📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 তৃতীয় মহৎ অবদান

📄 তৃতীয় মহৎ অবদান


মানব জাতির উপর রাসূলুল্লাহ (সা) ও ইসলামের তৃতীয় বড় অবদান হলো মানবজাতির মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব ও তার সুউচ্চ মর্যাদার ঘোষণা প্রদান। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা)-এর নবুয়তের পূর্বে মানুষ অপমান ও অপদস্থের গভীরে নিমজ্জিত ছিল এবং ভূপৃষ্ঠে তার থেকে অধিক নিকৃষ্ট ও তুচ্ছ কোন প্রাণী ছিল না। কিছু পবিত্র প্রাণী ও বৃক্ষ ছিল এবং যেগুলোর ব্যাপারে কাল্পনিক কাহিনী ও ভক্তিমূলক বিশ্বাস জুড়েছিল। ঐ সকল বস্তু পূজারীদের নিকট অধিক সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন ছিল এবং মানুষের পরিবর্তে সেগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণের অধিক যোগ্য মনে করা হত। যদি এ কারণে কোন নিরাপরাধ ব্যক্তির রক্তের প্রয়োজন হলে তাতে পিছপা হত না। ঐ সকল বৃক্ষ ও পাথরের সামনে মানুষের রক্ত-মাংস অকৃত্রিম ভালবাসা ও ঠান্ডা দিলে পেশ করা হত। আমরা এখনো তার ভয়াবহ চিত্র এ বিংশ শতাব্দীতে ভারতের মত কতিপয় উন্নত দেশেও দেখতে পাই।
সাইয়েদিনা মুহাম্মদ (সা) মানুষকে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বে বহাল করলেন এবং তার হারানো সম্মান ও অবস্থান পুনরুদ্ধার করলেন। ফলে, সে মানুষই হলো এ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বস্তু ও মহামূল্যবান সম্পদ, পৃথিবীর বুকে তা থেকে অধিক মর্যাদার, মহব্বতের ও হেফাযতের যোগ্য আর কোন বস্তু নেই। প্রিয় নবী (সা) মানুষের মর্যাদা অতি সুউচ্চ শিখরে পৌঁছে দিলেন এবং ঘোষণা দিলেন যে মানুষই হলো এ ধরণীর বুকে আল্লাহ্র প্রতিনিধি ও খলীফা। এ মানুষের জন্যই এ দুনিয়াকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে- আল্লাহর জন্য। এ মর্মে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন:
هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا.
"তিনিই (আল্লাহ্) তোমাদের জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।" [সূরা বাকারা: ২৯]
পবিত্র কুরআন তাকে আশরাফুল মাখলুকাত সৃষ্টির সেরা ও বিশ্বজগতের মধ্যমণি ঘোষণা দান করেছে:
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْتُهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْتُهُمْ مِّنَ الطَّيِّبَتِ وَ فَضَّلْتُهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا.
"আমি তো বনী আদমকে মর্যাদা দান করেছি এবং স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে উত্তম রিযিকদান করেছি এবং আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাদের অনেকের উপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।" [সূরা বনী ইসরাঈল: ৭০]
এক্ষেত্রে প্রিয় নবী (সা)-এর পবিত্র বাণী মানুষের ইযযত ও শ্রেষ্ঠত্বের নজীরবিহীন ঘোষণা। তিনি ইরশাদ করেন- الْخَلْقُ عِيَالُ اللَّهِ فَأَحَبُّ الْخَلْقِ إِلَى اللَّهِ مَنْ أَحْسَنَ إِلَى عِيَالِهِ.
"সৃষ্টি জীব আল্লাহ্র পরিবার। অতএব ঐ ব্যক্তিই আল্লাহ্র নিকট অতি প্রিয় যে তার পরিবারের সাথে সদাচরণ করে।" [বায়হাকী]
মানুষের মর্যাদা প্রদান ও তাদের খিদমতের মাধ্যমে আল্লাহ্র নৈকট্য অর্জনের উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নের হাদীসটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও অর্থবহ- যা হযরত আবূ হুরায়রা (রা) প্রিয় নবী (সা) হতে বর্ণনা করেন।
"আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করবেন, হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ ছিলাম কিন্তু তুমি আমার সেবা করতে আসনি। মানুষ বলবে, হে রব! আপনি রাব্বুল আলামীন, আমি কিভাবে আপনার সেবা করতাম? এতে আল্লাহ্ তাআলা বলবেন- তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল, তারপরেও তুমি তার সেবা করনি? তুমি কি জানতে না, যদি তুমি তার সেবা করতে, তাহলে তুমি আমাকে তার কাছে পেতে।
"হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে আহার করাওনি। মানুষ বলবে- হে আল্লাহ্! আপনি তো বিশ্বজগতের পালনকর্তা, আপনাকে কিভাবে আহার করাতাম? তখন আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করবেন- বান্দা! তোমার কি জানা ছিল না যে, আমার অমুক বান্দা ক্ষুধার্ত ছিল, সে তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল? যদি তাকে খাবার দিতে তাহলে তার কাছে আমাকে পেতে।
"হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি দাওনি। মানুষ বলবে- হে আল্লাহ্! আপনি তো রাব্বুল আলামীন। আপনাকে কিভাবে পানি পান করাতাম? আল্লাহ্ বলবেন- আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল কিন্তু তুমি তাকে পানি দাওনি। যদি তুমি তাকে পানি দিতে, তাহলে তার কাছে আমাকে পেতে।" [মুসলিম]
মানুষের সুমহান মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের এ থেকে অধিক স্পষ্ট কোন ঘোষণা কল্পনা করা যায়, যা তাওহীদবাদী ধর্ম পেশ করেছে? অতীত ও বর্তমান দুনিয়ার কোন ধর্ম-দর্শনের পতাকাতলে মানুষ কি কখনো এমন শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল?
