📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 চীনে নারী

📄 চীনে নারী


মি: রে-স্ট্রেচী চীনে নারীর অবস্থান সম্পর্কে উল্লেখ করেন:
"দূরপ্রাচ্য অর্থাৎ চীনে নারীর অবস্থা তা হতে উত্তম ছিল না। ছোট বালিকাদের পায়ে কাষ্ঠ বিদ্ধ করার প্রথার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, তাকে অসহায় ও দুর্বল করে রাখা। এ প্রথা যদিও অভিজাত ও ধনিক শ্রেণীর মাঝে প্রচলিত ছিল কিন্তু তা দ্বারা 'ঐশী শাসন' যুগে নারীর অবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।”২

টিকাঃ
১. Universal History of the World. E G. J.A Hamerton. Vol 1,0.378 (Lodon)
২. প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৭৮

📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 বৃটিশ সমাজে নারী

📄 বৃটিশ সমাজে নারী


উল্লিখিত প্রবন্ধকার বৃটিশ সমাজে নারীর অবস্থা সম্পর্কে লিখেছেন: “সেখানে নারীকে সকল প্রকার নাগরিক অধিকার হতে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। শিক্ষার দরজা তার জন্য বন্ধ ছিল, শুধুমাত্র নিম্নমানের শ্রমিক হওয়া ছাড়া তার অন্য কাজ করার অধিকার ছিল না। বিবাহের সময় তার সকল ধন-সম্পদ হতে হাত গুটিয়ে নিতে হত।
এটা বলা যেতে পারে যে, মধ্যযুগ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত নারীকে যে মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে, তা থেকে কোনো কল্যাণের আশা করা যেত না।”

