📄 সোহায়েল (রাঃ) বিন আমরের স্থান
ওয়াকেদী বর্ণনা করেছেনঃ বদরের যুদ্ধে সোহায়েল বিন আমর গ্রেফতার হয়ে যুদ্ধ বন্দীদের সঙ্গে মদীনা পৌঁছলেন। এ সময় হযরত ওমর (রাঃ) রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকট আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, তার দাঁত ভেঙ্গে দিন। তার যবান ইসলামের বিরুদ্ধে আগুন ঝরায়। দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার পর সে আপনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেনা।।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "আমি যদি তার শরীরের কোন অংশ কেটে ফেলি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমার শরীরের অংশ কেটে ফেলবেন। অথচ আমি আল্লাহর সত্য নবী। তোমরা কি জানো যে ঐ যবান ও বক্তৃতার মাধ্যমে কোন দিন সে এমন ভূমিকা পালন করবে যাতে তোমরা খুশী হয়ে যাবে। ইবনে ইসহাক লিখেছেন, "রাসূলের (সাঃ) যখন ওফাত হলো তখন مسلمانوں ওপর মুসিবতের পাহাড় আপতিত হলো। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলতেন যে, হজুরে আকরামের (রাঃ) ইন্তেকালের সময় مسلمانوں অবস্থা রক্ষকবিহিন বকরীর পালের মত হয়ে গিয়েছিল। আরব গোত্রসমূহ মুরতাদ হয়ে গেল। ইহুদী ও খৃষ্টানরা ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিল এবং মুনাফিকরা আস্তিনের মধ্যে থেকে শিকল কাটার ব্যাপারে তৎপর ছিল। এই অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষ রহমতে মুসলিম উম্মাহকে হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) নেতৃত্বে একত্রিত করে তাদেরকে শৃংখলাবদ্ধকরলেন।”
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেন, "আবু ওবায়দা এবং অন্যান্য আহলে ইলম আমরার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাকের (সাঃ) ইন্তেকারের পর মক্কা বাসীরা ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার কথা চিন্তা করছিল। মক্কার গবর্ণর ইতাব বিন উসাইয়্যিদ একদিকে হুজুরের (সাঃ) ইন্তেকালে শোকাহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। অন্যদিকে মক্কাবাসীর ধ্যান ধারনায় খুব খারাব অনুভব করছিলেন এবং মক্কার বাইরে গিয়ে কোন উপত্যকায় বসে রলেন। এই নাযুক মুহূর্তে সোহায়েল (রাঃ) বিন আমর মক্কাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে এমন জোরদার বক্তৃতা দিলেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানার পর রাসুলের (সাঃ) আয়াতের উল্লেখ করলেন। অতপর অত্যন্ত শক্তি ও বাহাদুরীর সাথে ঘোষণা করলেন, "হুজুরের (সাঃ) বিদায় গ্রহন অবশ্যই দুঃখের কারণ। কিন্তু তাতে ইসলাম দুর্বল হবেনা। বরং ইসলামের শক্তি ইনশাল্লাহ বৃদ্ধি পাবে। যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাইবে আমরা তার গর্দান উড়িয়ে দেবো।”
সোহায়েলের (রাঃ) আবেগপূর্ণ বক্তৃতার খুব প্রভাব পড়লো, তিনি লোকদেরকে নীরব করিয়ে রাখলেন। ইসলামের ওপর কায়েম থাকা ও তার আনুগত্য করা ছাড়া খারাপ ধারণা পোষণকারীদের আর অন্য কোন পথ খোলা রইলোনা। সমগ্র আরব ফিতনায় ভরে গিয়েছিল। কিন্তু মক্কা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ছিল খবর জানতে পেরে হযরত ইতাবও (রাঃ) মক্কা চলে এলেন। হুজুরে আকরামের (সাঃ) কথায় এই ইঙ্গিতই ছিল যে সোহায়েলের ভাষণ মুসলমানদেরকে খুশী করবে।
