📄 বিতর নামায শেষ করলে
বিতর নামাযের শেষে সালাম ফিরিয়েই অন্যান্য তাসবীহ দু'আ ইত্যাদি বলার পূর্বে 'সুবহানাল মালিকিল্ কুদ্দুস' কথাটি তিনবার বলা সুন্নাত। শেষেরবার একটু টেনে বলতে হয়। উবাই বিন কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
فَإِذَا فَرَغَ قَالَ عِنْدَ فَرَاغِهِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسُ ثَلاثَ مَرَّاتٍ يُطِيلُ فِي آخِرِهِنَّ
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর নামায শেষ করে তিনবার বলতেন, 'সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস' (আমি মহা পবিত্র বাদশার পবিত্রতা বর্ণনা করছি।) শেষ বার তিনি এই শব্দগুলো একটু বেশী টেনে উচ্চৈঃস্বরে বলতেন।”
টিকাঃ
১. নাসাঈ, অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামুল্লায় ও নফল নামায, অধ্যায়ঃ বিতরের ক্ষেত্রে উবাই বিন কা'বের হাদীছ বর্ণনায় বর্ণনাকারীদের বাক্যের মধ্যে বিভিন্নতা। হা/১৬৮১। হাদীছটি ছহীহ (দ্রঃ মেশকাত- আলবানী ১/৩৯৮পৃঃ হা/১২৭৪, ১২৭৫)
📄 বিতরের পর নামায পড়া
বিতর শেষ করে দু'রাকাত নামায আদায় করাঃ
বিতর শেষে দু'রাকাত নামায আদায় করা যায় এবং এই নামায বসে বসে আদায় করা যায়। রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো এই নামায আদায় করেছেন। উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الوثر رَكَعَتَيْنِ
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের পর দু'রাকাত নামায আদায় করতেন।” ইবনে মাজার বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ خَفِيفَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ হালকা করে বসাবস্থায় উহা আদায় করতেন। সদা-সর্বদা এ নামায আদায় করা উচিত নয়। কেননা তাহলে অপর হাদীছ "তোমরা তোমাদের রাতের নামাযের সর্বশেষে বিতর নামায আদায় করবে।" এর প্রতি আমল করা হবে না। বিতর নামায পড়ার পর ইচ্ছা করলে নফল নামায পড়া যে জায়েয এটা প্রমাণ করার জন্যই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ নামায আদায় করেছেন। (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)
টিকাঃ
১. তিরমিযী, অধ্যায়ঃ নামায, অনুচ্ছেদ, একরাতে দু'বার বিতর নেই, হা/৪৩৩।
২. ইবনু মাজাহ্ অধ্যায়ঃ নামায প্রতিষ্ঠা করা ও তার মধ্যে সুন্নাত হা/১১৮৫। শায়খ আলবানী হাদীছটিকে হাসান বলেন, (দ্রঃ মেশকাত আলবানী ১/৪০০- ৪০১ পৃঃ হা/১২৮৪, ১২৮৭।)
৩. বুখারী, অধ্যায়ঃ জুমআর নামায হা/৯৪৩। ও মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায হা/১২৪৫।
📄 বিতর নামাযের কাযা
অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি কারো বিতর নামায ছুটে যায়, তবে সে দিনের বেলায় উহা কাযা আদায় করতে পারে। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ نَامَ عَنْ وثرِهِ أَوْ نَسِيَهُ فَلْيُصَلِّهِ إِذَا ذَكَرَهُ
"যে ব্যক্তি বিতর নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকবে অথবা উহা পড়তে ভুলে যাবে, সে যেন স্মরণ হলেই উহা আদায় করে নেয়।”
বিতর নামায কাযা আদায় করার ব্যাপারে আরেকটি নিয়ম পাওয়া যায়। তা হচ্ছেঃ দিনের বেলায় ১২ রাকাত নামায আদায় করা। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যদি কখনো নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে নিদ্রা জনিত কারণে বা অসুস্থতার কারণে রাতে ক্বিয়ামুল্লায়ল করতে অপরাগ হতেন, তবে দিনের বেলায় ১২ রাকাত নামায আদায় করতেন।”
টিকাঃ
১. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ ছালাত, অনুচ্ছেদঃ বিতরের পর দু'আর বর্ণনা হা/১২১৯। তিরমিযী, অধ্যায়ঃ ছালাত, অনুচ্ছেদঃ কোন মানুষ যদি বিতর না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে বা ভুলে যায় তখন কি করবে, হা/৪২৮। হাদীছটি ছহীহ্।
২. মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায, অনুচ্ছেদঃ রাতের যাবতীয় নামায এবং যে ব্যক্তি নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকবে বা অসুস্থ হয়ে যাবে। (এটি দীর্ঘ একটি হাদীছের অংশ বিশেষ) হা/১২৩৩।
