📄 রাসূলুল্লাহর (সাঃ) তরবারী
ওয়াকেদী আব্দুল্লাহ বিন আবু বকরের একটি রাওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর (রাঃ) বলেছেন, রাসূলে আকরাম (সাঃ) খবর পেলেন যে, বনু ছালাবা এবং বনু মাহারিব গোত্রের লোকজন তাঁর ওপর হামলা করার জন্য এক বিরাট বাহিনী একত্রিত করেছে। এই বাহিনী মদীনার চারদিক থেকে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। আছুর বিন হারিছ বিন মাহারিব নামক একজন সরদার এই বাহিনী মোতায়েন করেছিল। এই বেদুঈন সরদারের লকব গওরছ ছিল বলেও কথিত আছে।
এই পরিকল্পনার খবর পেয়ে রাসূলে আকরাম (সাঃ) মুসলমানদেরকে জিহাদের প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন এবং সাড়ে চারশ সাহাবীর একটি দলসহ মদীনা থেকে বের হলেন। এই যুদ্ধে তার সঙ্গে ঘোড় সওয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যোদ্ধাও ছিলেন। প্রথমত তিনি সাধারণ রাস্তা দিয়েই চলতে লাগলেন। অতপর তিনি পরিচিত রাস্তা ছেড়ে একটি অপ্রশস্ত পার্বত্য পথ ধরলেন। সেই পথ দিয়ে তিনি জিল কাসসাহ নামক স্থানে পৌঁছলেন। এখানে সাহাবীরা এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করলেন'। লোকটি বনু ছালাবার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল এবং তার নাম ছিল জাব্বার। সে কোথায় যাচ্ছে তা তারা তাকে জিজ্ঞেস করলো। জবাবে সে বললো, আমি ইয়াসরাবযাচ্ছি।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, ইয়াসরাবে তার কি কাজ আছে সে বললো, আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে চাই।
তারা জিজ্ঞেস করলে- তুমি কি সৈন্য বাহিনী দেখেছ অথবা তোমার কওমের নতুন কোন খবর তোমার নিকট আছে কি?
সে বললো, আমার নিকট বিশেষ কোন তথ্য নেই। তবে, এতটুকু জানি যে দা'ছুর বিন হারিছ কিছু লোককে তৈরী করেছে।
সাহাবীবৃন্দ (রাঃ) সেইব্যক্তিকে হুজুরের (সাঃ) খিদমতে পেশ করলেন। তখন তিনি তার নিকট ইসলামের দাওয়াত দিলেন।। এই দাওয়াত পেয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ। তারা আপনার মুকাবিলায় আসার সাহস করবে না। তারা তো আপনার নাম শুনেই ভেগে যাবে। তারা পাহাড়ে গিয়ে লুকাবে। আমি আপনার সঙ্গে যাবো এবং আপনাকে তাদের গুঢ় রহস্য বলবো।
রাসূলে পাক (সাঃ) সেই নওমুসলিম সাহাবীকে হযরত বেলালের হাওয়ালা করে দিলেন এবং তাঁকে সঙ্গে নিয়ে সাহাবীদেরকে অগ্রযাত্রার নির্দেশ দিলেন। সে সাহাবী এমন এক রাস্তা ধরলেন যে, তা পাহাড় থেকে বের হয়ে এক টিলার পাদদেশে গিয়ে দা'ছুরের সঙ্গীদের ওপর গিয়ে পৌঁছলো। বেদুঈনরা হুজুরের (সাঃ) আগমনের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ আশেপাশের পাহাড়ে গিয়ে পালালো। হুজুর (সাঃ) তাদের কাউকেই দেখতে পাচ্ছিলেন না। অথচ তারা উঁচু পাহাড়ে লুকিয়ে লুকিয়ে মুসলমানদেরকে দেখছিলো।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) জি আমর নামক স্থানে তাঁবু ফেললেন। সেখানে মুষলধারায় বৃষ্টিপাত ঘটলো। বৃষ্টির সময় নবী পাক (সাঃ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দানের জন্য তাঁবু তেকে দূরে গিয়েছিলেন। বৃষ্টিতে তার শরীরের কাপড় ভিজে গিয়েছিল।
তিনি জি আমর উপত্যাকায় পর্দা দেখতে পেয়ে একস্থানে কাপড় খুললেন এবং তা শুকানোর জন্য একটি বৃক্ষের ওপর ছড়িয়ে দিলেন। তখন রোদ বের হয়েছিল। তিনি শুধুমাত্র লুঙ্গি পরেছিলেন এবং অবশিষ্ট কাপড় খুলে ফেলেছিলেন। কাপড় শুকানোর অপেক্ষায় তিনি বৃক্ষের নীচে বসেছিলেন। অতপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং চোখ বুজে এলো। এ সময় তিনি সম্পূর্ণ একাকী ছিলেন এবং বেদুঈন সৈন্য পাহাড়ের উঁচু থেকে তাঁকে দেখছিলো।
