📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 পাথরের তসবিহ পাঠ

📄 পাথরের তসবিহ পাঠ


হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকী বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আজ-জুহলী মুহাম্মদ বিন শিহাব আজ জুহুরীর হাদিস সমূহ আজ জুহরিয়াতে আবুল ইয়ামনের জবানীতে লিখেছেল। অবুল ইয়ামান শুয়াইব থেকে শুনেছেন। তিনি ওয়ারিদ বিন সুয়াইদ থেকে এবং তিনি বনু সলিমের এক ব্যক্তি থেকে শুনেছেন। তার সঙ্গে হযরত আবু যরের (রাঃ) সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি রাবযাহতে হযরত আবু যরের (রাঃ) মজলিশে একদিন বসেছিলেন। এসময় হযরত ওসমানের (রাঃ) প্রসঙ্গ আলোচনা শুরু হয়ে গেল।
সালমা বলেন যে, হযরত ওসমান (রাঃ) যেহেতু সাইয়েদেনা আবু যরকে (রাঃ) মদীনা থেকে রাবযাতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং হযরত আবু যরের (রাঃ) হযরত ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সেহেতু মজলিশে উপস্থিত সকলেই ধারণা করলেন যে তিনি সেই অভিযোগ প্রকাশ করবেন। কিন্তু হযরত আবু যর (রাঃ) বললেন, "ওসমানের (রাঃ) ব্যাপারে উত্তম কথা ছাড়া কিছু বলো না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এমন দৃশ্য দেখেছি যা মৃত্যু পর্যন্ত ভুলতে পারবো না।"
আমি হজুরে আকরামের (সাঃ) নেকযুগে তাঁর সঙ্গে একাকি মিলিত হয়ে প্রশ্নাদি জিজ্ঞেস করার চেষ্টায় থাকতাম। গ্রীষ্মকালে একদিন আমি হজুরের (সাঃ) সম্পর্কে দ্বিপ্রহরের সময় খাদেমের নিকট জিজ্ঞাসা করলাম। সে জানালো যে তিনি অমুক স্থানে তাশরীফ নিয়ে গেছেন। আমি সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে, নবী পাক (সাঃ) একাকী বসে রয়েছন। আমি ধারণা করলাম যে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু আমি সালাম করলাম। তিনি জবাব দিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "কোন বস্তু তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে?” আমি আরজ করলাম, "শুধু আল্লাহ এবং তার রসূলের ভালোবাসা।” তিনি আমাকে বসার নির্দেশ দিলেন। আমি তার পাশে বসে গেলাম। আমি চুপচাপ বসে রইলাম। আমি তাকে কিছু জিজ্ঞাসাও করলাম না। তিনিও আমাকে জিছু বললেন না। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হতে না হতেই আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) দ্রুতগতিতে সেখানে পৌঁছলেন এবং সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দানের পর সেই প্রশ্নই জিজ্ঞেস করলেন যা আমাকে জিজ্ঞেস করে ছিলেন। তিনি বললেন, "কি উদ্দেশ্যে এসেছ?” তিনিও আমার মতই জবাব দিলেন যে আল্লাহ ও তার রাসূলের (সাঃ) মুহাব্বাত এখানে টেনে এনেছে। তিনি তাঁকে বসার ইশারা করলেন। তিনি তাঁর সামনে বসলেন। তিনি তাঁকে আমার সঙ্গে বসার ইঙ্গিত করলেন। সুতরাং তিনি আমার ডান পাশে বসলেন। অতপর কিছুক্ষণ পর ওমর (রাঃ) এবং ওসমানও (রাঃ) আসলেন। তাঁদের সঙ্গেও উপরোল্লিখিত একই সওয়াল জওয়াৰ হলো।
তারপর নবী পাক (সাঃ) এমন কিছু কালমাহ বললেন যা আমার বোধগম্য হলো না। তিনি আবার বললেন, "তা কমই থাকবে অথবা কমই রযেছে।” একথা বলে তিনি হাতে কয়েকটি পাথর নিলেন। পাথর গুলোর সংখ্যা সাত কিম্বা ন' হবে। তিনি মুষ্টি বদ্ধ করলেন এবং পাথর গুলো তসবিহ পাঠ শুরু করলো। আমরা তাদের থেকে তেমন আওয়াজ শুনলাম যেমন মৌমাছি গুণগুণ করে। আমি নবীর (সাঃ) একদম সঙ্গে বসেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে রেখে পাথর গুলো আবু বকরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো হযরত আবু বকরের (রাঃ) মুঠোতেও তেমনি তসবিহ পাঠ করলো যেমন হুজুরে করিমের (সাঃ) হাতে পাঠ করেছিল। আবু বকরের (রাঃ) নিকট থেকে নবী পাক (সাঃ) পাথর গুলো নিয়ে নিলেন এবং মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথরগুলো সম্পূর্ণ চুপ মেরে গেল। অতপর তিনি সেই পাথর গুলো ওমরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো তাঁর মুঠোতেও তসবিহ পাঠ করলো। আমরা তা শুনলাম। তার পর তিনি তাঁর নিকট থেকে পাথর গুলো নিয়ে দ্বিতীয়বার মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথর গুলো আবার চুপ মেরে গেল। তিনি পাথর গুলো ওসমানকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো ওসমানের (রাঃ) হাতেও অন্যান্য হযরতের মুঠোয় যেনম তসবিহ পাঠ করেছিল তেমনি তসবিহ পাঠ করলো। অতপর নবী পাক (সাঃ) সেই পাথর গুলো নিয়ে মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন এবং পাথর গুলো পুনরায় চুপ মেরে গেল।

হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকী বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আজ-জুহলী মুহাম্মদ বিন শিহাব আজ জুহুরীর হাদিস সমূহ আজ জুহরিয়াতে আবুল ইয়ামনের জবানীতে লিখেছেল। অবুল ইয়ামান শুয়াইব থেকে শুনেছেন। তিনি ওয়ারিদ বিন সুয়াইদ থেকে এবং তিনি বনু সলিমের এক ব্যক্তি থেকে শুনেছেন। তার সঙ্গে হযরত আবু যরের (রাঃ) সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি রাবযাহতে হযরত আবু যরের (রাঃ) মজলিশে একদিন বসেছিলেন। এসময় হযরত ওসমানের (রাঃ) প্রসঙ্গ আলোচনা শুরু হয়ে গেল।
সালমা বলেন যে, হযরত ওসমান (রাঃ) যেহেতু সাইয়েদেনা আবু যরকে (রাঃ) মদীনা থেকে রাবযাতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং হযরত আবু যরের (রাঃ) হযরত ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সেহেতু মজলিশে উপস্থিত সকলেই ধারণা করলেন যে তিনি সেই অভিযোগ প্রকাশ করবেন। কিন্তু হযরত আবু যর (রাঃ) বললেন, "ওসমানের (রাঃ) ব্যাপারে উত্তম কথা ছাড়া কিছু বলো না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এমন দৃশ্য দেখেছি যা মৃত্যু পর্যন্ত ভুলতে পারবো না।"
আমি হজুরে আকরামের (সাঃ) নেকযুগে তাঁর সঙ্গে একাকি মিলিত হয়ে প্রশ্নাদি জিজ্ঞেস করার চেষ্টায় থাকতাম। গ্রীষ্মকালে একদিন আমি হজুরের (সাঃ) সম্পর্কে দ্বিপ্রহরের সময় খাদেমের নিকট জিজ্ঞাসা করলাম। সে জানালো যে তিনি অমুক স্থানে তাশরীফ নিয়ে গেছেন। আমি সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে, নবী পাক (সাঃ) একাকী বসে রয়েছন। আমি ধারণা করলাম যে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু আমি সালাম করলাম। তিনি জবাব দিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "কোন বস্তু তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে?” আমি আরজ করলাম, "শুধু আল্লাহ এবং তার রসূলের ভালোবাসা।” তিনি আমাকে বসার নির্দেশ দিলেন। আমি তার পাশে বসে গেলাম। আমি চুপচাপ বসে রইলাম। আমি তাকে কিছু জিজ্ঞাসাও করলাম না। তিনিও আমাকে জিছু বললেন না। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হতে না হতেই আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) দ্রুতগতিতে সেখানে পৌঁছলেন এবং সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দানের পর সেই প্রশ্নই জিজ্ঞেস করলেন যা আমাকে জিজ্ঞেস করে ছিলেন। তিনি বললেন, "কি উদ্দেশ্যে এসেছ?” তিনিও আমার মতই জবাব দিলেন যে আল্লাহ ও তার রাসূলের (সাঃ) মুহাব্বাত এখানে টেনে এনেছে। তিনি তাঁকে বসার ইশারা করলেন। তিনি তাঁর সামনে বসলেন। তিনি তাঁকে আমার সঙ্গে বসার ইঙ্গিত করলেন। সুতরাং তিনি আমার ডান পাশে বসলেন। অতপর কিছুক্ষণ পর ওমর (রাঃ) এবং ওসমানও (রাঃ) আসলেন। তাঁদের সঙ্গেও উপরোল্লিখিত একই সওয়াল জওয়াৰ হলো।
তারপর নবী পাক (সাঃ) এমন কিছু কালমাহ বললেন যা আমার বোধগম্য হলো না। তিনি আবার বললেন, "তা কমই থাকবে অথবা কমই রযেছে।” একথা বলে তিনি হাতে কয়েকটি পাথর নিলেন। পাথর গুলোর সংখ্যা সাত কিম্বা ন' হবে। তিনি মুষ্টি বদ্ধ করলেন এবং পাথর গুলো তসবিহ পাঠ শুরু করলো। আমরা তাদের থেকে তেমন আওয়াজ শুনলাম যেমন মৌমাছি গুণগুণ করে। আমি নবীর (সাঃ) একদম সঙ্গে বসেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে রেখে পাথর গুলো আবু বকরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো হযরত আবু বকরের (রাঃ) মুঠোতেও তেমনি তসবিহ পাঠ করলো যেমন হুজুরে করিমের (সাঃ) হাতে পাঠ করেছিল। আবু বকরের (রাঃ) নিকট থেকে নবী পাক (সাঃ) পাথর গুলো নিয়ে নিলেন এবং মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথরগুলো সম্পূর্ণ চুপ মেরে গেল। অতপর তিনি সেই পাথর গুলো ওমরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো তাঁর মুঠোতেও তসবিহ পাঠ করলো। আমরা তা শুনলাম। তার পর তিনি তাঁর নিকট থেকে পাথর গুলো নিয়ে দ্বিতীয়বার মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথর গুলো আবার চুপ মেরে গেল। তিনি পাথর গুলো ওসমানকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো ওসমানের (রাঃ) হাতেও অন্যান্য হযরতের মুঠোয় যেনম তসবিহ পাঠ করেছিল তেমনি তসবিহ পাঠ করলো। অতপর নবী পাক (সাঃ) সেই পাথর গুলো নিয়ে মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন এবং পাথর গুলো পুনরায় চুপ মেরে গেল।

হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকী বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আজ-জুহলী মুহাম্মদ বিন শিহাব আজ জুহুরীর হাদিস সমূহ আজ জুহরিয়াতে আবুল ইয়ামনের জবানীতে লিখেছেল। অবুল ইয়ামান শুয়াইব থেকে শুনেছেন। তিনি ওয়ারিদ বিন সুয়াইদ থেকে এবং তিনি বনু সলিমের এক ব্যক্তি থেকে শুনেছেন। তার সঙ্গে হযরত আবু যরের (রাঃ) সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি রাবযাহতে হযরত আবু যরের (রাঃ) মজলিশে একদিন বসেছিলেন। এসময় হযরত ওসমানের (রাঃ) প্রসঙ্গ আলোচনা শুরু হয়ে গেল।
সালমা বলেন যে, হযরত ওসমান (রাঃ) যেহেতু সাইয়েদেনা আবু যরকে (রাঃ) মদীনা থেকে রাবযাতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং হযরত আবু যরের (রাঃ) হযরত ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সেহেতু মজলিশে উপস্থিত সকলেই ধারণা করলেন যে তিনি সেই অভিযোগ প্রকাশ করবেন। কিন্তু হযরত আবু যর (রাঃ) বললেন, "ওসমানের (রাঃ) ব্যাপারে উত্তম কথা ছাড়া কিছু বলো না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এমন দৃশ্য দেখেছি যা মৃত্যু পর্যন্ত ভুলতে পারবো না।"
আমি হজুরে আকরামের (সাঃ) নেকযুগে তাঁর সঙ্গে একাকি মিলিত হয়ে প্রশ্নাদি জিজ্ঞেস করার চেষ্টায় থাকতাম। গ্রীষ্মকালে একদিন আমি হজুরের (সাঃ) সম্পর্কে দ্বিপ্রহরের সময় খাদেমের নিকট জিজ্ঞাসা করলাম। সে জানালো যে তিনি অমুক স্থানে তাশরীফ নিয়ে গেছেন। আমি সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে, নবী পাক (সাঃ) একাকী বসে রয়েছন। আমি ধারণা করলাম যে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু আমি সালাম করলাম। তিনি জবাব দিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "কোন বস্তু তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে?” আমি আরজ করলাম, "শুধু আল্লাহ এবং তার রসূলের ভালোবাসা।” তিনি আমাকে বসার নির্দেশ দিলেন। আমি তার পাশে বসে গেলাম। আমি চুপচাপ বসে রইলাম। আমি তাকে কিছু জিজ্ঞাসাও করলাম না। তিনিও আমাকে জিছু বললেন না। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হতে না হতেই আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) দ্রুতগতিতে সেখানে পৌঁছলেন এবং সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দানের পর সেই প্রশ্নই জিজ্ঞেস করলেন যা আমাকে জিজ্ঞেস করে ছিলেন। তিনি বললেন, "কি উদ্দেশ্যে এসেছ?” তিনিও আমার মতই জবাব দিলেন যে আল্লাহ ও তার রাসূলের (সাঃ) মুহাব্বাত এখানে টেনে এনেছে। তিনি তাঁকে বসার ইশারা করলেন। তিনি তাঁর সামনে বসলেন। তিনি তাঁকে আমার সঙ্গে বসার ইঙ্গিত করলেন। সুতরাং তিনি আমার ডান পাশে বসলেন। অতপর কিছুক্ষণ পর ওমর (রাঃ) এবং ওসমানও (রাঃ) আসলেন। তাঁদের সঙ্গেও উপরোল্লিখিত একই সওয়াল জওয়াৰ হলো।
তারপর নবী পাক (সাঃ) এমন কিছু কালমাহ বললেন যা আমার বোধগম্য হলো না। তিনি আবার বললেন, "তা কমই থাকবে অথবা কমই রযেছে।” একথা বলে তিনি হাতে কয়েকটি পাথর নিলেন। পাথর গুলোর সংখ্যা সাত কিম্বা ন' হবে। তিনি মুষ্টি বদ্ধ করলেন এবং পাথর গুলো তসবিহ পাঠ শুরু করলো। আমরা তাদের থেকে তেমন আওয়াজ শুনলাম যেমন মৌমাছি গুণগুণ করে। আমি নবীর (সাঃ) একদম সঙ্গে বসেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে রেখে পাথর গুলো আবু বকরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো হযরত আবু বকরের (রাঃ) মুঠোতেও তেমনি তসবিহ পাঠ করলো যেমন হুজুরে করিমের (সাঃ) হাতে পাঠ করেছিল। আবু বকরের (রাঃ) নিকট থেকে নবী পাক (সাঃ) পাথর গুলো নিয়ে নিলেন এবং মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথরগুলো সম্পূর্ণ চুপ মেরে গেল। অতপর তিনি সেই পাথর গুলো ওমরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো তাঁর মুঠোতেও তসবিহ পাঠ করলো। আমরা তা শুনলাম। তার পর তিনি তাঁর নিকট থেকে পাথর গুলো নিয়ে দ্বিতীয়বার মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথর গুলো আবার চুপ মেরে গেল। তিনি পাথর গুলো ওসমানকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো ওসমানের (রাঃ) হাতেও অন্যান্য হযরতের মুঠোয় যেনম তসবিহ পাঠ করেছিল তেমনি তসবিহ পাঠ করলো। অতপর নবী পাক (সাঃ) সেই পাথর গুলো নিয়ে মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন এবং পাথর গুলো পুনরায় চুপ মেরে গেল।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 জুনদুব ও যাদুকর

