📄 ইসলাম-পূর্ব সময়ে নারী জাতির অবস্থা
এখানে আমরা প্রথমে ভূমিকাস্বরূপ কিছু কথা আলোচনা করতে চাই। ইসলাম নারীর কল্যাণে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা বোঝার জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে। এখানে বিশিষ্ট আরব পণ্ডিত উস্তাদ আব্বাস মাহমূদ আল-আককাদ রচিত 'আল-মারআতু ফিল কুরআন' গ্রন্থ হতে কিছু উদ্ধৃতি পেশ করতে চাই। যাতে এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণামূলক পর্যালোচনা রয়েছে।
উক্ত লেখক ইসলামের পূর্বে ধর্ম ও সমাজব্যবস্থায় নারীদের অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন:
"ভারতীয় সমাজে মনু' শাস্ত্রে পিতা, স্বামী অথবা উভয়ের মৃত্যুর পর পুত্র থেকে পৃথক থাকা নারীর স্বতন্ত্র কোন অধিকার স্বীকার করা হয়নি। আর তাদের সকলের মৃত্যুর পর নারীকে তার স্বামীর কোন নিকটাত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা ছিল বাধ্যতামূলক। নারী কোন অবস্থায় নিজ কর্মকাণ্ডে স্বাধীন হতে পারত না। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার অধিকার খর্ব হওয়া থেকে অধিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তার স্বামী হতে তার পৃথক জীবন অস্বীকারের আকারে। সেমতে স্বামীর মৃত্যু দিবসে তাকে মৃত্যুবরণ করা এবং তাকে স্বামীর চিতায় সহমরণ বরণ করা বা সতীদাহ অত্যাবশ্যক ছিল। এ প্রাচীন রীতি ও ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতি প্রাচীনকাল হতে সতের শতাব্দী পর্যন্ত বহাল ছিল। এরপরে ধর্মীয় সংস্থাসমূহের অপছন্দ সত্ত্বেও তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।"২
হামুরাবী' ধর্মীয় বিধানে (যে কারণে বাবেল শহর প্রসিদ্ধিলাভ করেছিল) নারী জাতিকে গৃহপালিত পশুর মত মনে করা হতো। আর তাদের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদার ধারণা এ থেকে পাওয়া যায় যে, তাদের নিয়মানুসারে যদি কেউ কারো কন্যাকে হত্যা করত, তাহলে হত্যাকারী তার মেয়েকে নিহতের পরিবর্তে হস্তান্তর করত, যাতে নিহতের অভিভাবক তাকে হত্যা করে, কিংবা দাসী বানিয়ে নেয় অথবা ক্ষমা করে দেয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান মান্য করতে গিয়ে হত্যাই করা হতো।
প্রাচীন গ্রীসে স্ত্রীজাতি সব ধরনের অধিকার ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাদের এমন একটি বড় ঘরে থাকতে দেয়া হতো যা রাস্তা থেকে দূরে এবং স্বল্পসংখ্যক জানালা বিশিষ্ট হতো। এর দরজায় পাহারাদার নিযুক্ত থাকতো। স্ত্রীগণ ও পরিবারের মহিলাগণের প্রতি অনাগ্রহের কারণে গ্রীসের বড় বড় শহরে এ ধরনের সমাবেশের সাধারণ প্রচলন ছিল- যেখানে গায়িকা এবং সুন্দরী নারীদের দ্বারা চিত্তাকর্ষণ করা হতো। ধর্মীয় সভা-সমাবেশে পুরুষের সাথে মহিলদের অংশগ্রহণের অনুমতি খুব কমই পাওয়া যেত। একইভাবে দার্শনিকদের পরিমন্ডলে নারী শূন্যই দেখা যেত। কর্মজীবী নারী কিংবা তালাক-প্রাপ্তাগণ ছিল বাঁদীর ন্যায়, সম্ভ্রান্ত স্ত্রীলোকের মর্যাদা তাদের ছিল না। এরিস্টটল স্পার্টাবাসীদের ব্যাপারে প্রতিবাদ করতেন যে, তারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে নরম ব্যবহার করে এবং তারা তাদেরকে উত্তরাধিকার, তালাক এবং স্বাধীনতার অধিকার দিয়ে রেখেছ। ফলে তারা উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। তিনি স্পার্টার পতন এবং ধ্বংসকে নারীদের অবাধ স্বাধীনতা দানের ফলশ্রুতি বলে মনে করতেন।