এই ঘটনার কথা মদীনায় যখন হয়রত ওমরের (রাঃ) নিকট পৌঁছলো তখন তিনি খুব প্রভাবিত হলেন এবং আনন্দে বলে উঠলেন, "আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।"
ওয়াকেদী বর্ণনা করেছেনঃ বদরের যুদ্ধে সোহায়েল বিন আমর গ্রেফতার হয়ে যুদ্ধ বন্দীদের সঙ্গে মদীনা পৌঁছলেন। এ সময় হযরত ওমর (রাঃ) রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকট আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, তার দাঁত ভেঙ্গে দিন। তার যবান ইসলামের বিরুদ্ধে আগুন ঝরায়। দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার পর সে আপনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেনা।।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "আমি যদি তার শরীরের কোন অংশ কেটে ফেলি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমার শরীরের অংশ কেটে ফেলবেন। অথচ আমি আল্লাহর সত্য নবী। তোমরা কি জানো যে ঐ যবান ও বক্তৃতার মাধ্যমে কোন দিন সে এমন ভূমিকা পালন করবে যাতে তোমরা খুশী হয়ে যাবে। ইবনে ইসহাক লিখেছেন, "রাসূলের (সাঃ) যখন ওফাত হলো তখন مسلمانوں ওপর মুসিবতের পাহাড় আপতিত হলো। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলতেন যে, হজুরে আকরামের (রাঃ) ইন্তেকালের সময় مسلمانوں অবস্থা রক্ষকবিহিন বকরীর পালের মত হয়ে গিয়েছিল। আরব গোত্রসমূহ মুরতাদ হয়ে গেল। ইহুদী ও খৃষ্টানরা ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিল এবং মুনাফিকরা আস্তিনের মধ্যে থেকে শিকল কাটার ব্যাপারে তৎপর ছিল। এই অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষ রহমতে মুসলিম উম্মাহকে হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) নেতৃত্বে একত্রিত করে তাদেরকে শৃংখলাবদ্ধকরলেন।”
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেন, "আবু ওবায়দা এবং অন্যান্য আহলে ইলম আমরার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাকের (সাঃ) ইন্তেকারের পর মক্কা বাসীরা ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার কথা চিন্তা করছিল। মক্কার গবর্ণর ইতাব বিন উসাইয়্যিদ একদিকে হুজুরের (সাঃ) ইন্তেকালে শোকাহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। অন্যদিকে মক্কাবাসীর ধ্যান ধারনায় খুব খারাব অনুভব করছিলেন এবং মক্কার বাইরে গিয়ে কোন উপত্যকায় বসে রলেন। এই নাযুক মুহূর্তে সোহায়েল (রাঃ) বিন আমর মক্কাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে এমন জোরদার বক্তৃতা দিলেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানার পর রাসুলের (সাঃ) আয়াতের উল্লেখ করলেন। অতপর অত্যন্ত শক্তি ও বাহাদুরীর সাথে ঘোষণা করলেন, "হুজুরের (সাঃ) বিদায় গ্রহন অবশ্যই দুঃখের কারণ। কিন্তু তাতে ইসলাম দুর্বল হবেনা। বরং ইসলামের শক্তি ইনশাল্লাহ বৃদ্ধি পাবে। যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাইবে আমরা তার গর্দান উড়িয়ে দেবো।”
সোহায়েলের (রাঃ) আবেগপূর্ণ বক্তৃতার খুব প্রভাব পড়লো, তিনি লোকদেরকে নীরব করিয়ে রাখলেন। ইসলামের ওপর কায়েম থাকা ও তার আনুগত্য করা ছাড়া খারাপ ধারণা পোষণকারীদের আর অন্য কোন পথ খোলা রইলোনা। সমগ্র আরব ফিতনায় ভরে গিয়েছিল। কিন্তু মক্কা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ছিল খবর জানতে পেরে হযরত ইতাবও (রাঃ) মক্কা চলে এলেন। হুজুরে আকরামের (সাঃ) কথায় এই ইঙ্গিতই ছিল যে সোহায়েলের ভাষণ মুসলমানদেরকে খুশী করবে।
