📘 বিতর নামায 📄 ঘ) সাত রাকাত বিতর

📄 ঘ) সাত রাকাত বিতর


আয়েশা (রাঃ) বলেন, فَلَمَّا সَنَّ نَبِيُّ اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّমَ وَأَخَذَهُ اللَّحْمُ أَوْتَرَ بسبع “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বয়স্ক হয়ে যাওয়ার কারণে শরীর ভারি হয়ে গেলে সাত রাকাত বিতর পড়েছেন।”

এই সাত রাকাত পড়ার ক্ষেত্রে দু'রকম নিয়ম পাওয়া যায়। (১) সাত রাকাত একাধারে পড়বে। মধ্যখানে বসবে না তাশাহুদ পড়বে না। (২) ছয় রাকাত একাধারে পড়ে তাশাহুদ পড়বে। অতঃপর সালাম না ফিরিয়েই সপ্তম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরাবে।

প্রথম নিয়মের পক্ষে দলীল হচ্ছেঃ আয়েশা (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বয়স্ক হয়ে গেলে এবং তাঁর শরীর ভারী হয়ে গেলে তিনি সাত রাকাত বিতর পড়েছেন, একেবারে শেষ রাকাতে তাশাহুদে বসেছেন।”

উম্মে সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ﴿كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يُوتِرُ بِخَمْسٍ وَبِسَبْعِ لا يَفْصِلُ بَيْنَهَا بِسَلَامٍ وَلَا بِكَلامٍ﴾ “রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ রাকাত এবং সাত রাকাত বিতর পড়তেন। এ পাঁচ বা সাত রাকাতের মাঝে তিনি সালাম ফেরাতেন না বা কোন কথাও বলতেন না। অর্থাৎ একাধারে পাঁচ বা সাত রাকাত নামায পড়তেন।”

দ্বিতীয় পদ্ধতির দলীল হচ্ছেঃ আশেয়া (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বয়বৃদ্ধ হয়ে গেলে এবং দুর্বল হয়ে পড়লে সাত রাকাত বিতর পড়েছেন। একাধারে ছয় রাকাত পড়ে তাশাহুদে বসেছেন। তারপর সালাম না ফিরিয়েই দাঁড়িয়ে পড়েছেন এবং সপ্তম রাকাত পড়েছেন তারপর সালাম ফিরিয়েছেন।”

টিকাঃ
২. মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায। হা/১২৩৩।
১. সুনান নাসাঈ, অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামুল্লায়ল ও নফল নামায, অনুচ্ছেদঃ কিভাবে সাত রাকাত বিতর পড়বে, হা/১৬৯৯।
২. নাসাঈ, অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামুল্লায়ল ও নফল নামায, অনুচ্ছেদঃ কিভাবে সাত রাকাত বিতর পড়বে, হা/১৬৯৫। ছহীহ্ নাসাঈ- আলবানী হা/১/৩৭৫। ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ নামায প্রতিষ্ঠা করা, অনুচ্ছেদঃ বিতরের বর্ণনা তিন রাকাত, পাঁচ, সাত ও নয় রাকাত, হা/১১৮২। ছহীহ্ ইবনু মাজাহ্- আলবানী হা/১/১৯৭।
১. সুনান নাসাঈ, অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামুল্লায় ও নফল নামায, অনুচ্ছেদঃ কিভাবে সাত রাকাত বিতর পড়বে, হা/১৭০০।

