📄 বিভক্ত মানবতা এবং রণক্ষেত্র দুনিয়া
প্রাচীন ধর্মসমূহ, বিশেষ করে খ্রিস্টবাদ মানব জীবনকে দু'ভাগে বিভক্ত করে রেখেছিল- যার একটি ছিল ধর্মের জন্য, আর অপরটি দুনিয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। এভাবে ভূ-পৃষ্ঠকেও দু'টি শিবিরে বিভক্ত করে রেখেছিল। একটি শিবির ছিল দ্বীনদার ধার্মিক লোকদের জন্য, আর অপরটি ছিল দুনিয়াদার লোকদের জন্য। এ দুটি শিবির কেবল পৃথকই ছিলো না, বরং তাদের পরস্পরের মাঝে এক উপসাগর অন্তরায় ছিল; উভয়ের মাঝে একটি লৌহপ্রাচীর দাঁড়িয়েছিল এবং উভয়ের মাঝে শক্তি পরীক্ষার পাঞ্জা লড়াই ও রশি টানাটানি লেগেই থাকত। প্রত্যেকের বিশ্বাস ছিল যে, দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে চিরন্তন দুশমনী রয়েছে। তাই যদি কেউ একটির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইত, অন্যটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা, এবং তার বিরুদ্ধে লড়াই করা তার জন্য জরুরী হয়ে পড়ত। কারণ, তাদের কথা অনুযায়ী একই সময়ে দুই নৌকাতে আরোহণ করা সম্ভব নয় এবং আখিরাত ও বিশ্ব স্রষ্টার প্রতি উদাসীন হওয়া ছাড়া অর্থনৈতিক কর্মতৎপরতা ও সচ্ছলতা অর্জনও সম্ভব নয়। ঠিক তেমনিভাবে, রাষ্ট্র পরিচালনা ও শাসনকার্য ধর্মীয় অনুশাসন, নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা ও আল্লাহ্-ভীতি থেকে পৃথক হয়েই কেবল পরিচালনা করা সম্ভব। অন্যদিকে, বৈরাগ্য এবং দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা ছাড়া ধর্মীয় জীবন যাপন করা যায় না।
প্রাচীন ধর্মসমূহ, বিশেষ করে খ্রিস্টবাদ মানব জীবনকে দু'ভাগে বিভক্ত করে রেখেছিল- যার একটি ছিল ধর্মের জন্য, আর অপরটি দুনিয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। এভাবে ভূ-পৃষ্ঠকেও দু'টি শিবিরে বিভক্ত করে রেখেছিল। একটি শিবির ছিল দ্বীনদার ধার্মিক লোকদের জন্য, আর অপরটি ছিল দুনিয়াদার লোকদের জন্য। এ দুটি শিবির কেবল পৃথকই ছিলো না, বরং তাদের পরস্পরের মাঝে এক উপসাগর অন্তরায় ছিল; উভয়ের মাঝে একটি লৌহপ্রাচীর দাঁড়িয়েছিল এবং উভয়ের মাঝে শক্তি পরীক্ষার পাঞ্জা লড়াই ও রশি টানাটানি লেগেই থাকত। প্রত্যেকের বিশ্বাস ছিল যে, দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে চিরন্তন দুশমনী রয়েছে। তাই যদি কেউ একটির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইত, অন্যটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা, এবং তার বিরুদ্ধে লড়াই করা তার জন্য জরুরী হয়ে পড়ত। কারণ, তাদের কথা অনুযায়ী একই সময়ে দুই নৌকাতে আরোহণ করা সম্ভব নয় এবং আখিরাত ও বিশ্ব স্রষ্টার প্রতি উদাসীন হওয়া ছাড়া অর্থনৈতিক কর্মতৎপরতা ও সচ্ছলতা অর্জনও সম্ভব নয়। ঠিক তেমনিভাবে, রাষ্ট্র পরিচালনা ও শাসনকার্য ধর্মীয় অনুশাসন, নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা ও আল্লাহ্-ভীতি থেকে পৃথক হয়েই কেবল পরিচালনা করা সম্ভব। অন্যদিকে, বৈরাগ্য এবং দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা ছাড়া ধর্মীয় জীবন যাপন করা যায় না।