এই ঘটনার কথা মদীনায় যখন হয়রত ওমরের (রাঃ) নিকট পৌঁছলো তখন তিনি খুব প্রভাবিত হলেন এবং আনন্দে বলে উঠলেন, "আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।"
ওয়াকেদী বর্ণনা করেছেনঃ বদরের যুদ্ধে সোহায়েল বিন আমর গ্রেফতার হয়ে যুদ্ধ বন্দীদের সঙ্গে মদীনা পৌঁছলেন। এ সময় হযরত ওমর (রাঃ) রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকট আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, তার দাঁত ভেঙ্গে দিন। তার যবান ইসলামের বিরুদ্ধে আগুন ঝরায়। দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার পর সে আপনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেনা।।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "আমি যদি তার শরীরের কোন অংশ কেটে ফেলি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমার শরীরের অংশ কেটে ফেলবেন। অথচ আমি আল্লাহর সত্য নবী। তোমরা কি জানো যে ঐ যবান ও বক্তৃতার মাধ্যমে কোন দিন সে এমন ভূমিকা পালন করবে যাতে তোমরা খুশী হয়ে যাবে। ইবনে ইসহাক লিখেছেন, "রাসূলের (সাঃ) যখন ওফাত হলো তখন مسلمانوں ওপর মুসিবতের পাহাড় আপতিত হলো। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলতেন যে, হজুরে আকরামের (রাঃ) ইন্তেকালের সময় مسلمانوں অবস্থা রক্ষকবিহিন বকরীর পালের মত হয়ে গিয়েছিল। আরব গোত্রসমূহ মুরতাদ হয়ে গেল। ইহুদী ও খৃষ্টানরা ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিল এবং মুনাফিকরা আস্তিনের মধ্যে থেকে শিকল কাটার ব্যাপারে তৎপর ছিল। এই অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষ রহমতে মুসলিম উম্মাহকে হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) নেতৃত্বে একত্রিত করে তাদেরকে শৃংখলাবদ্ধকরলেন।”
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেন, "আবু ওবায়দা এবং অন্যান্য আহলে ইলম আমরার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাকের (সাঃ) ইন্তেকারের পর মক্কা বাসীরা ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার কথা চিন্তা করছিল। মক্কার গবর্ণর ইতাব বিন উসাইয়্যিদ একদিকে হুজুরের (সাঃ) ইন্তেকালে শোকাহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। অন্যদিকে মক্কাবাসীর ধ্যান ধারনায় খুব খারাব অনুভব করছিলেন এবং মক্কার বাইরে গিয়ে কোন উপত্যকায় বসে রলেন। এই নাযুক মুহূর্তে সোহায়েল (রাঃ) বিন আমর মক্কাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে এমন জোরদার বক্তৃতা দিলেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানার পর রাসুলের (সাঃ) আয়াতের উল্লেখ করলেন। অতপর অত্যন্ত শক্তি ও বাহাদুরীর সাথে ঘোষণা করলেন, "হুজুরের (সাঃ) বিদায় গ্রহন অবশ্যই দুঃখের কারণ। কিন্তু তাতে ইসলাম দুর্বল হবেনা। বরং ইসলামের শক্তি ইনশাল্লাহ বৃদ্ধি পাবে। যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাইবে আমরা তার গর্দান উড়িয়ে দেবো।”
