📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 একটি আদর্শ নেতৃত্ব প্রদানকারী জাতির প্রয়োজন

📄 একটি আদর্শ নেতৃত্ব প্রদানকারী জাতির প্রয়োজন


সুদীর্ঘ মানব ইতিহাস, মনোবিজ্ঞান, নৈতিক বিজ্ঞান যে বিষয়গুলোকে পূর্ণ সমর্থন করে, তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো- উন্নততম উদ্দেশ্য, ভদ্রোচিত শিক্ষা ও কর্মের উন্নততম দৃষ্টান্ত ঐ সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আর যদি তা প্রতিষ্ঠিত হয়ও, তবে তা স্থায়ী ও স্থিতিশীল হতে পারে না যতক্ষণ না তার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য একটি মানব গোষ্ঠী (বরং সঠিক অর্থে এমন একটি উম্মত) না থাকে যারা উক্ত দাওয়াত ও আন্দোলনের পতাকাবাহী হবে এবং এর পথে সচেষ্ট সংগ্রাম করবে ও নিজেদের বাস্তব জীবনে তা বাস্তবায়ন করবে।
এ কারণে আমরা দেখতে পাই যে, অনেক নবী (আ.)-এর (সমাজ সংস্কারক, চরিত্র ও নীতি শিক্ষাদানকারী শিক্ষক ও বিজ্ঞ পণ্ডিতদের কথা দূরে থাকুক) শিক্ষাসমূহ এজন্য দীর্ঘকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি যে, তার পৃষ্ঠপোষকতা করার মত কোন উম্মত ছিল না, যারা তার মিশনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, এ রাস্তায় জীবন উৎসর্গ করবে এবং যারা নিজেদের জীবনে, সভ্যতা-সংস্কৃতিতে, রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে তার বাস্তব নমুনা পেশ করতে পারত। এমনটি না হবার কারণে তাদের পরিণতি এমন হলো যে, তাঁরা যে অঞ্চলগুলোতে প্রেরিত হয়েছিলেন সেখানকার জীবন পদ্ধতি এরূপ স্রোতধারার মতো থেকে গেল যার উপরিভাগ সমান থাকে। আর ঐ সকল জাতি-গোষ্ঠীর পরিণতি ঐ বিশৃংখল জীব-জন্তুর মতো হয়ে গেল যার কোন রাখাল ও রক্ষক নেই।

সুদীর্ঘ মানব ইতিহাস, মনোবিজ্ঞান, নৈতিক বিজ্ঞান যে বিষয়গুলোকে পূর্ণ সমর্থন করে, তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো- উন্নততম উদ্দেশ্য, ভদ্রোচিত শিক্ষা ও কর্মের উন্নততম দৃষ্টান্ত ঐ সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আর যদি তা প্রতিষ্ঠিত হয়ও, তবে তা স্থায়ী ও স্থিতিশীল হতে পারে না যতক্ষণ না তার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য একটি মানব গোষ্ঠী (বরং সঠিক অর্থে এমন একটি উম্মত) না থাকে যারা উক্ত দাওয়াত ও আন্দোলনের পতাকাবাহী হবে এবং এর পথে সচেষ্ট সংগ্রাম করবে ও নিজেদের বাস্তব জীবনে তা বাস্তবায়ন করবে।
এ কারণে আমরা দেখতে পাই যে, অনেক নবী (আ.)-এর (সমাজ সংস্কারক, চরিত্র ও নীতি শিক্ষাদানকারী শিক্ষক ও বিজ্ঞ পণ্ডিতদের কথা দূরে থাকুক) শিক্ষাসমূহ এজন্য দীর্ঘকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি যে, তার পৃষ্ঠপোষকতা করার মত কোন উম্মত ছিল না, যারা তার মিশনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, এ রাস্তায় জীবন উৎসর্গ করবে এবং যারা নিজেদের জীবনে, সভ্যতা-সংস্কৃতিতে, রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে তার বাস্তব নমুনা পেশ করতে পারত। এমনটি না হবার কারণে তাদের পরিণতি এমন হলো যে, তাঁরা যে অঞ্চলগুলোতে প্রেরিত হয়েছিলেন সেখানকার জীবন পদ্ধতি এরূপ স্রোতধারার মতো থেকে গেল যার উপরিভাগ সমান থাকে। আর ঐ সকল জাতি-গোষ্ঠীর পরিণতি ঐ বিশৃংখল জীব-জন্তুর মতো হয়ে গেল যার কোন রাখাল ও রক্ষক নেই।

📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উম্মত

📄 নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উম্মত


আল্লাহ্ তা'আলা যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে, মুহাম্মদ (সা) শেষ রাসূল ও খাতেমুল আম্বিয়া হবেন, তাঁর পরে আর না কোন নবীর আগমন ঘটবে, আর না কোন কিতাব অবতীর্ণ হবে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বিশ্বমানবতাকে ঐ বিপদ হতে মুক্ত করলেন এবং মুহাম্মদ (সা)-এর সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ উম্মত প্রেরণ করলেন, এতে যেন মুহাম্মদ (সা)-এর প্রেরণ দুইবার হলো; কেননা এতে নবী প্রেরণের পাশাপাশি উম্মত প্রেরণও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই আল্লাহ্ তা'আলা তাদের এমন প্রশংসা করেছেন, যা সাধারণত (নবী ব্যতীত) আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত ও দায়িত্ব প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে:
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ.
"তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের জন্য। তোমরা ভাল কাজের আদেশ ও মন্দকাজ থেকে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখবে।" [সূরা আলে ইমরান: ১১০] অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونُ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا .
"এভাবেই আমি তোমাদেরকে ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা সাক্ষী হতে পার। আর রাসূল হবেন তোমাদের উপর সাক্ষী।" [সূরা বাকারা: ১৪৩] প্রিয়নবী (সা) হাদীস শরীফেও সাহাবাদের একটি দলকে লক্ষ্য করে এরূপ শব্দ ব্যবহার করে ইরশাদ করেছেন:
إِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ.
"তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে সহজকারী হিসেবে, কঠোরতার জন্য নয়।" [বুখারী শরীফ]
প্রতিনিধিত্ব ও দাওয়াতের এ যিম্মাদারী এবং নিজেদের দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতার এ অনুভূতি সাহাবায়ে কিরাম (রা) ও মহান তাবেয়ীদের অন্তরে তখনো জাগ্রত ছিল যখন হযরত সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা) নিজের প্রতিনিধি হিসেবে হযরত রিবয়ী ইবন আমের (রা)-কে' পারস্য সেনাপতি রুস্তমের দরবারে তার দাওয়াতে প্রেরণ করেন এবং রুস্তম যখন রিবয়ী ইবন আমের (রা)-কে জিজ্ঞেস করেন- তোমরা এখানে কেন এসেছ? তখন তিনি একজন মুমিন ও ধর্মপ্রচারক হিসেবে উত্তরে বলেন:
اللهُ ابْتَثَنَا لِنُخْرِجَ مَنْ شَاءَ اللهُ مِنَ عِبَادَةِ الْعِبَادِ إِلَى عِبَادَةِ اللَّهِ وَحْدَةً وَمِنْ ضِيقِ الدُّنْيَا إِلَى سَعَتِهَا وَمِنْ جَوْرِ الْآرِيَانِ إِلَى عَدْلِ الْإِسْلَامِ .
"আল্লাহ্ ত'আলা আমাদেরকে এজন্য প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি যাকে চান আমরা তাকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহ্র দাসত্বের প্রতি উদ্বুদ্ধ করব এবং পার্থিব সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততার দিকে ও ধর্ম সমূহের জুলুম থেকে উদ্ধার করে ইসলামের ন্যায়-নীতির ছায়াতলে আনয়ন করব।"

টিকাঃ
১. তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাহাবী ছিলেন। দেখুন, আল-ইসাবা ১ খঃ পৃঃ ৫০৩।
১. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭খঃ পৃঃ ৩৯

