📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 এ সকল চেষ্টা কেন নিষ্ফল হলো এবং কেন তা দ্বারা কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ হয়নি

📄 এ সকল চেষ্টা কেন নিষ্ফল হলো এবং কেন তা দ্বারা কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ হয়নি


একটি ঐতিহাসিক ও গবেষণালব্ধ বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা প্রয়োজন, যা ধর্মীয় ইতিহাস এবং বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানসিক অবস্থা দ্বারা প্রমাণিত। আর তা হলো সকল সংস্কার ও বৈপ্লবিক আন্দোলনগুলো বিকৃতি ও বিচ্যুতির শিকারে পরিণত হয়ে যায়। কারণ, এ সকল ধর্মের প্রবর্তকগণ বিরাট জনগোষ্ঠী থেকে নিজেদেরকে পৃথক করতে সক্ষম হয়নি, যে ধর্মগুলোর মাঝে আন্দোলনগুলো আত্মপ্রকাশ করেছিল বরং ঐ ধর্মগুলো পূর্বের ধর্মীয় সমাজে মিলেমিশে বসবাস করত, যার মৌলিক আকীদা-বিশ্বাসে তারা অস্বীকারকারী ছিল। ফলে, সকল সংস্কারবাদী আন্দোলন পূর্বের বিকৃত পুরাতন ধর্মে আত্মস্থ হয়ে গেল। যার শেষ পরিণাম হলো এই যে, সকল সংস্কার ও শুদ্ধি আন্দোলন এবং চেষ্টা-প্রচেষ্টা বিফল হয়ে গেল।
খ্রিস্টধর্মের সংস্কার ও শুদ্ধি আন্দোলনের পরিণতি এবং ভারতে আত্ম-প্রকাশকারী তাওহীদ ও সাম্য-সম্প্রীতির প্রতি আহবানকারী দলের পরিণতি আমাদের সামনে বিদ্যমান। অন্যদিকে, আম্বিয়া (আ) এবং ইসলাম ধর্মের অবস্থান এ ব্যাপারে অত্যন্ত স্পষ্ট ও স্বচ্ছ। এ অবস্থার কথা হযরত ইব্রাহীম (আ) ও তাঁর ঈমানী চেতনার উত্তরসুরিদের কথার মাধ্যমে স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়, যে কথাগুলো তাঁরা তৎকালীন যুগের মুশরিকদেরকে বলেছিলেন এবং কুরআন আমাদেরকে তা অবহিত করেছে। পবিত্র কুরআনের ভাষায়:
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِى إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَءُوا مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَ بَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللهِ وَحْدَهُ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ لَاسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللهِ مِنْ شَيْءٍ رَبَّnَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ آنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ .
"নিঃসন্দেহে (হযরত) ইবরাহীম ও তার অনুসারীদের মাঝে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। যখন তাঁরা তাদের স্বজাতি লোকদেরকে বলেছিল, তোমাদের থেকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত কর তাদের থেকে আমরা মুক্ত, আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি এবং আমাদের ও তোমাদের মাঝে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও হিংসা সৃষ্টি হলো। যদি না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন কর। তবে হযরত ইবরাহীম (আ) তার পিতার জন্য যে কথা বলেছিল যে, আমি অবশ্যই আপনার জন্য দু'আ করব, আর আপনার ব্যাপারে আল্লাহ্র নিকট আমি কোন অধিকার রাখি না। হে আমাদের রব! আমরা আপনার উপরই ভরসা করেছি, আপনারই দিকে মুখ করেছি এবং প্রত্যাবর্তন তো আপনার কাছেই।" [সূরা মুমতাহিনা: ৪]
হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর দৃষ্টিভঙ্গি ও সুদৃঢ় অবস্থা কোন নির্দিষ্ট সময় ও সমাজের সাথে নির্ধারিত ছিল না, বরং তাঁর পরবর্তীদের জন্যও এ অসীয়ত করে গেছেন। পবিত্র কুরআনের ভাষায়:
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيْهِ وَقَوْمِةٍ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِّمَّا تَعْبُدُونَ إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِيْنِ وَجَعَلَهَا كَلِمَةٌ بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ.
"(ঐ সময়ের কথা স্মরণ করুন) যখন (হযরত) ইবরাহীম (আ) তাঁর পিতা এবং স্বজাতিকে বলেছিলেন, তোমরা যাদের পূজা কর, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, তবে তাঁর সাথে আমার সম্পর্ক, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে হিদায়াত করবেন। এ ঘোষণাকে তিনি স্থায়ী বাণীরূপে রেখে গেছেন তার পরবর্তীদের জন্য, যাতে ওরা ফিরে আসে।" [সূরা যুখরুফ: ২৬,২৭,২৮]
لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ
"যাতে যে ধ্বংস হতে চায় সে যেন সত্যাসত্য স্পষ্টরূপে প্রকাশের পর ধ্বংস হয় আর যে জীবিত থাকবে সে যেন সত্যাসত্য স্পষ্টরূপে প্রকাশের পর জীবিত থাকে।" [সূরা আনফাল: ৪২]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00