📄 দু'হাত তুলে দু'আ কূনূত পড়া
এ সময় দু'হাত তুলে দু'আ কুনূত পড়তে পারবে। কেননা সাধারণ ভাবে দু'আ করার সময় দু'হাত উত্তোলন করা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
সালমান ফারেসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, "নিশ্চয় তোমাদের পালনকর্তা লজ্জাশীল সম্মানিত। কোন বান্দা তাঁর কাছে দু'হাত তুলে প্রার্থনা করলে তিনি উহা খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।"
কুনূত একটি দু'আ, তাই এ অবস্থায় হাত তুলা উচিত। তাছাড়া হাত তুলে দু'আ কুনূত পড়ার ব্যপারে সাহাবায়ে কেরাম থেকেও প্রমাণ পাওয়া যায়। ইবনে মাসউদ, উমর বিন খাত্তাব, ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা (রাঃ) প্রমূখ সাহাবী দু'আ কুনূত পড়ার সময় বুক বরাবর দু'হাত তুলতেন। ইমাম আহমাদ, ইমাম ইসহাকও এরূপ করতেন। আবু রাফে' থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) এর পিছনে নামায পড়েছি। তিনি রুকূর পর কুনূত পড়েছেন। তখন হাত উঠিয়েছেন এবং দু'আ জোরে জোরে পড়েছেন।''
দু'আ শেষে দু'হাত মুখে মোছাঃ
দু'আ শেষ করার পর হাত দু'টিকে মুখে মুছার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোন হাদীছ প্রমাণিত হয়নি। তাই উহা না করাই শ্রেয়। এ সম্পর্কে একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছেঃ উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু'হাত উঠিয়ে দু'আ করলে, উহা মুখমন্ডলে না মুছে নীচে নামাতেন না।” কিন্তু এই হাদীছটি যঈফ।
ইমাম বায়হাক্বী বলেন, 'উত্তম হচ্ছে এরূপ না করা এবং সালাফে সালেহীন যা করেছেন তাকেই যথেষ্ট মনে করা। অর্থাৎ- শুধু হাত উঠিয়ে দু'আ করা কিন্তু উহা মুখে না মুছা।"
টিকাঃ
১. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ বিতর নামায, অনুচ্ছেদঃ দু'আ হা/১২৭৩। তিরমিযী, অধ্যায়ঃ দু'আ, অনুচ্ছেদঃ হাদ্দাছানা মুহাম্মাদ বিন বাশার হা/৩৪৭৯। শায়খ আলবানী হাদীছটিকে ছহীহ বলেন, দ্রঃ ছহীহ সুন্নাত তিরমিযী, ৩/১৬৯।
২. বিস্তারিত দেখুন আল মুগনী ২/৫৮৪, তোহফাতুল আহওয়াযী ৪৬৪ নং হাদীসের আলোচনা দ্রষ্টব্য।
১. বায়হাক্বী, ২/২১২। বাইহাকী বলেন, এই বর্ণনার সূত্র ছহীহ। বায়হাক্বী আরো কতিপয় ছাহাবীর নাম উল্লেখ করেছেন, যারা কুনূতের সময় হাত উঠিয়ে দু'আ করেছেন। (দ্রঃ মুগনী ২/৫৮৪, শারহ মুমতে' ৪/২৬, ছহীহ মুসলিম শরহে নবভী ৫/৮৩।
২. তিরমিযী, অধ্যায়ঃ দু'আ, অনুচ্ছেদঃ দু'আয় দু'হাত উত্তোলন করা হা/৩৩০৮।
৩. ফিকুহুস্ সুন্নাহ্- সাইয়্যেদ সাবেক ১/১৮৫।
📄 দু'আ কূনূত না জানলে
আমাদের দেশের কতিপয় আলেম বলে থাকেন, যার দু'আ কুনূত মুখস্ত নেই সে তিনবার সূরায়ে এখলাছ অবশ্যই পড়বে। নতুবা বিতর আদায় হবে না। এ ব্যাপারে আল্লামা আবু মুহাম্মাদ আবদুল ওয়াহহাব সাদরী বলেন, একথাটি বেদলীল ও সনদহীন এবং সম্পূর্ণ মনগড়া কথা। কুরআন ও প্রিয় নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদীছে যার কোন প্রমাণ ও সমর্থন নেই।