সোহায়েলের (রাঃ) আবেগপূর্ণ বক্তৃতার খুব প্রভাব পড়লো, তিনি লোকদেরকে নীরব করিয়ে রাখলেন। ইসলামের ওপর কায়েম থাকা ও তার আনুগত্য করা ছাড়া খারাপ ধারণা পোষণকারীদের আর অন্য কোন পথ খোলা রইলোনা। সমগ্র আরব ফিতনায় ভরে গিয়েছিল। কিন্তু মক্কা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ছিল খবর জানতে পেরে হযরত ইতাবও (রাঃ) মক্কা চলে এলেন। হুজুরে আকরামের (সাঃ) কথায় এই ইঙ্গিতই ছিল যে সোহায়েলের ভাষণ মুসলমানদেরকে খুশী করবে।
এই ঘটনার কথা মদীনায় যখন হয়রত ওমরের (রাঃ) নিকট পৌঁছলো তখন তিনি খুব প্রভাবিত হলেন এবং আনন্দে বলে উঠলেন, "আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।"
📄 ফাত্বিয়ার (রাঃ) হাদীস
ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ননা করেছেন যে হযরত আয়েশার (রাঃ) রাওয়ায়েত তাঁর পর্যন্ত যাকারিয়া থেকে ফিরাস, তাঁর থেকে আমের, তাঁর থেকে মাসরুকের তরফ থেকে পৌঁচেছে। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলেছেন, "একদিন ফাতিমা (রাঃ) রাসুলের (সাঃ) নিকট এলেন। তাঁর চাল-চলন সম্পূর্ণরূপে নবীয়ে আকরামের (সাঃ) চাল-চলনের সদৃশ ছিল। নবী পাক (সাঃ) তাঁকে দেখে স্বাগত জানালেন এবং নিজের সঙ্গে ডান দিকে বসালেন। অতপর তিনি হযরত ফাতিমার (রাঃ) কানে কানে কথা বললেন। তাতে তিনি কেঁদে ফেললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, " ফাতিমা তুমি কাঁদছো কেন?" কিন্তু তিনি কোন জবাব দিলেন না। হুজুরে পাক (সাঃ) পুনরায় তার কানে কানে কথা বললেন। এবার তিনি হেসে দিলেন। আমি বললাম, " হাসি ও কান্না উভয়কে এত নিকটবতী আমি কখনো দেখিনি।”
আমি হযরত ফাতিমার নিকট এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "এটা রাসুলের (সাঃ) গোপন কথা। আমি তা ফাঁস করতে পারিনা।" হুজুরে আকরামের (সাঃ) ওফাতের পর আমি একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম। ফাতিমা (রাঃ) আমাকে বলেছিলেন, "হুজুর (সাঃ) আমাকে বলেছিলেন যে, জিবরাইল (আঃ) তাঁর সঙ্গে প্রতিবছর কুরআন মজিদের এক পালা শেষ করতেন। কিন্তু এবছর জিবরাইল (আঃ) দুই পালা সম্পূর্ণ করেছেন। একে রাসুলে করিম (সাঃ) নিজের প্রস্থান হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাতে আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। অতপর আব্বাজান আমাকে বললেন, "আমার আহলি বাইতের মধ্য থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। তুমি কি একথায় খুশী নও যে জান্নাতে তুমি মুমিন মহিলাদের সরদার হবে। তাঁর এই কথা শুনে আমি খুশী হলাম এবং হেসে দিলাম।
ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ননা করেছেন যে হযরত আয়েশার (রাঃ) রাওয়ায়েত তাঁর পর্যন্ত যাকারিয়া থেকে ফিরাস, তাঁর থেকে আমের, তাঁর থেকে মাসরুকের তরফ থেকে পৌঁচেছে। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলেছেন, "একদিন ফাতিমা (রাঃ) রাসুলের (সাঃ) নিকট এলেন। তাঁর চাল-চলন সম্পূর্ণরূপে নবীয়ে আকরামের (সাঃ) চাল-চলনের সদৃশ ছিল। নবী পাক (সাঃ) তাঁকে দেখে স্বাগত জানালেন এবং নিজের সঙ্গে ডান দিকে বসালেন। অতপর তিনি হযরত ফাতিমার (রাঃ) কানে কানে কথা বললেন। তাতে তিনি কেঁদে ফেললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, " ফাতিমা তুমি কাঁদছো কেন?" কিন্তু তিনি কোন জবাব দিলেন না। হুজুরে পাক (সাঃ) পুনরায় তার কানে কানে কথা বললেন। এবার তিনি হেসে দিলেন। আমি বললাম, " হাসি ও কান্না উভয়কে এত নিকটবতী আমি কখনো দেখিনি।”
