📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 তাওবাকারীদের সম্মাননা

📄 তাওবাকারীদের সম্মাননা


তাওবাকারীদের সম্মাননা প্রদান ও তাদের গুনাহ মাফ হওয়া ও তার উপর খুশি ও আশা ব্যক্ত করার বিষয়টি ঐ সময় আরো বেশি স্পষ্ট হয়েছে, যখন পবিত্র কুরআন ঐ তিন সাহাবীর তাওবা কবুল হওয়ার ব্যাপারে ঘোষণাদান করেছিল- যারা কোন সঙ্গত ও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে মদীনাতে থেকে গিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন প্রথমে প্রিয়নবী (সা) ও ঐ সকল মুহাজির ও আনসার সাহাবীর আলোচনা করেছে- যারা তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর পরপরই ঐ তিন পিছিয়ে পড়া সাহাবীর আলোচনা করেছে যাতে তারা এটা অনুভব না করে যে, শুধু তাদের তাওবা কবুল হয়েছে এবং এ ধাপ অতিক্রম করে পুনরায় অনুগত মুমিনদের কাতারে শামিল হয়েছে বরং তারা যেন অপমানের অনুভূতি ও তার ছায়া হতে দূরে থাকে এবং তাদের মাঝে যেন হীনম্মন্যতার অনুভূতি সৃষ্টি না হয়। এ ঈমান ও ইখলাসওয়ালা জামাতের কাছে (যাদের থেকে একটিমাত্র গুনাহ ঘটেছিল) কিয়ামত পর্যন্ত স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সত্যবাদী প্রথম স্তরের সাহাবাদের কাতারই তাদের স্বাভাবিক স্তর। এ কারণে তাদের লজ্জা-শরম ও অপমানবোধের কোন কারণ নেই।
অন্য কোন ধর্মে, আখলাক-চরিত্র ইসলাহ ও তরবীয়তের ইতিহাসে তাওবা কবুল হওয়া, তাওবাকারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তাদের প্রতি স্নেহ-ভালবাসা, দয়া ও অনুগ্রহের সাথে তাদের মানসিক অশান্তি দূর করা এ থেকে অধিক উজ্জ্বল, হৃদয়গ্রাহী, সূক্ষ্ম ও গভীর, মনোহর ও মনোমুগ্ধকর দৃষ্টান্ত কি পাওয়া যেতে পারে? আসুন ঐ আয়াতগুলো পুনরায় তিলাওয়াত করুন:
لَقَدْ تَابَ اللهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوْبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ - وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِيْنَ خُلِفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ لَّا مَلْجَأَ مِنَ اللهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ .
"নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা নবী এবং মুহাজির ও আনসারগণের প্রতি অনুগ্রহ পরায়ণ হলেন যারা সংকটের মুহূর্তে নবীর অনুগত হয়েছিল অথচ সে সময় তাদের একটি দলের অন্তরে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। তখন আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করলেন। তিনি তো ওদের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু আর তিনি ক্ষমা করলেন ঐ তিনজনকেও যাদের বিষয়টি মুলতবি রাখা হয়েছিল। এক পর্যায়ে পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং তাদের জন্য তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল। তখন তারা বুঝতে পেরেছিল যে, আল্লাহর হাত থেকে রক্ষা পাবার তিনি ছাড়া আর কোন আশ্রয় নেই। তখন তিনি তাদের তাওবা কবুল করলেন যাতে তারা তাওবায় স্থির থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সূরা তাওবা: ১১৭-১১৮]
অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা একটি সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ঘোষণা করেন যে, আল্লাহর রহমত সকল কিছু থেকে বড় এবং তা তাঁর গযব ও পরাক্রম থেকেও অগ্রগামী। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ "আর আমার রহমত সকল বস্তুতে ব্যাপ্ত।" [সূরা আ'রাফ: ১৫৬]
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে : إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ عَلَى غَضَبِي “আমার রহমত আমার ক্রোধ থেকে অগ্রগামী।" [মুসলিম]
পবিত্র কুরআন হতাশাকে কুফরী, অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতার সমার্থক হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং হযরত ইয়াকূব (আ)-এর ভাষায় তা ব্যক্ত করেছে: إِنَّهُ لَا يَأْيْنَسُ مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَفِرُونَ. "আল্লাহ্র রহমত থেকে শুধুমাত্র কাফির দলই বিস্মিত হয়।" [সূরা ইউসুফ: ৮৭]
অন্যত্র হযরত ইবরাহীম (আ)-এর কথা বর্ণনা করা হয়েছে: وَمَنْ يَقْنَطُ مِنْ رَّحْمَةِ رَبِّهِ إِلَّا الضَّالُّونَ. "স্বীয় রবের রহমত থেকে কেবল পথভ্রষ্টরাই বিস্মিত হয়।" [সূরা হিজর: ৫৬]

