📄 বিশ্ব তালাশ
মুসলিম উম্মাহর উপর বিশ্ব তদারকি, চারিত্রিক ও মানসিকতা, ব্যক্তিগত ও আন্তর্জাতিক কর্মপদ্ধতির পর্যবেক্ষণ করা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, সত্যের সাক্ষ্য প্রদান, 'আমরু বিল মা'রূফ' (সৎকাজের আদেশ), 'নাহী আনিল মুনকার' (মন্দকাজে বাধা প্রদান) করার যিম্মাদারী অর্পণ করা হয়েছে। আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অলসতার কারণে জবাবদিহি করতে হবে। এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
"হে মুমিনগণ! আল্লাহর উদ্দেশ্যে পূর্ণ আনুগত্য ও ন্যায় সাক্ষ্য দানে তোমরা অবিচল থাকবে। কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনো সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। সুবিচার করবে; এটাই তাকওয়ার নিকটতম এবং আল্লাহকে ভয় করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমরা যা কর তার পূর্ণ খবর রাখেন।" [সূরা মায়িদা: ৮]
সাথে সাথে এ উম্মতকে স্বীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অবহেলার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, এর ফলশ্রুতিতে তারা বিপদ ও সংকটের মাঝে পতিত হতে পারে আর দুনিয়াতে ফিতনা-ফাসাদ, বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ঐ ক্ষুদ্র মানব গোষ্ঠীকে (যা মাদানী জীবনের প্রথম যুগে কয়েক শতের মত ছিল) লক্ষ্য করে এবং তাঁদেরকে ঈমান, আকীদা-বিশ্বাস ও ইসলামি দাওয়াতের ভিত্তিতে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয়েছে: إِلا تَفْعَلُوهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ.
"যদি তোমরা তা না কর, তাহলে দুনিয়াতে ফিতনা ও মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হবে।" [সূরা আনফাল : ৭৩]
তাহলে কি আজকের মুসলিম উম্মত এ নির্দেশের আওতাভুক্ত নয়? যাদের দ্বারা সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে উঠেছে এবং যারা বড় বড় রাষ্ট্র ও জনশক্তির অধিকারী? যদি তারা নেতৃত্ব ও ধর্মপ্রচারকের পদমর্যাদা ত্যাগ করে, যদি তারা তাদের সামাজিক যিম্মাদারী ছেড়ে দেয়, যদি তারা চিন্তা-চেতনা ও আখলাকের তদারকি করা ত্যাগ করে, যদি তারা অসহায়ের সাহায্য ও জালিমের নিন্দা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে দুনিয়াতে তাদের এ বিরাট অবহেলা ও বিপদজনক ভুলের কি পরিমাণ কুপ্রভাব পড়বে?
কুরআন এ উম্মতের নেতাসুলভ দায়িত্ববোধ, সংশোধন ও দাওয়াতের যিম্মাদারী, 'আমরু বিল মা'রূফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার'-এর দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেবার লক্ষ্যে পূর্ববর্তী জাতিদের বরাত দিয়ে এবং তা দ্বারা চেতনা-অনুভূতি জাগ্রত করার লক্ষ্যে বলেছে: فَلَوْلا كَانَ مِنَ الْقُرُونِ مِنْ قَبْلِكُمْ أُولُوا بَقِيَّةٍ يَنْهَوْنَ عَنِ الْفَسَادِ فِي الْأَرْضِ إِلا قَلِيلاً مِمَّنْ أَنْجَيْنَا مِنْهُمْ وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوْا فِيْهِ وَكَانُوْا مُجْرِمِينَ.
"তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে যাদের আমি রক্ষা করেছিলাম, তাদের মধ্যে অল্প কিছু সংখ্যক ছাড়া বিবেক জাগ্রত মানুষ ছিল না- যারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করা হতে নিষেধ করতো। সীমালঙ্ঘনকারীরা তারই অনুসরণ করত যাতে তারা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পেত এবং তারা ছিল অপরাধী।" [সূরা হূদ: ১১৬]
মুসলিম উম্মাহর উপর বিশ্ব তদারকি, চারিত্রিক ও মানসিকতা, ব্যক্তিগত ও আন্তর্জাতিক কর্মপদ্ধতির পর্যবেক্ষণ করা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, সত্যের সাক্ষ্য প্রদান, 'আমরু বিল মা'রূফ' (সৎকাজের আদেশ), 'নাহী আনিল মুনকার' (মন্দকাজে বাধা প্রদান) করার যিম্মাদারী অর্পণ করা হয়েছে। আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অলসতার কারণে জবাবদিহি করতে হবে। এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
"হে মুমিনগণ! আল্লাহর উদ্দেশ্যে পূর্ণ আনুগত্য ও ন্যায় সাক্ষ্য দানে তোমরা অবিচল থাকবে। কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনো সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। সুবিচার করবে; এটাই তাকওয়ার নিকটতম এবং আল্লাহকে ভয় করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমরা যা কর তার পূর্ণ খবর রাখেন।" [সূরা মায়িদা: ৮]
সাথে সাথে এ উম্মতকে স্বীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অবহেলার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, এর ফলশ্রুতিতে তারা বিপদ ও সংকটের মাঝে পতিত হতে পারে আর দুনিয়াতে ফিতনা-ফাসাদ, বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ঐ ক্ষুদ্র মানব গোষ্ঠীকে (যা মাদানী জীবনের প্রথম যুগে কয়েক শতের মত ছিল) লক্ষ্য করে এবং তাঁদেরকে ঈমান, আকীদা-বিশ্বাস ও ইসলামি দাওয়াতের ভিত্তিতে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয়েছে: إِلا تَفْعَلُوهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ.