আমি হযরত ফাতিমার নিকট এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "এটা রাসুলের (সাঃ) গোপন কথা। আমি তা ফাঁস করতে পারিনা।" হুজুরে আকরামের (সাঃ) ওফাতের পর আমি একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম। ফাতিমা (রাঃ) আমাকে বলেছিলেন, "হুজুর (সাঃ) আমাকে বলেছিলেন যে, জিবরাইল (আঃ) তাঁর সঙ্গে প্রতিবছর কুরআন মজিদের এক পালা শেষ করতেন। কিন্তু এবছর জিবরাইল (আঃ) দুই পালা সম্পূর্ণ করেছেন। একে রাসুলে করিম (সাঃ) নিজের প্রস্থান হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাতে আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। অতপর আব্বাজান আমাকে বললেন, "আমার আহলি বাইতের মধ্য থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। তুমি কি একথায় খুশী নও যে জান্নাতে তুমি মুমিন মহিলাদের সরদার হবে। তাঁর এই কথা শুনে আমি খুশী হলাম এবং হেসে দিলাম।
ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ননা করেছেন যে হযরত আয়েশার (রাঃ) রাওয়ায়েত তাঁর পর্যন্ত যাকারিয়া থেকে ফিরাস, তাঁর থেকে আমের, তাঁর থেকে মাসরুকের তরফ থেকে পৌঁচেছে। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলেছেন, "একদিন ফাতিমা (রাঃ) রাসুলের (সাঃ) নিকট এলেন। তাঁর চাল-চলন সম্পূর্ণরূপে নবীয়ে আকরামের (সাঃ) চাল-চলনের সদৃশ ছিল। নবী পাক (সাঃ) তাঁকে দেখে স্বাগত জানালেন এবং নিজের সঙ্গে ডান দিকে বসালেন। অতপর তিনি হযরত ফাতিমার (রাঃ) কানে কানে কথা বললেন। তাতে তিনি কেঁদে ফেললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, " ফাতিমা তুমি কাঁদছো কেন?" কিন্তু তিনি কোন জবাব দিলেন না। হুজুরে পাক (সাঃ) পুনরায় তার কানে কানে কথা বললেন। এবার তিনি হেসে দিলেন। আমি বললাম, " হাসি ও কান্না উভয়কে এত নিকটবতী আমি কখনো দেখিনি।”
আমি হযরত ফাতিমার নিকট এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "এটা রাসুলের (সাঃ) গোপন কথা। আমি তা ফাঁস করতে পারিনা।" হুজুরে আকরামের (সাঃ) ওফাতের পর আমি একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম। ফাতিমা (রাঃ) আমাকে বলেছিলেন, "হুজুর (সাঃ) আমাকে বলেছিলেন যে, জিবরাইল (আঃ) তাঁর সঙ্গে প্রতিবছর কুরআন মজিদের এক পালা শেষ করতেন। কিন্তু এবছর জিবরাইল (আঃ) দুই পালা সম্পূর্ণ করেছেন। একে রাসুলে করিম (সাঃ) নিজের প্রস্থান হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাতে আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। অতপর আব্বাজান আমাকে বললেন, "আমার আহলি বাইতের মধ্য থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। তুমি কি একথায় খুশী নও যে জান্নাতে তুমি মুমিন মহিলাদের সরদার হবে। তাঁর এই কথা শুনে আমি খুশী হলাম এবং হেসে দিলাম।
📄 উটের অভিযোগ
ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) বিন জাফর বিন আবি তালিবের (রাঃ) এক রাওয়ায়েত রাবীদের এক সিলসিলা বর্ণনার পর লিখেছেন। এই প্রসঙ্গে মাহদী বিন মাইমুন, মুহাম্মাদ বিন আবি ইয়াকুব, হাসান বিন সাদ এবং বাহাজ ও আফফানের নাম উল্লেখিত হয়েছে। এই হাসান বিন সা'দ হযরত হাসান বিন আলীর (রাঃ) গোলাম ছিলেন। হযরত আবদুল্লাহ বিন জাফর বর্ণনা করেছেন, "একদিন নবী পাক (সাঃ) আমাকে সওয়ারীর ওপর নিজের পেছনে সওয়ার করিয়ে নিলেন। তিনি আমাকে একটি গোপন কথা বললেন। আমি কখনো সেই গোপন কথা ফাঁসকরবোনা।