📘 বিতর নামায 📄 ঙ) নয় রাকাত বিতর

📄 ঙ) নয় রাকাত বিতর


এ নামায পড়ার পদ্ধতি হচ্ছে একাধারে আট রাকাত পড়ে বসে তাশাহুদ পড়বে। তারপর দাঁড়িয়ে নবম রাকাত পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফেরাবে। সা'দ বিন হিশাম (রঃ) বলেন, আমি উম্মুল মুমেনীন আয়েশা (রাঃ) কে প্রশ্ন করলাম, আপনি রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বিতর নামায সম্পর্কে আমাকে বলুন? তিনি বললেন, আমরা তাঁর জন্য মেসওয়াক এবং ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। আল্লাহর ইচ্ছায় যখন তিনি জাগ্রত হতেন তখন মেসওয়াক করতেন এবং ওযু করতেন অতঃপর নয় রাকাত নামায আদায় করতেন। এ সময় মধ্যখানে না বসে অষ্টম রাকাতে বসতেন। বসে আল্লাহর যিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন ও দু'আ করতেন। অতঃপর সালাম না ফিরিয়েই দাঁড়িয়ে পড়তেন এবং নবম রাকাত আদায় করতেন। এরপর তাশাহুদে বসে আল্লাহর যিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন ও দু'আ করতেন। অতঃপর আমাদেরকে শুনিয়ে জোরে সালাম ফিরাতেন।

উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তের রাকাত বিতর পড়তেন। যখন বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে গেছেন তখন নয় রাকাত বিতর পড়েছেন।”

টিকাঃ
১. মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায। হা/১২৩৩।
২. নাসাঈ, অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামুল্লায়ল ও নফল নামায, হা/ ১৬৮৯।

📘 বিতর নামায 📄 চ) এগার রাকাত বিতর

📄 চ) এগার রাকাত বিতর


হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে এগার রাকাত নামায পড়তেন, তম্মধ্যে এক রাকাত দ্বারা বিতর পড়তেন।” অপর বর্ণনায় বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এশা নামায থেকে ফারেগ হয়ে ফজর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এগার রাকাত নামায পড়তেন। প্রতি দু'রাকাত পড়ে সালাম ফিরাতেন এবং এক রাকাতে বিতর পড়তেন।”

টিকাঃ
৩. মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায, অনুচ্ছেদঃ রাতের নামায, হা/১২১৬।

📘 বিতর নামায 📄 ছ) তের রাকাত বিতর

📄 ছ) তের রাকাত বিতর


এর দু'টি পদ্ধতিঃ (১) প্রতি দু'রাকাত পড়ে সালাম ফেরাবে এবং শেষে এক রাকাত বিতর পড়বে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নামাযের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "আমি নামাযে গিয়ে তাঁর বাম পার্শ্বে দন্ডায়মান হলাম। তখন তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথায় দিয়ে ডান কানটি ঘুরিয়ে দিলেন অতঃপর আমাকে ধরে তাঁর ডান দিকে দাঁড় করালেন। তারপর তিনি দু'রাকাত নামায আদায় করলেন, আবার দু'রাকাত আদায় করলেন, আবার দু'রাকাত আদায় করলেন, আবার দু'রাকাত আদায় করলেন, আবার দু'রাকাত আদায় করলেন, আবার দু'রাকাত আদায় করলেন, তারপর বিতর পড়লেন। অতঃপর একটু শুয়ে পড়লেন। যখন মুআযযিন এল, তখন দাঁড়ালেন এবং হালকা করে দু'রাকাত নামায আদায় করলেন। এরপর ঘর থেকে বের হয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন।”

(২) তের রাকাত নামায দু'দু রাকাত করে পড়বে এবং শেষে একাধারে পাঁচ রাকাতের মাধ্যমে বিতর পড়বে। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثلاثَ عَشْرَةَ رَكْعَة يُوتِرُ مِنْ ذَلِكَ بِخَمْسِ لَا يَجْلِسُ فِي شَيْءٍ إلا في آخرها “রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে তের রাকাত নামায পড়তেন। (সর্বশেষে) এর মধ্যে পাঁচ রাকাত দ্বারা বিতর পড়তেন। এই পাঁচ রাকাতের মাঝে বসতেন না একেবারে শেষে বসতেন।”

টিকাঃ
১. বুখারী, অধ্যায়ঃ বিতর নামায, হা/৯৩৬। মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায। অনুচ্ছেদঃ রাতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নামায ও দু'আ, হা/১২৭৪।
১. মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায। অনুচ্ছেদঃ রাতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নামায ও দু'আ, হা/১২১৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px