে আমি তোমাদেরকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানিয়ে দেব, এ জ্ঞান আমার প্রতিপালক আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তারই অন্তর্ভুক্ত।.......হ আমার কারাসঙ্গীদ্বয়! তোমাদের একজন সম্বন্ধে কথা এই যে, সে তার প্রভুকে মদ্য পান করাবে এবং অপরজন সম্বন্ধে কথা এই যে, সে শূলবিদ্ধ হবে, অতঃপর তার মস্তক হতে পাখি আহার করবে। যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছ তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।' (সূরা ইউসুফ ৩৬-৪১ আয়াত)
একই ঘটনা-বিবরণে তিনি আরো বলেন,
وَقَالَ الْمَلِكُ إِنِّي أَرَى سَبْعَ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعَ سُنبلاتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ يَا أَيُّهَا الْمَلأَ أَفْتُونِي فِي رُؤْيَايَ إِنْ كُنتُمْ لِلرُّؤْيَا تَعْبُرُونَ (٤٣) قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلامٍ وَمَا نَحْنُ بِتَأْوِيلِ الْأَحْلامِ بِعَالِمِينَ (٤٤) وَقَالَ الَّذِي نَجَا مِنْهُمَا وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ أَنَا أُنَبِّئُكُمْ بِتَأْوِيلِهِ فَأَرْسِلُونِ (٤٥) يُوسُفُ أَيُّهَا الصِّدِّيقُ أَفْتِنَا فِي سَبْعِ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعِ سُبُلَاتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ لَعَلِّي أَرْجِعُ إِلَى النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَعْلَمُونَ (٤٦) قَالَ تَزْرَعُونَ سَبْعَ سِنِينَ دَأَبِاً فَمَا حَصَدْتُمْ فَذَرُوهُ فِي سُنبُلِهِ إِلا قَلِيلاً مِمَّا تَأْكُلُونَ (٤٧) ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ سَبْعٌ شِدَادٌ يَأْكُلْنَ مَا قَدَّمْتُمْ هُنَّ إِلَّا قَلِيلاً مِمَّا تُحْصِنُونَ (٤٨) ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ عَامٌ فِيهِ يُغَاثُ النَّاسُ وَفِيهِ يَعْصِرُونَ (٤٩)
অর্থাৎ, রাজা বলল, 'আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটি স্থূলকায় গাভী; ওগুলিকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী ভক্ষণ করছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক। হে প্রধানগণ! যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পার, তাহলে আমার স্বপ্ন সম্বন্ধে অভিমত দাও।' তারা বলল, 'এটা আবোল-তাবোল স্বপ্ন এবং আমরা এরূপ স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।' দু'জন কারা-বন্দীর মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পরে তার সারণ হল, সে বলল, 'আমি এর তাৎপর্য তোমাদেরকে জানিয়ে দেব, সুতরাং তোমরা আমাকে পাঠিয়ে দাও।' সে বলল, 'হে ইউসুফ! হে মহা সত্যবাদী! সাতটি স্থূলকায় গাভী, ওগুলিকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী ভক্ষণ করছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক শীষ সম্বন্ধে আপনি আমাদেরকে ব্যাখ্যা দিন, যাতে আমি লোকদের কাছে ফিরে যেতে পারি এবং যাতে তারা অবগত হতে পারে।' (ইউসুফ) বলল, 'তোমরা সাত বছর একাদিক্রমে চাষ করবে, অতঃপর তোমরা যে শস্য সংগ্রহ করবে তার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা ভক্ষণ করবে, তা ব্যতীত সমস্ত শস্য শীষ সমেত রেখে দেবে। এরপর আসবে সাতটি কঠিন (দুর্ভিক্ষের) বছর, এই সাত বছর যা পূর্বে সঞ্চয় ক'রে রাখবে, লোকে তা খাবে; শুধু সামান্য কিছু যা তোমরা সংরক্ষণ করবে তা ব্যতীত এবং এরপর আসবে এক বছর, সেই বছর মানুষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে এবং সেই বছর মানুষ ফলের রস নিড়াবে।' (ঐ ৪৩-৪৯ আয়াত)
নূর আলমের মতো যুক্তিবাদীরা স্বীকার করেন, 'আল্লাহর কুদরতির (?) দ্বারা তাদের চোখে ও অন্তরে ভ্রম সৃষ্টি করেছিলেন। যাতে তারা পরস্পর পরস্পরকে কম দেখে...।' (তত্ত্ব.....৪৮পৃঃ)
কিন্তু এ 'কুদরতি' কেবল রসূলদের জন্য স্বীকার করেন। অন্যদের জন্য স্বীকার করেন না। একই আয়াতে কাফেরদের অন্তরেও ঐ 'কুদরতির' প্রভাব স্বীকার করেন না। এটা বড় আজীব যুক্তি। অথচ ইউসুফ নবীর কাহিনীতেও লক্ষ্য করুন, তাঁর কারা সঙ্গীদ্বয় ও বাদশা কোন নবী বা রসূল ছিলেন না। তাহলে কুরআন-ভিত্তিক এই যুক্তিবাদীদের সহীh হাদীস অস্বীকার করার যুক্তি কি কুযুক্তি এবং আকীদা ও ঈমান-বিধ্বংসী প্রযুক্তি নয়?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00