এই সময় হুজুরে পাক (সাঃ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দানের জন্য সওয়ারী থেকে নেমে একটি খেজুরের বাগানে গেলেন। সেখানে পুশিদা স্থানে তিনি কাজ সারলেন। সেখান থেকে তিনি বাইরে আসছিলেন। এমন সময় একটি উট তাঁর সামনে এলো এবং কান্না শুরু করলো। তার চোখে ছিল পানি।
হুজুরে আকরাম (সাঃ) তার অবস্থা দেখলেন। তাঁর অন্তর ভরে এলো এবং চোখেও অশ্রু দেখা দিল। তিনি তার পিঠ ও গর্দানের উপর হাত ফিরালেন। তাতে সে চুপ মেরে গেল। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "এই উটের মালিক কে?" একজন আনসারী যুবক এগিয়ে এলো এবং বললো, "হে আল্লাহর রাসূল! এই উট আমার।” তিনি বললেন, "তুমি কি এই ভাষাহীন চতুষ্পদ জন্তুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না? আল্লাহ পাক তাকে তোমার মালিকানায় দিয়েছেন। সে আমার নিকট অভিযোগ করেছে যে তুমি তার থেকে কাজ পুরাটাই নিয়ে থাকো। কিন্তু তাকে খাবার দাওনা।"
ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) বিন জাফর বিন আবি তালিবের (রাঃ) এক রাওয়ায়েত রাবীদের এক সিলসিলা বর্ণনার পর লিখেছেন। এই প্রসঙ্গে মাহদী বিন মাইমুন, মুহাম্মাদ বিন আবি ইয়াকুব, হাসান বিন সাদ এবং বাহাজ ও আফফানের নাম উল্লেখিত হয়েছে। এই হাসান বিন সা'দ হযরত হাসান বিন আলীর (রাঃ) গোলাম ছিলেন। হযরত আবদুল্লাহ বিন জাফর বর্ণনা করেছেন, "একদিন নবী পাক (সাঃ) আমাকে সওয়ারীর ওপর নিজের পেছনে সওয়ার করিয়ে নিলেন। তিনি আমাকে একটি গোপন কথা বললেন। আমি কখনো সেই গোপন কথা ফাঁসকরবোনা।
এই সময় হুজুরে পাক (সাঃ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দানের জন্য সওয়ারী থেকে নেমে একটি খেজুরের বাগানে গেলেন। সেখানে পুশিদা স্থানে তিনি কাজ সারলেন। সেখান থেকে তিনি বাইরে আসছিলেন। এমন সময় একটি উট তাঁর সামনে এলো এবং কান্না শুরু করলো। তার চোখে ছিল পানি।
হুজুরে আকরাম (সাঃ) তার অবস্থা দেখলেন। তাঁর অন্তর ভরে এলো এবং চোখেও অশ্রু দেখা দিল। তিনি তার পিঠ ও গর্দানের উপর হাত ফিরালেন। তাতে সে চুপ মেরে গেল। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "এই উটের মালিক কে?" একজন আনসারী যুবক এগিয়ে এলো এবং বললো, "হে আল্লাহর রাসূল! এই উট আমার।” তিনি বললেন, "তুমি কি এই ভাষাহীন চতুষ্পদ জন্তুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না? আল্লাহ পাক তাকে তোমার মালিকানায় দিয়েছেন। সে আমার নিকট অভিযোগ করেছে যে তুমি তার থেকে কাজ পুরাটাই নিয়ে থাকো। কিন্তু তাকে খাবার দাওনা।"
ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) বিন জাফর বিন আবি তালিবের (রাঃ) এক রাওয়ায়েত রাবীদের এক সিলসিলা বর্ণনার পর লিখেছেন। এই প্রসঙ্গে মাহদী বিন মাইমুন, মুহাম্মাদ বিন আবি ইয়াকুব, হাসান বিন সাদ এবং বাহাজ ও আফফানের নাম উল্লেখিত হয়েছে। এই হাসান বিন সা'দ হযরত হাসান বিন আলীর (রাঃ) গোলাম ছিলেন। হযরত আবদুল্লাহ বিন জাফর বর্ণনা করেছেন, "একদিন নবী পাক (সাঃ) আমাকে সওয়ারীর ওপর নিজের পেছনে সওয়ার করিয়ে নিলেন। তিনি আমাকে একটি গোপন কথা বললেন। আমি কখনো সেই গোপন কথা ফাঁসকরবোনা।
এই সময় হুজুরে পাক (সাঃ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দানের জন্য সওয়ারী থেকে নেমে একটি খেজুরের বাগানে গেলেন। সেখানে পুশিদা স্থানে তিনি কাজ সারলেন। সেখান থেকে তিনি বাইরে আসছিলেন। এমন সময় একটি উট তাঁর সামনে এলো এবং কান্না শুরু করলো। তার চোখে ছিল পানি।