📄 জুনদুব ও যাদুকর


ইবনে আব্দুল বার বর্ননা করেছেন যে, ইবনে জুরাইহ আমর বিন দিনার থেকে রাওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি বাজালাতুত তামিমীকে এই হাদিস বর্ননা করতে শুনেছিলেনঃ প্রত্যেক যাদুকর পুরুষ ও মহিলা কে হত্যা করে ফেলো।। কুফাতে আবু বুসতান নামক একজন পারসিক যাদুকর ছিলো। কেউই তার মুকাবিলা করতে পারতো না। নবী পাক (সাঃ) একবার সাহাবী জুনদুবের ব্যাপারে বলেছিলেন। "জুন্দুব! জুন্দুবের কথা আর বলতে কি। সে এমন আঘাত হানবে যাতে আল্লাহ হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যের সীমা রেখা টেনে দিবেন।
আবু বুসতান সম্পর্কে আমাদেরকে জাবির বিন আব্দুল হামদি আ'মাশের মুখে এবং আমাশ ইবরাহিমের মুখে রাওয়ায়েত শুনিয়েছেন যে সে বড় যাদুকর ছিল এবং নিজের যাদু দিয়ে মানুষের মনোরঞ্জনের খোরাক বোগাতো। একবার সে কুফার গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবার আমলে নিজের যাদুর কিরিশমা দেখাচ্ছিল। লোকজন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল যে সে করছে কি আর কেমন করে করছে।
মানুষের চোখের সামনে দেখাচ্ছিল যে যেন সে একটি গাধার মুখ দিয়ে তার পেটে প্রবেশ করছে এবং তার পাছা দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর পাছা দিয়ে গাধার পেটে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর সে লোকদেরকে যাদুর মাধ্যমে বিশ্বাস করাচ্ছিলো, সে স্বয়ং নিজের মাথা কেটে দূরে ফেলে দেয় এবং তা উঠিয়ে শরীরের সঙ্গে জুড়ে দেয়। অতপর সব ঠিক ঠাক।
হযরত জুনদুব (রাঃ) বিন কাব (রাঃ) সবকিছু দেখলেন। এর পরে তিনি নিজের তরবারীকে সুতীক্ষ্ণ ও ধারালো করার জন্য একজন শানকারীকে দিয়েছিলেন। তিনি সেই শানকারের নিকট গেলেন এবং বললেন "তোমার প্রতিদানও ওয়াজিব হয়ে গেছে। আমাকে আমার তরবারী দাও।” তাকে সমস্ত মুজুরী দিলেন এবং তরবারি নিয়ে নিলেন। তরবারী নিয়ে যাদুকরের নিকট গেলেন এবং যেখানে সে যাদু প্রদর্শন করছিল সেই ভরপুর মাজমাতে তার গর্দান এক আঘাতেই কেটে গেল। অতপর লোকদেরকে বললেন, "এখন তাকে বলুন যে মাথা শরীরের সঙ্গে জুড়ে দিক এবং নিজেকে দ্বিতীয়বার জীবিত করে দেখাক।”
গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবা হয়রত জুনদুবকে (রাঃ) গ্রেফতার করে জেলখানায় পুরলেন এবং আমীরুল মুমিনিন ওসমান ইবনে আফফানের (রাঃ) খিদমতে ঘটনা লিখে পাঠালেন।। তার জবাবে তিনি লিখলেন, "তাকে ছেড়ে দাও।”

ইবনে আব্দুল বার বর্ননা করেছেন যে, ইবনে জুরাইহ আমর বিন দিনার থেকে রাওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি বাজালাতুত তামিমীকে এই হাদিস বর্ননা করতে শুনেছিলেনঃ প্রত্যেক যাদুকর পুরুষ ও মহিলা কে হত্যা করে ফেলো।। কুফাতে আবু বুসতান নামক একজন পারসিক যাদুকর ছিলো। কেউই তার মুকাবিলা করতে পারতো না। নবী পাক (সাঃ) একবার সাহাবী জুনদুবের ব্যাপারে বলেছিলেন। "জুন্দুব! জুন্দুবের কথা আর বলতে কি। সে এমন আঘাত হানবে যাতে আল্লাহ হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যের সীমা রেখা টেনে দিবেন।
আবু বুসতান সম্পর্কে আমাদেরকে জাবির বিন আব্দুল হামদি আ'মাশের মুখে এবং আমাশ ইবরাহিমের মুখে রাওয়ায়েত শুনিয়েছেন যে সে বড় যাদুকর ছিল এবং নিজের যাদু দিয়ে মানুষের মনোরঞ্জনের খোরাক বোগাতো। একবার সে কুফার গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবার আমলে নিজের যাদুর কিরিশমা দেখাচ্ছিল। লোকজন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল যে সে করছে কি আর কেমন করে করছে।
মানুষের চোখের সামনে দেখাচ্ছিল যে যেন সে একটি গাধার মুখ দিয়ে তার পেটে প্রবেশ করছে এবং তার পাছা দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর পাছা দিয়ে গাধার পেটে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর সে লোকদেরকে যাদুর মাধ্যমে বিশ্বাস করাচ্ছিলো, সে স্বয়ং নিজের মাথা কেটে দূরে ফেলে দেয় এবং তা উঠিয়ে শরীরের সঙ্গে জুড়ে দেয়। অতপর সব ঠিক ঠাক।
হযরত জুনদুব (রাঃ) বিন কাব (রাঃ) সবকিছু দেখলেন। এর পরে তিনি নিজের তরবারীকে সুতীক্ষ্ণ ও ধারালো করার জন্য একজন শানকারীকে দিয়েছিলেন। তিনি সেই শানকারের নিকট গেলেন এবং বললেন "তোমার প্রতিদানও ওয়াজিব হয়ে গেছে। আমাকে আমার তরবারী দাও।” তাকে সমস্ত মুজুরী দিলেন এবং তরবারি নিয়ে নিলেন। তরবারী নিয়ে যাদুকরের নিকট গেলেন এবং যেখানে সে যাদু প্রদর্শন করছিল সেই ভরপুর মাজমাতে তার গর্দান এক আঘাতেই কেটে গেল। অতপর লোকদেরকে বললেন, "এখন তাকে বলুন যে মাথা শরীরের সঙ্গে জুড়ে দিক এবং নিজেকে দ্বিতীয়বার জীবিত করে দেখাক।”
গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবা হয়রত জুনদুবকে (রাঃ) গ্রেফতার করে জেলখানায় পুরলেন এবং আমীরুল মুমিনিন ওসমান ইবনে আফফানের (রাঃ) খিদমতে ঘটনা লিখে পাঠালেন।। তার জবাবে তিনি লিখলেন, "তাকে ছেড়ে দাও।”