📄 একরাতে দু'বার বিতর পড়া
একরাতে দু'বার বিতর পড়া বিধিসম্মত নয়।
عَنْ قيس بن طلق قالَ زَارَنَا طلقُ بْنُ عَلِيٍّ فِي يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ وَأَمْسَى عِنْدَنَا وَأَفطَرَ ثُمَّ قام بنَا اللَّيْلَةَ وَأَوْتَرَ بِنَا ثُمَّ انْحَدَرَ إِلَى মَسْجِدِهِ فَصَلَّى بِأَصْحَابِهِ حَتَّى إِذَا بَقِيَ الوِتْرُ قَدَّمَ رَجُلًا فَقَالَ أَوْتِرْ بأَصْحَابِكَ فَإِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لا وثران فِي لَيْلَةٍ
ক্বায়স বিন ত্বল্ফ বলেন, একদা রামাযানে আমার পিতা ত্বল্ফ বিন আলী (রাঃ) আমাদের নিকট আগমণ করেন, সন্ধ্যা হয়ে গেলে তিনি আমাদের নিকটেই ইফতার করেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে তারাবীর নামায পড়েন এবং বিতর পড়েন। তারপর তাঁর নিজের মসজিদে গিয়ে লোকদের নিয়ে ক্বিয়ামুল্লায়ল করেন। যখন বিতর নামায বাকী ছিল তখন তিনি একজন লোককে আগে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, লোকদের নিয়ে বিতর পড়ে নাও। কেননা আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “একরাতে দু'বার বিতর নেই।”
অতএব কোন মুসলমান যদি প্রথম রাতে বিতর আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে। অতঃপর জাগ্রত হয়ে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করার জন্য আল্লাহ তাকে সুযোগ দান করেন, তবে সে দু'দু'রাকাত করে নামায আদায় করবে। শেষে আর বিতর পড়বে না।
বিদ্বানদের মধ্যে একদল মত পোষণ করেছেন যে, বিতর আদায় করার পর যদি কেউ নফল নামায বা তাহাজ্জুদ পড়তে চায়, তবে সে এক রাকাত নামায পড়ে বিতরকে ভেঙ্গে দিবে (আগের এক রাকাত এবং এই রাকাত জোড়া হয়ে যাবে)। অতঃপর তাহাজ্জুদ শেষ করে বিতর আদায় করবে। ইমাম তিরমিযী বলেন, ছাহাবীদের মধ্যে কেউ কেউ এবং ইমাম ইসহাক এই মত পোষণ করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ বিদ্বানের মতে প্রথম নিয়মটিই অধিক গ্রহণযোগ্য। কেননা ইতোপূর্বে উল্লেখ হয়েছে যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো বিতরের পরও নামায আদায় করেছেন।
একটি প্রশ্ন ও তার উত্তরঃ কোন লোক যদি প্রথম রাতে বিতর নামায আদায় করে নেয়। অতঃপর শেষ রাতে জামাতের সাথে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে সে কি ইমামের সাথে বিতর পড়বে না? যদি না পড়ে তবে হাদীছে বর্ণিত ফযীলত থেকে বঞ্ছিত হবে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি ইমামের সাথে ক্বিয়ামুল্লায়ল করবে, অতঃপর ইমামের সাথেই সে ফিরে যাবে, তবে তার জন্য সারা রাত্রি নফল নামায পড়ার ছওয়াব লিখা হবে।”
এর জবাব হচ্ছেঃ এই ব্যক্তি ইমামের এক রাকাত পড়ার সময় দু'রাকাত পড়ার নিয়ত করে দাঁড়াবে। ইমাম এক রাকাত শেষ করে যখন সালাম ফেরাবে, সে উঠে দাঁড়াবে এবং দ্বিতীয় রাকাত নামায পূর্ণ করে নিবে। আর এভাবেই সে ইমামের সাথে নামায শেষ করতে পারবে এবং এক রাতে দু'বারও বিতর পড়া হবে না।
টিকাঃ
১. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ বিতর, অনুচ্ছেদঃ বিতর ভেঙ্গে দেয়া হা/১২২৭। তিরমিযী, অধ্যায়ঃ বিতর, অনুচ্ছেদঃ রাতে দু'বার বিতর নেই হা/৪৩২। নাসাঈ, অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামুল্লায়ল ও দিনের নফল নামায, অনুচ্ছেদঃ এক রাতে দু'বার বিতরের ব্যাপারে নবী এর নিষেধাজ্ঞা, হা/১৬৬১। শায়খ আলবানী হাদীছটিকে ছহীহ বলেন, দ্রঃ ছহীহ তিরমিযী, ১/১৪৬।
১. তিরমিযী, অধ্যায়ঃ বিতর, অনুচ্ছেদঃ রাতে দু'বার বিতর নেই হা/৪৩২।
২. দেখুন ৭০-৭১ নং পৃষ্ঠা।
৩. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ নামায, অনুচ্ছেদঃ রামাযানে ক্বিয়াম করা হা/১১৬৭। তিরমিযী, অধ্যায়ঃ ছিয়াম, অনুচ্ছেদঃ রামাযানে ক্বিয়াম করা হা/৭৩৪। নাসাঈ, অধ্যায়ঃ সাহু সিজদা, অনুচ্ছেদঃ ইমামের সাথে যে ক্বিয়ামুল্লায়ল শেষ করে তার ছওয়াব, হা/১৪৪৭।
১ বুগইয়াতুল মুতাত্বওয়ে' ৮০ পৃঃ।