প্রাচীন রোমান মহিলাদের সাথে আচরণ प्राचीन ভারতেরই অনুরূপ ছিল। তারা জীবনভর পিতা-স্বামী এবং পুত্রের অধীনে থাকতো। নিজেদের সাংস্কৃতিক উত্থানের ফলে তাদের ধারণা ছিল, না নারীর শিকল কাটা যায় আর না তার কাঁধ হতে জোয়াল নামানো যায়। তাই কাটুর উক্তি ছিল "Nungham Exvitur Servitus Mulie Brio"-এ বন্দীদশা থেকে রোমান নারী কেবল সেই সময় মুক্ত হতে পেরেছিল যখন বিদ্রোহ এবং অবাধ্যাচরণ করে রোমান দাস শ্রেণী মুক্ত হয়েছিল। আর তখনই মহিলাদের দাসী হিসেবে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
উস্তাদ আক্কাদ প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায় মহিলাদের কিছু অধিকার ও স্বাধীনতার কথা আলোচনা করার পর উল্লেখ করেন-
"ইসলামের পূর্বে মিসরীয় সভ্যতা ও তাদের নিয়ম-নীতি, আইন-কানুন শেষ হয়ে যায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে সে সময়ে রোমান সভ্যতার পতন এবং তাদের আয়েসী জীবন ও জীবন উপভোগের ফল স্বরূপ পার্থিব জীবনের ব্যাপারে ঘৃণা করার মেজাজ সৃষ্টি হয়েছিল; এবং জীবন ও পরিবার-পরিজন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। তাদের দুনিয়াবিমুখ চিন্তা-চেতনা দেহ ও নারীকে অপবিত্র মনে করছিল এবং নারীকে পাপের মূল বলে সাব্যস্ত করেছিল। তারা প্রয়োজন ছাড়া তাদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকাকে ভালো মনে করছিল।
এটা মধ্যযুগের ঐ সকল চিন্তারই প্রভাব ছিল, এবং তা পনের শতাব্দী পর্যন্ত কিছু কিছু ধর্মীয় ব্যক্তির চিন্তা ছিল- যারা মহিলাদের প্রকৃতির ব্যাপারে অত্যন্ত গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করত। তারা মাকন (Macon)-এর সভাতে এ প্রশ্ন উঠিয়েছিল যে, নারী প্রাণহীন দেহ, নাকি প্রাণবিশিষ্ট দেহ যার সাথে মুক্তি পাওয়া বা ধ্বংসের সম্পর্ক থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশের মত ছিল যে, তাদের দেহ মুক্তি পাওয়ার যোগ্য রূহশূন্য, তবে শুধু হযরত ঈসা (আ)-এর মাতা কুমারী মরিয়মের বিষয়টি ভিন্ন।
রোমান যুগের ঐ চিন্তা-চেতনা পরবর্তীতে মিসরীয় সভ্যতায় মহিলাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করে। মিসরীদের উপর রোমানদের কঠিন জুলুম-অত্যাচার তাদের সন্ন্যাসী ও দুনিয়াবিমুখ হওয়ার কারণে পরিণত হয়েছিল। ফলে, অসংখ্য দুনিয়াবিমুখ লোক সংসার ত্যাগ করাকে আল্লাহ্র নৈকট্যলাভের উপায় বলে মনে করত এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে (যাদের মধ্যে নারী সর্বপ্রথম) দূরে থাকার মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করত।
অসংখ্য পশ্চিমা ঐতিহাসিক এ অপবাদ দেয় যে, ইসলাম তার বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী শরী'আত হতে, বিশেষত মূসা (আ)-এর শরী'আত থেকে অনেক কিছুই গ্রহণ করেছে। তাদের এ দাবি বাতিল প্রমাণিত হওয়ার জন্য তাওরাতী শরী'আত ও কুরআনী শরী'আতের মাঝে নারীদের যে মর্যাদা রয়েছে, তা তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে সুস্পষ্ট হয়ে যায়। কেননা মূসা (আ)-এর সাথে সম্পৃক্ত কিতাবের শিক্ষা অনুযায়ী মেয়ে পিতার মীরাস থেকে বঞ্চিত হয় যদি তার পুত্র সন্তান থাকে।
এটা ঐ দানের অন্তর্ভুক্ত, যা পিতা তার জীবদ্দশায় অবলম্বন করে থাকে যাতে মৃত্যুর পর শরী'আতের চূড়ান্ত বিধানের মত মীরাস যেন ওয়াজিব না হয়ে যায়।