আল্লাহ্ তা'আলা যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে, মুহাম্মদ (সা) শেষ রাসূল ও খাতেমুল আম্বিয়া হবেন, তাঁর পরে আর না কোন নবীর আগমন ঘটবে, আর না কোন কিতাব অবতীর্ণ হবে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা বিশ্বমানবতাকে ঐ বিপদ হতে মুক্ত করলেন এবং মুহাম্মদ (সা)-এর সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ উম্মত প্রেরণ করলেন, এতে যেন মুহাম্মদ (সা)-এর প্রেরণ দুইবার হলো; কেননা এতে নবী প্রেরণের পাশাপাশি উম্মত প্রেরণও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই আল্লাহ্ তা'আলা তাদের এমন প্রশংসা করেছেন, যা সাধারণত (নবী ব্যতীত) আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত ও দায়িত্ব প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে:
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ.
"তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের জন্য। তোমরা ভাল কাজের আদেশ ও মন্দকাজ থেকে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখবে।" [সূরা আলে ইমরান: ১১০] অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونُ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا .
"এভাবেই আমি তোমাদেরকে ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা সাক্ষী হতে পার। আর রাসূল হবেন তোমাদের উপর সাক্ষী।" [সূরা বাকারা: ১৪৩] প্রিয়নবী (সা) হাদীস শরীফেও সাহাবাদের একটি দলকে লক্ষ্য করে এরূপ শব্দ ব্যবহার করে ইরশাদ করেছেন:
إِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ.
"তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে সহজকারী হিসেবে, কঠোরতার জন্য নয়।" [বুখারী শরীফ]
প্রতিনিধিত্ব ও দাওয়াতের এ যিম্মাদারী এবং নিজেদের দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতার এ অনুভূতি সাহাবায়ে কিরাম (রা) ও মহান তাবেয়ীদের অন্তরে তখনো জাগ্রত ছিল যখন হযরত সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা) নিজের প্রতিনিধি হিসেবে হযরত রিবয়ী ইবন আমের (রা)-কে' পারস্য সেনাপতি রুস্তমের দরবারে তার দাওয়াতে প্রেরণ করেন এবং রুস্তম যখন রিবয়ী ইবন আমের (রা)-কে জিজ্ঞেস করেন- তোমরা এখানে কেন এসেছ? তখন তিনি একজন মুমিন ও ধর্মপ্রচারক হিসেবে উত্তরে বলেন:
اللهُ ابْتَثَنَا لِنُخْرِجَ مَنْ شَاءَ اللهُ مِنَ عِبَادَةِ الْعِبَادِ إِلَى عِبَادَةِ اللَّهِ وَحْدَةً وَمِنْ ضِيقِ الدُّنْيَا إِلَى سَعَتِهَا وَمِنْ جَوْرِ الْآرِيَانِ إِلَى عَدْلِ الْإِسْلَامِ .
"আল্লাহ্ ত'আলা আমাদেরকে এজন্য প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি যাকে চান আমরা তাকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহ্র দাসত্বের প্রতি উদ্বুদ্ধ করব এবং পার্থিব সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততার দিকে ও ধর্ম সমূহের জুলুম থেকে উদ্ধার করে ইসলামের ন্যায়-নীতির ছায়াতলে আনয়ন করব।"

টিকাঃ
১. তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাহাবী ছিলেন। দেখুন, আল-ইসাবা ১ খঃ পৃঃ ৫০৩।
১. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭খঃ পৃঃ ৩৯

📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 সমাজ ও সংস্কৃতির অঙ্গনে সুস্থ বিপ্লবের প্রয়োজন