তাওবাকারীদের সম্মাননা প্রদান ও তাদের গুনাহ মাফ হওয়া ও তার উপর খুশি ও আশা ব্যক্ত করার বিষয়টি ঐ সময় আরো বেশি স্পষ্ট হয়েছে, যখন পবিত্র কুরআন ঐ তিন সাহাবীর তাওবা কবুল হওয়ার ব্যাপারে ঘোষণাদান করেছিল- যারা কোন সঙ্গত ও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে মদীনাতে থেকে গিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন প্রথমে প্রিয়নবী (সা) ও ঐ সকল মুহাজির ও আনসার সাহাবীর আলোচনা করেছে- যারা তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর পরপরই ঐ তিন পিছিয়ে পড়া সাহাবীর আলোচনা করেছে যাতে তারা এটা অনুভব না করে যে, শুধু তাদের তাওবা কবুল হয়েছে এবং এ ধাপ অতিক্রম করে পুনরায় অনুগত মুমিনদের কাতারে শামিল হয়েছে বরং তারা যেন অপমানের অনুভূতি ও তার ছায়া হতে দূরে থাকে এবং তাদের মাঝে যেন হীনম্মন্যতার অনুভূতি সৃষ্টি না হয়। এ ঈমান ও ইখলাসওয়ালা জামাতের কাছে (যাদের থেকে একটিমাত্র গুনাহ ঘটেছিল) কিয়ামত পর্যন্ত স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সত্যবাদী প্রথম স্তরের সাহাবাদের কাতারই তাদের স্বাভাবিক স্তর। এ কারণে তাদের লজ্জা-শরম ও অপমানবোধের কোন কারণ নেই।
অন্য কোন ধর্মে, আখলাক-চরিত্র ইসলাহ ও তরবীয়তের ইতিহাসে তাওবা কবুল হওয়া, তাওবাকারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তাদের প্রতি স্নেহ-ভালবাসা, দয়া ও অনুগ্রহের সাথে তাদের মানসিক অশান্তি দূর করা এ থেকে অধিক উজ্জ্বল, হৃদয়গ্রাহী, সূক্ষ্ম ও গভীর, মনোহর ও মনোমুগ্ধকর দৃষ্টান্ত কি পাওয়া যেতে পারে? আসুন ঐ আয়াতগুলো পুনরায় তিলাওয়াত করুন:
لَقَدْ تَابَ اللهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوْبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ - وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِيْنَ خُلِفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ لَّا مَلْجَأَ مِنَ اللهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ .
"নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা নবী এবং মুহাজির ও আনসারগণের প্রতি অনুগ্রহ পরায়ণ হলেন যারা সংকটের মুহূর্তে নবীর অনুগত হয়েছিল অথচ সে সময় তাদের একটি দলের অন্তরে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। তখন আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করলেন। তিনি তো ওদের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু আর তিনি ক্ষমা করলেন ঐ তিনজনকেও যাদের বিষয়টি মুলতবি রাখা হয়েছিল। এক পর্যায়ে পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং তাদের জন্য তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল। তখন তারা বুঝতে পেরেছিল যে, আল্লাহর হাত থেকে রক্ষা পাবার তিনি ছাড়া আর কোন আশ্রয় নেই। তখন তিনি তাদের তাওবা কবুল করলেন যাতে তারা তাওবায় স্থির থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সূরা তাওবা: ১১৭-১১৮]
অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা একটি সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ঘোষণা করেন যে, আল্লাহর রহমত সকল কিছু থেকে বড় এবং তা তাঁর গযব ও পরাক্রম থেকেও অগ্রগামী। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ "আর আমার রহমত সকল বস্তুতে ব্যাপ্ত।" [সূরা আ'রাফ: ১৫৬]
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে : إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ عَلَى غَضَبِي “আমার রহমত আমার ক্রোধ থেকে অগ্রগামী।" [মুসলিম]
পবিত্র কুরআন হতাশাকে কুফরী, অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতার সমার্থক হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং হযরত ইয়াকূব (আ)-এর ভাষায় তা ব্যক্ত করেছে: إِنَّهُ لَا يَأْيْنَسُ مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَفِرُونَ. "আল্লাহ্র রহমত থেকে শুধুমাত্র কাফির দলই বিস্মিত হয়।" [সূরা ইউসুফ: ৮৭]
অন্যত্র হযরত ইবরাহীম (আ)-এর কথা বর্ণনা করা হয়েছে: وَمَنْ يَقْنَطُ مِنْ رَّحْمَةِ رَبِّهِ إِلَّا الضَّالُّونَ. "স্বীয় রবের রহমত থেকে কেবল পথভ্রষ্টরাই বিস্মিত হয়।" [সূরা হিজর: ৫৬]

📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 মানবতার জন্য রহমত ও সুসংবাদ

📄 মানবতার জন্য রহমত ও সুসংবাদ


এভাবে প্রিয়নবী (সা) তাওবার প্রকাশ্য ও সাধারণ দাওয়াত দিয়েছেন এবং তার ফযীলত ও ব্যাপকতার কথা বর্ণনা করে ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা প্রদান করেছেন। কারণ তারা হতাশা-নিরাশার ভারে নুয়ে পড়ে আর্তনাদ করছিল এবং আযাব ও তিরস্কারের ফলে এবং গযব-ক্রোধের বহিঃপ্রকাশে তাদের দিল প্রকম্পিত ছিল। আর তাদের এ অনুভূতি সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ইয়াহুদী পণ্ডিত, কিতাবুল মুকাদ্দাসের ব্যাখ্যাদাতা ও খ্রিস্টান উগ্র ধর্মগুরু ও ধর্মীয় নেতাদের বড় দখল ছিল।
প্রিয় নবী (সা) মানবতা ও মানব জীবনকে একটি নতুন ও সুখকর জীবন দান করেন। তাদের দুর্বল ও নির্জীব হৃদয়ে এবং নিস্তেজ দেহে একটি নতুন প্রাণ ও নব উদ্যমতা সৃষ্টি করেন, তার ক্ষতস্থানে প্রলেপ দেন এবং যমীনের নিচ থেকে উঠিয়ে সম্মান, সৌভাগ্য, আত্মবিশ্বাস ও আল্লাহ্র প্রতি নির্ভরশীলতার উচ্চতম শিখরে পৌঁছিয়ে দেন।

এভাবে প্রিয়নবী (সা) তাওবার প্রকাশ্য ও সাধারণ দাওয়াত দিয়েছেন এবং তার ফযীলত ও ব্যাপকতার কথা বর্ণনা করে ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা প্রদান করেছেন। কারণ তারা হতাশা-নিরাশার ভারে নুয়ে পড়ে আর্তনাদ করছিল এবং আযাব ও তিরস্কারের ফলে এবং গযব-ক্রোধের বহিঃপ্রকাশে তাদের দিল প্রকম্পিত ছিল। আর তাদের এ অনুভূতি সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ইয়াহুদী পণ্ডিত, কিতাবুল মুকাদ্দাসের ব্যাখ্যাদাতা ও খ্রিস্টান উগ্র ধর্মগুরু ও ধর্মীয় নেতাদের বড় দখল ছিল।
প্রিয় নবী (সা) মানবতা ও মানব জীবনকে একটি নতুন ও সুখকর জীবন দান করেন। তাদের দুর্বল ও নির্জীব হৃদয়ে এবং নিস্তেজ দেহে একটি নতুন প্রাণ ও নব উদ্যমতা সৃষ্টি করেন, তার ক্ষতস্থানে প্রলেপ দেন এবং যমীনের নিচ থেকে উঠিয়ে সম্মান, সৌভাগ্য, আত্মবিশ্বাস ও আল্লাহ্র প্রতি নির্ভরশীলতার উচ্চতম শিখরে পৌঁছিয়ে দেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00