📄 গ্রন্থ পরিচিতি
মহান আল্লাহ্র যথাযথ প্রশংসা এবং রসূল (সা)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম।
ইসলামি ইতিহাস-দর্শনের মূল উৎসই হলো পবিত্র কুরআন ও হাদীস। কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষাসমূহ যখন নিজের ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভূমিকা পালন করা শুরু করে, তখন তার প্রেক্ষাপটে ইসলামের ঐতিহাসিক চেতনা ও ইতিহাস-দর্শন এবং জীবন ও বিশ্ব সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি কার্যকর ছিল। মানবতাকে অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা-সংস্কৃতির মানদণ্ড ও মূল্যবোধ এবং নিয়ম-নীতি ও মূলনীতি প্রদান করার সাথে সাথে ইসলাম তাকে ইতিহাসের একটি সুনির্দিষ্ট ও সুনির্ধারিত দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর দর্শন প্রদান করেছে যাকে 'সুন্নাতুল্লাহ' দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং এর মাঝে কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন হয় না। [সূরা আহযাব: ২৬]
তেমনিভাবে আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা ও তাঁর কুদরত, ক্ষমতা, ইচ্ছা ও বাসনা, স্বীয় কর্মক্ষমতায় তাঁর স্বাধীনতায় নিরংকুশ ক্ষমতা ও ব্যাপক কর্তৃত্বের উপর ঈমান ও আকীদা-বিশ্বাস- ইসলামি ও মানব ইতিহাসকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছে। আর আল্লাহ্ তা'আলার এ বাণীসমূহ-
كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ .
"প্রতিদিন তিনি বিশেষ অবস্থায় থাকেন।" অর্থাৎ প্রতিদিন তাঁর নতুন নতুন অবস্থা প্রকাশ পায়। [সূরা আর-রহমান: ২৯]
وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَبُهَا
"আর তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না।" [সূরা আনআম: ৫৯]
পৃথিবীকে বলে দিয়েছে, মানবীয় ইতিহাসের পিছনে একটি অদৃশ্য হাত, গায়েবী শক্তি কর্মতৎপর রয়েছে। বস্তুত ঐতিহাসিক উপাদান ও উপকরণ এবং জাগতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন থেকেও বহুগুণ বেশি আল্লাহর ইচ্ছা ও কুদরত তৎপর রয়েছে। আল্লাহ্র সত্তা জীবন ও জগৎ হতে পৃথক নয়, বরং প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর নিয়ন্ত্রণকারী ও পর্যবেক্ষণকারী এবং তাঁর প্রকৃত কর্তা ও কর্মবিধায়ক এবং সৃষ্টির সঙ্গে তাঁর স্রষ্টাসুলভ সম্পর্ক সর্বদা অব্যাহত রয়েছে:
إِنَّمَا أَمْرَةً إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
“তাঁর বিষয়টি এমন যে, যখন তিনি কোন কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন, ‘হও’, আর তা হয়ে যায়।” [সূরা ইয়াসীন: ৮২]
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় যে, পরিশেষে সত্যের বিজয় হয়। اَلْحَقُّ يَعْلُو وَلَا يُعْلَى “সত্য বিজয়ী হয় এবং তা পরাজিত হয় না।”
বিলম্বে বা প্রারম্ভে আখিরাত ছাড়াও দুনিয়াতেই সত্যের বস্তুগত বা অর্থগত ও নীতিগত বিজয় হয় এবং তা বাতিল ও অসত্যের উপর সর্বাবস্থায় প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা হককে প্রভাবিত করার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও আকর্ষণ এবং মানব প্রকৃতির ওপর প্রভাব বিস্তার করার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও যোগ্যতা রেখেছেন। যে কারণে হকপন্থি ও সত্যের অনুসারীরা সফলতা লাভ করে। তাই পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ইরশাদ হয়েছে: وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ “শেষ পরিণতি মুত্তাকীদের জন্য।" [সূরা কাসাস : ৮৩] إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصُّبِرِينَ “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা সবরকারীদের সাথে রয়েছেন।" [সূরা বাকারা: ১৫৩] إِنَّ اللهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ “আল্লাহ্ তা'আলা উত্তম আমল-কারীদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।" [সূরা তাওবা: ১২০]
অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা স্থায়িত্ব ও ধ্বংসের সাধারণ নিয়ম ও চূড়ান্ত নীতির বিবরণ দিতে গিয়ে অধিক যোগ্যতর বস্তুর স্থায়িত্বের পরিবর্তে যে বস্তুর মাঝে মৌলিকত্ব, বাস্তবসম্মত ও কল্যাণ সাধনের যোগ্যতা থাকে, কেবল তাই স্থায়ী থাকে এবং দুনিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। আর যে বস্তু অন্তঃসারশূন্য ও অকল্যাণকর, তা ধ্বংস ও নিঃশেষ হয়ে যায়: فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللهُ الأَمْثَالَ. “আর পানির উপরে থাকা ফেনা অকেজো হয়ে যায়। আর যা মানুষের জন্য কল্যাণকর তা যমীনে বিদ্যমান থাকে। এভাবেই আল্লাহ্ তা'আলা উদাহরণ বর্ণনা করেন।” [সূরা রা'দ: ১৭]
উল্লিখিত আল্লাহ্ বিধানের আলোকে সৃষ্টিগত ও প্রকৃতিগতভাবে ইসলাম যখন একটি গঠনমূলক ও বৈপ্লবিক জীবনদর্শন এবং পরিপূর্ণ আদর্শ জীবন ব্যবস্থার আকারে এসেছে, তখন তা কুফর ও শিরক, জাহিলিয়ত ও মূর্খতা, বস্তুবাদ ও লৌকিকতা পূজা, জাতিগত ও গোষ্ঠীগত পক্ষপাতিত্ব, মানব দুশমনী, সাম্রাজ্যবাদ ও শ্রেণী-বৈষম্য, ধর্ম ও পার্থিব জগতকে পৃথকীকরণ ও অশোভন দুর্দান্ত আচরণ এবং সকল অমানবীয় চিন্তা-চেতনা ও কার্যকলাপকে রহিত করেছিল এবং সুদৃঢ়ভাবে মানুষের জন্য তাওহীদ ও রিসালত, ঈমান ও ইয়াকীন, আমলের প্রতিদান এবং আখিরাতের বিশ্বাস, উন্নত আদর্শ ও নেক আমল, জ্ঞানপ্রীতি ও দূরদর্শিতা, আল্লাহ্-ভীতি ও রূহানিয়ত বাস্তববাদিতা ও সত্যপ্রিয়তা, বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ, সাম্য ও মানবতাবাদ এবং মানুষের সম্মান-সম্ভ্রম ও নারীর অধিকার সংরক্ষণ, দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয় এবং একটি কল্যাণকর সমাজ ও সভ্যতা এবং একটি বিশ্বজনীন মানব সভ্যতার পূনর্গঠন ও রূপায়নের পথ সুগম করে দেয়; আর তা সূর্যের রশ্মি ও চাঁদের কিরণ এবং ঋতুর পরিবর্তনের ন্যায় গোটা মানবতার জগতকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়।
ইসলামী শিক্ষার কারণে এমন এক অতুলনীয় সভ্যতা-সংস্কৃতি অস্তিত্ব লাভ করল যার ভৌগোলিক পরিসীমা পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত এবং তার সময়কাল চৌদ্দশত বছর পর্যন্ত ব্যাপৃত। আর এ স্থান ও সময়ের ব্যাপকতা এবং এ সভ্যতার বিশাল সম্ভাবনা ও তার সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদী উপাদান ও অন্তর্নিহিত শক্তিসমূহ প্রায় সকল মানবীয় সভ্যতাকে কমবেশি প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে। ক্রুসেড যুদ্ধ, কনস্টান্টিনোপল বিজয় (১৪৫২ খ্রি.), অতঃপর স্পেনের ইসলামি শাসনের মাধ্যমে ইসলামি সভ্যতা পাশ্চাত্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও কারিগরি বিদ্যার উন্নতির ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে যে প্রভাব ও কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছিল, তার স্বীকৃতিতে নিকট অতীতে ও বর্তমানে বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করা হয়েছে। তন্মধ্যে গুস্তাভ লিবয়ন রচিত 'আরব সভ্যতা' রবার্ট ব্রিফল্ট (Robert Briffault) রচিত 'মানবতার পুনর্গঠন' (Making of Humnnity), টয়েনবী (A. J. Toynbee) রচিত 'স্টাডি অব হিস্ট্রী, জর্জ সার্টেন রচিত 'হিস্ট্রী অব সায়েন্স' (History of Science) এবং ড. তারাচাঁদ রচিত ভারতীয় সংস্কৃতিতে ইসলামের প্রভাব (Influence of Islam in Indian Culture) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