ইবনে আব্দুল বার বর্ননা করেছেন যে, ইবনে জুরাইহ আমর বিন দিনার থেকে রাওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি বাজালাতুত তামিমীকে এই হাদিস বর্ননা করতে শুনেছিলেনঃ প্রত্যেক যাদুকর পুরুষ ও মহিলা কে হত্যা করে ফেলো।। কুফাতে আবু বুসতান নামক একজন পারসিক যাদুকর ছিলো। কেউই তার মুকাবিলা করতে পারতো না। নবী পাক (সাঃ) একবার সাহাবী জুনদুবের ব্যাপারে বলেছিলেন। "জুন্দুব! জুন্দুবের কথা আর বলতে কি। সে এমন আঘাত হানবে যাতে আল্লাহ হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যের সীমা রেখা টেনে দিবেন।
আবু বুসতান সম্পর্কে আমাদেরকে জাবির বিন আব্দুল হামদি আ'মাশের মুখে এবং আমাশ ইবরাহিমের মুখে রাওয়ায়েত শুনিয়েছেন যে সে বড় যাদুকর ছিল এবং নিজের যাদু দিয়ে মানুষের মনোরঞ্জনের খোরাক বোগাতো। একবার সে কুফার গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবার আমলে নিজের যাদুর কিরিশমা দেখাচ্ছিল। লোকজন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল যে সে করছে কি আর কেমন করে করছে।
মানুষের চোখের সামনে দেখাচ্ছিল যে যেন সে একটি গাধার মুখ দিয়ে তার পেটে প্রবেশ করছে এবং তার পাছা দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর পাছা দিয়ে গাধার পেটে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর সে লোকদেরকে যাদুর মাধ্যমে বিশ্বাস করাচ্ছিলো, সে স্বয়ং নিজের মাথা কেটে দূরে ফেলে দেয় এবং তা উঠিয়ে শরীরের সঙ্গে জুড়ে দেয়। অতপর সব ঠিক ঠাক।
হযরত জুনদুব (রাঃ) বিন কাব (রাঃ) সবকিছু দেখলেন। এর পরে তিনি নিজের তরবারীকে সুতীক্ষ্ণ ও ধারালো করার জন্য একজন শানকারীকে দিয়েছিলেন। তিনি সেই শানকারের নিকট গেলেন এবং বললেন "তোমার প্রতিদানও ওয়াজিব হয়ে গেছে। আমাকে আমার তরবারী দাও।” তাকে সমস্ত মুজুরী দিলেন এবং তরবারি নিয়ে নিলেন। তরবারী নিয়ে যাদুকরের নিকট গেলেন এবং যেখানে সে যাদু প্রদর্শন করছিল সেই ভরপুর মাজমাতে তার গর্দান এক আঘাতেই কেটে গেল। অতপর লোকদেরকে বললেন, "এখন তাকে বলুন যে মাথা শরীরের সঙ্গে জুড়ে দিক এবং নিজেকে দ্বিতীয়বার জীবিত করে দেখাক।”
গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবা হয়রত জুনদুবকে (রাঃ) গ্রেফতার করে জেলখানায় পুরলেন এবং আমীরুল মুমিনিন ওসমান ইবনে আফফানের (রাঃ) খিদমতে ঘটনা লিখে পাঠালেন।। তার জবাবে তিনি লিখলেন, "তাকে ছেড়ে দাও।”

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সোহায়েল (রাঃ) বিন আমরের স্থান

