📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 খ্রিস্টীয় ইউটোপে দ্বীন ও দুনিয়া এবং রাজ্য ও গির্জার দ্বন্দ্ব

📄 খ্রিস্টীয় ইউটোপে দ্বীন ও দুনিয়া এবং রাজ্য ও গির্জার দ্বন্দ্ব


মধ্যযুগে খ্রিস্টান বিশ্ব এক রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল। এর এক পক্ষে ছিল গির্জা- যারা ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করত এবং তাদের ভিত্তি ছিল বৈরাগ্যবাদের ওপর। আর অপরপক্ষ ছিল রাষ্ট্র- যা ছিল খ্যাতি ও সম্মানের মাধ্যম ও প্রকাশস্থল। তাদের উভয়ের মাঝে প্রবল রশি টানাটানি হচ্ছিল। ফলে, ধর্ম ও রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত পৃথক পৃথক হয়ে গেল। আর এর পরিণতি সকলের জানা আছে; দুনিয়া তার শাস্তি এখনো ভোগ করছে এবং এ পথে হোঁচট খাচ্ছে।
আল্লামা ইকবাল ঐ ঐতিহাসিক বাস্তবতার অত্যন্ত স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি তাঁর 'ধর্ম ও রাষ্ট্র' নামক চিন্তাশীল কাব্যে উল্লেখ করেন:
کلیسا کی بنیاد رہبانیت تھی، سمائی کہاں اس فقیری میں میری خصومت تھی سلکانی دراہی میں، کہ وہ سر بلندی ہے یہ بزیری سیاست نے مذہب سے پیچھا چھڑایا، چلی کچھ نہ پیر کلیسا کی پیری ہوئی دین و دولت میں جس دم جدائی، ہوس کی امیری ہوس کی وزیری دوئی ملک و دیں کے لئے نامرادی، دوئی چشم تہذیب کی نابصیری यह اعجاز ہے ایک صحرا نشیں کا، بشیری ہے آئینہ دار نذیری اسی میں حفاظت ہے انسانیت کی کہ ہوں ایک جنیدی وارد شیری
'গীর্জার ভিত্তি ছিল বৈরাগ্যের উপর। এই দারিদ্র্যের মাঝে আমার স্থান হত কোথায়।
দ্বন্দ্ব চলছিল রাজত্ব ও পৌরোহিত্যের মাঝে। যে এটাই রাজনীতি মর্যাদা, ওটা নীচুতা।
ধর্মের অনুসরণ থেকে মুক্তি পেয়েছে রাজনীতি। গীর্জার পাদ্রীদের কর্তৃত্ব আর চললো না।
যখন থেকেই রাষ্ট্র ও ধর্মের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে তখন থেকে হয়েছে লালসার রাজত্ব, লালসার মন্ত্রিত্ব।
বিভেদ রাষ্ট্র ও দ্বীনের ব্যর্থতা, বিভেদ সভ্যতার চোখের জন্য অন্ধত্ব।
এক মরুবাসীর জন্য এটা একটা অলৌকিকত্ব যে, মানবতাই সতর্ককারিতার বৈশিষ্ট্য।
এরই মধ্যে রয়েছে মানবতার রক্ষা যে, আমি হলাম একজন জুনায়দী ও আর্দশেরী।' [বাবে জিবরীল]

মধ্যযুগে খ্রিস্টান বিশ্ব এক রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল। এর এক পক্ষে ছিল গির্জা- যারা ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করত এবং তাদের ভিত্তি ছিল বৈরাগ্যবাদের ওপর। আর অপরপক্ষ ছিল রাষ্ট্র- যা ছিল খ্যাতি ও সম্মানের মাধ্যম ও প্রকাশস্থল। তাদের উভয়ের মাঝে প্রবল রশি টানাটানি হচ্ছিল। ফলে, ধর্ম ও রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত পৃথক পৃথক হয়ে গেল। আর এর পরিণতি সকলের জানা আছে; দুনিয়া তার শাস্তি এখনো ভোগ করছে এবং এ পথে হোঁচট খাচ্ছে।
আল্লামা ইকবাল ঐ ঐতিহাসিক বাস্তবতার অত্যন্ত স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি তাঁর 'ধর্ম ও রাষ্ট্র' নামক চিন্তাশীল কাব্যে উল্লেখ করেন:
کلیسا کی بنیاد رہبانیت تھی، سمائی کہاں اس فقیری میں میری خصومت تھی سلکانی دراہی میں، کہ وہ سر بلندی ہے یہ بزیری سیاست نے مذہب سے پیچھا چھڑایا، چلی کچھ نہ پیر کلیسا کی پیری ہوئی دین و دولت میں جس دم جدائی، ہوس کی امیری ہوس کی وزیری دوئی ملک و دیں کے لئے نامرادی، دوئی چشم تہذیب کی نابصیری यह اعجاز ہے ایک صحرا نشیں کا، بشیری ہے آئینہ دار نذیری اسی میں حفاظت ہے انسانیت کی کہ ہوں ایک جنیدی وارد شیری
'গীর্জার ভিত্তি ছিল বৈরাগ্যের উপর। এই দারিদ্র্যের মাঝে আমার স্থান হত কোথায়।
দ্বন্দ্ব চলছিল রাজত্ব ও পৌরোহিত্যের মাঝে। যে এটাই রাজনীতি মর্যাদা, ওটা নীচুতা।
ধর্মের অনুসরণ থেকে মুক্তি পেয়েছে রাজনীতি। গীর্জার পাদ্রীদের কর্তৃত্ব আর চললো না।
যখন থেকেই রাষ্ট্র ও ধর্মের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে তখন থেকে হয়েছে লালসার রাজত্ব, লালসার মন্ত্রিত্ব।
বিভেদ রাষ্ট্র ও দ্বীনের ব্যর্থতা, বিভেদ সভ্যতার চোখের জন্য অন্ধত্ব।
এক মরুবাসীর জন্য এটা একটা অলৌকিকত্ব যে, মানবতাই সতর্ককারিতার বৈশিষ্ট্য।
এরই মধ্যে রয়েছে মানবতার রক্ষা যে, আমি হলাম একজন জুনায়দী ও আর্দশেরী।' [বাবে জিবরীল]

📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 বিচ্ছেদের পরিবর্তে মিলন

📄 বিচ্ছেদের পরিবর্তে মিলন


সাইয়েদিনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চিরন্তন অবদান ও অনুগ্রহের অন্যতম হলো এই যে, তিনি দ্বীন ও দুনিয়ার মধ্যকার এ বিশাল ব্যবধানকে ঘুচিয়ে দিয়েছেন এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও শত্রুভাবাপন্ন এ দল দু'টিকে অবিরাম হিংসা-হানাহানি ও জীঘাংসা থেকে মুক্ত করে গলায় গলায় মিলিয়ে দিয়েছেন, বেঁধে দিয়েছেন ভালবাসা ও সম্প্রীতির এক সুগভীর দৃঢ় বাঁধনে, উপহার দিয়েছেন ঐক্য ও নিরাপত্তার এক নতুন পৃথিবী, শিক্ষা দিয়েছেন মিলেমিশে বাস করার পদ্ধতি। প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূল (সা) তাঁর এ অবদানের আলোকে তিনি ঐক্যের নবী। আবার একই সাথে তিনি 'বাশীর' ও 'নাযীর'- সুসংবাদ- দাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী হিসাবে পরিলক্ষিত হন। কারণ, তিনি মানব জাতিকে দু'টি যুদ্ধশিবির থেকে মুক্ত করে ঈমান ও ইহতেসাব, মানব সেবা ও আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনকারী শিবিরে পরিণত করেছেন এবং আমাদেরকে সার্বজনীন, মুজিযাপূর্ণ ও ব্যাপক অর্থবোধক দু'আ শিক্ষাদান করেছেন:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ.
"হে আমাদের রব। আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করুন এবং পরকালের কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে আগুনের 'আযাব' হতে রক্ষা করুন।" [সূরা বাকারা - ১২০]
তিনি আরো ঘোষণা করেছেন:
إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
"নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু কেবল জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্যেই নিবেদিত।"

সাইয়েদিনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চিরন্তন অবদান ও অনুগ্রহের অন্যতম হলো এই যে, তিনি দ্বীন ও দুনিয়ার মধ্যকার এ বিশাল ব্যবধানকে ঘুচিয়ে দিয়েছেন এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও শত্রুভাবাপন্ন এ দল দু'টিকে অবিরাম হিংসা-হানাহানি ও জীঘাংসা থেকে মুক্ত করে গলায় গলায় মিলিয়ে দিয়েছেন, বেঁধে দিয়েছেন ভালবাসা ও সম্প্রীতির এক সুগভীর দৃঢ় বাঁধনে, উপহার দিয়েছেন ঐক্য ও নিরাপত্তার এক নতুন পৃথিবী, শিক্ষা দিয়েছেন মিলেমিশে বাস করার পদ্ধতি। প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূল (সা) তাঁর এ অবদানের আলোকে তিনি ঐক্যের নবী। আবার একই সাথে তিনি 'বাশীর' ও 'নাযীর'- সুসংবাদ- দাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী হিসাবে পরিলক্ষিত হন। কারণ, তিনি মানব জাতিকে দু'টি যুদ্ধশিবির থেকে মুক্ত করে ঈমান ও ইহতেসাব, মানব সেবা ও আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনকারী শিবিরে পরিণত করেছেন এবং আমাদেরকে সার্বজনীন, মুজিযাপূর্ণ ও ব্যাপক অর্থবোধক দু'আ শিক্ষাদান করেছেন:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ.
"হে আমাদের রব। আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করুন এবং পরকালের কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে আগুনের 'আযাব' হতে রক্ষা করুন।" [সূরা বাকারা - ১২০]
তিনি আরো ঘোষণা করেছেন:
إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
"নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু কেবল জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্যেই নিবেদিত।"

📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 গোষ্ঠ জীবনেই ইবাদত আর সমগ্র বিশ্ব হলো ইবাদতের স্থান