টিকাঃ
১. প্রাগুক্ত

📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 ইসলামি শিক্ষা

📄 ইসলামি শিক্ষা


আপনি উল্লিখিত শিক্ষাকে ইসলামের এক নতুন ও স্বতন্ত্র ভূমিকার সাথে তুলনা করুন, যা নারীর মর্যাদা ও তার অবস্থানের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে এবং মানব সমাজে তাকে উপযুক্ত স্থান প্রদানে, অত্যাচারমূলক নিয়ম-নীতি, অন্যায়-অবিচারমূলক প্রথা ও সামাজিক রীতি এবং পুরুষের স্বেচ্ছাচারিতা ও অহংকার থেকে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পবিত্র কুরআনের উপর যদি কেউ একবার স্বাভাবিক দৃষ্টিপাত করেন, তাহলে তিনি নারীর ব্যাপারে জাহিলী দৃষ্টিভঙ্গি ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্য সহজেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন, যার সাথে ব্যক্তিগত আচার-ব্যবহার ও সামাজিক রীতি-নীতি সম্পৃক্ত।
পবিত্র কুরআনের আয়াত যা অর্ধ মানব গোষ্ঠী ও নাজুক প্রজাতির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, তা নারী জাতিকে এজন্যে আত্মবিশ্বাসী করতে সক্ষম যে, তদনুযায়ী সমাজে ও আল্লাহর নিকট তার জন্য সুনির্ধারিত স্থান রয়েছে। ফলে সে দ্বীন ও ইলম, ইসলামের খিদমত, কল্যাণ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগী এবং একটি কল্যাণকর সমাজ গড়তে পূর্ণ অংশগ্রহণ করতে পারে।
পবিত্র কুরআনে আমল গ্রহণ হওয়া এবং মুক্তি ও সৌভাগ্য এবং আখিরাতের সফলতার বর্ণনার ক্ষেত্রে সর্বদাই পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ مَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصُّلِحَتِ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَ هُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ نَقِيرًا .
"যে কেউ নেক আমল করবে, হোক সে পুরুষ বা নারী এবং সে যদি ঈমানদার হয় তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি অণু পরিমাণ জুলুম করা হবে না।" [সূরা নিসা: ১২৪]
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে: فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِنْكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى بَعْضُكُمْ مِّنْ بَعْضٍ.
"অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বলেন, আমি তোমাদের মধ্যে কর্মে নিষ্ঠ কোন পুরুষ ও নারীর আমল নষ্ট করব না, তোমরা একে অপরের অংশ।" [সূরা আলে ইমরান: ১৯৫]
এভাবে পবিত্র কুরআনে শান্তিময় জীবনের সুযোগ ও উপকরণদানের ক্ষেত্রেও পুরুষের সাথে নারীকেও স্মরণ রেখেছেন, এবং তাদের শান্তিময় জীবনের ওয়াদা করেছেন এবং তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বস্তুত 'হায়াতে তাইয়্যিবা' একটি গভীর অর্থবোধক শব্দ। তাতে রয়েছে আদর্শ ও সফল জীবনের অর্থ এবং ইজ্জত, সম্মান, শান্তি ও নিরাপত্তার সীমাহীন অর্থ। ইরশাদ হচ্ছে: مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَ هُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيُوةً طَيِّبَةً وَ لَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ.
"পুরুষ ও নারী কেউ যদি ঈমান গ্রহণের পর সৎকর্ম করে, তাহলে তাকে অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ প্রতিদান প্রদান করব।" [সূরা নাহল: ৯৭]
উত্তম গুণাবলী, নেক আমল এবং দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ শাখাসমূহ আলোচনা করার সময় পবিত্র কুরআন পুরুষের সাথে নারীদের আলোচনা এবং এ ইশারা করাকেই যথেষ্ট মনে করেনি যে, নেক আমল ও উত্তম গুণাবলীর ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মাঝে কোন পার্থক্য নেই। বরং এর বিপরীত এক-একটি বৈশিষ্ট্যকে পৃথক পৃথক আলোচনা করেছে এবং যখন পুরুষদের জন্য কোন উত্তম আমল ও বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করেছে, তখন ঐ গুণ ও বৈশিষ্ট্যের সাথে নারীদেরকেও গুণান্বিত করেছে এবং তাদের পৃথক আলোচনা করেছে যদিও এর জন্য দীর্ঘ অনুচ্ছেদ গ্রহণের প্রয়োজন হয়।
এর হিকমত হলো এই যে, ঐ সকল গুণ ও বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষদের সাথে নারীদের যোগ্যতার অনুমান করতে মানুষের আকল প্রস্তুত ছিল না- যারা তৎকালীন মানুষের আকল-বুদ্ধি অনৈসলামী ধর্ম- দর্শন ও পুরাতন সমাজ ও রীতির ছায়ায় লালিত-পালিত হয়েছিল। আর এ ধরনের মন-মানসিকতা সবর্দা নারী-পুরুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং তারা এমন অসংখ্য গুণের ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে নারীকে শরীক করা থেকে বিরত থাকে। এ ক্ষেত্রে নারীর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও অগ্রসর হওয়ার বিষয় তো প্রশ্নই আসে না। এখন আপনি আমার সাথে পবিত্র কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করুন:
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَتِ وَ الْمُؤْمِنِينَ وَ الْمُؤْمِنَتِ وَ الْقُنِتِينَ وَالْقُنِتَتِ وَالصَّدِقِينَ وَالصَّدِقَتِ وَالصُّبِرِينَ وَالصُّبِرَتِ وَ الْخُشِعِينَ وَالْخُشِعَتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَتِ وَالصَّائِبِينَ وَالصَّئِمَتِ وَالْحُفِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَفِظَتِ وَالذَّاكِرِينَ اللهَ كَثِيرًا وَالذَّاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا .
"নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান পুরুষ ও মুসলমান নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়ী পুরুষ ও বিনয়ী নারী, সাদকাকারী পুরুষ ও সাদকাকারী নারী, রোযাদার পুরুষ ও রোযাদার নারী এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হিফাযতকারী পুরুষ ও লজ্জাস্থান হিফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকিরকারী পুরুষ ও আল্লাহ্র অধিক যিকিরকারী নারী, আল্লাহ্ তাদের জন্য ক্ষমা ও বড় প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।" [সূরা আহযাব: ৩৫]
পবিত্র কুরআন শুধু যে ইবাদত-বন্দেগীর ক্ষেত্রেই তাদের আলোচনা করেছে এমন নয়; বরং যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষ, আলিম, দৃঢ় প্রত্যয়সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, দ্বীনি ও আখলাকী, ধর্মীয় ও নৈতিকতার জবাবদিহিতামূলক কর্মতৎপরতা এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে অসংখ্য কষ্ট-ক্লেশ সহ্যকারীদের সাথেও তাদের আলোচনা করা হয়েছে এবং পরিশেষে মুমিন নারী ও পুরুষের একটি ঐক্যবদ্ধ এবং কল্যাণ ও তাকওয়ার পথে পরস্পর সহযোগিতা-কারী জামাতরূপে দেখতে চেয়েছে। যেমন:
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلوةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ .
“ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অন্যের বন্ধু ও সহযোগী। তারা সৎকাজের আদেশ করে এবং অসৎকাজে নিষেধ করে। তারা নামাযে পাবন্দী করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। এরাই এমন লোক যাদের উপর আল্লাহ্ রহমত বর্ষণ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা অত্যন্ত পরাক্রমশালী ও বড় হিকমতওয়ালা।” [সূরা তাওবা: ৭১]
পবিত্র কুরআন মানব মর্যাদার সুউচ্চ স্তরে পৌঁছাবার এবং তার পূর্ণতা লাভের মাধ্যম হিসেবে লিঙ্গ, জাতি ও বর্ণকে গ্রহণ করেনি; বরং এর মাধ্যম হিসেবে তাকওয়াকে গ্রহণ করেছে। বলা হয়েছে: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ.
“হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে একটি পুরুষ ও একটি নারী হতে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। আর নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য হতে আল্লাহ্র নিকট অধিক সম্মানিত ব্যক্তি সেই- যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে অধিক ভয় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা অধিক জ্ঞাত এবং সবকিছুর খবর রাখেন।” [সূরা হুজুরাত: ১৩]
এ সকল আলোচনা নারী জাতির মাঝে সাহসিকতা, আত্মবিশ্বাস, আত্মচেতনা এবং আধুনিক মনোবিজ্ঞানের পরিভাষায় হীনম্মন্যতা (Inferiority Complex) থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত যথেষ্ট হবে।
এ সকল শিক্ষাব্যবস্থার ফলশ্রুতিতে মুহাম্মাদুর রাসূল (সা)-এর পর হতে বর্তমান যুগ পর্যন্ত ইসলামের বিখ্যাত রমণীগণের মধ্য হতে শিক্ষিকা, উত্তম প্রশিক্ষণদানকারিণী, জিহাদ ও পরিচর্যাকারিণী, সাহিত্যিক, লেখিকা, পবিত্র কুরআনের হাফেজা, হাদীস বর্ণনাকারী, আবেদা, যাহেদা এবং সমাজে মর্যাদা ও গুরুত্বের অধিকারী রমণীর বিরাট সংখ্যা নজরে পড়ে- যাদের কাছ থেকে শিক্ষা অর্জন করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হয়েছে এবং যারা সুউচ্চ ও আদর্শ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।'
ঐ সকল অধিকার- যা ইসলাম মুসলিম নারীদেরকে প্রদান করেছে, সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো, মালিকানা ও মীরাসের অধিকার, ব্যবসা- বাণিজ্যের অধিকার, প্রয়োজন হলে স্বামীর কাছ থেকে খোলা তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার, বিয়েতে রাযী না হলে তা নাকচ করার অধিকার, ঈদ ও জুমু'আ জামাতে শরীক হবার অধিকার; এ ছাড়া অন্যান্য অধিকার রয়েছে যার বিবরণ ফিকহের গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান।