"যদি তোমরা তা না কর, তাহলে দুনিয়াতে ফিতনা ও মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হবে।" [সূরা আনফাল : ৭৩]
তাহলে কি আজকের মুসলিম উম্মত এ নির্দেশের আওতাভুক্ত নয়? যাদের দ্বারা সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে উঠেছে এবং যারা বড় বড় রাষ্ট্র ও জনশক্তির অধিকারী? যদি তারা নেতৃত্ব ও ধর্মপ্রচারকের পদমর্যাদা ত্যাগ করে, যদি তারা তাদের সামাজিক যিম্মাদারী ছেড়ে দেয়, যদি তারা চিন্তা-চেতনা ও আখলাকের তদারকি করা ত্যাগ করে, যদি তারা অসহায়ের সাহায্য ও জালিমের নিন্দা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে দুনিয়াতে তাদের এ বিরাট অবহেলা ও বিপদজনক ভুলের কি পরিমাণ কুপ্রভাব পড়বে?
কুরআন এ উম্মতের নেতাসুলভ দায়িত্ববোধ, সংশোধন ও দাওয়াতের যিম্মাদারী, 'আমরু বিল মা'রূফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার'-এর দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেবার লক্ষ্যে পূর্ববর্তী জাতিদের বরাত দিয়ে এবং তা দ্বারা চেতনা-অনুভূতি জাগ্রত করার লক্ষ্যে বলেছে: فَلَوْلا كَانَ مِنَ الْقُرُونِ مِنْ قَبْلِكُمْ أُولُوا بَقِيَّةٍ يَنْهَوْنَ عَنِ الْفَسَادِ فِي الْأَرْضِ إِلا قَلِيلاً مِمَّنْ أَنْجَيْنَا مِنْهُمْ وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوْا فِيْهِ وَكَانُوْا مُجْرِمِينَ.
"তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে যাদের আমি রক্ষা করেছিলাম, তাদের মধ্যে অল্প কিছু সংখ্যক ছাড়া বিবেক জাগ্রত মানুষ ছিল না- যারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করা হতে নিষেধ করতো। সীমালঙ্ঘনকারীরা তারই অনুসরণ করত যাতে তারা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পেত এবং তারা ছিল অপরাধী।" [সূরা হূদ: ১১৬]
📄 উম্মতের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব ও পর্যবেক্ষণ
ইসলামি কবি ড. মুহাম্মদ ইকবাল বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন তাঁর 'ইবলিশের পার্লামেন্ট' খ্যাত কাব্যে। তিনি পার্লামেন্টের সভাপতি ইবলিশের ভাষায় এ বিপদের কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ, মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব, তাদের জাগরণ ও বিশ্বের যিম্মাদারী গ্রহণ করারায় ইবলিশী প্রশাসনে বড় বিপদ সৃষ্টি হয়। তাই ইবলিশ তার উপদেষ্টা পরিষদকে হুশিয়ার করে বলে:
توڑ ڈالیں جس کی تکبیریں طلسم شش جہات ہو نہ روشن اس خدا اندیش کی تاریک رات تم اے بیگانہ رکھو عالم کردار سے تا بساط زندگی پر اس کے سب مہرے ہوں مات
خیر اسی میں ہے قیامت تک رہے مومن غلام چھوڑ کر اور واں کی خاطر یہ جہان ہے ثبات۔ ہے وہی شعر و تصوف اس کے حق میں خوب تر جو چھپارے اس کی آنکھوں سے تماشائے حیات۔ ھر نفس ڈرتا ہوں اس امت کی بیداری سے میں ہے حقیقت جس کے دیں کی احتساب کا ئنات ۔
"যে জাতির তাকবীর ধ্বনি ভেঙে দিত ছয় দিকের প্রহেলিকা, সেই আল্লাহ্-অন্বেষীর অন্ধকার রাত যেন আলোকিত না হয়। তোমরা তাদেরকে অজ্ঞ রেখো নেতৃত্বময় জগৎ হতে, যাতে তারা ক্ষণস্থায়ী জগতের কর্তৃত্ব অন্যদের হাতে তুলে দেয়। কিয়ামত পর্যন্ত মুমিন দাস হয়ে বাঁচবে, এরই মাঝে কল্যাণ নিহিত।