উর্দু ভাষায় এ বিষয়ে হযরত মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ)-এর জীবন্ত গ্রন্থ 'ইনসানী দুনিয়া পর মুসলমানু কে উরূয ও যাওয়াল কা আছর' (মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল) সর্বপ্রথম গ্রন্থ ছিল। উক্ত গ্রন্থটি এ বিশাল বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ ও নাজুক বিষয়ের হক আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল এবং বিষয়ের গুরুত্ব, মূল্য ও মূল্যায়নের বিচারে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিজ্ঞ ব্যক্তিদের মনোযোগের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে- যার কিছুটা অনুমান করা যেতে পারে। এভাবে যে, গ্রন্থটির আরবি ও উর্দুতে এক ডজনের বেশি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে এবং ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায়ও কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। আর বিজ্ঞজনেরা তা থেকে সর্বদা উপকৃত হচ্ছেন। হযরত মাওলানা (রহ) রচিত الاسلام : اثره في الحضارة وفضله على الانسانية এর উর্দু অনুবাদ লেখকের কলম থেকে প্রকাশ হতে যাচ্ছে। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সুনির্ধারিতভাবে মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে ইসলামের অনস্বীকার্য অবদান এবং সুদূরপ্রসারী-দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ও প্রভাবের বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞানগর্ভ ও ঐতিহাসিক বিশ্বস্ততা, চিন্তাগত ও গবেষণামূলক স্বচ্ছতা এবং ঈমানী অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞার সাথে আলোচনা করা হয়েছে। এতে একটি বিশাল-বিস্তৃত জ্ঞানসাগরকে এবং অসংখ্য শাখা-প্রশাখা সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক বিষয়কে দশটিমাত্র মৌলিক শিরোনামে সংকুচিত করা এবং দরিয়াকে একটি কলসে ভরার মত এমন ঐতিহাসিক দক্ষতাপূর্ণ ও বিজ্ঞোচিত প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে- যা কোন প্রকার বিভেদ ছাড়াই জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দুনিয়ার সকল ইতিহাসবিদ, গবেষক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, ধর্ম ও সংস্কৃতির তুলনামূলক পর্যালোচনাকারী গবেষক এবং সকল চিন্তাবিদ ও অনুসন্ধানী ব্যক্তিদের জন্য সাধারণ ঘোষণা ও চিন্তা-ফিকিরের দাওয়াতনামার ভূমিকা পালন করছে। মুসলিম ঐতিহাসিক ও গবেষকগণ গ্রন্থের চিন্তার দ্বার উন্মোচনকারী বিষয়গুলোকে নিজেদের গবেষণার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে এবং তার মাঝে আরো ব্যাপকতা সৃষ্টি করে বর্তমান যুগে ইসলাম ও মুসলমানদের বৃহৎ খিদমত আঞ্জাম দিতে সক্ষম এবং তারা ইলমী ও গবেষণার জগতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেকটা অজ্ঞাত বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবেন।