📄 গোষ্ঠ জীবনেই ইবাদত আর সমগ্র বিশ্ব হলো ইবাদতের স্থান


মুমিনের জীবন কিছু বিচ্ছিন্ন ও বিপরীতমুখী এককের যোগফল নয়; বরং তা হলো এমন এক পূর্ণ ঐক্যের নাম যেখানে ইবাদত ও জবাবদিহিতার রূহ ও অনুভূতি কার্যকর থাকে। আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর আনুগত্যের প্রেরণা তাকে পরিচালিত করে। এ অনুভূতি জীবনের সকল ক্ষেত্রে এবং চেষ্টা-সাধনা ও কর্মব্যস্ততার সকল স্থান ও সকল ক্ষেত্রকে তার আওতাভুক্ত করে। তবে শর্ত হলো, তা হতে হবে ইখলাস ও খাঁটি নিয়তে, আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ও নবীগণের দিকনিদের্শনা অনুযায়ী।
একথা ঐ বাস্তবতাকে আরো সুস্পষ্ট করে যে, প্রিয় নবী (সা) হলেন পূর্ণ ঐক্য ও পরিপূর্ণ একতার রাসূল। একই সাথে তিনি মানবতাকে ভাল কাজের উপর সুন্দর ভবিষ্যতের সুসংবাদ প্রদানকারী এবং আল্লাহ্র 'আযাব থেকে ভীতি প্রদর্শনকারী ও সতর্ককারী। প্রিয় নবী (সা) দ্বীন-দুনিয়ার বিভাজন নীতিকে ভুল সাব্যস্ত করে গোটা জীবনকে ইবাদত ও গোটা বিশ্বকে মসজিদ তথা সিজদার স্থানরূপে ঘোষণা করেছেন এবং বিশ্ব মানবতাকে সংঘাতময় ও সাংঘর্ষিক শিবির থেকে মুক্ত করে সৎকর্মপরায়ণ, মানবতার খিদমত, আল্লাহ্র সন্তুষ্টির এক বিশাল, বিস্তৃত ও ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। এখানে বাদশাহকে আপনি দরবেশের ছিন্ন বস্ত্রে এবং আবেদ ও দুনিয়াবিমুখ দরবেশকে রাজা-বাদশাহদের পোশাকে দেখতে পাবেন। তারা ধর্ম ও সহনশীলতায় পর্বততুল্য, ইলম ও হিকমতের উৎস, রাতের ইবাদতকারী আর দিনের অশ্বারোহী; এরপরেও তাদের ব্যক্তিত্বের মাঝে কোন বৈপরীত্য ও ভারসাম্যহীনতা দেখা যাবে না।

মুমিনের জীবন কিছু বিচ্ছিন্ন ও বিপরীতমুখী এককের যোগফল নয়; বরং তা হলো এমন এক পূর্ণ ঐক্যের নাম যেখানে ইবাদত ও জবাবদিহিতার রূহ ও অনুভূতি কার্যকর থাকে। আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর আনুগত্যের প্রেরণা তাকে পরিচালিত করে। এ অনুভূতি জীবনের সকল ক্ষেত্রে এবং চেষ্টা-সাধনা ও কর্মব্যস্ততার সকল স্থান ও সকল ক্ষেত্রকে তার আওতাভুক্ত করে। তবে শর্ত হলো, তা হতে হবে ইখলাস ও খাঁটি নিয়তে, আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ও নবীগণের দিকনিদের্শনা অনুযায়ী।
একথা ঐ বাস্তবতাকে আরো সুস্পষ্ট করে যে, প্রিয় নবী (সা) হলেন পূর্ণ ঐক্য ও পরিপূর্ণ একতার রাসূল। একই সাথে তিনি মানবতাকে ভাল কাজের উপর সুন্দর ভবিষ্যতের সুসংবাদ প্রদানকারী এবং আল্লাহ্র 'আযাব থেকে ভীতি প্রদর্শনকারী ও সতর্ককারী। প্রিয় নবী (সা) দ্বীন-দুনিয়ার বিভাজন নীতিকে ভুল সাব্যস্ত করে গোটা জীবনকে ইবাদত ও গোটা বিশ্বকে মসজিদ তথা সিজদার স্থানরূপে ঘোষণা করেছেন এবং বিশ্ব মানবতাকে সংঘাতময় ও সাংঘর্ষিক শিবির থেকে মুক্ত করে সৎকর্মপরায়ণ, মানবতার খিদমত, আল্লাহ্র সন্তুষ্টির এক বিশাল, বিস্তৃত ও ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। এখানে বাদশাহকে আপনি দরবেশের ছিন্ন বস্ত্রে এবং আবেদ ও দুনিয়াবিমুখ দরবেশকে রাজা-বাদশাহদের পোশাকে দেখতে পাবেন। তারা ধর্ম ও সহনশীলতায় পর্বততুল্য, ইলম ও হিকমতের উৎস, রাতের ইবাদতকারী আর দিনের অশ্বারোহী; এরপরেও তাদের ব্যক্তিত্বের মাঝে কোন বৈপরীত্য ও ভারসাম্যহীনতা দেখা যাবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00