মীরাসের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধান হলো যতক্ষণ পুত্র সন্তান থাকবে, কন্যা মীরাস হতে বঞ্চিত হবে। যদি কোনো কন্যা মীরাসের অধিকারী হয়, তাহলে তার অন্য গোত্রে বিবাহ করার অনুমতি নেই এবং তার জন্য মীরাসের সম্পদ অন্যত্র নিয়ে যাওয়ারও অনুমতি নেই। এ নির্দেশ তাওরাতের অসংখ্য স্থানে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
এখন আমি ঐ পুণ্যভূমির কথা আলোচনা করব, যেখানে পবিত্র কুরআনের দাওয়াত শুরু হয়েছিল। সে পুণ্যভূমি হলো আরব উপসাগরীয় দেশসমূহ। আপনার সে দেশের প্রতি আশা রাখা উচিত নয় যে, হয়ত সেখানে নারীদের সাথে সদাচরণ ও মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার করা হত। বরং আরব দেশের অনেক অঞ্চলে নারীদের সাথে পৃথিবীর অন্য সকল দেশের তুলনায় অধিক জুলুম- নির্যাতন করা হত। আর যদি তার সাথে কোথাও সদাচারণ করা হত এবং তার স্বামীর ঘরে মর্যাদার সাথে থাকত, তাহলে তা এজন্য যে, উক্ত নারী হয়ত কোন প্রতাপশালী আমীরের কন্যা অথবা কোন প্রিয় সন্তানের মা। কিন্তু শুধু নারী হিসেবে তার সম্মান করা হত না যে, সে নারী এবং সে হিসেবে অধিকার পাওয়ার যোগ্য।
এ আশা করা করা উচিত হবে না যে, পিতা, স্বামী, ভাই এবং পুত্র তাকে অন্য সকল মালিকানাধীন বস্তুর মত বা তার হিফাযতে থাকা বস্তুর মতই হিফাযত করত। কারণ আরব সমাজে এটা মানুষের জন্য লজ্জার কারণ ছিল যে, তার অন্দরমহলের অপদস্থ করা হয়- যেমনি তার হিফাযতে থাকা বা তার সংরক্ষিত বস্তুর উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ দূষণীয় ছিল। ঐ সকল বস্তুর মধ্যে তার ঘোড়া, পালিত পশু, কূপ, চারণভূমিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। নারী ঐ সকল মাল-সম্পদ ও চতুষ্পদ জন্তুর সাথে মীরাস হিসেবে হস্তান্তর হত। কখনো লোকেরা লজ্জার কারণে নিজের কন্যা সন্তানকে শিশুকালেই জীবন্ত সমাধিস্থ করত এবং তার জন্য ব্যয় করা বোঝা মনে করত। অথচ নিজের বাঁদী ও উপকারী প্রাণীর জন্য খরচ করাকে বোঝা মনে করা হতো না। আর যে কন্যার জীবন রক্ষা করত অথবা শৈশবে তার জন্য খরচ করত, সেটা তার দৃষ্টিতে মীরাসের মূল্য ছিল যা পিতা হতে পুত্রের নিকট হস্তান্তর হতো। ঋণ ও সুদ পরিশোধের জন্য কন্যা সন্তানকে বিক্রি করা বা বন্ধক রাখা যেত। কন্যা সন্তানেরা এ ভয়ংকর পরিণতি হতে কেবল তখনই মুক্তি পেত যখন সে কোন সম্ভ্রান্ত গোত্রের সদস্য হত যার নিরাপত্তা ও নিকটত্মীয়তার বিশেষ গুরুত্ব ছিল।'
টিকাঃ
১. এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের সমাজ ও পারিবারিক আইনের উৎস হিসেবে বিবেচিত। তার ব্যক্তিত্বের উপর অজ্ঞতা, অনুমান ও পবিত্রতার পর্দা পড়ে রয়েছে। ফলে তার যুগ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়নি এবং তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জানা সম্ভব হয়নি।