ঐ কাব্য ও তাসাউফ তাদের জন্য উত্তম, যা তাদেরকে জীবনের কর্মতৎপরতা হতে বিমুখ করে রাখে। প্রতিটি মুহূর্ত আমি শংকিত থাকি এ উম্মতের জাগরণের কারণে, কারণ- তাদের ধর্মের সারকথা হল, বিশ্বজগতের তদারকি করা।"
[আরমুগানে হিজায]
এ দৃষ্টিকোন হতে এ বিষয়টি আবশ্যক হয়ে যায় যে, মানব সভ্যতার মাঝে কার্যকরী প্রভাব অব্যাহত রাখতে হবে এবং কিছুদিন পর পর তা নতুনভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। নাশকতামূলক ও অনিষ্ট সাধনকারী উপাদানসমূহ এবং ফাসিদ ও ধ্বংসাত্মক চিন্তা-চেতনা হতে সব সময় তাকে হিফাজত করতে হবে।
এর দু'টি বিশেষ কারণ রয়েছে। প্রথমত- এ জন্য যে, বিশ্বের জাতি-গোষ্ঠী কল্যাণ ও ফাসাদের নিত্যনতুন ও বিপরীতমুখী উপাদানের অনুগত ও তা দ্বারা প্রভাবিত হয়। আর জীবন সর্বদা গতিশীল এবং এ কাফেলা কখনো কোথাও থেমে থাকে না। এ জন্য কিছুদিন পরপর তার গতিবিধি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন এবং তার নতুন নতুন প্রয়োজনগুলো পূরণ করা জরুরী। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, শেষ যুগে ধ্বংসাত্মক ও ফাসাদ সৃষ্টিকারী আন্দোলন ও দর্শনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে মুসলিম উম্মাহ বিশ্ব নেতৃত্বের ময়দানে হতে যেন নিজেদের খোলসে বন্দী হয়ে রয়েছে।
দ্বিতীয় কারণ এই যে, মুসলিম উম্মাহই হলো সর্বশেষ আসমানী কিতাবের ধারক-বাহক একটি চিরন্তন উম্মত এবং বিশ্বমানবতার আশার কেন্দ্র। এজন্য তাদের উচিত নিজেদের মিশনকে বুকের সাথে ধারণ করে রাখা এবং মানব কাফেলার নেতৃত্ব, পৃথিবীর তদারকি ও আকীদা-বিশ্বাস, আখলাক-চরিত্র, ব্যক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর দৃষ্টি রাখা। কারণ, কোন জাতি গোষ্ঠী কেবল ইতিহাসে ভর করে অথবা নিজেদের সোনালী ঐতিহ্যের বদৌলতে বা অতীত কৃতিত্বের দ্বারা নয়, বরং অব্যাহত প্রচেষ্টা, সার্বক্ষণিক কর্মতৎপরতা, স্বতন্ত্র দায়িত্ববোধ, সব ধরনের ত্যাগের মানসিকতা, নতুনত্ব ও অনন্যতা এবং নিজেদের সতেজ ও সজীব কর্মদক্ষতা ও কল্যাণকামিতা দ্বারা উজ্জীবিত ও জ্যোতির্ময় হয়ে থাকে। কিন্তু যখন তারা নিজেদের অবস্থান ও মর্যাদা ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে, তখন তারা ইতিহাসের পুরাতন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং যুগ তাদের বিস্মৃতির শেলফে রেখে দেয়। এজন্য উম্মতে মুহাম্মদীর কর্তব্য হলো, আবার নতুনভাবে নিজেদের দাওয়াতী, সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বসুলভ ভূমিকার সাথে কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠা।
ইসলামি কবি ড. মুহাম্মদ ইকবাল বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন তাঁর 'ইবলিশের পার্লামেন্ট' খ্যাত কাব্যে। তিনি পার্লামেন্টের সভাপতি ইবলিশের ভাষায় এ বিপদের কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ, মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব, তাদের জাগরণ ও বিশ্বের যিম্মাদারী গ্রহণ করারায় ইবলিশী প্রশাসনে বড় বিপদ সৃষ্টি হয়। তাই ইবলিশ তার উপদেষ্টা পরিষদকে হুশিয়ার করে বলে:
توڑ ڈالیں جس کی تکبیریں طلسم شش جہات ہو نہ روشن اس خدا اندیش کی تاریک رات تم اے بیگانہ رکھو عالم کردار سے تا بساط زندگی پر اس کے سب مہرے ہوں مات