হুজুরে আকরাম (সাঃ) তার অবস্থা দেখলেন। তাঁর অন্তর ভরে এলো এবং চোখেও অশ্রু দেখা দিল। তিনি তার পিঠ ও গর্দানের উপর হাত ফিরালেন। তাতে সে চুপ মেরে গেল। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "এই উটের মালিক কে?" একজন আনসারী যুবক এগিয়ে এলো এবং বললো, "হে আল্লাহর রাসূল! এই উট আমার।” তিনি বললেন, "তুমি কি এই ভাষাহীন চতুষ্পদ জন্তুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না? আল্লাহ পাক তাকে তোমার মালিকানায় দিয়েছেন। সে আমার নিকট অভিযোগ করেছে যে তুমি তার থেকে কাজ পুরাটাই নিয়ে থাকো। কিন্তু তাকে খাবার দাওনা।"
📄 হরিণীর ঘটনা
আবু নঈম ইস্পাহানী রাবীদের একটি সিলসিলা উল্লেখ করে হযরত উম্মে সালামার একটি রাওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "রাসুলে করিম (সাঃ) একবার কোন এক প্রস্তরময় উপত্যকা অতিক্রম করছিলেন। এমন সময় তিনি শুনতে পেলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ” তিনি বলেন, "আমি এই আওয়াজ শুনে চারদিকে দেখলাম। কিন্তু কেউই নজের পড়লোনা। আমি সামনে অগ্রসর হলাম। পুনরায় একই আওয়াজ আবারো শুনলাম। যেদিক থেকে আওয়াজ আসছিল আমি সেদিকে গেলাম। সেখানে একটি হরিনী রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেলাম। একজন সশস্ত্র বেদুঈন রৌদ্রেশুয়েছিল।
হরিনী বললো, "হে আল্লাহর রাসূল। এই বেদুঈন আমাকে শিকার করেছে। এই পাহাড়ে আমার ছোট ছোট দুটি বাচ্চা রয়েছে। আপনি যদি আমাকে খুলে দেন তাহলে আমি তাদেরকে দুধ পান করিয়ে ফিরে আসবো।"
নবী পাক (সাঃ) বললেন, "তুমি কি সত্যি তা করবে? জবাবে সে আরজ করলো, আমি যদি ওয়াদা পুরন না করি তাহলে আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে প্রসব বেদনায় মেরে ফেলেন।"
তিনি তার রশি খুলে দিলেন। সে দৌড়ে চলে গেল এবং বাচ্চাদের দুধ পান করিয়ে ফিরে এলো। ফিরে আসার পর নবী পাক (সাঃ) তাকে রশি দিয়ে বাঁধ ছিলেন। এমন সময় বেদুঈনের চোখ খুলে গেল। সে রাসূলকে (সাঃ) চিনতে পারলো এবং আরজ করলো, "হে আল্লাহর রাসুল। আমার মাতা-পিতা আপনার ওপর কুরবানি হোক। আমি কিছুক্ষণ আগে এই হরিনী শিকার করেছি। আপনার কি তা প্রয়োজন আছে?” তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তা আমার প্রয়োজন রয়েছে।"
সে বললো, "আপনি আনন্দ চিত্তে তা নিতে পারেন।"
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হারিনীকে আযাদ করে দিলেন। তাতে সে এতো খুশী হলো যে ময়দানে সে দৌড়ানো শুরু করলো। তারপর খুশীতে মাটির ওপর পা আছড়াতে লাগলো এবং আল্লাহর একত্ববাদ এবং রাসূলের (সাঃ) রিসালতের স্বাক্ষ্য দিতে দিতে সেখান থেকে বিদায় নিলো।"
আবু নঈম ইস্পাহানী রাবীদের একটি সিলসিলা উল্লেখ করে হযরত উম্মে সালামার একটি রাওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "রাসুলে করিম (সাঃ) একবার কোন এক প্রস্তরময় উপত্যকা অতিক্রম করছিলেন। এমন সময় তিনি শুনতে পেলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ” তিনি বলেন, "আমি এই আওয়াজ শুনে চারদিকে দেখলাম। কিন্তু কেউই নজের পড়লোনা। আমি সামনে অগ্রসর হলাম। পুনরায় একই আওয়াজ আবারো শুনলাম। যেদিক থেকে আওয়াজ আসছিল আমি সেদিকে গেলাম। সেখানে একটি হরিনী রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেলাম। একজন সশস্ত্র বেদুঈন রৌদ্রেশুয়েছিল।