📄 এ দৃষ্টিভঙ্গির স্বাভাবিক পরিণতি
এটি একটি জ্ঞাত ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যে, মানুষ স্বভাবতই সহজাত প্রিয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই যে ধর্মই বৈধ বস্তু থেকে উপকৃত হওয়া, উন্নতি- অগ্রগতি, মান-সম্মান, শক্তি-সামর্থ্য ও রাজত্ব লাভের অনুমতি দান করে না, তা অধিকাংশ সময় মানব জাতির জন্য উপযোগী হয় না। আর সুস্থ বিবেক-বুদ্ধির সাথে দ্বন্দ্বও মানুষের স্বাভাবিক চাহিদার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তখন এর স্বাভাবিক পরিণতি এই হয় যে, বুদ্ধিমান ও শিক্ষিত লোকদের এক বিশাল জনগোষ্ঠী দুনিয়াকে দ্বীনের উপর অগ্রাধিকার প্রদান করে এবং তাকে সামাজিক প্রয়োজন ও প্রকৃত বাস্তবতা মনে করে নিশ্চিন্ত হয়ে থাকে। অতঃপর এ জীবনকে সুসজ্জিত ও তার উন্নতি সাধন করতে এবং তা উপভোগে লেগে যায় আর দ্বীনি ও রূহানী উন্নতিকে উপেক্ষা করে। তাদের অনেকেই যারা ধর্মকে ত্যাগ করেছে, তারা দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে বৈপরীত্য ও দ্বন্দ্বকে স্বতঃসিদ্ধ বাস্তবতা বলে মনে করে। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই प्रशासन ধর্মের প্রতিনিধিত্বকারী গির্জার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল। অতঃপর তারা এর সকল বিধি-বিধান হতে মুক্ত হয়ে গেল। এর ফলে যৌক্তিকভাবেই प्रशासन ঐ পাগলা হাতির মত হয়ে গেল- যে শিকল ভেঙ্গে ফেলেছে অথবা ঐ উটের মত হলো- যা লাগামহীন হয়ে গিয়েছে। দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে এ নিকৃষ্ট ব্যবধান এবং দ্বীনদার ও দুনিয়াদার লোকদের মাঝে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্ব-কলহ ও দুশমনির কারণে ধর্মহীনতা ও নাস্তিকতার দরজা খুলে দেয়- যার প্রথম শিকার হয়েছে ইউরোপ। অতঃপর ঐ সকল দেশ- যারা চিন্তা-চেতনা, দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ইউরোপের অনুসারী অথবা তা দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
এ অবস্থাকে উগ্র খ্রিস্টানেরা আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। কারণ, তারা মানব প্রকৃতিকে আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্যলাভের পথে বড় প্রতিবন্ধক মনে করত। আর যারা এটাকে পথভ্রষ্ট মনে করত এবং কঠিন বিধি-নিষেধ ও নিযার্তন মূলক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে কঠিন শাস্তি দেবার ক্ষেত্রে কোন ত্রুটি করেনি, তারা ধর্মকে অত্যন্ত ভয়ানক ও ঘৃণিত আকৃতিতে উপস্থাপন করেছিল- যার দ্বারা এর অনুসারীদের দেহ-মন প্রকম্পিত হয়।'