গ্রন্থের বিষয়বস্তুগুলো শুধুমাত্র ঐতিহাসিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে নয়, বরং এতে বর্তমান যুগের সমস্যা ও সংকটসমূহের সমাধান পেশ করা হয়েছে এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার আঘাতে জর্জরিত ও তার অত্যাচারে পিষ্ট, নিজের বর্তমান অবস্থানে অসন্তুষ্ট ও ভবিষ্যতের ব্যাপারে হতাশ মানুষগুলোর মাঝে সাহস ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করতে এবং জাতিগত পক্ষপাতিত্ব ও গোষ্ঠীগত ভেদাভেদকে অভিশাপ আখ্যায়িত করে ইসলামি-ভ্রাতৃত্ব, সাম্য এবং তার উদ্ভাবিত বিশ্বজনীন সভ্যতা-সংস্কৃতি ও ঐক্যের দিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে- যাতে এর মাধ্যমেই মানুষ ইজ্জত-সম্মান ও মর্যাদার ঊর্ধ্বজগতে পৌঁছতে সক্ষম হয়। আর নারী জাতি নিজের সৃষ্টিগত মর্যাদা ও সকল প্রকার অধিকার পেতে সক্ষম হয়। এর পাশাপাশি তাওহীদের বিশ্বজনীন প্রভাব এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আকল-বুদ্ধির প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং বিজ্ঞানকে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে কল্যাণকর ও আল্লাহ্- ভীতির মাধ্যমে পরিণত করার প্রতি উৎসাহ পাওয়া যেতে পারে। পরিশেষে তাতে মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের ঐ সকল মহৎ লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করা এবং সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দুনিয়ার পথপ্রদর্শন, পর্যবেক্ষণ, বিশ্বব্যবস্থা ও আখলাক-চরিত্রের বিচার, সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং সত্যের সাক্ষ্য প্রদানের দায়িত্ব পালনের জোরালো ও নিষ্ঠাপূর্ণ দাওয়াত দেয়া হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা মুসলমানদেরকে নিজেদের ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব পালনের জ্ঞান, দৃষ্টিশক্তি ও সাহস দান করুন এবং সাধারণ মানুষকে এ সকল আলোচিত বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা ও আমল করার তাওফীক দান করুন।
این دعا از من و از جملہ جہاں امیں باد
এ দু'আ আমার পক্ষ হতে; আর গোটা বিশ্ব- আমীন বলেছে-
این دعا از من * و از جملہ جھاں امیں باد
১২ই রবিউস্সানী ১৪০৬ হি. ১৫/১২/১৯৮৫ খ্রি.
শামস তাবরীয খান
সদস্য, মজলিসে তাহকীকাত ও নাশরিয়াতে ইসলাম
📄 ভূমিকা
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.
হিজরী পনের শতাব্দীকে স্বাগত জানানো উপলক্ষে (যাকে মুসলিম বিশ্ব বিভিন্নভাবে ও ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে উদযাপন করেছিল)।' কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগ বিষয়টি উদযাপনের জন্য একটি الاسلام والحضارة الانسانية সেমিনারের আয়োজন করেছিল এবং লেখককে (ইসলাম ও মানব সভ্যতা) বিষয়ে নিজস্ব মতামত পেশ করার জন্য দাওয়াত করেছিল। এ দাওয়াতের সাথে লেখক স্বভাবগত ও চিন্তাগত সামঞ্জস্য অনুভব করেন। ফলে, লেখকের উপর এর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ইতিবাচক সাড়া পায়। কারণ, তার কাছে বিষয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের অনুভূতি ছিল এবং এ বিষয় ও উদ্দেশ্যের সাথে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ফলে, তাতে প্রয়োজন মত আরো চিন্তা-ভাবনা ও অধ্যয়ন করে আরো কিছু সংযোজন করা সম্ভব ছিল। তাই তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে দাওয়াত কবুল করেন এবং অত্যন্ত কর্মব্যস্ততা ও বেশ কিছু সফরসূচি থাকা সত্ত্বেও অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ প্রস্তুত করতে সক্ষম হন।
অনুষ্ঠানটি কুয়েত সরকারের প্রচার ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান কলেজ হলে ১৮ই সফর ১৪০৪ হিজরী মুতাবিক ২৩শে নভেম্বর ১৯৮৩ খ্রিঃ বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সে দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট জ্ঞানী ব্যক্তি এবং উচ্চশিক্ষিত যুবক শ্রেণীর এক বিরাট সংখ্যক উপস্থিত ছিল। এ প্রবন্ধটিই মক্কা মুকাররমাত অবস্থিত النادي الثقافي নামক একটি বিশাল সমাবেশে ৩০শে সফর ১৪০৪ হিজরীতে (৬ই ডিসেম্বর ১৯৮৪ খ্রিঃ) পাঠ করা হয়। পরবর্তীতে তা احادیث ضريحة مع اخواننا العرب والمسلمين নামক সংকলন গ্রন্থের সাথে প্রকাশিত হয়।'