অতএব দু'আ কুনূত না জানলে তা পড়তে হবে না। কেননা আমার পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, দু'আ কুনূত পাঠ করা যেমন ওয়াজিব নয়, তেমনি উহা জানলেও যে সারা বছর পড়তে হবে তাও আবশ্যক নয়। বরং কখনো পড়বে কখনো ছাড়বে। এটাই সুন্নাত এবং সালাফে সালেহীন তথা ছাহাবায়ে কেরামের নীতি।
সালাফে সালেহীনের নীতি অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে সকল কল্যাণ।
টিকাঃ
১. হেদায়াতুন্ন নবী থেকে আইনী তোহফা ১/২২৭।
📄 বিতর নামায শেষ করলে
বিতর নামাযের শেষে সালাম ফিরিয়েই অন্যান্য তাসবীহ দু'আ ইত্যাদি বলার পূর্বে 'সুবহানাল মালিকিল্ কুদ্দুস' কথাটি তিনবার বলা সুন্নাত। শেষেরবার একটু টেনে বলতে হয়। উবাই বিন কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
فَإِذَا فَرَغَ قَالَ عِنْدَ فَرَاغِهِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسُ ثَلاثَ مَرَّاتٍ يُطِيلُ فِي آخِرِهِنَّ
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর নামায শেষ করে তিনবার বলতেন, 'সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস' (আমি মহা পবিত্র বাদশার পবিত্রতা বর্ণনা করছি।) শেষ বার তিনি এই শব্দগুলো একটু বেশী টেনে উচ্চৈঃস্বরে বলতেন।”
টিকাঃ
১. নাসাঈ, অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামুল্লায় ও নফল নামায, অধ্যায়ঃ বিতরের ক্ষেত্রে উবাই বিন কা'বের হাদীছ বর্ণনায় বর্ণনাকারীদের বাক্যের মধ্যে বিভিন্নতা। হা/১৬৮১। হাদীছটি ছহীহ (দ্রঃ মেশকাত- আলবানী ১/৩৯৮পৃঃ হা/১২৭৪, ১২৭৫)
📄 বিতরের পর নামায পড়া
বিতর শেষ করে দু'রাকাত নামায আদায় করাঃ
বিতর শেষে দু'রাকাত নামায আদায় করা যায় এবং এই নামায বসে বসে আদায় করা যায়। রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো এই নামায আদায় করেছেন। উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الوثر رَكَعَتَيْنِ
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের পর দু'রাকাত নামায আদায় করতেন।” ইবনে মাজার বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ خَفِيفَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ হালকা করে বসাবস্থায় উহা আদায় করতেন। সদা-সর্বদা এ নামায আদায় করা উচিত নয়। কেননা তাহলে অপর হাদীছ "তোমরা তোমাদের রাতের নামাযের সর্বশেষে বিতর নামায আদায় করবে।" এর প্রতি আমল করা হবে না। বিতর নামায পড়ার পর ইচ্ছা করলে নফল নামায পড়া যে জায়েয এটা প্রমাণ করার জন্যই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ নামায আদায় করেছেন। (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)
টিকাঃ
১. তিরমিযী, অধ্যায়ঃ নামায, অনুচ্ছেদ, একরাতে দু'বার বিতর নেই, হা/৪৩৩।
২. ইবনু মাজাহ্ অধ্যায়ঃ নামায প্রতিষ্ঠা করা ও তার মধ্যে সুন্নাত হা/১১৮৫। শায়খ আলবানী হাদীছটিকে হাসান বলেন, (দ্রঃ মেশকাত আলবানী ১/৪০০- ৪০১ পৃঃ হা/১২৮৪, ১২৮৭।)
৩. বুখারী, অধ্যায়ঃ জুমআর নামায হা/৯৪৩। ও মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায হা/১২৪৫।