২. হিন্দুদের পবিত্র গ্রন্থ বেদ-এ তাকে অতি মানব দেখানো হয়েছে। এর কোন কোন ভাষ্যমতে তাকে মানব জাতির আদিপিতা ও বিশ্বস্রষ্টার প্রথম অবতার বলে মনে হয়। আর এ নাম ও বৈশিষ্ট্য সনাতন ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মনু স্মৃতি, যাকে পুরাতন ভারতের সামাজিক ও পারিবারিক সংবিধান বলে মনে করা হয়, তাও গো মহারাজ (পুরাতন ভারতের একজন বড় আইনবিদ)-এর রচিত বলে মনে করা হয়। তিনি নিজেকে মনু-এর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার বলে দাবি করতেন। যাই হোক, মনু স্মৃতিকে পুরাতন ভারতের সবচেয়ে সনাতন সাংবিধানিক গ্রন্থ বলে মনে করা হয় এবং অধিকাংশ গবেষকের ধারণামতে এ গ্রন্থ খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে রচিত হয়েছে। (এ টীকার ক্ষেত্রে ড: গঙ্গানাথ ঝা ও ড: জীসাওয়াল-এর গ্রন্থ হতে সাহায্য গ্রহণ করা হয়েছে। তারা ভারতের আইন ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য পণ্ডিত)
১. হামুরাবী: ইরাকের শাসক বংশের একজন প্রসিদ্ধ শাসক, যিনি একটি প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রেের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। খ্রিঃ পৃঃ ৩০০০ সালে তিনি ইরাকের শাসক ছিলেন。
১. আল মারআতু ফিল কুরআন: আল উস্তাদ আব্বাস মাহমূদ আককাদ, পৃঃ ৫১-৫৭
📄 বৌদ্ধ ধর্মে নারী
বৌদ্ধ ধর্মে নারীদের ব্যাপারে যে ধারণা পোষণ করা হয় সে সম্পর্কে ধর্ম ও আখলাক বিষয়ক বিশ্বকোষের প্রবন্ধকার একজন বৌদ্ধ ধর্মীয় পণ্ডিতের (Chullay Agga) মতামত নমুনা হিসেবে পেশ করেছেন এবং উক্তিকে ওল্ডেনবার্গ (Oldenberg) স্বীয় গ্রন্থ বৌদ্ধ (Buddha)-তে উল্লেখ করেছেন।
"পানির ভিতর থাকা মাছের মনোভাব বোঝা যেমন সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি স্ত্রীলোকের মনোভাব ও প্রকৃতি বোঝা সম্ভব নয়। তাদের কাছে চোরদের মত অসংখ্য অস্ত্র থাকে এবং তাদের নিকট সত্যের কোন নাম-গন্ধ থাকে না।”২
টিকাঃ
২. Encyclopedia of Religion and Ethics. Vol. V.P. 271. New York-1912.
📄 হিন্দু ধর্মে নারী
উল্লিখিত বিশ্বকোষের প্রবন্ধকার হিন্দু ধর্মে নারীর ব্যাপারে ধারণা সম্পর্কে উল্লেখ করেন:
"ব্রাহ্মণ্যবাদে বিবাহের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিটি মানুষের জন্য বিবাহ জরুরী। কিন্তু মনুর বিধান অনুযায়ী স্বামী হলো নারীর মুকুট। তাই স্বামীকে নারাজ করার মত কোন আচরণ তার করা উচিত নয়। এমনকি যদি স্বামী অন্য মহিলার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে কিংবা মৃত্যুবরণ করে, তবুও সে অন্য কোন পুরুষের নাম মুখে উচ্চারণ করতে পারবে না। যদি মহিলা দ্বিতীয় বিবাহ করে, তাহলে সে স্বর্গ হতে বঞ্চিত হবে, যেখানে তার প্রথম স্বামী অবস্থান করছে। স্ত্রী অবাধ্য হলে তাকে অতি নির্মম শাস্তি দেয়া যেতে পারে। নারী কখনোই স্বাধীন হতে পারে না। সে মীরাস পাবে না। স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে সর্বজ্যেষ্ঠ পুত্রের অধীনে জীবন যাপন করতে হবে। স্বামী ইচ্ছা করলে আপন স্ত্রীকে লাঠিদ্বারা পেটাতে পারে।""
টিকাঃ
৩. প্রাগুক্ত- Vol. V.P. 271.
📄 চীনে নারী
মি: রে-স্ট্রেচী চীনে নারীর অবস্থান সম্পর্কে উল্লেখ করেন:
"দূরপ্রাচ্য অর্থাৎ চীনে নারীর অবস্থা তা হতে উত্তম ছিল না। ছোট বালিকাদের পায়ে কাষ্ঠ বিদ্ধ করার প্রথার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, তাকে অসহায় ও দুর্বল করে রাখা। এ প্রথা যদিও অভিজাত ও ধনিক শ্রেণীর মাঝে প্রচলিত ছিল কিন্তু তা দ্বারা 'ঐশী শাসন' যুগে নারীর অবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।”২
টিকাঃ
১. Universal History of the World. E G. J.A Hamerton. Vol 1,0.378 (Lodon)
২. প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৭৮