দা'ছুর বেদুঈনদের সরদার ছিল। তাকে তারা বাহাদুরও মনে করতো। এ সময় তারা তাকে বললো, "এখন সুবর্ণ সুযোগ। মুহাম্মদ সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সে এখন শুয়েও রয়েছে। এখান থেকে যদি সে নিজের সঙ্গীদেরকে সাহায্যের জন্য ডাকও দেয় তাহলে কেউ তার ডাক শুনতে পাবে না। তুমি যাও এবং তাকে খতম কর।"
দা'ছুর নিজের অনেকগুলো তরবারী থেকে সবচেয়ে ধারালো এবং চমকদার তরবারীটি বের করলো এবং পা টিপে টিকে পাহাড় থেকে অবতরণ করলো। সে হজুরের (সাঃ) মাথার উপর গিয়ে দাঁড়ালো এবং তরবারী হেলাতে হেলাতে বললো, "হে মুহাম্মদ! বলো আমার তরবারী থেকে তোমাকে আজ কে বাঁচাতে পারে?" রাসূলে পাক (সাঃ) চোখ খুললেন এবং অত্যন্ত ইতমিনানের সঙ্গে জবাব দিলেন, "আল্লাহ"।
রাবী বর্ণনা করেছেন যে, ঠিক সেই মুহূর্তে জিবরাইল (আ) দা'ছুরের বুকের ওপর দুটি ঘা মারলেন এবং তরবারী হাত থেকে পড়ে গেল। তারপর সেও মাটির ওপর পতিত হলো। হুজুর (সাঃ) তার তরবারী উঠালেন এবং তার মাথার ওপর দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "এখন তুমি বলো যে আজ তোমাকে কে বাঁচাতে পারে?”
সে জবাব দিল, "কেউ নয়।” অতপর তৎক্ষণাৎ কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন এবং বললেন, খোদার শপথ আমি আর কখনো আপনার বিরোধিতা করবো না ও সামরিক অভিযানের চেষ্টাও করবো না।"
রাসূলে করিম (সাঃ) তার তরবারী তাকে দিয়ে দিলেন। এ সময় তিনি ফিরে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলেন। কিন্তু আবার রাসূলের (সাঃ) দিকে মুখ ফিরে তাকালেন এবং বললেন, "খোদার কসম! আপনি আমার থেকে অনেক উত্তম এবং অনেক ভালো। আপনার আচরণ কত ভালো।” তিনি বললেন, 'আমার এই ধরনেরই হওয়া উচিত। এটাই আমার শান।" তার কওমের লোকজন সকল দৃশ্য অবলোকন করছিল। তিনি যখন ফিরলেন তখন তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল, তোমার কি হয়েছিল?” তিনি বললেন, খোদার শপথ। আশ্চর্য ধরনের ব্যাপার ঘটে গেল। আমি তরবারী উত্তোলন করতে চাচ্ছিলাম। ঠিক এমনি সময় আমার এবং তার মধ্যে এক লম্বা ও গৌর বর্ণের মানুষ হঠাৎ করে আড়াল হয়ে দাঁড়ালো। সে আমার বুকের ওপর দুটি ঘা মারলো এবং আমি চিৎ হয়ে পড়ে গেলাম। এ সময় আমার হাত থেকে তরবারী ছুটে গেল। আমি বুঝতে পেলাম যে সে ছিল একজন ফেরেশতা। সেই আমাকে মেরে ফেলে দিয়েছিল। সুতরাং আমি আর কালবিলম্ব না করে সাক্ষ্য দিলাম যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহ একক ও শরীকহীন। আল্লাহর শপথ, এখন আর আমি তার বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালাবো না। এরপর সে নিজের কওমের লোকদেরকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিতেন।
ওয়াকেদী আব্দুল্লাহ বিন আবু বকরের একটি রাওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর (রাঃ) বলেছেন, রাসূলে আকরাম (সাঃ) খবর পেলেন যে, বনু ছালাবা এবং বনু মাহারিব গোত্রের লোকজন তাঁর ওপর হামলা করার জন্য এক বিরাট বাহিনী একত্রিত করেছে। এই বাহিনী মদীনার চারদিক থেকে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। আছুর বিন হারিছ বিন মাহারিব নামক একজন সরদার এই বাহিনী মোতায়েন করেছিল। এই বেদুঈন সরদারের লকব গওরছ ছিল বলেও কথিত আছে।
এই পরিকল্পনার খবর পেয়ে রাসূলে আকরাম (সাঃ) মুসলমানদেরকে জিহাদের প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন এবং সাড়ে চারশ সাহাবীর একটি দলসহ মদীনা থেকে বের হলেন। এই যুদ্ধে তার সঙ্গে ঘোড় সওয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যোদ্ধাও ছিলেন। প্রথমত তিনি সাধারণ রাস্তা দিয়েই চলতে লাগলেন। অতপর তিনি পরিচিত রাস্তা ছেড়ে একটি অপ্রশস্ত পার্বত্য পথ ধরলেন। সেই পথ দিয়ে তিনি জিল কাসসাহ নামক স্থানে পৌঁছলেন। এখানে সাহাবীরা এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করলেন'। লোকটি বনু ছালাবার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল এবং তার নাম ছিল জাব্বার। সে কোথায় যাচ্ছে তা তারা তাকে জিজ্ঞেস করলো। জবাবে সে বললো, আমি ইয়াসরাবযাচ্ছি।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, ইয়াসরাবে তার কি কাজ আছে সে বললো, আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে চাই।
তারা জিজ্ঞেস করলে- তুমি কি সৈন্য বাহিনী দেখেছ অথবা তোমার কওমের নতুন কোন খবর তোমার নিকট আছে কি?
সে বললো, আমার নিকট বিশেষ কোন তথ্য নেই। তবে, এতটুকু জানি যে দা'ছুর বিন হারিছ কিছু লোককে তৈরী করেছে।
সাহাবীবৃন্দ (রাঃ) সেইব্যক্তিকে হুজুরের (সাঃ) খিদমতে পেশ করলেন। তখন তিনি তার নিকট ইসলামের দাওয়াত দিলেন।। এই দাওয়াত পেয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ। তারা আপনার মুকাবিলায় আসার সাহস করবে না। তারা তো আপনার নাম শুনেই ভেগে যাবে। তারা পাহাড়ে গিয়ে লুকাবে। আমি আপনার সঙ্গে যাবো এবং আপনাকে তাদের গুঢ় রহস্য বলবো।
রাসূলে পাক (সাঃ) সেই নওমুসলিম সাহাবীকে হযরত বেলালের হাওয়ালা করে দিলেন এবং তাঁকে সঙ্গে নিয়ে সাহাবীদেরকে অগ্রযাত্রার নির্দেশ দিলেন। সে সাহাবী এমন এক রাস্তা ধরলেন যে, তা পাহাড় থেকে বের হয়ে এক টিলার পাদদেশে গিয়ে দা'ছুরের সঙ্গীদের ওপর গিয়ে পৌঁছলো। বেদুঈনরা হুজুরের (সাঃ) আগমনের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ আশেপাশের পাহাড়ে গিয়ে পালালো। হুজুর (সাঃ) তাদের কাউকেই দেখতে পাচ্ছিলেন না। অথচ তারা উঁচু পাহাড়ে লুকিয়ে লুকিয়ে মুসলমানদেরকে দেখছিলো।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) জি আমর নামক স্থানে তাঁবু ফেললেন। সেখানে মুষলধারায় বৃষ্টিপাত ঘটলো। বৃষ্টির সময় নবী পাক (সাঃ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দানের জন্য তাঁবু তেকে দূরে গিয়েছিলেন। বৃষ্টিতে তার শরীরের কাপড় ভিজে গিয়েছিল।
তিনি জি আমর উপত্যাকায় পর্দা দেখতে পেয়ে একস্থানে কাপড় খুললেন এবং তা শুকানোর জন্য একটি বৃক্ষের ওপর ছড়িয়ে দিলেন। তখন রোদ বের হয়েছিল। তিনি শুধুমাত্র লুঙ্গি পরেছিলেন এবং অবশিষ্ট কাপড় খুলে ফেলেছিলেন। কাপড় শুকানোর অপেক্ষায় তিনি বৃক্ষের নীচে বসেছিলেন। অতপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং চোখ বুজে এলো। এ সময় তিনি সম্পূর্ণ একাকী ছিলেন এবং বেদুঈন সৈন্য পাহাড়ের উঁচু থেকে তাঁকে দেখছিলো।
দা'ছুর বেদুঈনদের সরদার ছিল। তাকে তারা বাহাদুরও মনে করতো। এ সময় তারা তাকে বললো, "এখন সুবর্ণ সুযোগ। মুহাম্মদ সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সে এখন শুয়েও রয়েছে। এখান থেকে যদি সে নিজের সঙ্গীদেরকে সাহায্যের জন্য ডাকও দেয় তাহলে কেউ তার ডাক শুনতে পাবে না। তুমি যাও এবং তাকে খতম কর।"
দা'ছুর নিজের অনেকগুলো তরবারী থেকে সবচেয়ে ধারালো এবং চমকদার তরবারীটি বের করলো এবং পা টিপে টিকে পাহাড় থেকে অবতরণ করলো। সে হজুরের (সাঃ) মাথার উপর গিয়ে দাঁড়ালো এবং তরবারী হেলাতে হেলাতে বললো, "হে মুহাম্মদ! বলো আমার তরবারী থেকে তোমাকে আজ কে বাঁচাতে পারে?" রাসূলে পাক (সাঃ) চোখ খুললেন এবং অত্যন্ত ইতমিনানের সঙ্গে জবাব দিলেন, "আল্লাহ"।
রাবী বর্ণনা করেছেন যে, ঠিক সেই মুহূর্তে জিবরাইল (আ) দা'ছুরের বুকের ওপর দুটি ঘা মারলেন এবং তরবারী হাত থেকে পড়ে গেল। তারপর সেও মাটির ওপর পতিত হলো। হুজুর (সাঃ) তার তরবারী উঠালেন এবং তার মাথার ওপর দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "এখন তুমি বলো যে আজ তোমাকে কে বাঁচাতে পারে?”
সে জবাব দিল, "কেউ নয়।” অতপর তৎক্ষণাৎ কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন এবং বললেন, খোদার শপথ আমি আর কখনো আপনার বিরোধিতা করবো না ও সামরিক অভিযানের চেষ্টাও করবো না।"
রাসূলে করিম (সাঃ) তার তরবারী তাকে দিয়ে দিলেন। এ সময় তিনি ফিরে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলেন। কিন্তু আবার রাসূলের (সাঃ) দিকে মুখ ফিরে তাকালেন এবং বললেন, "খোদার কসম! আপনি আমার থেকে অনেক উত্তম এবং অনেক ভালো। আপনার আচরণ কত ভালো।” তিনি বললেন, 'আমার এই ধরনেরই হওয়া উচিত। এটাই আমার শান।" তার কওমের লোকজন সকল দৃশ্য অবলোকন করছিল। তিনি যখন ফিরলেন তখন তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল, তোমার কি হয়েছিল?” তিনি বললেন, খোদার শপথ। আশ্চর্য ধরনের ব্যাপার ঘটে গেল। আমি তরবারী উত্তোলন করতে চাচ্ছিলাম। ঠিক এমনি সময় আমার এবং তার মধ্যে এক লম্বা ও গৌর বর্ণের মানুষ হঠাৎ করে আড়াল হয়ে দাঁড়ালো। সে আমার বুকের ওপর দুটি ঘা মারলো এবং আমি চিৎ হয়ে পড়ে গেলাম। এ সময় আমার হাত থেকে তরবারী ছুটে গেল। আমি বুঝতে পেলাম যে সে ছিল একজন ফেরেশতা। সেই আমাকে মেরে ফেলে দিয়েছিল। সুতরাং আমি আর কালবিলম্ব না করে সাক্ষ্য দিলাম যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহ একক ও শরীকহীন। আল্লাহর শপথ, এখন আর আমি তার বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালাবো না। এরপর সে নিজের কওমের লোকদেরকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিতেন।
ওয়াকেদী আব্দুল্লাহ বিন আবু বকরের একটি রাওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর (রাঃ) বলেছেন, রাসূলে আকরাম (সাঃ) খবর পেলেন যে, বনু ছালাবা এবং বনু মাহারিব গোত্রের লোকজন তাঁর ওপর হামলা করার জন্য এক বিরাট বাহিনী একত্রিত করেছে। এই বাহিনী মদীনার চারদিক থেকে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। আছুর বিন হারিছ বিন মাহারিব নামক একজন সরদার এই বাহিনী মোতায়েন করেছিল। এই বেদুঈন সরদারের লকব গওরছ ছিল বলেও কথিত আছে।
এই পরিকল্পনার খবর পেয়ে রাসূলে আকরাম (সাঃ) মুসলমানদেরকে জিহাদের প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন এবং সাড়ে চারশ সাহাবীর একটি দলসহ মদীনা থেকে বের হলেন। এই যুদ্ধে তার সঙ্গে ঘোড় সওয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যোদ্ধাও ছিলেন। প্রথমত তিনি সাধারণ রাস্তা দিয়েই চলতে লাগলেন। অতপর তিনি পরিচিত রাস্তা ছেড়ে একটি অপ্রশস্ত পার্বত্য পথ ধরলেন। সেই পথ দিয়ে তিনি জিল কাসসাহ নামক স্থানে পৌঁছলেন। এখানে সাহাবীরা এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করলেন'। লোকটি বনু ছালাবার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল এবং তার নাম ছিল জাব্বার। সে কোথায় যাচ্ছে তা তারা তাকে জিজ্ঞেস করলো। জবাবে সে বললো, আমি ইয়াসরাবযাচ্ছি।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, ইয়াসরাবে তার কি কাজ আছে সে বললো, আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে চাই।
তারা জিজ্ঞেস করলে- তুমি কি সৈন্য বাহিনী দেখেছ অথবা তোমার কওমের নতুন কোন খবর তোমার নিকট আছে কি?
সে বললো, আমার নিকট বিশেষ কোন তথ্য নেই। তবে, এতটুকু জানি যে দা'ছুর বিন হারিছ কিছু লোককে তৈরী করেছে।
সাহাবীবৃন্দ (রাঃ) সেইব্যক্তিকে হুজুরের (সাঃ) খিদমতে পেশ করলেন। তখন তিনি তার নিকট ইসলামের দাওয়াত দিলেন।। এই দাওয়াত পেয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ। তারা আপনার মুকাবিলায় আসার সাহস করবে না। তারা তো আপনার নাম শুনেই ভেগে যাবে। তারা পাহাড়ে গিয়ে লুকাবে। আমি আপনার সঙ্গে যাবো এবং আপনাকে তাদের গুঢ় রহস্য বলবো।
রাসূলে পাক (সাঃ) সেই নওমুসলিম সাহাবীকে হযরত বেলালের হাওয়ালা করে দিলেন এবং তাঁকে সঙ্গে নিয়ে সাহাবীদেরকে অগ্রযাত্রার নির্দেশ দিলেন। সে সাহাবী এমন এক রাস্তা ধরলেন যে, তা পাহাড় থেকে বের হয়ে এক টিলার পাদদেশে গিয়ে দা'ছুরের সঙ্গীদের ওপর গিয়ে পৌঁছলো। বেদুঈনরা হুজুরের (সাঃ) আগমনের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ আশেপাশের পাহাড়ে গিয়ে পালালো। হুজুর (সাঃ) তাদের কাউকেই দেখতে পাচ্ছিলেন না। অথচ তারা উঁচু পাহাড়ে লুকিয়ে লুকিয়ে মুসলমানদেরকে দেখছিলো।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) জি আমর নামক স্থানে তাঁবু ফেললেন। সেখানে মুষলধারায় বৃষ্টিপাত ঘটলো। বৃষ্টির সময় নবী পাক (সাঃ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দানের জন্য তাঁবু তেকে দূরে গিয়েছিলেন। বৃষ্টিতে তার শরীরের কাপড় ভিজে গিয়েছিল।
তিনি জি আমর উপত্যাকায় পর্দা দেখতে পেয়ে একস্থানে কাপড় খুললেন এবং তা শুকানোর জন্য একটি বৃক্ষের ওপর ছড়িয়ে দিলেন। তখন রোদ বের হয়েছিল। তিনি শুধুমাত্র লুঙ্গি পরেছিলেন এবং অবশিষ্ট কাপড় খুলে ফেলেছিলেন। কাপড় শুকানোর অপেক্ষায় তিনি বৃক্ষের নীচে বসেছিলেন। অতপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং চোখ বুজে এলো। এ সময় তিনি সম্পূর্ণ একাকী ছিলেন এবং বেদুঈন সৈন্য পাহাড়ের উঁচু থেকে তাঁকে দেখছিলো।
দা'ছুর বেদুঈনদের সরদার ছিল। তাকে তারা বাহাদুরও মনে করতো। এ সময় তারা তাকে বললো, "এখন সুবর্ণ সুযোগ। মুহাম্মদ সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সে এখন শুয়েও রয়েছে। এখান থেকে যদি সে নিজের সঙ্গীদেরকে সাহায্যের জন্য ডাকও দেয় তাহলে কেউ তার ডাক শুনতে পাবে না। তুমি যাও এবং তাকে খতম কর।"
দা'ছুর নিজের অনেকগুলো তরবারী থেকে সবচেয়ে ধারালো এবং চমকদার তরবারীটি বের করলো এবং পা টিপে টিকে পাহাড় থেকে অবতরণ করলো। সে হজুরের (সাঃ) মাথার উপর গিয়ে দাঁড়ালো এবং তরবারী হেলাতে হেলাতে বললো, "হে মুহাম্মদ! বলো আমার তরবারী থেকে তোমাকে আজ কে বাঁচাতে পারে?" রাসূলে পাক (সাঃ) চোখ খুললেন এবং অত্যন্ত ইতমিনানের সঙ্গে জবাব দিলেন, "আল্লাহ"।
রাবী বর্ণনা করেছেন যে, ঠিক সেই মুহূর্তে জিবরাইল (আ) দা'ছুরের বুকের ওপর দুটি ঘা মারলেন এবং তরবারী হাত থেকে পড়ে গেল। তারপর সেও মাটির ওপর পতিত হলো। হুজুর (সাঃ) তার তরবারী উঠালেন এবং তার মাথার ওপর দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "এখন তুমি বলো যে আজ তোমাকে কে বাঁচাতে পারে?”
সে জবাব দিল, "কেউ নয়।” অতপর তৎক্ষণাৎ কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন এবং বললেন, খোদার শপথ আমি আর কখনো আপনার বিরোধিতা করবো না ও সামরিক অভিযানের চেষ্টাও করবো না।"
রাসূলে করিম (সাঃ) তার তরবারী তাকে দিয়ে দিলেন। এ সময় তিনি ফিরে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলেন। কিন্তু আবার রাসূলের (সাঃ) দিকে মুখ ফিরে তাকালেন এবং বললেন, "খোদার কসম! আপনি আমার থেকে অনেক উত্তম এবং অনেক ভালো। আপনার আচরণ কত ভালো।” তিনি বললেন, 'আমার এই ধরনেরই হওয়া উচিত। এটাই আমার শান।" তার কওমের লোকজন সকল দৃশ্য অবলোকন করছিল। তিনি যখন ফিরলেন তখন তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল, তোমার কি হয়েছিল?” তিনি বললেন, খোদার শপথ। আশ্চর্য ধরনের ব্যাপার ঘটে গেল। আমি তরবারী উত্তোলন করতে চাচ্ছিলাম। ঠিক এমনি সময় আমার এবং তার মধ্যে এক লম্বা ও গৌর বর্ণের মানুষ হঠাৎ করে আড়াল হয়ে দাঁড়ালো। সে আমার বুকের ওপর দুটি ঘা মারলো এবং আমি চিৎ হয়ে পড়ে গেলাম। এ সময় আমার হাত থেকে তরবারী ছুটে গেল। আমি বুঝতে পেলাম যে সে ছিল একজন ফেরেশতা। সেই আমাকে মেরে ফেলে দিয়েছিল। সুতরাং আমি আর কালবিলম্ব না করে সাক্ষ্য দিলাম যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহ একক ও শরীকহীন। আল্লাহর শপথ, এখন আর আমি তার বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালাবো না। এরপর সে নিজের কওমের লোকদেরকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিতেন।
📄 পাথরের তসবিহ পাঠ
হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকী বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আজ-জুহলী মুহাম্মদ বিন শিহাব আজ জুহুরীর হাদিস সমূহ আজ জুহরিয়াতে আবুল ইয়ামনের জবানীতে লিখেছেল। অবুল ইয়ামান শুয়াইব থেকে শুনেছেন। তিনি ওয়ারিদ বিন সুয়াইদ থেকে এবং তিনি বনু সলিমের এক ব্যক্তি থেকে শুনেছেন। তার সঙ্গে হযরত আবু যরের (রাঃ) সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি রাবযাহতে হযরত আবু যরের (রাঃ) মজলিশে একদিন বসেছিলেন। এসময় হযরত ওসমানের (রাঃ) প্রসঙ্গ আলোচনা শুরু হয়ে গেল।
সালমা বলেন যে, হযরত ওসমান (রাঃ) যেহেতু সাইয়েদেনা আবু যরকে (রাঃ) মদীনা থেকে রাবযাতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং হযরত আবু যরের (রাঃ) হযরত ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সেহেতু মজলিশে উপস্থিত সকলেই ধারণা করলেন যে তিনি সেই অভিযোগ প্রকাশ করবেন। কিন্তু হযরত আবু যর (রাঃ) বললেন, "ওসমানের (রাঃ) ব্যাপারে উত্তম কথা ছাড়া কিছু বলো না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এমন দৃশ্য দেখেছি যা মৃত্যু পর্যন্ত ভুলতে পারবো না।"
আমি হজুরে আকরামের (সাঃ) নেকযুগে তাঁর সঙ্গে একাকি মিলিত হয়ে প্রশ্নাদি জিজ্ঞেস করার চেষ্টায় থাকতাম। গ্রীষ্মকালে একদিন আমি হজুরের (সাঃ) সম্পর্কে দ্বিপ্রহরের সময় খাদেমের নিকট জিজ্ঞাসা করলাম। সে জানালো যে তিনি অমুক স্থানে তাশরীফ নিয়ে গেছেন। আমি সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে, নবী পাক (সাঃ) একাকী বসে রয়েছন। আমি ধারণা করলাম যে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু আমি সালাম করলাম। তিনি জবাব দিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "কোন বস্তু তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে?” আমি আরজ করলাম, "শুধু আল্লাহ এবং তার রসূলের ভালোবাসা।” তিনি আমাকে বসার নির্দেশ দিলেন। আমি তার পাশে বসে গেলাম। আমি চুপচাপ বসে রইলাম। আমি তাকে কিছু জিজ্ঞাসাও করলাম না। তিনিও আমাকে জিছু বললেন না। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হতে না হতেই আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) দ্রুতগতিতে সেখানে পৌঁছলেন এবং সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দানের পর সেই প্রশ্নই জিজ্ঞেস করলেন যা আমাকে জিজ্ঞেস করে ছিলেন। তিনি বললেন, "কি উদ্দেশ্যে এসেছ?” তিনিও আমার মতই জবাব দিলেন যে আল্লাহ ও তার রাসূলের (সাঃ) মুহাব্বাত এখানে টেনে এনেছে। তিনি তাঁকে বসার ইশারা করলেন। তিনি তাঁর সামনে বসলেন। তিনি তাঁকে আমার সঙ্গে বসার ইঙ্গিত করলেন। সুতরাং তিনি আমার ডান পাশে বসলেন। অতপর কিছুক্ষণ পর ওমর (রাঃ) এবং ওসমানও (রাঃ) আসলেন। তাঁদের সঙ্গেও উপরোল্লিখিত একই সওয়াল জওয়াৰ হলো।
তারপর নবী পাক (সাঃ) এমন কিছু কালমাহ বললেন যা আমার বোধগম্য হলো না। তিনি আবার বললেন, "তা কমই থাকবে অথবা কমই রযেছে।” একথা বলে তিনি হাতে কয়েকটি পাথর নিলেন। পাথর গুলোর সংখ্যা সাত কিম্বা ন' হবে। তিনি মুষ্টি বদ্ধ করলেন এবং পাথর গুলো তসবিহ পাঠ শুরু করলো। আমরা তাদের থেকে তেমন আওয়াজ শুনলাম যেমন মৌমাছি গুণগুণ করে। আমি নবীর (সাঃ) একদম সঙ্গে বসেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে রেখে পাথর গুলো আবু বকরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো হযরত আবু বকরের (রাঃ) মুঠোতেও তেমনি তসবিহ পাঠ করলো যেমন হুজুরে করিমের (সাঃ) হাতে পাঠ করেছিল। আবু বকরের (রাঃ) নিকট থেকে নবী পাক (সাঃ) পাথর গুলো নিয়ে নিলেন এবং মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথরগুলো সম্পূর্ণ চুপ মেরে গেল। অতপর তিনি সেই পাথর গুলো ওমরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো তাঁর মুঠোতেও তসবিহ পাঠ করলো। আমরা তা শুনলাম। তার পর তিনি তাঁর নিকট থেকে পাথর গুলো নিয়ে দ্বিতীয়বার মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথর গুলো আবার চুপ মেরে গেল। তিনি পাথর গুলো ওসমানকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো ওসমানের (রাঃ) হাতেও অন্যান্য হযরতের মুঠোয় যেনম তসবিহ পাঠ করেছিল তেমনি তসবিহ পাঠ করলো। অতপর নবী পাক (সাঃ) সেই পাথর গুলো নিয়ে মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন এবং পাথর গুলো পুনরায় চুপ মেরে গেল।
হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকী বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আজ-জুহলী মুহাম্মদ বিন শিহাব আজ জুহুরীর হাদিস সমূহ আজ জুহরিয়াতে আবুল ইয়ামনের জবানীতে লিখেছেল। অবুল ইয়ামান শুয়াইব থেকে শুনেছেন। তিনি ওয়ারিদ বিন সুয়াইদ থেকে এবং তিনি বনু সলিমের এক ব্যক্তি থেকে শুনেছেন। তার সঙ্গে হযরত আবু যরের (রাঃ) সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি রাবযাহতে হযরত আবু যরের (রাঃ) মজলিশে একদিন বসেছিলেন। এসময় হযরত ওসমানের (রাঃ) প্রসঙ্গ আলোচনা শুরু হয়ে গেল।