রাসূলুল্লাহ (সা) মানব জাতির উপর রহম করাকে আল্লাহর রহমতের জন্য অনিবার্য শর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন: الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنَ ارْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ .
"রহমকারীদের উপর 'রহমান'-ও রহম করেন। সুতরাং তোমরা যমীন- বাসীদের প্রতি দয়া কর, আসমানবাসী তোমাদের উপর দয়া করবেন।" [সুনানে আবূ দাউদ]
কোন কবি বলেন- کرو مہربانی تم اہل زمیں پر * خدا مہربان ہو گا عرش بریں پر
"তোমরা জগতবাসীর প্রতি দয়া কর, তাহলে আল্লাহ্ 'আরশ হতে তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।"
মানবতার ঐক্য ও মানবতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা এবং রাসূলুল্লাহ (সা) এ জন্য চেষ্টা-সাধনা করার পূর্বে দুনিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু অবহিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রিয় নবী (সা)-এর নবুয়তলাভের পূর্বে এক-একটি মানুষের ইচ্ছার উপর হাজার হাজার মানুষের জীবন নির্ভর করত। কখনো কোন রাজা রাজত্ব গ্রহণ করত আর অমনি দেশ-জাতি, ক্ষেত-খামার ও জনবসতিকে পদদলিত করে চলে যেত। রাজত্বের নেশা ও রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য মুহূর্তে জলস্থলকে তছনছ করে ফেলত।
মহামতি আলেকজান্ডার (Alexander the Great = ৩৫৬ - ৩২৪ খ্রিঃ পূঃ) জলোচ্ছ্বাসের ন্যায় উদিত হন এবং ইরান, সিরিয়া, উপকূলীয় দেশসমূহ, মিসর এবং তুর্কিস্তানের বিরাট অংশ ওলট-পালট করতে করতে উত্তর ভারত পর্যন্ত পৌঁছেন। জয় ও ক্ষমতার নেশায় তিনি এ দীর্ঘ সফরে শত শত বছরের পুরাতন ও উন্নত সভ্যতা ও শহর-নগরকে ধূলোয় মিশিয়ে দেন।
জুলিয়াস সীজার (Julius Caesar = মৃ.৪৪ খ্রিঃ পূঃ) এবং অন্যান্য বিজয়ী ও সেনাপ্রধান, যেমন- কারতাজা-(Carthage), হ্যানিবাল (Hannibal = ২৪৭ - ১৮০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ) এবং অন্যান্য সেনা কমান্ডার ও সেনাবাহিনীর সদস্যগণ মানব বসতির মাঝে এভাবে রক্তের হোলিখেলা করে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ আদম সন্তানকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছিল, যেমন অনুশীলনকারী নিষ্ঠুর শিকারী নির্বিচারে বন্য প্রাণী শিকার করে থাকে।
মানবজীবন ও মানবীয় শরাফতের সাথে ঐ ধরনের ধ্বংসলীলা হযরত ঈসা মসীহ (আ)-এর আবির্ভাবের পরেও অব্যাহত ছিল। তাঁর পরে মানবতার প্রতি জুলুমকারী ও পাষাণ-হৃদয়ের অধিকারীদের মধ্যে নীরো (Nero-g. ৬৮ খ্রিষ্ট)-এর মত ব্যক্তিরা স্বদেশীদের উপর জুলুম-অত্যাচার করেছে এবং এমনকি সে তার মা ও স্ত্রীকেও ক্ষমা করেনি। ঐ ব্যক্তিই রোমের মহা অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী। যখন রোম অগ্নিশিখায় জ্বলছিল, তখন তিনি শান্তিতে বাঁশি বাজাচ্ছিলেন।’
ইউরোপের হিংস্র গোত্রগুলো, যেমন পূর্ব ও পশ্চিমে গ্যাথিক, ভিডাল ও অন্যান্য জাতি মুহাম্মদ (সা)-এর নবুওয়ত লাভের এক শতাব্দী পূর্বে পশ্চিম শতাব্দীতেও ধ্বংসলীলায় মত্ত ছিল। তারা দুনিয়ার বড় বড় সমৃদ্ধ রাজধানীগুলোতে লুটতরাজ করত এবং পৃথিবীর বুকে ভয় ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল।’
