📄 বৌদ্ধ ধর্মে নারী
বৌদ্ধ ধর্মে নারীদের ব্যাপারে যে ধারণা পোষণ করা হয় সে সম্পর্কে ধর্ম ও আখলাক বিষয়ক বিশ্বকোষের প্রবন্ধকার একজন বৌদ্ধ ধর্মীয় পণ্ডিতের (Chullay Agga) মতামত নমুনা হিসেবে পেশ করেছেন এবং উক্তিকে ওল্ডেনবার্গ (Oldenberg) স্বীয় গ্রন্থ বৌদ্ধ (Buddha)-তে উল্লেখ করেছেন।
"পানির ভিতর থাকা মাছের মনোভাব বোঝা যেমন সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি স্ত্রীলোকের মনোভাব ও প্রকৃতি বোঝা সম্ভব নয়। তাদের কাছে চোরদের মত অসংখ্য অস্ত্র থাকে এবং তাদের নিকট সত্যের কোন নাম-গন্ধ থাকে না।”২
টিকাঃ
২. Encyclopedia of Religion and Ethics. Vol. V.P. 271. New York-1912.
📄 হিন্দু ধর্মে নারী
উল্লিখিত বিশ্বকোষের প্রবন্ধকার হিন্দু ধর্মে নারীর ব্যাপারে ধারণা সম্পর্কে উল্লেখ করেন:
"ব্রাহ্মণ্যবাদে বিবাহের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিটি মানুষের জন্য বিবাহ জরুরী। কিন্তু মনুর বিধান অনুযায়ী স্বামী হলো নারীর মুকুট। তাই স্বামীকে নারাজ করার মত কোন আচরণ তার করা উচিত নয়। এমনকি যদি স্বামী অন্য মহিলার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে কিংবা মৃত্যুবরণ করে, তবুও সে অন্য কোন পুরুষের নাম মুখে উচ্চারণ করতে পারবে না। যদি মহিলা দ্বিতীয় বিবাহ করে, তাহলে সে স্বর্গ হতে বঞ্চিত হবে, যেখানে তার প্রথম স্বামী অবস্থান করছে। স্ত্রী অবাধ্য হলে তাকে অতি নির্মম শাস্তি দেয়া যেতে পারে। নারী কখনোই স্বাধীন হতে পারে না। সে মীরাস পাবে না। স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে সর্বজ্যেষ্ঠ পুত্রের অধীনে জীবন যাপন করতে হবে। স্বামী ইচ্ছা করলে আপন স্ত্রীকে লাঠিদ্বারা পেটাতে পারে।""
টিকাঃ
৩. প্রাগুক্ত- Vol. V.P. 271.
📄 চীনে নারী
মি: রে-স্ট্রেচী চীনে নারীর অবস্থান সম্পর্কে উল্লেখ করেন:
"দূরপ্রাচ্য অর্থাৎ চীনে নারীর অবস্থা তা হতে উত্তম ছিল না। ছোট বালিকাদের পায়ে কাষ্ঠ বিদ্ধ করার প্রথার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, তাকে অসহায় ও দুর্বল করে রাখা। এ প্রথা যদিও অভিজাত ও ধনিক শ্রেণীর মাঝে প্রচলিত ছিল কিন্তু তা দ্বারা 'ঐশী শাসন' যুগে নারীর অবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।”২
টিকাঃ
১. Universal History of the World. E G. J.A Hamerton. Vol 1,0.378 (Lodon)
২. প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৭৮
📄 বৃটিশ সমাজে নারী
উল্লিখিত প্রবন্ধকার বৃটিশ সমাজে নারীর অবস্থা সম্পর্কে লিখেছেন: “সেখানে নারীকে সকল প্রকার নাগরিক অধিকার হতে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। শিক্ষার দরজা তার জন্য বন্ধ ছিল, শুধুমাত্র নিম্নমানের শ্রমিক হওয়া ছাড়া তার অন্য কাজ করার অধিকার ছিল না। বিবাহের সময় তার সকল ধন-সম্পদ হতে হাত গুটিয়ে নিতে হত।
এটা বলা যেতে পারে যে, মধ্যযুগ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত নারীকে যে মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে, তা থেকে কোনো কল্যাণের আশা করা যেত না।”
টিকাঃ
১. প্রাগুক্ত