📄 সমাজ ও সংস্কৃতির অঙ্গনে সুস্থ বিপ্লবের প্রয়োজন


এ দৃষ্টিভঙ্গি মানবতার ভবিষ্যতকে অত্যন্ত প্রভাবিত করে এবং তা মানুষের জন্য ধর্ম ও আন্দোলন এবং চিন্তাজগতের ইতিহাসে এক নতুন অভিজ্ঞতার মর্যাদা রাখে- যা ইতিহাসে এক নতুন বিপ্লব সৃষ্টি করে। কারণ খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে বিশ্বের পরিস্থিতি (যা সাধারণত সব যুগেই হয়ে থাকে) এমন ছিল না যে, তার কারণে কিছু ভালো মানুষ প্রভাবিত হতো। এ জন্য পবিত্র কুরআনে অভিশপ্ত ইয়াহুদীদের মাঝেও কিছু ভালো মানুষ বিদ্যমান থাকার সাক্ষ্য প্রদান করে:
لَيْسُوا سَوَاءٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةً قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ أَنَاءَ اللَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ - يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَأَوْلَئِكَ مِنَ الصَّالِحِينَ.
"(আহলে কিতাব) সবাই সমান নয়। কিতাবীদের মাঝে এক দল অবিচল রয়েছে। তারা আল্লাহ্র আয়াতকে রাতের বেলায় পাঠ করে এবং সিজদা করে। তারা আল্লাহ্ ও কিয়ামতের দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজের নিষেধ করে এবং কল্যাণকর কাজে তারা প্রতিযোগিতা করে। এরাই সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্গত।" [সূরা আলে ইমরান: ১১৩-১১৪]
যদিও মানব সমাজ ও মানবীয় কর্মতৎপরতায় ঐ সকল ভাল লোকের কোন প্রভাব ছিল না। কারণ, তারা সমাজের গুটিকতক লোক ছিল। আর সাধারণত সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী গুটি কতক মানুষকে গুরুত্ব দেয় না। প্রত্যেক যুগ ও সমাজে এমন কিছু সৎকর্মপরায়ণ লোক থাকে এবং এখনো আছে যারা নিজেদের কিছু আমল-আখলাক ও ইবাদত-বন্দেগীতে অন্যদের তুলনায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রাখে। কিন্তু জাতি-গোষ্ঠী, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও সমাজ জীবনে যে সংকট ও শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তা ঐ সময় পর্যন্ত পূর্ণ হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ কল্যাণ ও সৎকর্মপরায়ণতা, উত্তম আদর্শ ও তার বাস্তব নমুনা উম্মত ও মানব সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত না হয়। যারা উন্নতির নববী শিক্ষা, ভদ্রজনিত রীতিনীতি, আদর্শ, ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত কর্মের প্রতিনিধিত্ব, রাষ্ট্র ও রাজনীতি, ব্যবসা ও লেন-দেন, ব্যক্তি ও সমাজ জীবন, ব্যক্তি ও সমাজের সাথে আচার-আচরণ, এবং জাতি গোষ্ঠী ও প্রশাসনের সাথে আচার-আচরণ, লেনদেন, সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি, সন্ধি ও যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও বিত্তবৈভব সর্ব অবস্থায় ও সকল পরিস্থিতিতে পালন করে এবং যদি এগুলো ঐ উম্মত ও দলের সাধারণ কর্মপন্থা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য না হয়।
সাহাবায়ে কিরাম (রা) এবং সেই সব সৌভাগ্যবান মানুষ যারা নবুয়তের স্নেহছায়ায় লালিত-পালিত হয়েছেন (এবং ঈমানী ও কুরআনী মাদরাসায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন) তারা সকলেই ঐ সমস্ত গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন।
একজন নিরপেক্ষ ও বিশ্ব ইতিহাস সম্পর্কে অভিজ্ঞ পশ্চিমা পণ্ডিত সাহাবা কিরাম (রা) সম্পর্কে অত্যন্ত সফল চিত্র তুলে ধরেছেন এবং তাঁদের উল্লেখযোগ্য ও যৌথ বৈশিষ্ট্য সমূহের প্রতি আলোকপাত করেছেন- যাঁরা নবুয়তের সজীব বাগিচা ও কুরআনের বসন্ত ঋতু বলার উপযুক্ত। জার্মান পণ্ডিত কায়েতানী (Caetani) তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন:
"তারা ছিলেন রাসূল (সা)-এর আখলাকী উত্তরাধিকারের সত্যিকার প্রতিনিধি, ভবিষ্যত ইসলাম প্রচারক এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের পর্যন্ত যে শিক্ষা-দীক্ষা পৌঁছিয়ে ছিলেন। তাঁরা ছিলেন তাঁর আমানতদার। রাসূল (সা)-এর সার্বক্ষণিক সান্নিধ্য লাভ এবং তাঁর সাথে মহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক তাদেরকে চিন্তা-চেতনার এমন এক জগতে পৌঁছে দিয়েছিল যা থেকে শ্রেষ্ঠ ও উন্নত সভ্য সমাজ আর কখনো কেউ দেখেনি।
"প্রকৃতপক্ষে ঐ সব মানুষের মাঝে সর্বদিক হতে সর্বোকৃষ্ট পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। আর পরবর্তীতে তাঁরা যুদ্ধের সংকটময় অবস্থাতেও এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন যে, মুহাম্মদ (সা)-এর চিন্তার বীজ উদগত উর্বর জমিতে বপন করা হয়েছিল। ফলে তা থেকে উন্নততর যোগ্যতার অধিকারী ব্যক্তি জন্ম গ্রহণ করেছিল। এ সকল ব্যক্তি পবিত্র গ্রন্থের আমানতদার ও তার রক্ষক ছিলেন এবং প্রিয়নবী (সা) থেকে যে শব্দ বা হুকুম তাঁরা প্রাপ্ত হয়েছিলেন, তা সুন্দরভাবে সংরক্ষণকারী ছিলেন।
"তাঁরা ছিলেন ইসলামের সম্মানিত অগ্রপথিকের কাফেলা- যাঁরা মুসলিম সমাজের প্রথম যুগের ফকীহ, আলিম ও মুহাদ্দিস জন্ম দিয়েছেন।"১