خیر اسی میں ہے قیامت تک رہے مومن غلام چھوڑ کر اور واں کی خاطر یہ جہان ہے ثبات۔ ہے وہی شعر و تصوف اس کے حق میں خوب تر جو چھپارے اس کی آنکھوں سے تماشائے حیات۔ ھر نفس ڈرتا ہوں اس امت کی بیداری سے میں ہے حقیقت جس کے دیں کی احتساب کا ئنات ۔
"যে জাতির তাকবীর ধ্বনি ভেঙে দিত ছয় দিকের প্রহেলিকা, সেই আল্লাহ্-অন্বেষীর অন্ধকার রাত যেন আলোকিত না হয়। তোমরা তাদেরকে অজ্ঞ রেখো নেতৃত্বময় জগৎ হতে, যাতে তারা ক্ষণস্থায়ী জগতের কর্তৃত্ব অন্যদের হাতে তুলে দেয়। কিয়ামত পর্যন্ত মুমিন দাস হয়ে বাঁচবে, এরই মাঝে কল্যাণ নিহিত।
ঐ কাব্য ও তাসাউফ তাদের জন্য উত্তম, যা তাদেরকে জীবনের কর্মতৎপরতা হতে বিমুখ করে রাখে। প্রতিটি মুহূর্ত আমি শংকিত থাকি এ উম্মতের জাগরণের কারণে, কারণ- তাদের ধর্মের সারকথা হল, বিশ্বজগতের তদারকি করা।"
[আরমুগানে হিজায]
এ দৃষ্টিকোন হতে এ বিষয়টি আবশ্যক হয়ে যায় যে, মানব সভ্যতার মাঝে কার্যকরী প্রভাব অব্যাহত রাখতে হবে এবং কিছুদিন পর পর তা নতুনভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। নাশকতামূলক ও অনিষ্ট সাধনকারী উপাদানসমূহ এবং ফাসিদ ও ধ্বংসাত্মক চিন্তা-চেতনা হতে সব সময় তাকে হিফাজত করতে হবে।
এর দু'টি বিশেষ কারণ রয়েছে। প্রথমত- এ জন্য যে, বিশ্বের জাতি-গোষ্ঠী কল্যাণ ও ফাসাদের নিত্যনতুন ও বিপরীতমুখী উপাদানের অনুগত ও তা দ্বারা প্রভাবিত হয়। আর জীবন সর্বদা গতিশীল এবং এ কাফেলা কখনো কোথাও থেমে থাকে না। এ জন্য কিছুদিন পরপর তার গতিবিধি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন এবং তার নতুন নতুন প্রয়োজনগুলো পূরণ করা জরুরী। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, শেষ যুগে ধ্বংসাত্মক ও ফাসাদ সৃষ্টিকারী আন্দোলন ও দর্শনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে মুসলিম উম্মাহ বিশ্ব নেতৃত্বের ময়দানে হতে যেন নিজেদের খোলসে বন্দী হয়ে রয়েছে।
দ্বিতীয় কারণ এই যে, মুসলিম উম্মাহই হলো সর্বশেষ আসমানী কিতাবের ধারক-বাহক একটি চিরন্তন উম্মত এবং বিশ্বমানবতার আশার কেন্দ্র। এজন্য তাদের উচিত নিজেদের মিশনকে বুকের সাথে ধারণ করে রাখা এবং মানব কাফেলার নেতৃত্ব, পৃথিবীর তদারকি ও আকীদা-বিশ্বাস, আখলাক-চরিত্র, ব্যক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর দৃষ্টি রাখা। কারণ, কোন জাতি গোষ্ঠী কেবল ইতিহাসে ভর করে অথবা নিজেদের সোনালী ঐতিহ্যের বদৌলতে বা অতীত কৃতিত্বের দ্বারা নয়, বরং অব্যাহত প্রচেষ্টা, সার্বক্ষণিক কর্মতৎপরতা, স্বতন্ত্র দায়িত্ববোধ, সব ধরনের ত্যাগের মানসিকতা, নতুনত্ব ও অনন্যতা এবং নিজেদের সতেজ ও সজীব কর্মদক্ষতা ও কল্যাণকামিতা দ্বারা উজ্জীবিত ও জ্যোতির্ময় হয়ে থাকে। কিন্তু যখন তারা নিজেদের অবস্থান ও মর্যাদা ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে, তখন তারা ইতিহাসের পুরাতন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং যুগ তাদের বিস্মৃতির শেলফে রেখে দেয়। এজন্য উম্মতে মুহাম্মদীর কর্তব্য হলো, আবার নতুনভাবে নিজেদের দাওয়াতী, সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বসুলভ ভূমিকার সাথে কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠা।