📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা) ও ইসলামের বিজ্ঞানীর প্রভাব

📄 রাসূলুল্লাহ (সা) ও ইসলামের বিজ্ঞানীর প্রভাব


এখানে লেখক স্বীয় গ্রন্থ 'মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল?' থেকে একটি উদ্ধৃতি পেশ করছেন যাতে তিনি ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি এবং মানব চিন্তা-চেতনায় তার প্রভাব সম্পর্কে পর্যালোচনা করেছেন।
"যেভাবে বসন্ত মৌসুমে উদ্ভিদ জগত ও মানুষের মেজায মৌসুম দ্বারা প্রভাবিত হয়, ঠিক তেমনি অনুভূত ও অনঅনুভূত পন্থায় মুসলিম শাসন ও সভ্যতার যুগে মানুষের মন-মানসিকতাও পরিবর্তিত ও প্রভাবিত হতে থাকে, চিত্তে কোমলতা ও নম্রতা সৃষ্টি হতে থাকে, ইসলামের মৌল নীতিমালা ও সত্যবাণী মন ও মস্তিষ্কে প্রবিষ্ট হতে থাকে। বস্তুর মূল্য ও মান সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে থাকে। গতকাল পর্যন্ত যেসব বস্তু ও গুণাবলী মানুষের দৃষ্টিতে বিরাট মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্ববহ বলে বিবেচিত ছিল, আজ আর তা তেমন থাকল না। আর যেসব বস্তু গুরুত্বহীন ও মূল্যহীন ছিল, আজ তা গুরুত্ববহ ও মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত হলো; পুরাতন মূল্যবোধের স্থলে নতুন মূল্যবোধের অনুভূতি জাগ্রত হলো। প্রবৃত্তি পূজারীদের মধ্যে হীনমন্যতাবোধ সৃষ্টি হলো। ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, এর অভ্যাস, রীতিনীতি ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ এখতিয়ার করা গর্বের ব্যাপারে হয়ে দাঁড়ায়। দুনিয়া ক্রমান্বয়ে ইসলামের নিকটতর হচ্ছিল, পৃথিবীর বুকে বসবাসকারী মানুষ যেমন সূর্যের আবর্তন-বিবর্তন সম্পর্কে অনুভব করতে পারে না, ঠিক তেমনি পৃথিবীর জাতিগোষ্ঠী ও এর মানুষগুলো নিজেদের ইসলামি প্রবণতা ও ইসলামের অভ্যন্তরীণ প্রভাব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অনুভব করতে পারত না। জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন-ধর্ম ও সভ্যতা-সংস্কৃতি কোন কিছুই এর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না। মানুষের বিবেক ও তার অন্তর এসব প্রভাবের সাক্ষ্য দিত এবং তাদের সুকুমার বৃত্তিতে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মুসলমানদের পতনের পরও যেসব সংস্কার আন্দোলন ঐসব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সৃষ্টি হয়, তা ইসলামি প্রভাব ও ইসলামি ধ্যান-ধারণারই ফলস্বরূপ।'

📘 বিশ্ব সভ্যতায় রাসূলে ﷺ > 📄 পৃথিবীর জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) ও ইসলামের দশটি মৌলিক অবদান

📄 পৃথিবীর জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) ও ইসলামের দশটি মৌলিক অবদান


জাতি-গোষ্ঠীর জীবনে এবং সভ্যতা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব-সমূহকে নির্ধারণ করা এবং তাকে সীমাবদ্ধ করা যদিও অসম্ভব ব্যাপার, তদুপরি আমরা সংক্ষেপে ও নির্বাচন করে তাকে দশটি মৌলিক ও মূল্যবান অবদান হিসেবে নির্ধারণ করার চেষ্টা করব- যা মানব জাতির জন্য দিকনিদের্শনা, তার কল্যাণ ও সফলতা, তার গঠন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে এবং একটি জীবন্ত ও উজ্জীবিত পৃথিবী গড়তে ও এর রূপদান করতে সফলতা অর্জন করেছে; আর তা পচনশীল ও বিধ্বস্ত। দুনিয়ার সাথে কোন প্রকার সাদৃশ্য রাখে না। নিম্নে ঐ সকল মূল্যবান অবদান উল্লেখ করা হলো:
১. স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট একত্ববাদের ধারণা;
২. মানবীয় ঐক্য ও সাম্যের ধারণা;
৩. মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা;
৪. নারীর সামাজিক মর্যাদা ও তার অধিকার পুনরুদ্ধার;
৫. হতাশা ও কুধারণার পরিবর্তে হৃদয়ে হৃদয়ে ছেয়ে গেল আশা- আকাঙ্ক্ষার আলো;
৬. দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয় এবং বর্ণবাদ ও শ্রেণী সংগ্রাম ও শ্রেণী বৈষম্যের অপসারণ;
৭. জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের পবিত্র ও স্থায়ী সম্পর্ক স্থাপন এবং একের ভাগ্যকে অপরের ভাগ্যের সাথে জুড়ে দেয়া, জ্ঞানের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং একে উদ্দেশ্যপূণ, উপকারী ও আল্লাহ্র সাথে সম্পর্কের মাধ্যম বানানোর প্রশংসিত উদ্যোগ;
৮. জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা ধর্মীয় বিষয়ে উপকৃত হওয়া এবং জীবন ও মহাকাশ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনার প্রতি উৎসাহদান;
৯. মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনেতৃত্ব প্রদানকারী ব্যাক্তিগত ও সামষ্টিক চরিত্র মানুষিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সমীক্ষা, পৃথিবীতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং সত্যের সাক্ষ্যের যিম্মাদারী গ্রহণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা;
১০. আকীদা-বিশ্বাস ও সভ্যতা-সংস্কৃতির বিশ্ব ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।
এগুলোর প্রতিটি বিষয়ই ব্যাপক-বিস্তৃত এবং প্রতিটি বিষয়ের রয়েছে সুদীর্ঘ শাখা-প্রশাখা। এ বিষয়গুলো মুহাম্মদ (সা)-এর নবুয়তপূর্ব জাহিলী যুগ ও সভ্যতা-সংস্কৃতিসমূহ এবং ইসলামের আবির্ভাবের যুগ, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থার মাঝে বস্তুনিষ্ঠ ও ইনসাফের সাথে তুলনামূলক পর্যালোচনার দাবি রাখে এবং এর প্রতিটি বিষয়ের জন্যই হাজার হাজার পৃষ্ঠার স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা প্রয়োজন।
এখন আমি মানব জীবনের ঐ সকল অংশের পৃথক পৃথক আলোচনা করব যাদ্বারা ইসলামের মৌলিক ও বিপ্লবী প্রভাবসমূহ সুস্পষ্ট প্রতিভাত হয় এবং তা দ্বারা ইসলামের বৈপ্লবিক ব্যাপকতা এবং অভ্যন্তরীণ শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

টিকাঃ
১. মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কি হারাল, পৃঃ ১৫০-১৫১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00