টিকাঃ
১. Caetani Annali Del Islam. Vol. 11. p. 429 যা গৃহীত হয়েছে- T. W. Arnold: Preaching of Islam.( London. 1925). p. 41-42.

এ দৃষ্টিভঙ্গি মানবতার ভবিষ্যতকে অত্যন্ত প্রভাবিত করে এবং তা মানুষের জন্য ধর্ম ও আন্দোলন এবং চিন্তাজগতের ইতিহাসে এক নতুন অভিজ্ঞতার মর্যাদা রাখে- যা ইতিহাসে এক নতুন বিপ্লব সৃষ্টি করে। কারণ খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে বিশ্বের পরিস্থিতি (যা সাধারণত সব যুগেই হয়ে থাকে) এমন ছিল না যে, তার কারণে কিছু ভালো মানুষ প্রভাবিত হতো। এ জন্য পবিত্র কুরআনে অভিশপ্ত ইয়াহুদীদের মাঝেও কিছু ভালো মানুষ বিদ্যমান থাকার সাক্ষ্য প্রদান করে:
لَيْسُوا سَوَاءٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةً قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ أَنَاءَ اللَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ - يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَأَوْلَئِكَ مِنَ الصَّالِحِينَ.
"(আহলে কিতাব) সবাই সমান নয়। কিতাবীদের মাঝে এক দল অবিচল রয়েছে। তারা আল্লাহ্র আয়াতকে রাতের বেলায় পাঠ করে এবং সিজদা করে। তারা আল্লাহ্ ও কিয়ামতের দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজের নিষেধ করে এবং কল্যাণকর কাজে তারা প্রতিযোগিতা করে। এরাই সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্গত।" [সূরা আলে ইমরান: ১১৩-১১৪]
যদিও মানব সমাজ ও মানবীয় কর্মতৎপরতায় ঐ সকল ভাল লোকের কোন প্রভাব ছিল না। কারণ, তারা সমাজের গুটিকতক লোক ছিল। আর সাধারণত সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী গুটি কতক মানুষকে গুরুত্ব দেয় না। প্রত্যেক যুগ ও সমাজে এমন কিছু সৎকর্মপরায়ণ লোক থাকে এবং এখনো আছে যারা নিজেদের কিছু আমল-আখলাক ও ইবাদত-বন্দেগীতে অন্যদের তুলনায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রাখে। কিন্তু জাতি-গোষ্ঠী, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও সমাজ জীবনে যে সংকট ও শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তা ঐ সময় পর্যন্ত পূর্ণ হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ কল্যাণ ও সৎকর্মপরায়ণতা, উত্তম আদর্শ ও তার বাস্তব নমুনা উম্মত ও মানব সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত না হয়। যারা উন্নতির নববী শিক্ষা, ভদ্রজনিত রীতিনীতি, আদর্শ, ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত কর্মের প্রতিনিধিত্ব, রাষ্ট্র ও রাজনীতি, ব্যবসা ও লেন-দেন, ব্যক্তি ও সমাজ জীবন, ব্যক্তি ও সমাজের সাথে আচার-আচরণ, এবং জাতি গোষ্ঠী ও প্রশাসনের সাথে আচার-আচরণ, লেনদেন, সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি, সন্ধি ও যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও বিত্তবৈভব সর্ব অবস্থায় ও সকল পরিস্থিতিতে পালন করে এবং যদি এগুলো ঐ উম্মত ও দলের সাধারণ কর্মপন্থা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য না হয়।
সাহাবায়ে কিরাম (রা) এবং সেই সব সৌভাগ্যবান মানুষ যারা নবুয়তের স্নেহছায়ায় লালিত-পালিত হয়েছেন (এবং ঈমানী ও কুরআনী মাদরাসায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন) তারা সকলেই ঐ সমস্ত গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন।
একজন নিরপেক্ষ ও বিশ্ব ইতিহাস সম্পর্কে অভিজ্ঞ পশ্চিমা পণ্ডিত সাহাবা কিরাম (রা) সম্পর্কে অত্যন্ত সফল চিত্র তুলে ধরেছেন এবং তাঁদের উল্লেখযোগ্য ও যৌথ বৈশিষ্ট্য সমূহের প্রতি আলোকপাত করেছেন- যাঁরা নবুয়তের সজীব বাগিচা ও কুরআনের বসন্ত ঋতু বলার উপযুক্ত। জার্মান পণ্ডিত কায়েতানী (Caetani) তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন:
"তারা ছিলেন রাসূল (সা)-এর আখলাকী উত্তরাধিকারের সত্যিকার প্রতিনিধি, ভবিষ্যত ইসলাম প্রচারক এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের পর্যন্ত যে শিক্ষা-দীক্ষা পৌঁছিয়ে ছিলেন। তাঁরা ছিলেন তাঁর আমানতদার। রাসূল (সা)-এর সার্বক্ষণিক সান্নিধ্য লাভ এবং তাঁর সাথে মহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক তাদেরকে চিন্তা-চেতনার এমন এক জগতে পৌঁছে দিয়েছিল যা থেকে শ্রেষ্ঠ ও উন্নত সভ্য সমাজ আর কখনো কেউ দেখেনি।
"প্রকৃতপক্ষে ঐ সব মানুষের মাঝে সর্বদিক হতে সর্বোকৃষ্ট পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। আর পরবর্তীতে তাঁরা যুদ্ধের সংকটময় অবস্থাতেও এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন যে, মুহাম্মদ (সা)-এর চিন্তার বীজ উদগত উর্বর জমিতে বপন করা হয়েছিল। ফলে তা থেকে উন্নততর যোগ্যতার অধিকারী ব্যক্তি জন্ম গ্রহণ করেছিল। এ সকল ব্যক্তি পবিত্র গ্রন্থের আমানতদার ও তার রক্ষক ছিলেন এবং প্রিয়নবী (সা) থেকে যে শব্দ বা হুকুম তাঁরা প্রাপ্ত হয়েছিলেন, তা সুন্দরভাবে সংরক্ষণকারী ছিলেন।
"তাঁরা ছিলেন ইসলামের সম্মানিত অগ্রপথিকের কাফেলা- যাঁরা মুসলিম সমাজের প্রথম যুগের ফকীহ, আলিম ও মুহাদ্দিস জন্ম দিয়েছেন।"১

টিকাঃ
১. Caetani Annali Del Islam. Vol. 11. p. 429 যা গৃহীত হয়েছে- T. W. Arnold: Preaching of Islam.( London. 1925). p. 41-42.

📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 বিশ্ব তালাশ

📄 বিশ্ব তালাশ


মুসলিম উম্মাহর উপর বিশ্ব তদারকি, চারিত্রিক ও মানসিকতা, ব্যক্তিগত ও আন্তর্জাতিক কর্মপদ্ধতির পর্যবেক্ষণ করা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, সত্যের সাক্ষ্য প্রদান, 'আমরু বিল মা'রূফ' (সৎকাজের আদেশ), 'নাহী আনিল মুনকার' (মন্দকাজে বাধা প্রদান) করার যিম্মাদারী অর্পণ করা হয়েছে। আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অলসতার কারণে জবাবদিহি করতে হবে। এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
"হে মুমিনগণ! আল্লাহর উদ্দেশ্যে পূর্ণ আনুগত্য ও ন্যায় সাক্ষ্য দানে তোমরা অবিচল থাকবে। কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনো সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। সুবিচার করবে; এটাই তাকওয়ার নিকটতম এবং আল্লাহকে ভয় করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমরা যা কর তার পূর্ণ খবর রাখেন।" [সূরা মায়িদা: ৮]
সাথে সাথে এ উম্মতকে স্বীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অবহেলার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, এর ফলশ্রুতিতে তারা বিপদ ও সংকটের মাঝে পতিত হতে পারে আর দুনিয়াতে ফিতনা-ফাসাদ, বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ঐ ক্ষুদ্র মানব গোষ্ঠীকে (যা মাদানী জীবনের প্রথম যুগে কয়েক শতের মত ছিল) লক্ষ্য করে এবং তাঁদেরকে ঈমান, আকীদা-বিশ্বাস ও ইসলামি দাওয়াতের ভিত্তিতে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয়েছে: إِلا تَفْعَلُوهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ.
"যদি তোমরা তা না কর, তাহলে দুনিয়াতে ফিতনা ও মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হবে।" [সূরা আনফাল : ৭৩]
তাহলে কি আজকের মুসলিম উম্মত এ নির্দেশের আওতাভুক্ত নয়? যাদের দ্বারা সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে উঠেছে এবং যারা বড় বড় রাষ্ট্র ও জনশক্তির অধিকারী? যদি তারা নেতৃত্ব ও ধর্মপ্রচারকের পদমর্যাদা ত্যাগ করে, যদি তারা তাদের সামাজিক যিম্মাদারী ছেড়ে দেয়, যদি তারা চিন্তা-চেতনা ও আখলাকের তদারকি করা ত্যাগ করে, যদি তারা অসহায়ের সাহায্য ও জালিমের নিন্দা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে দুনিয়াতে তাদের এ বিরাট অবহেলা ও বিপদজনক ভুলের কি পরিমাণ কুপ্রভাব পড়বে?
কুরআন এ উম্মতের নেতাসুলভ দায়িত্ববোধ, সংশোধন ও দাওয়াতের যিম্মাদারী, 'আমরু বিল মা'রূফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার'-এর দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেবার লক্ষ্যে পূর্ববর্তী জাতিদের বরাত দিয়ে এবং তা দ্বারা চেতনা-অনুভূতি জাগ্রত করার লক্ষ্যে বলেছে: فَلَوْلا كَانَ مِنَ الْقُرُونِ مِنْ قَبْلِكُمْ أُولُوا بَقِيَّةٍ يَنْهَوْنَ عَنِ الْفَسَادِ فِي الْأَرْضِ إِلا قَلِيلاً مِمَّنْ أَنْجَيْنَا مِنْهُمْ وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوْا فِيْهِ وَكَانُوْا مُجْرِمِينَ.
"তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে যাদের আমি রক্ষা করেছিলাম, তাদের মধ্যে অল্প কিছু সংখ্যক ছাড়া বিবেক জাগ্রত মানুষ ছিল না- যারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করা হতে নিষেধ করতো। সীমালঙ্ঘনকারীরা তারই অনুসরণ করত যাতে তারা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পেত এবং তারা ছিল অপরাধী।" [সূরা হূদ: ১১৬]