📄 সোহায়েল (রাঃ) বিন আমরের স্থান


ওয়াকেদী বর্ণনা করেছেনঃ বদরের যুদ্ধে সোহায়েল বিন আমর গ্রেফতার হয়ে যুদ্ধ বন্দীদের সঙ্গে মদীনা পৌঁছলেন। এ সময় হযরত ওমর (রাঃ) রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকট আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, তার দাঁত ভেঙ্গে দিন। তার যবান ইসলামের বিরুদ্ধে আগুন ঝরায়। দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার পর সে আপনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেনা।।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "আমি যদি তার শরীরের কোন অংশ কেটে ফেলি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমার শরীরের অংশ কেটে ফেলবেন। অথচ আমি আল্লাহর সত্য নবী। তোমরা কি জানো যে ঐ যবান ও বক্তৃতার মাধ্যমে কোন দিন সে এমন ভূমিকা পালন করবে যাতে তোমরা খুশী হয়ে যাবে। ইবনে ইসহাক লিখেছেন, "রাসূলের (সাঃ) যখন ওফাত হলো তখন مسلمانوں ওপর মুসিবতের পাহাড় আপতিত হলো। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলতেন যে, হজুরে আকরামের (রাঃ) ইন্তেকালের সময় مسلمانوں অবস্থা রক্ষকবিহিন বকরীর পালের মত হয়ে গিয়েছিল। আরব গোত্রসমূহ মুরতাদ হয়ে গেল। ইহুদী ও খৃষ্টানরা ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিল এবং মুনাফিকরা আস্তিনের মধ্যে থেকে শিকল কাটার ব্যাপারে তৎপর ছিল। এই অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষ রহমতে মুসলিম উম্মাহকে হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) নেতৃত্বে একত্রিত করে তাদেরকে শৃংখলাবদ্ধকরলেন।”
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেন, "আবু ওবায়দা এবং অন্যান্য আহলে ইলম আমরার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাকের (সাঃ) ইন্তেকারের পর মক্কা বাসীরা ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার কথা চিন্তা করছিল। মক্কার গবর্ণর ইতাব বিন উসাইয়্যিদ একদিকে হুজুরের (সাঃ) ইন্তেকালে শোকাহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। অন্যদিকে মক্কাবাসীর ধ্যান ধারনায় খুব খারাব অনুভব করছিলেন এবং মক্কার বাইরে গিয়ে কোন উপত্যকায় বসে রলেন। এই নাযুক মুহূর্তে সোহায়েল (রাঃ) বিন আমর মক্কাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে এমন জোরদার বক্তৃতা দিলেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানার পর রাসুলের (সাঃ) আয়াতের উল্লেখ করলেন। অতপর অত্যন্ত শক্তি ও বাহাদুরীর সাথে ঘোষণা করলেন, "হুজুরের (সাঃ) বিদায় গ্রহন অবশ্যই দুঃখের কারণ। কিন্তু তাতে ইসলাম দুর্বল হবেনা। বরং ইসলামের শক্তি ইনশাল্লাহ বৃদ্ধি পাবে। যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাইবে আমরা তার গর্দান উড়িয়ে দেবো।”
সোহায়েলের (রাঃ) আবেগপূর্ণ বক্তৃতার খুব প্রভাব পড়লো, তিনি লোকদেরকে নীরব করিয়ে রাখলেন। ইসলামের ওপর কায়েম থাকা ও তার আনুগত্য করা ছাড়া খারাপ ধারণা পোষণকারীদের আর অন্য কোন পথ খোলা রইলোনা। সমগ্র আরব ফিতনায় ভরে গিয়েছিল। কিন্তু মক্কা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ছিল খবর জানতে পেরে হযরত ইতাবও (রাঃ) মক্কা চলে এলেন। হুজুরে আকরামের (সাঃ) কথায় এই ইঙ্গিতই ছিল যে সোহায়েলের ভাষণ মুসলমানদেরকে খুশী করবে।
এই ঘটনার কথা মদীনায় যখন হয়রত ওমরের (রাঃ) নিকট পৌঁছলো তখন তিনি খুব প্রভাবিত হলেন এবং আনন্দে বলে উঠলেন, "আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।"

ওয়াকেদী বর্ণনা করেছেনঃ বদরের যুদ্ধে সোহায়েল বিন আমর গ্রেফতার হয়ে যুদ্ধ বন্দীদের সঙ্গে মদীনা পৌঁছলেন। এ সময় হযরত ওমর (রাঃ) রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকট আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, তার দাঁত ভেঙ্গে দিন। তার যবান ইসলামের বিরুদ্ধে আগুন ঝরায়। দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার পর সে আপনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেনা।।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "আমি যদি তার শরীরের কোন অংশ কেটে ফেলি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমার শরীরের অংশ কেটে ফেলবেন। অথচ আমি আল্লাহর সত্য নবী। তোমরা কি জানো যে ঐ যবান ও বক্তৃতার মাধ্যমে কোন দিন সে এমন ভূমিকা পালন করবে যাতে তোমরা খুশী হয়ে যাবে। ইবনে ইসহাক লিখেছেন, "রাসূলের (সাঃ) যখন ওফাত হলো তখন مسلمانوں ওপর মুসিবতের পাহাড় আপতিত হলো। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলতেন যে, হজুরে আকরামের (রাঃ) ইন্তেকালের সময় مسلمانوں অবস্থা রক্ষকবিহিন বকরীর পালের মত হয়ে গিয়েছিল। আরব গোত্রসমূহ মুরতাদ হয়ে গেল। ইহুদী ও খৃষ্টানরা ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিল এবং মুনাফিকরা আস্তিনের মধ্যে থেকে শিকল কাটার ব্যাপারে তৎপর ছিল। এই অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষ রহমতে মুসলিম উম্মাহকে হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) নেতৃত্বে একত্রিত করে তাদেরকে শৃংখলাবদ্ধকরলেন।”
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেন, "আবু ওবায়দা এবং অন্যান্য আহলে ইলম আমরার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাকের (সাঃ) ইন্তেকারের পর মক্কা বাসীরা ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার কথা চিন্তা করছিল। মক্কার গবর্ণর ইতাব বিন উসাইয়্যিদ একদিকে হুজুরের (সাঃ) ইন্তেকালে শোকাহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। অন্যদিকে মক্কাবাসীর ধ্যান ধারনায় খুব খারাব অনুভব করছিলেন এবং মক্কার বাইরে গিয়ে কোন উপত্যকায় বসে রলেন। এই নাযুক মুহূর্তে সোহায়েল (রাঃ) বিন আমর মক্কাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে এমন জোরদার বক্তৃতা দিলেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানার পর রাসুলের (সাঃ) আয়াতের উল্লেখ করলেন। অতপর অত্যন্ত শক্তি ও বাহাদুরীর সাথে ঘোষণা করলেন, "হুজুরের (সাঃ) বিদায় গ্রহন অবশ্যই দুঃখের কারণ। কিন্তু তাতে ইসলাম দুর্বল হবেনা। বরং ইসলামের শক্তি ইনশাল্লাহ বৃদ্ধি পাবে। যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাইবে আমরা তার গর্দান উড়িয়ে দেবো।”
সোহায়েলের (রাঃ) আবেগপূর্ণ বক্তৃতার খুব প্রভাব পড়লো, তিনি লোকদেরকে নীরব করিয়ে রাখলেন। ইসলামের ওপর কায়েম থাকা ও তার আনুগত্য করা ছাড়া খারাপ ধারণা পোষণকারীদের আর অন্য কোন পথ খোলা রইলোনা। সমগ্র আরব ফিতনায় ভরে গিয়েছিল। কিন্তু মক্কা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ছিল খবর জানতে পেরে হযরত ইতাবও (রাঃ) মক্কা চলে এলেন। হুজুরে আকরামের (সাঃ) কথায় এই ইঙ্গিতই ছিল যে সোহায়েলের ভাষণ মুসলমানদেরকে খুশী করবে।
এই ঘটনার কথা মদীনায় যখন হয়রত ওমরের (রাঃ) নিকট পৌঁছলো তখন তিনি খুব প্রভাবিত হলেন এবং আনন্দে বলে উঠলেন, "আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।"