পরিশেষে, এ কারণে দ্বীনের পরিধি ও প্রভাব সংকুচিত হতে থাকে এবং স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রকৃতি পূজা (ব্যাপক অর্থে) সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়। ফলে, দুনিয়া দু'টি বিপরীতমুখী অবস্থার মাঝে দুলতে থাকে। অতঃপর ধর্মীয় অনুভূতির দুর্বলতার কারণে গোটা বিশ্ব ধর্মহীনতা ও ব্যাপক নৈতিক বিশৃংখলার অতল গহ্বরে পতিত হয়।
এটি একটি জ্ঞাত ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যে, মানুষ স্বভাবতই সহজাত প্রিয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই যে ধর্মই বৈধ বস্তু থেকে উপকৃত হওয়া, উন্নতি- অগ্রগতি, মান-সম্মান, শক্তি-সামর্থ্য ও রাজত্ব লাভের অনুমতি দান করে না, তা অধিকাংশ সময় মানব জাতির জন্য উপযোগী হয় না। আর সুস্থ বিবেক-বুদ্ধির সাথে দ্বন্দ্বও মানুষের স্বাভাবিক চাহিদার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তখন এর স্বাভাবিক পরিণতি এই হয় যে, বুদ্ধিমান ও শিক্ষিত লোকদের এক বিশাল জনগোষ্ঠী দুনিয়াকে দ্বীনের উপর অগ্রাধিকার প্রদান করে এবং তাকে সামাজিক প্রয়োজন ও প্রকৃত বাস্তবতা মনে করে নিশ্চিন্ত হয়ে থাকে। অতঃপর এ জীবনকে সুসজ্জিত ও তার উন্নতি সাধন করতে এবং তা উপভোগে লেগে যায় আর দ্বীনি ও রূহানী উন্নতিকে উপেক্ষা করে। তাদের অনেকেই যারা ধর্মকে ত্যাগ করেছে, তারা দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে বৈপরীত্য ও দ্বন্দ্বকে স্বতঃসিদ্ধ বাস্তবতা বলে মনে করে। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই प्रशासन ধর্মের প্রতিনিধিত্বকারী গির্জার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল। অতঃপর তারা এর সকল বিধি-বিধান হতে মুক্ত হয়ে গেল। এর ফলে যৌক্তিকভাবেই प्रशासन ঐ পাগলা হাতির মত হয়ে গেল- যে শিকল ভেঙ্গে ফেলেছে অথবা ঐ উটের মত হলো- যা লাগামহীন হয়ে গিয়েছে। দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে এ নিকৃষ্ট ব্যবধান এবং দ্বীনদার ও দুনিয়াদার লোকদের মাঝে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্ব-কলহ ও দুশমনির কারণে ধর্মহীনতা ও নাস্তিকতার দরজা খুলে দেয়- যার প্রথম শিকার হয়েছে ইউরোপ। অতঃপর ঐ সকল দেশ- যারা চিন্তা-চেতনা, দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ইউরোপের অনুসারী অথবা তা দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
এ অবস্থাকে উগ্র খ্রিস্টানেরা আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। কারণ, তারা মানব প্রকৃতিকে আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্যলাভের পথে বড় প্রতিবন্ধক মনে করত। আর যারা এটাকে পথভ্রষ্ট মনে করত এবং কঠিন বিধি-নিষেধ ও নিযার্তন মূলক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে কঠিন শাস্তি দেবার ক্ষেত্রে কোন ত্রুটি করেনি, তারা ধর্মকে অত্যন্ত ভয়ানক ও ঘৃণিত আকৃতিতে উপস্থাপন করেছিল- যার দ্বারা এর অনুসারীদের দেহ-মন প্রকম্পিত হয়।'