আরবদের দৃষ্টিতে মানুষের মূল্য ও মূল্যায়ন অতি তুচ্ছ ছিল। ফলে, যুদ্ধ ও রক্তের হোলিখেলা তাদের নেশায় পরিণত হয়েছিল। অনেক সময় সাধারণ কোন তুচ্ছ ঘটনা তাদের কাছে যুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়াত। আর এ কারণে বনী বকর ও বনী তাগলিব-এর মাঝে চল্লিশ বছর পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত ছিল যেখানে পানির মত রক্তের বন্যা বয়ে গেছে। বস্তুত এ যুদ্ধের কারণ শুধু এতটুকু যে, সা’দ গোত্রের নেতা কুলাইব অপর গোত্রের মুনকিযের কন্যা বস্সুস-এর উটনীর স্তন তীর মেরেছিল। ফলে এর রক্ত ও দুধ মিশে গিয়েছিল। এ কারণে জাস্সাস ইবন মুররাহ তাকে (কুলাইবকে) হত্যা করে। ফলে বকর ও তাগলিব গোত্রদ্বয়ের মাঝে যুদ্ধ বেঁধে যায়। এ গৃহযুদ্ধের ব্যাপারে কুলাইব-এর ভাই আল-মুহালহিল বলেন:
“মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে, মায়েরা সন্তানহীন হয়ে গেছে, শিশুরা ইয়াতীম হয়ে গেছে, অবিরাম অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে আর মানুষের লাশ দাফন-কাফনহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।”
এমন ভাবে দাহিস ও গাবারা নামক যুদ্ধের কারণ ছিল, কায়েস ইবন যুহায়রের দাহিস নামে একটি ঘোড়া ছিল। এ ঘোড়াটি কায়েস ও হুযায়ফা ইবন বদরের মধ্যে প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী হয়ে যায়। এ কারণে হুযায়ফার ইঙ্গিতে আসাদী গোত্রের এক ব্যক্তি ঘোড়াটিকে বিরক্ত করে এবং সেটার মুখে থাপ্পড় মারে। এতে ঘোড়াটি পিছনে পড়ে যায়।
এ ঘটনার কারণে হত্যা ও প্রতিশোধ, গৃহযুদ্ধ, আটক ও বন্দী এবং বিভিন্ন কবীলার দেশত্যাগের ধারা শুরু হয়ে যায়। এ ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়।'
রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যুগের গাযওয়া ও যুদ্ধের সংখ্যা সর্ব সাকুল্যে সাতাশ থেকে আটাশটি। আর সারিয়া যুদ্ধের সংখ্যা হল সর্বোচ্চ ষাটটি। এ সকল যুদ্ধের ইতিহাস যদি পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে, এ যুদ্ধগুলোতে সর্বাপেক্ষা কম পরিমাণ রক্ত ক্ষয় হয়েছে। এ সকল যুদ্ধে উভয়পক্ষে মোট ১,০১৮ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। কারণ, ঐ যুদ্ধগুলোর উদ্দেশ্য ছিল মানব জীবনের হিফাযত ও মানবস্বার্থ রক্ষা করা। ফলে, তারা আদব-আখলাক, শিষ্টাচারমূলক শিক্ষার প্রতি পূর্ণ অনুগত ছিলেন। কারণ ইসলাম যুদ্ধের ময়দানেও 'আযাবের পরিবর্তে আদব-সম্মানের নির্দেশ প্রদান করে।'২
ইসলাম স্বীয় ঈমানী, আখলাকী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার এমন আবেগ-অনুভূতি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল যাদ্বারা একজন মুসলমান খুবই আবেগাপ্লুত হয়ে যায়। ফলে, ঈমানদার কখনো মানুষকে কোন অবস্থায় পশুর কাতারে নামায় না এবং তার সাথে কখনো পশুসুলভ আচরণ করা পছন্দ করে না; আর নিজের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের কারণে অন্যকে গোলামে পরিণত করে না। তারা নিজের এবং অন্য কোন মুসলমানের মাঝে পার্থক্য অনুভব করে না যে, তাদের সাথে কোন অপমানজনক আচরণ করবে। এ ক্ষেত্রে নমুনা হিসেবে একটি চমকপ্রদ ঘটনা উল্লেখ করা হলো:
হযরত আনাস (রা) বর্ণনা করেন, "আমরা একবার হযরত উমর (রা)-এর খিদমতে উপস্থিত ছিলাম। ইতিমধ্যে মিসরের একজন কিবতী নাগরিক তার কাছে ফরিয়াদ (নালিশ) করল। হযরত উমর (রা) বিস্তারিত জানতে চাইলে মিসরী বলে, মিসরের গভর্নর আমর ইবনুল আস (রা) সেখানে ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেন। এ প্রতিযোগিতায় আমার ঘোড়া অগ্রগামী হয়। লোকেরা তা প্রত্যক্ষও করেছে। কিন্তু গভর্নর পুত্র মুহাম্মদ বলে উঠে, আল্লাহর কসম! এটি আমার ঘোড়া। কিন্তু যখন তা নিকটে এলো, তখন তা চিনে বললাম, আল্লাহ্র কসম! এটি আমার ঘোড়া। এ কথা বলার কারণে সে আমাকে চাবুক দ্বারা প্রহার করতে লাগল। আর বলতে লাগল, বেটা জানিস না, 'আমরা ইবনুল আকরামান' (ভদ্রঘরের সন্তান)।
এ কথা শুনে হযরত উমর (রা) তাকে অপেক্ষা করতে বলে আমর ইবনুল আস-এর নিকট লিখলেন- "আমার পত্র পাওয়ামাত্রই তুমি এবং তোমার পুত্র মুহাম্মদ আমার নিকট হাজির হবে।"
বর্ণনাকারী বলেন, "আমর ইবনুল আস-এর নিকট পত্র পৌঁছার পর তিনি পুত্র মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি কোন অপরাধ করেছ? সে উত্তরে বলে, না! এতে তিনি বলেন, তাহলে কেন হযরত উমর (রা) তোমার ব্যাপারে লিখলেন? এরপরেই তাঁরা হযরত উমর (রা)-এর কাছে উপস্থিত হলেন।"
হযরত আনাস (রা) বলেন, "আমরা হযরত উমর (রা)-এর কাছেই বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে দেখতে পেলাম, আমর ইবনুল আস (রা) একটি লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করে উপস্থিত হচ্ছেন। তখন হযরত উমর (রা) দেখতে লাগলেন যে, তার সাথে পুত্র আসছে কিনা, অথচ সে পিছে পিছেই আসছিল।
তারা উপস্থিত হলে হযরত উমর (রা) বলেন, অভিযোগকারী মিসরী কোথায়? মিসরী বলল, জী হ্যাঁ, আমি এখানে। তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন যাও, ইবনুল আকরামানকে কোড়া দ্বারা প্রতিশোধ নাও।"
বর্ণনাকারী বলেন, "সে তাকে খুব ভাল করেই পিটাল। অতঃপর হযরত উমর (রা) তাকে বললেন, যাও, আমরের মাথায় কয়েক ঘা দিয়ে দাও। কেননা তার কর্তৃত্বের কারণেই তো সে তোমাকে মারতে পেরেছে। মিসরী বলল, যে আমাকে প্রহার করেছিল, আমি তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেছি। এতে হযরত উমর (রা) বলেন, যদি তুমি মারতে, তাহলে আমি তাতে বাধা দিতাম না যতক্ষণ না তুমি নিজে ছেড়ে দিতে। তারপর বললেন, হে আমর! তোমরা লোকদেরকে কবে থেকে গোলাম বানিয়ে নিয়েছ? অথচ তাদের মায়েরা তাদেরকে আযাদ ও স্বাধীনরূপে জন্ম দিয়েছে। অতঃপর মিসরীর দিকে মুখ করে বললেন, নির্ভয়ে ফিরে যাও। যদি আবার কোন ঘটনা ঘটে, তাহলে আমাকে লিখো।”১

টিকাঃ
১. Encyclopedia of World History William I. Langer
২. উইলিয়াম এল. ল্যাংগার : এনসাইক্লোপিডিয়া, সাধারণ ইতিহাস
১. দেখুন আয়্যামুল আরব।
২. সেনাবাহিনী প্রেরণ করার সময় নবী (সা)-এর নির্দেশনার ব্যাপারে সীরাত ও হাদীসের কিতাবসমূহ দেখা যেতে পারে। বিস্তরিত জানার জন্য এ লেখকের পুস্তক 'নবী-এ রহমত' দ্বিতীয় খন্ডে 'গাযাওয়াত পর এক নযর' অধ্যায়, পৃঃ ১১৫ দ্রষ্টব্য
১. সীরাতে উমর ইবনুল খাত্তাব, ইবনুল জাওযী - পৃঃ ৮৬-৮৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00