ওয়াকেদী বর্ণনা করেছেনঃ বদরের যুদ্ধে সোহায়েল বিন আমর গ্রেফতার হয়ে যুদ্ধ বন্দীদের সঙ্গে মদীনা পৌঁছলেন। এ সময় হযরত ওমর (রাঃ) রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকট আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, তার দাঁত ভেঙ্গে দিন। তার যবান ইসলামের বিরুদ্ধে আগুন ঝরায়। দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার পর সে আপনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেনা।।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "আমি যদি তার শরীরের কোন অংশ কেটে ফেলি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমার শরীরের অংশ কেটে ফেলবেন। অথচ আমি আল্লাহর সত্য নবী। তোমরা কি জানো যে ঐ যবান ও বক্তৃতার মাধ্যমে কোন দিন সে এমন ভূমিকা পালন করবে যাতে তোমরা খুশী হয়ে যাবে। ইবনে ইসহাক লিখেছেন, "রাসূলের (সাঃ) যখন ওফাত হলো তখন مسلمانوں ওপর মুসিবতের পাহাড় আপতিত হলো। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলতেন যে, হজুরে আকরামের (রাঃ) ইন্তেকালের সময় مسلمانوں অবস্থা রক্ষকবিহিন বকরীর পালের মত হয়ে গিয়েছিল। আরব গোত্রসমূহ মুরতাদ হয়ে গেল। ইহুদী ও খৃষ্টানরা ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিল এবং মুনাফিকরা আস্তিনের মধ্যে থেকে শিকল কাটার ব্যাপারে তৎপর ছিল। এই অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষ রহমতে মুসলিম উম্মাহকে হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) নেতৃত্বে একত্রিত করে তাদেরকে শৃংখলাবদ্ধকরলেন।”
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেন, "আবু ওবায়দা এবং অন্যান্য আহলে ইলম আমরার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাকের (সাঃ) ইন্তেকারের পর মক্কা বাসীরা ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার কথা চিন্তা করছিল। মক্কার গবর্ণর ইতাব বিন উসাইয়্যিদ একদিকে হুজুরের (সাঃ) ইন্তেকালে শোকাহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। অন্যদিকে মক্কাবাসীর ধ্যান ধারনায় খুব খারাব অনুভব করছিলেন এবং মক্কার বাইরে গিয়ে কোন উপত্যকায় বসে রলেন। এই নাযুক মুহূর্তে সোহায়েল (রাঃ) বিন আমর মক্কাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে এমন জোরদার বক্তৃতা দিলেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানার পর রাসুলের (সাঃ) আয়াতের উল্লেখ করলেন। অতপর অত্যন্ত শক্তি ও বাহাদুরীর সাথে ঘোষণা করলেন, "হুজুরের (সাঃ) বিদায় গ্রহন অবশ্যই দুঃখের কারণ। কিন্তু তাতে ইসলাম দুর্বল হবেনা। বরং ইসলামের শক্তি ইনশাল্লাহ বৃদ্ধি পাবে। যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাইবে আমরা তার গর্দান উড়িয়ে দেবো।”
সোহায়েলের (রাঃ) আবেগপূর্ণ বক্তৃতার খুব প্রভাব পড়লো, তিনি লোকদেরকে নীরব করিয়ে রাখলেন। ইসলামের ওপর কায়েম থাকা ও তার আনুগত্য করা ছাড়া খারাপ ধারণা পোষণকারীদের আর অন্য কোন পথ খোলা রইলোনা। সমগ্র আরব ফিতনায় ভরে গিয়েছিল। কিন্তু মক্কা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ছিল খবর জানতে পেরে হযরত ইতাবও (রাঃ) মক্কা চলে এলেন। হুজুরে আকরামের (সাঃ) কথায় এই ইঙ্গিতই ছিল যে সোহায়েলের ভাষণ মুসলমানদেরকে খুশী করবে।
এই ঘটনার কথা মদীনায় যখন হয়রত ওমরের (রাঃ) নিকট পৌঁছলো তখন তিনি খুব প্রভাবিত হলেন এবং আনন্দে বলে উঠলেন, "আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।"

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ফাত্বিয়ার (রাঃ) হাদীস

📄 ফাত্বিয়ার (রাঃ) হাদীস


ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ননা করেছেন যে হযরত আয়েশার (রাঃ) রাওয়ায়েত তাঁর পর্যন্ত যাকারিয়া থেকে ফিরাস, তাঁর থেকে আমের, তাঁর থেকে মাসরুকের তরফ থেকে পৌঁচেছে। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলেছেন, "একদিন ফাতিমা (রাঃ) রাসুলের (সাঃ) নিকট এলেন। তাঁর চাল-চলন সম্পূর্ণরূপে নবীয়ে আকরামের (সাঃ) চাল-চলনের সদৃশ ছিল। নবী পাক (সাঃ) তাঁকে দেখে স্বাগত জানালেন এবং নিজের সঙ্গে ডান দিকে বসালেন। অতপর তিনি হযরত ফাতিমার (রাঃ) কানে কানে কথা বললেন। তাতে তিনি কেঁদে ফেললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, " ফাতিমা তুমি কাঁদছো কেন?" কিন্তু তিনি কোন জবাব দিলেন না। হুজুরে পাক (সাঃ) পুনরায় তার কানে কানে কথা বললেন। এবার তিনি হেসে দিলেন। আমি বললাম, " হাসি ও কান্না উভয়কে এত নিকটবতী আমি কখনো দেখিনি।”
আমি হযরত ফাতিমার নিকট এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "এটা রাসুলের (সাঃ) গোপন কথা। আমি তা ফাঁস করতে পারিনা।" হুজুরে আকরামের (সাঃ) ওফাতের পর আমি একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম। ফাতিমা (রাঃ) আমাকে বলেছিলেন, "হুজুর (সাঃ) আমাকে বলেছিলেন যে, জিবরাইল (আঃ) তাঁর সঙ্গে প্রতিবছর কুরআন মজিদের এক পালা শেষ করতেন। কিন্তু এবছর জিবরাইল (আঃ) দুই পালা সম্পূর্ণ করেছেন। একে রাসুলে করিম (সাঃ) নিজের প্রস্থান হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাতে আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। অতপর আব্বাজান আমাকে বললেন, "আমার আহলি বাইতের মধ্য থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। তুমি কি একথায় খুশী নও যে জান্নাতে তুমি মুমিন মহিলাদের সরদার হবে। তাঁর এই কথা শুনে আমি খুশী হলাম এবং হেসে দিলাম।

ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ননা করেছেন যে হযরত আয়েশার (রাঃ) রাওয়ায়েত তাঁর পর্যন্ত যাকারিয়া থেকে ফিরাস, তাঁর থেকে আমের, তাঁর থেকে মাসরুকের তরফ থেকে পৌঁচেছে। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলেছেন, "একদিন ফাতিমা (রাঃ) রাসুলের (সাঃ) নিকট এলেন। তাঁর চাল-চলন সম্পূর্ণরূপে নবীয়ে আকরামের (সাঃ) চাল-চলনের সদৃশ ছিল। নবী পাক (সাঃ) তাঁকে দেখে স্বাগত জানালেন এবং নিজের সঙ্গে ডান দিকে বসালেন। অতপর তিনি হযরত ফাতিমার (রাঃ) কানে কানে কথা বললেন। তাতে তিনি কেঁদে ফেললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, " ফাতিমা তুমি কাঁদছো কেন?" কিন্তু তিনি কোন জবাব দিলেন না। হুজুরে পাক (সাঃ) পুনরায় তার কানে কানে কথা বললেন। এবার তিনি হেসে দিলেন। আমি বললাম, " হাসি ও কান্না উভয়কে এত নিকটবতী আমি কখনো দেখিনি।”
আমি হযরত ফাতিমার নিকট এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "এটা রাসুলের (সাঃ) গোপন কথা। আমি তা ফাঁস করতে পারিনা।" হুজুরে আকরামের (সাঃ) ওফাতের পর আমি একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম। ফাতিমা (রাঃ) আমাকে বলেছিলেন, "হুজুর (সাঃ) আমাকে বলেছিলেন যে, জিবরাইল (আঃ) তাঁর সঙ্গে প্রতিবছর কুরআন মজিদের এক পালা শেষ করতেন। কিন্তু এবছর জিবরাইল (আঃ) দুই পালা সম্পূর্ণ করেছেন। একে রাসুলে করিম (সাঃ) নিজের প্রস্থান হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাতে আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। অতপর আব্বাজান আমাকে বললেন, "আমার আহলি বাইতের মধ্য থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। তুমি কি একথায় খুশী নও যে জান্নাতে তুমি মুমিন মহিলাদের সরদার হবে। তাঁর এই কথা শুনে আমি খুশী হলাম এবং হেসে দিলাম।

ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ননা করেছেন যে হযরত আয়েশার (রাঃ) রাওয়ায়েত তাঁর পর্যন্ত যাকারিয়া থেকে ফিরাস, তাঁর থেকে আমের, তাঁর থেকে মাসরুকের তরফ থেকে পৌঁচেছে। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলেছেন, "একদিন ফাতিমা (রাঃ) রাসুলের (সাঃ) নিকট এলেন। তাঁর চাল-চলন সম্পূর্ণরূপে নবীয়ে আকরামের (সাঃ) চাল-চলনের সদৃশ ছিল। নবী পাক (সাঃ) তাঁকে দেখে স্বাগত জানালেন এবং নিজের সঙ্গে ডান দিকে বসালেন। অতপর তিনি হযরত ফাতিমার (রাঃ) কানে কানে কথা বললেন। তাতে তিনি কেঁদে ফেললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, " ফাতিমা তুমি কাঁদছো কেন?" কিন্তু তিনি কোন জবাব দিলেন না। হুজুরে পাক (সাঃ) পুনরায় তার কানে কানে কথা বললেন। এবার তিনি হেসে দিলেন। আমি বললাম, " হাসি ও কান্না উভয়কে এত নিকটবতী আমি কখনো দেখিনি।”
আমি হযরত ফাতিমার নিকট এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "এটা রাসুলের (সাঃ) গোপন কথা। আমি তা ফাঁস করতে পারিনা।" হুজুরে আকরামের (সাঃ) ওফাতের পর আমি একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম। ফাতিমা (রাঃ) আমাকে বলেছিলেন, "হুজুর (সাঃ) আমাকে বলেছিলেন যে, জিবরাইল (আঃ) তাঁর সঙ্গে প্রতিবছর কুরআন মজিদের এক পালা শেষ করতেন। কিন্তু এবছর জিবরাইল (আঃ) দুই পালা সম্পূর্ণ করেছেন। একে রাসুলে করিম (সাঃ) নিজের প্রস্থান হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাতে আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। অতপর আব্বাজান আমাকে বললেন, "আমার আহলি বাইতের মধ্য থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। তুমি কি একথায় খুশী নও যে জান্নাতে তুমি মুমিন মহিলাদের সরদার হবে। তাঁর এই কথা শুনে আমি খুশী হলাম এবং হেসে দিলাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00