পরিশেষে, এ কারণে দ্বীনের পরিধি ও প্রভাব সংকুচিত হতে থাকে এবং স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রকৃতি পূজা (ব্যাপক অর্থে) সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়। ফলে, দুনিয়া দু'টি বিপরীতমুখী অবস্থার মাঝে দুলতে থাকে। অতঃপর ধর্মীয় অনুভূতির দুর্বলতার কারণে গোটা বিশ্ব ধর্মহীনতা ও ব্যাপক নৈতিক বিশৃংখলার অতল গহ্বরে পতিত হয়।
📄 ঐক্যবাদী ধর্ম ও তার ব্যাপকতা
মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সর্বোত্তম উপহার ও তাঁর বড় অবদান হলো তাঁর ঐ সর্বজনীন ঘোষণা যে, কর্ম ও নৈতিকতার ভিত্তি জানাই হলো মানুষের অভীষ্ট লক্ষ্য। এটাকেই শরী'আত এক ব্যাপক ও বিস্তারিত অথচ ছোট ও অর্থবহ শব্দ 'নিয়ত' দ্বারা প্রকাশ করেছে। ইরশাদ হচ্ছে: إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ أَمْرِئٍ مَا نَوَى
"নিয়তের উপরই সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে। আর মানুষ যা নিয়ত করবে, তারই ফল সে লাভ করবে।" [বুখারী]
মানুষের সকল কাজের উদ্দেশ্যই যদি ইখলাসের সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর হুকুম পালন হয়ে থাকে, তাহলে তার ঐ সকল কর্ম তাকে পৌঁছে দেবে আল্লাহ্র কাছে, ইয়াকীন ও বিশ্বাসের সুউচ্চ চূড়ায়। আর এটাই হলো সেই খালেস দ্বীন যাতে পার্থিব মলিনতার ন্যূনতম ছোঁয়াও থাকবে না। এটি সব ধরনের কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হোক না তা জিহাদ ও লড়াই, হোক না তা দেশ শাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনা, হোক না তা দুনিয়ার বৈধ বস্তুসমূহ হতে খিদমত গ্রহণ, হোক না তা মনের চাহিদা পূরণ কিংবা জীবিকার তাগিদে চাকরি খোঁজার চেষ্টা-তদবীর, কিংবা জায়েয ও বৈধ আনন্দ বিনোদন, দাম্পত্য জীবনের সুখ- সম্ভোগের বিষয় অথবা সকল প্রকার ইবাদত ও দ্বীনি খিদমত।
পক্ষান্তরে, এ সকল বিষয় যদি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর হুকুম পালনের নিয়তে না হয়, তাহলে তা দুনিয়াবী কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে, তার উদ্দেশ্য তখন গায়রুল্লাহ হবে এবং তার উপর গাফলতি ও আখিরাত বিস্মৃতির আবরণ পড়ে যাবে। এ অবস্থায় ফরয নামাযসমূহ, হিজরত ও জিহাদ, যিকির ও তাসবীহ-এর মত ইবাদতগুলোও দুনিয়াবী বলে গণ্য হবে এবং এগুলোর আমলকারী ব্যক্তি, আলিম, মুজাহিদ ও ধর্মপ্রচারক সকলের জন্য সওয়াবের পরিবর্তে শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে, এগুলো তার ও তার রবের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।
টিকাঃ
১. লেকী (Lecky) রচিত ইউরোপের নীতি-নৈতিকতার ইতিহাস, ২য় খন্ড
২. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, ড্রেপার রচিত: Conflict Between Religon and Science.
মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সর্বোত্তম উপহার ও তাঁর বড় অবদান হলো তাঁর ঐ সর্বজনীন ঘোষণা যে, কর্ম ও নৈতিকতার ভিত্তি জানাই হলো মানুষের অভীষ্ট লক্ষ্য। এটাকেই শরী'আত এক ব্যাপক ও বিস্তারিত অথচ ছোট ও অর্থবহ শব্দ 'নিয়ত' দ্বারা প্রকাশ করেছে। ইরশাদ হচ্ছে: إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ أَمْرِئٍ مَا نَوَى
"নিয়তের উপরই সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে। আর মানুষ যা নিয়ত করবে, তারই ফল সে লাভ করবে।" [বুখারী]
মানুষের সকল কাজের উদ্দেশ্যই যদি ইখলাসের সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর হুকুম পালন হয়ে থাকে, তাহলে তার ঐ সকল কর্ম তাকে পৌঁছে দেবে আল্লাহ্র কাছে, ইয়াকীন ও বিশ্বাসের সুউচ্চ চূড়ায়। আর এটাই হলো সেই খালেস দ্বীন যাতে পার্থিব মলিনতার ন্যূনতম ছোঁয়াও থাকবে না। এটি সব ধরনের কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হোক না তা জিহাদ ও লড়াই, হোক না তা দেশ শাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনা, হোক না তা দুনিয়ার বৈধ বস্তুসমূহ হতে খিদমত গ্রহণ, হোক না তা মনের চাহিদা পূরণ কিংবা জীবিকার তাগিদে চাকরি খোঁজার চেষ্টা-তদবীর, কিংবা জায়েয ও বৈধ আনন্দ বিনোদন, দাম্পত্য জীবনের সুখ- সম্ভোগের বিষয় অথবা সকল প্রকার ইবাদত ও দ্বীনি খিদমত।
পক্ষান্তরে, এ সকল বিষয় যদি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর হুকুম পালনের নিয়তে না হয়, তাহলে তা দুনিয়াবী কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে, তার উদ্দেশ্য তখন গায়রুল্লাহ হবে এবং তার উপর গাফলতি ও আখিরাত বিস্মৃতির আবরণ পড়ে যাবে। এ অবস্থায় ফরয নামাযসমূহ, হিজরত ও জিহাদ, যিকির ও তাসবীহ-এর মত ইবাদতগুলোও দুনিয়াবী বলে গণ্য হবে এবং এগুলোর আমলকারী ব্যক্তি, আলিম, মুজাহিদ ও ধর্মপ্রচারক সকলের জন্য সওয়াবের পরিবর্তে শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে, এগুলো তার ও তার রবের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।
টিকাঃ
১. লেকী (Lecky) রচিত ইউরোপের নীতি-নৈতিকতার ইতিহাস, ২য় খন্ড
২. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, ড্রেপার রচিত: Conflict Between Religon and Science.
📄 খ্রিস্টীয় ইউটোপে দ্বীন ও দুনিয়া এবং রাজ্য ও গির্জার দ্বন্দ্ব
মধ্যযুগে খ্রিস্টান বিশ্ব এক রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল। এর এক পক্ষে ছিল গির্জা- যারা ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করত এবং তাদের ভিত্তি ছিল বৈরাগ্যবাদের ওপর। আর অপরপক্ষ ছিল রাষ্ট্র- যা ছিল খ্যাতি ও সম্মানের মাধ্যম ও প্রকাশস্থল। তাদের উভয়ের মাঝে প্রবল রশি টানাটানি হচ্ছিল। ফলে, ধর্ম ও রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত পৃথক পৃথক হয়ে গেল। আর এর পরিণতি সকলের জানা আছে; দুনিয়া তার শাস্তি এখনো ভোগ করছে এবং এ পথে হোঁচট খাচ্ছে।
আল্লামা ইকবাল ঐ ঐতিহাসিক বাস্তবতার অত্যন্ত স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি তাঁর 'ধর্ম ও রাষ্ট্র' নামক চিন্তাশীল কাব্যে উল্লেখ করেন:
کلیسا کی بنیاد رہبانیت تھی، سمائی کہاں اس فقیری میں میری خصومت تھی سلکانی دراہی میں، کہ وہ سر بلندی ہے یہ بزیری سیاست نے مذہب سے پیچھا چھڑایا، چلی کچھ نہ پیر کلیسا کی پیری ہوئی دین و دولت میں جس دم جدائی، ہوس کی امیری ہوس کی وزیری دوئی ملک و دیں کے لئے نامرادی، دوئی چشم تہذیب کی نابصیری यह اعجاز ہے ایک صحرا نشیں کا، بشیری ہے آئینہ دار نذیری اسی میں حفاظت ہے انسانیت کی کہ ہوں ایک جنیدی وارد شیری
'গীর্জার ভিত্তি ছিল বৈরাগ্যের উপর। এই দারিদ্র্যের মাঝে আমার স্থান হত কোথায়।
দ্বন্দ্ব চলছিল রাজত্ব ও পৌরোহিত্যের মাঝে। যে এটাই রাজনীতি মর্যাদা, ওটা নীচুতা।
ধর্মের অনুসরণ থেকে মুক্তি পেয়েছে রাজনীতি। গীর্জার পাদ্রীদের কর্তৃত্ব আর চললো না।
যখন থেকেই রাষ্ট্র ও ধর্মের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে তখন থেকে হয়েছে লালসার রাজত্ব, লালসার মন্ত্রিত্ব।
বিভেদ রাষ্ট্র ও দ্বীনের ব্যর্থতা, বিভেদ সভ্যতার চোখের জন্য অন্ধত্ব।
এক মরুবাসীর জন্য এটা একটা অলৌকিকত্ব যে, মানবতাই সতর্ককারিতার বৈশিষ্ট্য।
এরই মধ্যে রয়েছে মানবতার রক্ষা যে, আমি হলাম একজন জুনায়দী ও আর্দশেরী।' [বাবে জিবরীল]
মধ্যযুগে খ্রিস্টান বিশ্ব এক রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল। এর এক পক্ষে ছিল গির্জা- যারা ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করত এবং তাদের ভিত্তি ছিল বৈরাগ্যবাদের ওপর। আর অপরপক্ষ ছিল রাষ্ট্র- যা ছিল খ্যাতি ও সম্মানের মাধ্যম ও প্রকাশস্থল। তাদের উভয়ের মাঝে প্রবল রশি টানাটানি হচ্ছিল। ফলে, ধর্ম ও রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত পৃথক পৃথক হয়ে গেল। আর এর পরিণতি সকলের জানা আছে; দুনিয়া তার শাস্তি এখনো ভোগ করছে এবং এ পথে হোঁচট খাচ্ছে।
আল্লামা ইকবাল ঐ ঐতিহাসিক বাস্তবতার অত্যন্ত স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি তাঁর 'ধর্ম ও রাষ্ট্র' নামক চিন্তাশীল কাব্যে উল্লেখ করেন:
کلیسا کی بنیاد رہبانیت تھی، سمائی کہاں اس فقیری میں میری خصومت تھی سلکانی دراہی میں، کہ وہ سر بلندی ہے یہ بزیری سیاست نے مذہب سے پیچھا چھڑایا، چلی کچھ نہ پیر کلیسا کی پیری ہوئی دین و دولت میں جس دم جدائی، ہوس کی امیری ہوس کی وزیری دوئی ملک و دیں کے لئے نامرادی، دوئی چشم تہذیب کی نابصیری यह اعجاز ہے ایک صحرا نشیں کا، بشیری ہے آئینہ دار نذیری اسی میں حفاظت ہے انسانیت کی کہ ہوں ایک جنیدی وارد شیری
'গীর্জার ভিত্তি ছিল বৈরাগ্যের উপর। এই দারিদ্র্যের মাঝে আমার স্থান হত কোথায়।
দ্বন্দ্ব চলছিল রাজত্ব ও পৌরোহিত্যের মাঝে। যে এটাই রাজনীতি মর্যাদা, ওটা নীচুতা।
ধর্মের অনুসরণ থেকে মুক্তি পেয়েছে রাজনীতি। গীর্জার পাদ্রীদের কর্তৃত্ব আর চললো না।
যখন থেকেই রাষ্ট্র ও ধর্মের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে তখন থেকে হয়েছে লালসার রাজত্ব, লালসার মন্ত্রিত্ব।
বিভেদ রাষ্ট্র ও দ্বীনের ব্যর্থতা, বিভেদ সভ্যতার চোখের জন্য অন্ধত্ব।
এক মরুবাসীর জন্য এটা একটা অলৌকিকত্ব যে, মানবতাই সতর্ককারিতার বৈশিষ্ট্য।
এরই মধ্যে রয়েছে মানবতার রক্ষা যে, আমি হলাম একজন জুনায়দী ও আর্দশেরী।' [বাবে জিবরীল]