কিন্তু উল্লিখিত প্রবন্ধ (মৌলিক আলোচনা ও চিন্তাশীল বিষয়সমূহের দিকে ইঙ্গিত করার প্রেক্ষিতে) সময় স্বল্পতা ও অধিক ব্যস্ততার কারণে তা অতি সংক্ষিপ্তভাবে লেখা হয়েছিল। অতঃপর আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সীরাত ও সুন্নাহ-এর চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সচিবালয়ের পক্ষ থেকে লেখককে দাওয়াত দেয়া হয়। ঘটনাক্রমে তার আলোচ্য বিষয়ের ) اثر الرسالة الاسلامية فى الحضارة الانسانية তালিকার নবুয়তে মুহাম্মদীর প্রভাব) নামে একটি শিরোনাম ছিল। ফলে, এ দাওয়াতনামা উক্ত বিষয়ের উপর আরো বেশি গবেষণা ও সংযোজন করার উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং এ বিষয় থেকে একবার মানসিকভাবে সরে আসার পর পুনরায় তা চিন্তা- চেতনায় ও মন-মস্তিষ্কে ভর করে (স্বীয় গবেষণা ও লেখালেখির জীবনে এ অভিজ্ঞতা বার বার হয়েছে)। ফলে, আবার নতুন করে এ বিষয়ে চিন্তা-ফিকির শুরু হলো। মূল শিরোনামের অধীনে উপ-শিরোনাম প্রস্তুত করা হয় এবং বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও বিশ্বসভ্যতায় ইসলামের সুস্পষ্ট প্রভাব ও মুহাম্মদ (সা)-এর নবুয়তের গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক অবদানসমূহ প্রসঙ্গে পাওয়া নতুন নতুন তথ্যসমূহ, শক্তিশালী দলীল-প্রমাণ এবং অমুসলিম পন্ডিতদের সাক্ষ্যসমূহ প্রবন্ধটিকে সাদা-মাটা লেখার স্তর হতে উন্নত করে একটি নতুন গবেষণামূলক বিষয় এবং তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক আলোচনার রূপ দান করেছে। ফলে, তা মুসলিম ও অমুসলিম ইনসাফপ্রিয় গবেষকবৃন্দের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং তা বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদযোগ্য ও শিক্ষিত মহলে পেশ করার উপযুক্ত বানিয়ে দিয়েছে। যাদের মধ্যে সবসময় সত্য গ্রহণ করা, তার স্বীকৃতি প্রদান, উদার মনে গ্রহণ করা এবং প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গির গুণ পাওয়া যায় এবং তা থেকে কোন যামানাই শূন্য ছিল না।
লেখক এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও বেমানান বিনয় অবলম্বন করেননি। ফলে, তিনি স্বীয় পূর্ব রচনা থেকে উদ্ধৃতি উপস্থাপন করতে দ্বিধাবোধ করেননি; বরং তিনি স্বীয় রচনা হতে ঐ সকল নির্বাচিত অংশ উল্লেখ করেছেন- যা ঐ লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও তত্ত্বকে উত্তম পন্থায় পেশ করে- যা বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য। প্রত্যেক গ্রন্থকার ও লেখকের অভিজ্ঞতা রয়েছে যে, বিষয়বস্তুর পুনরাবৃত্তি, কলমের গতি, মনের উদ্দীপনা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার মত বস্তু নয় যে, তা সব সময় অর্জিত হয়। তাই লেখক যদি নিজের সাবেক ভান্ডার থেকে কখনো কল্যাণকর ও কার্যকর অংশ পেশ করেন, তাহলে তা লেখকের পক্ষে দোষের কিছু নয়। সুতরাং পাঠক এখানে এমন কিছু আলোচনা দেখতে পাবেন- যা ‘মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল’ বা ‘নবীয়ে রহমত’ বা অন্য কোন গ্রন্থে পড়ে থাকবেন। কিন্তু নতুন সংকলন বিন্যাস ও সংযোজনের কারণে পুস্তিকা বা প্রবন্ধটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থের রূপ লাভ করেছে এবং বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্টতা, সামঞ্জস্য ও স্বকীয়তার কারণে তা এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দাবি রাখে। গ্রন্থকার যখন কায়রোর ‘সীরাত ও সুন্নাহ’ শীর্ষক চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিলম্ব হওয়ার খবর পান, তখন তিনি এ বিষয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার সুযোগ পান, তখন তিনি এ গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা, চিন্তা ও বস্তুনিষ্ঠ দাওয়াতের যোগ্যতা ও বিষয়টিকে সামনে অগ্রসর করা এবং তার হক আদায় করার এ বিপ্লবী আবেদনের কারণে- যা তার মাঝে নিহিত রয়েছে- এ গ্রন্থটিকে প্রকাশ করা অনিবার্য মনে করলেন।
وَعَلَى اللَّهِ قَصْدُ السَّبِيلِ “সরল পথ আল্লাহর কাছেই পৌঁছায়।” [সূরা নাহল : ৯]
লেখক স্বীয় স্নেহভাজন ও সহযোগী মৌলভী শামস তাবরীখকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছেন। কারণ, তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও সাবলীলভাবে বইটি উর্দু ভাষায় ভাষান্তর করেছেন এবং এতে উদ্ধৃত গ্রন্থ তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করেছেন- যা তিনি আরবি থেকে উর্দুতে তরজমা করেছেন।
১৯শে শাওয়াল ১৪০৫ হিজরী
৮ই জুলাই ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
আবুল হাসান আলী নদভী
টিকাঃ
১. এ উপলক্ষে ঐ জলসার আলোচনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য- যা ভারতের মুসলিম ছাত্র সংগঠন (S. I. M)-এর উদ্যোগে ২২শে যিলহজ্জ ১৪০০ হিজরীতে লক্ষ্ণৌয়ের গঙ্গা প্রসাদ মেমেরিয়াল হলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার একটি সুন্দর স্মারক ছিল লেখকের একটি বক্তৃতা যা ‘পনের শতাব্দী হিজরী: অতীত ও বর্তমান-এর আয়নাতে' শিরোনামে উর্দু, আরবি ও ইংরেজিতে প্রকাশ করা হয়েছিল। আর আরব বিশ্ব ও হিন্দুস্থানের ধর্মীয় ও জ্ঞানী মহলে তা বিশেষভাবে সমাদৃত ও গৃহীত হয়েছিল।
১. পৃষ্ঠা ৬৩-৮০, দারে আরাফাত, রায়বেরেলী কর্তৃক মুদ্রিত।
📄 মুহাম্মদ ব্র্যান্ড প্রকাশিত অন্যান্য কিতাবসমূহ
সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ) রচিত
১. মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল?
২. আরকানে আরবাআ
৩. ঈমানের হাকীকত
৪. ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা
৫. নবীয়ে রহমত (সা)
৬. সীরাতে সাইয়িদ আহমাদ শহীদ (রহ)
৭. আমরা সেই কাফেলা
৮. মুসলিম বিশ্বে ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব
৯. কাদিয়ানীজম
১০. প্রাচ্যে মুসলমান
১১. আল-মুরতাজা
১২. মাকতাবায়ে হাসান বসরী
১৩. মাকতাবায়ে মাদানী
১৪. মাকতাবায়ে ইবনে তাইমিয়া
১৫. মাকতাবায়ে নদভী
১৬. ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার সংঘাত
১৭. ভারতে মুসলমানদের অবদান
১৮. জীবন পথের দিশারী
১৯. নির্বাচিত রচনাবলী (১ম-৫ম খণ্ড)
২০. ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও তার মৌলিক রূপরেখা
২১. ইসলাম ও জীবন
২২. এসো জীবন গড়ি
২৩. ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নবুওয়ত ও আম্বিয়ায়ে কিরাম
২৪. আল্লামা ইকবালের epistolary লিগ্যাসি
২৫. ঈমানদীপ্ত দাস্তান
২৬. ঈমান যখন জাগলো
২৭. নতুন তুফান ও তার প্রতিরোধ
২৮. মাআরেফুল কুরআন
২৯. সীরাতুন নবী (সা) (১ম-৭ম খণ্ড একত্রে)
৩০. খুতবাতে মাদ্রাজ
৩১. সীরাতে সাহাবা (রা) (১ম ও ২য় খণ্ড একত্রে)
৩২. আসমাউর রিজাল
৩৩. ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
৩৪. আল জিহাদ ফিল ইসলাম
৩৫. পর্দা ও ইসলাম
পরিবেশক : মুহাম্মদ ব্রাদার্স
সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ) রচিত
১. মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল?