টিকাঃ
১. এ ব্যাপারে বিখ্যাত নারীদের জীবনী দেখা যেতে পারে।

📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 পশ্চিমা পন্ডিত ও ইনসাফপ্রিয় মণীষীদের সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তি

📄 পশ্চিমা পন্ডিত ও ইনসাফপ্রিয় মণীষীদের সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তি


অসংখ্য ইনসাফপ্রিয় পণ্ডিত এবং সমাজ-সংস্কৃতির ইতিহাসের বিজ্ঞ ব্যক্তি কুরআন ও ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। কারণ, তা নারীর মর্যাদা ও তার অধিকার সংবলিত।
এখানে আমরা দু'-তিনটি সাক্ষ্য উল্লেখ করা যথেষ্ট মনে করব। এর মধ্যে একজন পশ্চিমা পণ্ডিত মহিলার স্বীকৃতি রয়েছে। তিনি ভারতে একটি শিক্ষা ও সংস্কার আন্দোলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং দক্ষিণ ভারতের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (থিয়োসুফিক্যাল সোসাইটি) প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেন। একজন মহিলার সাক্ষী এজন্যও গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান যে, তারা মহিলাদের বিষয়ে অত্যন্ত অনুভূতিশীল হয়ে থাকে এবং তারা মহিলাদের পক্ষ গ্রহণ করে তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিক হয়। তিনি হলেন মিসেস এ্যানি বেসান্ত (Mrs. Annie Besant).
তিনি স্বরচিত গ্রন্থে লিখেছেন :
"আপনি এমন কিছু লোক দেখতে পাবেন যারা ইসলাম ধর্মের এজন্য সমালোচনা করে যে, ইসলাম সীমিত পরিসরে হলেও বহুবিবাহের অনুমতি প্রদান করেছে। কিন্তু তারা আমার ঐ সমালোচনা আপনাকে বলবে না- যা আমি লন্ডনের একটি হলরুমে এক সেমিনারে আলোচনা করেছিলাম। আমি সেখানে শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলাম যে, একজন স্ত্রী থাকার পরে অসংখ্য মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া মুনাফিকী (Hypocrisy) এবং সীমিত পরিসরের বহু বিবাহ হতে অধিক অপমানকর। স্বাভাবিকভাবে মানুষ এ ধরনের আলোচনাকে দূষণীয় মনে করে। তারপরেও তাদের বলা উচিত। কারণ, আমাদের স্মরণ রাখা উচিত যে, নারী সংক্রান্ত ইসলামি আইন এখনো পর্যন্ত ইংল্যান্ডে পালন করা হচ্ছে। কারণ, তা সর্বাধিক ন্যায়সংগত আইন- যা দুনিয়াতে বিদ্যমান। মীরাসের অধিকার ও তালাকের বিষয়েও তা পশ্চিমাদের থেকে অনেক অগ্রসর এবং নারীর অধিকার সংরক্ষণকারী। অথচ একবিবাহ ও বহুবিবাহ সম্পর্কিত শব্দসমূহ মানুষকে যাদুগ্রস্ত করে রেখেছে। ফলে, তারা পশ্চিমা নারীদের ঐ অপমানকর জীবনের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করতে চায় না যাকে তার প্রথম সংরক্ষকগণ শুধু এজন্য রাস্তায় নিক্ষেপ করত যে, তার দ্বারা তাদের মন ভরে গেছে। অতঃপর তারা তাদের কোনো সহযোগিতা করত না।"১
মিঃ এন, এল, কোলসেন (MR. N. L. Coulsen) লিখেছেন: "নিঃসন্দেহে নারী বিষয়ে, বিশেষ করে বিবাহিত নারীর ব্যাপারে কুরআনী আইন শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। বিবাহ এবং তালাক সম্পর্কিত অসংখ্য বিধান রয়েছে- যার সাধারণ উদ্দেশ্য হলো, নারীর মর্যাদা সমুন্নত করা। আর তা আরবদের আইন-কানুনে বিপ্লবী পরিবর্তনের প্রমাণ... তাকে পার্সোনাল ল'-এর মর্যাদা দান করেছে, যা ইতিপূর্বে ছিল না। তালাকের বিধানে কুরআন সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন সাধন করেছে, তা হলো ইদ্দতকে তালাকের অন্তর্ভুক্ত করা।”২
ধর্ম ও সভ্যতা বিষয়ক বিশ্বকোষের প্রবন্ধকার লিখেছেন: "ইসলামের নবী নিঃসন্দেহে নারীর মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন, যা সেই প্রাচীন আরব সমাজে পেত। বিশেষ করে স্বামীর মৃত্যুর পর নারী স্বামীর রেখে যাওয়া প্রাণীই থেকে যায়নি, বরং সে নিজে তার মীরাসের হকদার হয়ে যায় এবং অন্য স্বাধীন মহিলাদের মত তাকে দ্বিতীয় বিবাহের ব্যাপারে বাধ্য করা যেত না। সে বিবাহের সময় যে সকল বস্তু পেয়েছিল, তালাকের সময় তা প্রদান করতে তার স্বামী বাধ্য থাকে।
এছাড়াও সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়েরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও কাব্যচর্চার প্রতি আগ্রহী হতে থাকে। কেউ কেউ শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল। সাধারণ পরিবারে নারীরা নিজ গৃহে রাণীর মর্যাদায় এবং তার পরিবারের আনন্দ-বেদনায় শরীক হত। সর্বোপরি তাদেরকে মায়ের মর্যাদা দেয়া হত।""

টিকাঃ
১. The Life is Teaching of Muhammad (SM) by Annie Besant (Modras 1932) p. 3.
2. A History of Islamic Law. (Edinburg 1971) p. 14.
৩. এনসাইক্লোপিডিয়া অব রিলিজিয়ন এণ্ড ইথিক্স (নিউইয়র্ক ১৯১২) পৃঃ ২৭১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00