হরিনী বললো, "হে আল্লাহর রাসূল। এই বেদুঈন আমাকে শিকার করেছে। এই পাহাড়ে আমার ছোট ছোট দুটি বাচ্চা রয়েছে। আপনি যদি আমাকে খুলে দেন তাহলে আমি তাদেরকে দুধ পান করিয়ে ফিরে আসবো।"
নবী পাক (সাঃ) বললেন, "তুমি কি সত্যি তা করবে? জবাবে সে আরজ করলো, আমি যদি ওয়াদা পুরন না করি তাহলে আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে প্রসব বেদনায় মেরে ফেলেন।"
তিনি তার রশি খুলে দিলেন। সে দৌড়ে চলে গেল এবং বাচ্চাদের দুধ পান করিয়ে ফিরে এলো। ফিরে আসার পর নবী পাক (সাঃ) তাকে রশি দিয়ে বাঁধ ছিলেন। এমন সময় বেদুঈনের চোখ খুলে গেল। সে রাসূলকে (সাঃ) চিনতে পারলো এবং আরজ করলো, "হে আল্লাহর রাসুল। আমার মাতা-পিতা আপনার ওপর কুরবানি হোক। আমি কিছুক্ষণ আগে এই হরিনী শিকার করেছি। আপনার কি তা প্রয়োজন আছে?” তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তা আমার প্রয়োজন রয়েছে।"
সে বললো, "আপনি আনন্দ চিত্তে তা নিতে পারেন।"
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হারিনীকে আযাদ করে দিলেন। তাতে সে এতো খুশী হলো যে ময়দানে সে দৌড়ানো শুরু করলো। তারপর খুশীতে মাটির ওপর পা আছড়াতে লাগলো এবং আল্লাহর একত্ববাদ এবং রাসূলের (সাঃ) রিসালতের স্বাক্ষ্য দিতে দিতে সেখান থেকে বিদায় নিলো।"
আবু নঈম ইস্পাহানী রাবীদের একটি সিলসিলা উল্লেখ করে হযরত উম্মে সালামার একটি রাওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "রাসুলে করিম (সাঃ) একবার কোন এক প্রস্তরময় উপত্যকা অতিক্রম করছিলেন। এমন সময় তিনি শুনতে পেলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ” তিনি বলেন, "আমি এই আওয়াজ শুনে চারদিকে দেখলাম। কিন্তু কেউই নজের পড়লোনা। আমি সামনে অগ্রসর হলাম। পুনরায় একই আওয়াজ আবারো শুনলাম। যেদিক থেকে আওয়াজ আসছিল আমি সেদিকে গেলাম। সেখানে একটি হরিনী রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেলাম। একজন সশস্ত্র বেদুঈন রৌদ্রেশুয়েছিল।
হরিনী বললো, "হে আল্লাহর রাসূল। এই বেদুঈন আমাকে শিকার করেছে। এই পাহাড়ে আমার ছোট ছোট দুটি বাচ্চা রয়েছে। আপনি যদি আমাকে খুলে দেন তাহলে আমি তাদেরকে দুধ পান করিয়ে ফিরে আসবো।"
নবী পাক (সাঃ) বললেন, "তুমি কি সত্যি তা করবে? জবাবে সে আরজ করলো, আমি যদি ওয়াদা পুরন না করি তাহলে আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে প্রসব বেদনায় মেরে ফেলেন।"
তিনি তার রশি খুলে দিলেন। সে দৌড়ে চলে গেল এবং বাচ্চাদের দুধ পান করিয়ে ফিরে এলো। ফিরে আসার পর নবী পাক (সাঃ) তাকে রশি দিয়ে বাঁধ ছিলেন। এমন সময় বেদুঈনের চোখ খুলে গেল। সে রাসূলকে (সাঃ) চিনতে পারলো এবং আরজ করলো, "হে আল্লাহর রাসুল। আমার মাতা-পিতা আপনার ওপর কুরবানি হোক। আমি কিছুক্ষণ আগে এই হরিনী শিকার করেছি। আপনার কি তা প্রয়োজন আছে?” তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তা আমার প্রয়োজন রয়েছে।"
সে বললো, "আপনি আনন্দ চিত্তে তা নিতে পারেন।"
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হারিনীকে আযাদ করে দিলেন। তাতে সে এতো খুশী হলো যে ময়দানে সে দৌড়ানো শুরু করলো। তারপর খুশীতে মাটির ওপর পা আছড়াতে লাগলো এবং আল্লাহর একত্ববাদ এবং রাসূলের (সাঃ) রিসালতের স্বাক্ষ্য দিতে দিতে সেখান থেকে বিদায় নিলো।"