২. আরকানে আরবাআ
৩. ঈমানের হাকীকত
৪. ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা
৫. নবীয়ে রহমত (সা)
৬. সীরাতে সাইয়িদ আহমাদ শহীদ (রহ)
৭. আমরা সেই কাফেলা
৮. মুসলিম বিশ্বে ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব
৯. কাদিয়ানীজম
১০. প্রাচ্যে মুসলমান
১১. আল-মুরতাজা
১২. মাকতাবায়ে হাসান বসরী
১৩. মাকতাবায়ে মাদানী
১৪. মাকতাবায়ে ইবনে তাইমিয়া
১৫. মাকতাবায়ে নদভী
১৬. ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার সংঘাত
১৭. ভারতে মুসলমানদের অবদান
১৮. জীবন পথের দিশারী
১৯. নির্বাচিত রচনাবলী (১ম-৫ম খণ্ড)
২০. ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও তার মৌলিক রূপরেখা
২১. ইসলাম ও জীবন
২২. এসো জীবন গড়ি
২৩. ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নবুওয়ত ও আম্বিয়ায়ে কিরাম
২৪. আল্লামা ইকবালের epistolary লিগ্যাসি
২৫. ঈমানদীপ্ত দাস্তান
২৬. ঈমান যখন জাগলো
২৭. নতুন তুফান ও তার প্রতিরোধ
২৮. মাআরেফুল কুরআন
২৯. সীরাতুন নবী (সা) (১ম-৭ম খণ্ড একত্রে)
৩০. খুতবাতে মাদ্রাজ
৩১. সীরাতে সাহাবা (রা) (১ম ও ২য় খণ্ড একত্রে)
৩২. আসমাউর রিজাল
৩৩. ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
৩৪. আল জিহাদ ফিল ইসলাম
৩৫. পর্দা ও ইসলাম
পরিবেশক : মুহাম্মদ ব্রাদার্স
সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ) রচিত
১. মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল?
২. আরকানে আরবাআ
৩. ঈমানের হাকীকত
৪. ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা
৫. নবীয়ে রহমত (সা)
৬. সীরাতে সাইয়িদ আহমাদ শহীদ (রহ)
৭. আমরা সেই কাফেলা
৮. মুসলিম বিশ্বে ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব
৯. কাদিয়ানীজম
১০. প্রাচ্যে মুসলমান
১১. আল-মুরতাজা
১২. মাকতাবায়ে হাসান বসরী
১৩. মাকতাবায়ে মাদানী
১৪. মাকতাবায়ে ইবনে তাইমিয়া
১৫. মাকতাবায়ে নদভী
১৬. ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার সংঘাত
১৭. ভারতে মুসলমানদের অবদান
১৮. জীবন পথের দিশারী
১৯. নির্বাচিত রচনাবলী (১ম-৫ম খণ্ড)
২০. ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও তার মৌলিক রূপরেখা
২১. ইসলাম ও জীবন
২২. এসো জীবন গড়ি
২৩. ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নবুওয়ত ও আম্বিয়ায়ে কিরাম
২৪. আল্লামা ইকবালের epistolary লিগ্যাসি
২৫. ঈমানদীপ্ত দাস্তান
২৬. ঈমান যখন জাগলো
২৭. নতুন তুফান ও তার প্রতিরোধ
২৮. মাআরেফুল কুরআন
২৯. সীরাতুন নবী (সা) (১ম-৭ম খণ্ড একত্রে)
৩০. খুতবাতে মাদ্রাজ
৩১. সীরাতে সাহাবা (রা) (১ম ও ২য় খণ্ড একত্রে)
৩২. আসমাউর রিজাল
৩৩. ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
৩৪. আল জিহাদ ফিল ইসলাম
৩৫. পর্দা ও ইসলাম
পরিবেশক : মুহাম্মদ ব্রাদার্স