📘 বিতর নামায 📄 দু'আ কূনূত না জানলে

📄 দু'আ কূনূত না জানলে


আমাদের দেশের কতিপয় আলেম বলে থাকেন, যার দু'আ কুনূত মুখস্ত নেই সে তিনবার সূরায়ে এখলাছ অবশ্যই পড়বে। নতুবা বিতর আদায় হবে না। এ ব্যাপারে আল্লামা আবু মুহাম্মাদ আবদুল ওয়াহহাব সাদরী বলেন, একথাটি বেদলীল ও সনদহীন এবং সম্পূর্ণ মনগড়া কথা। কুরআন ও প্রিয় নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদীছে যার কোন প্রমাণ ও সমর্থন নেই।

অতএব দু'আ কুনূত না জানলে তা পড়তে হবে না। কেননা আমার পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, দু'আ কুনূত পাঠ করা যেমন ওয়াজিব নয়, তেমনি উহা জানলেও যে সারা বছর পড়তে হবে তাও আবশ্যক নয়। বরং কখনো পড়বে কখনো ছাড়বে। এটাই সুন্নাত এবং সালাফে সালেহীন তথা ছাহাবায়ে কেরামের নীতি।
সালাফে সালেহীনের নীতি অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে সকল কল্যাণ।

টিকাঃ
১. হেদায়াতুন্ন নবী থেকে আইনী তোহফা ১/২২৭।

📘 বিতর নামায 📄 বিতর নামায শেষ করলে

📄 বিতর নামায শেষ করলে


বিতর নামাযের শেষে সালাম ফিরিয়েই অন্যান্য তাসবীহ দু'আ ইত্যাদি বলার পূর্বে 'সুবহানাল মালিকিল্ কুদ্দুস' কথাটি তিনবার বলা সুন্নাত। শেষেরবার একটু টেনে বলতে হয়। উবাই বিন কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

فَإِذَا فَرَغَ قَالَ عِنْدَ فَرَاغِهِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسُ ثَلاثَ مَرَّاتٍ يُطِيلُ فِي آخِرِهِنَّ

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর নামায শেষ করে তিনবার বলতেন, 'সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস' (আমি মহা পবিত্র বাদশার পবিত্রতা বর্ণনা করছি।) শেষ বার তিনি এই শব্দগুলো একটু বেশী টেনে উচ্চৈঃস্বরে বলতেন।”

টিকাঃ
১. নাসাঈ, অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামুল্লায় ও নফল নামায, অধ্যায়ঃ বিতরের ক্ষেত্রে উবাই বিন কা'বের হাদীছ বর্ণনায় বর্ণনাকারীদের বাক্যের মধ্যে বিভিন্নতা। হা/১৬৮১। হাদীছটি ছহীহ (দ্রঃ মেশকাত- আলবানী ১/৩৯৮পৃঃ হা/১২৭৪, ১২৭৫)

📘 বিতর নামায 📄 বিতরের পর নামায পড়া

📄 বিতরের পর নামায পড়া


বিতর শেষ করে দু'রাকাত নামায আদায় করাঃ
বিতর শেষে দু'রাকাত নামায আদায় করা যায় এবং এই নামায বসে বসে আদায় করা যায়। রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো এই নামায আদায় করেছেন। উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الوثر رَكَعَتَيْنِ

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের পর দু'রাকাত নামায আদায় করতেন।” ইবনে মাজার বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ خَفِيفَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ হালকা করে বসাবস্থায় উহা আদায় করতেন। সদা-সর্বদা এ নামায আদায় করা উচিত নয়। কেননা তাহলে অপর হাদীছ "তোমরা তোমাদের রাতের নামাযের সর্বশেষে বিতর নামায আদায় করবে।" এর প্রতি আমল করা হবে না। বিতর নামায পড়ার পর ইচ্ছা করলে নফল নামায পড়া যে জায়েয এটা প্রমাণ করার জন্যই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ নামায আদায় করেছেন। (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)

টিকাঃ
১. তিরমিযী, অধ্যায়ঃ নামায, অনুচ্ছেদ, একরাতে দু'বার বিতর নেই, হা/৪৩৩।
২. ইবনু মাজাহ্ অধ্যায়ঃ নামায প্রতিষ্ঠা করা ও তার মধ্যে সুন্নাত হা/১১৮৫। শায়খ আলবানী হাদীছটিকে হাসান বলেন, (দ্রঃ মেশকাত আলবানী ১/৪০০- ৪০১ পৃঃ হা/১২৮৪, ১২৮৭।)
৩. বুখারী, অধ্যায়ঃ জুমআর নামায হা/৯৪৩। ও মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায হা/১২৪৫।

📘 বিতর নামায 📄 বিতর নামাযের কাযা

📄 বিতর নামাযের কাযা


অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি কারো বিতর নামায ছুটে যায়, তবে সে দিনের বেলায় উহা কাযা আদায় করতে পারে। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

مَنْ نَامَ عَنْ وثرِهِ أَوْ نَسِيَهُ فَلْيُصَلِّهِ إِذَا ذَكَرَهُ

"যে ব্যক্তি বিতর নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকবে অথবা উহা পড়তে ভুলে যাবে, সে যেন স্মরণ হলেই উহা আদায় করে নেয়।”

বিতর নামায কাযা আদায় করার ব্যাপারে আরেকটি নিয়ম পাওয়া যায়। তা হচ্ছেঃ দিনের বেলায় ১২ রাকাত নামায আদায় করা। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যদি কখনো নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে নিদ্রা জনিত কারণে বা অসুস্থতার কারণে রাতে ক্বিয়ামুল্লায়ল করতে অপরাগ হতেন, তবে দিনের বেলায় ১২ রাকাত নামায আদায় করতেন।”

টিকাঃ
১. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ ছালাত, অনুচ্ছেদঃ বিতরের পর দু'আর বর্ণনা হা/১২১৯। তিরমিযী, অধ্যায়ঃ ছালাত, অনুচ্ছেদঃ কোন মানুষ যদি বিতর না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে বা ভুলে যায় তখন কি করবে, হা/৪২৮। হাদীছটি ছহীহ্।
২. মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায, অনুচ্ছেদঃ রাতের যাবতীয় নামায এবং যে ব্যক্তি নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকবে বা অসুস্থ হয়ে যাবে। (এটি দীর্ঘ একটি হাদীছের অংশ বিশেষ) হা/১২৩৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px