মুসলিম উম্মাহর উপর বিশ্ব তদারকি, চারিত্রিক ও মানসিকতা, ব্যক্তিগত ও আন্তর্জাতিক কর্মপদ্ধতির পর্যবেক্ষণ করা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, সত্যের সাক্ষ্য প্রদান, 'আমরু বিল মা'রূফ' (সৎকাজের আদেশ), 'নাহী আনিল মুনকার' (মন্দকাজে বাধা প্রদান) করার যিম্মাদারী অর্পণ করা হয়েছে। আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অলসতার কারণে জবাবদিহি করতে হবে। এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
"হে মুমিনগণ! আল্লাহর উদ্দেশ্যে পূর্ণ আনুগত্য ও ন্যায় সাক্ষ্য দানে তোমরা অবিচল থাকবে। কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনো সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। সুবিচার করবে; এটাই তাকওয়ার নিকটতম এবং আল্লাহকে ভয় করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমরা যা কর তার পূর্ণ খবর রাখেন।" [সূরা মায়িদা: ৮]
সাথে সাথে এ উম্মতকে স্বীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অবহেলার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, এর ফলশ্রুতিতে তারা বিপদ ও সংকটের মাঝে পতিত হতে পারে আর দুনিয়াতে ফিতনা-ফাসাদ, বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ঐ ক্ষুদ্র মানব গোষ্ঠীকে (যা মাদানী জীবনের প্রথম যুগে কয়েক শতের মত ছিল) লক্ষ্য করে এবং তাঁদেরকে ঈমান, আকীদা-বিশ্বাস ও ইসলামি দাওয়াতের ভিত্তিতে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয়েছে: إِلا تَفْعَلُوهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ.
"যদি তোমরা তা না কর, তাহলে দুনিয়াতে ফিতনা ও মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হবে।" [সূরা আনফাল : ৭৩]
তাহলে কি আজকের মুসলিম উম্মত এ নির্দেশের আওতাভুক্ত নয়? যাদের দ্বারা সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে উঠেছে এবং যারা বড় বড় রাষ্ট্র ও জনশক্তির অধিকারী? যদি তারা নেতৃত্ব ও ধর্মপ্রচারকের পদমর্যাদা ত্যাগ করে, যদি তারা তাদের সামাজিক যিম্মাদারী ছেড়ে দেয়, যদি তারা চিন্তা-চেতনা ও আখলাকের তদারকি করা ত্যাগ করে, যদি তারা অসহায়ের সাহায্য ও জালিমের নিন্দা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে দুনিয়াতে তাদের এ বিরাট অবহেলা ও বিপদজনক ভুলের কি পরিমাণ কুপ্রভাব পড়বে?
কুরআন এ উম্মতের নেতাসুলভ দায়িত্ববোধ, সংশোধন ও দাওয়াতের যিম্মাদারী, 'আমরু বিল মা'রূফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার'-এর দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেবার লক্ষ্যে পূর্ববর্তী জাতিদের বরাত দিয়ে এবং তা দ্বারা চেতনা-অনুভূতি জাগ্রত করার লক্ষ্যে বলেছে: فَلَوْلا كَانَ مِنَ الْقُرُونِ مِنْ قَبْلِكُمْ أُولُوا بَقِيَّةٍ يَنْهَوْنَ عَنِ الْفَسَادِ فِي الْأَرْضِ إِلا قَلِيلاً مِمَّنْ أَنْجَيْنَا مِنْهُمْ وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوْا فِيْهِ وَكَانُوْا مُجْرِمِينَ.
"তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে যাদের আমি রক্ষা করেছিলাম, তাদের মধ্যে অল্প কিছু সংখ্যক ছাড়া বিবেক জাগ্রত মানুষ ছিল না- যারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করা হতে নিষেধ করতো। সীমালঙ্ঘনকারীরা তারই অনুসরণ করত যাতে তারা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পেত এবং তারা ছিল অপরাধী।" [সূরা হূদ: ১১৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00