সালমা বলেন যে, হযরত ওসমান (রাঃ) যেহেতু সাইয়েদেনা আবু যরকে (রাঃ) মদীনা থেকে রাবযাতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং হযরত আবু যরের (রাঃ) হযরত ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সেহেতু মজলিশে উপস্থিত সকলেই ধারণা করলেন যে তিনি সেই অভিযোগ প্রকাশ করবেন। কিন্তু হযরত আবু যর (রাঃ) বললেন, "ওসমানের (রাঃ) ব্যাপারে উত্তম কথা ছাড়া কিছু বলো না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এমন দৃশ্য দেখেছি যা মৃত্যু পর্যন্ত ভুলতে পারবো না।"
আমি হজুরে আকরামের (সাঃ) নেকযুগে তাঁর সঙ্গে একাকি মিলিত হয়ে প্রশ্নাদি জিজ্ঞেস করার চেষ্টায় থাকতাম। গ্রীষ্মকালে একদিন আমি হজুরের (সাঃ) সম্পর্কে দ্বিপ্রহরের সময় খাদেমের নিকট জিজ্ঞাসা করলাম। সে জানালো যে তিনি অমুক স্থানে তাশরীফ নিয়ে গেছেন। আমি সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে, নবী পাক (সাঃ) একাকী বসে রয়েছন। আমি ধারণা করলাম যে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু আমি সালাম করলাম। তিনি জবাব দিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "কোন বস্তু তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে?” আমি আরজ করলাম, "শুধু আল্লাহ এবং তার রসূলের ভালোবাসা।” তিনি আমাকে বসার নির্দেশ দিলেন। আমি তার পাশে বসে গেলাম। আমি চুপচাপ বসে রইলাম। আমি তাকে কিছু জিজ্ঞাসাও করলাম না। তিনিও আমাকে জিছু বললেন না। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হতে না হতেই আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) দ্রুতগতিতে সেখানে পৌঁছলেন এবং সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দানের পর সেই প্রশ্নই জিজ্ঞেস করলেন যা আমাকে জিজ্ঞেস করে ছিলেন। তিনি বললেন, "কি উদ্দেশ্যে এসেছ?” তিনিও আমার মতই জবাব দিলেন যে আল্লাহ ও তার রাসূলের (সাঃ) মুহাব্বাত এখানে টেনে এনেছে। তিনি তাঁকে বসার ইশারা করলেন। তিনি তাঁর সামনে বসলেন। তিনি তাঁকে আমার সঙ্গে বসার ইঙ্গিত করলেন। সুতরাং তিনি আমার ডান পাশে বসলেন। অতপর কিছুক্ষণ পর ওমর (রাঃ) এবং ওসমানও (রাঃ) আসলেন। তাঁদের সঙ্গেও উপরোল্লিখিত একই সওয়াল জওয়াৰ হলো।
তারপর নবী পাক (সাঃ) এমন কিছু কালমাহ বললেন যা আমার বোধগম্য হলো না। তিনি আবার বললেন, "তা কমই থাকবে অথবা কমই রযেছে।” একথা বলে তিনি হাতে কয়েকটি পাথর নিলেন। পাথর গুলোর সংখ্যা সাত কিম্বা ন' হবে। তিনি মুষ্টি বদ্ধ করলেন এবং পাথর গুলো তসবিহ পাঠ শুরু করলো। আমরা তাদের থেকে তেমন আওয়াজ শুনলাম যেমন মৌমাছি গুণগুণ করে। আমি নবীর (সাঃ) একদম সঙ্গে বসেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে রেখে পাথর গুলো আবু বকরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো হযরত আবু বকরের (রাঃ) মুঠোতেও তেমনি তসবিহ পাঠ করলো যেমন হুজুরে করিমের (সাঃ) হাতে পাঠ করেছিল। আবু বকরের (রাঃ) নিকট থেকে নবী পাক (সাঃ) পাথর গুলো নিয়ে নিলেন এবং মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথরগুলো সম্পূর্ণ চুপ মেরে গেল। অতপর তিনি সেই পাথর গুলো ওমরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো তাঁর মুঠোতেও তসবিহ পাঠ করলো। আমরা তা শুনলাম। তার পর তিনি তাঁর নিকট থেকে পাথর গুলো নিয়ে দ্বিতীয়বার মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথর গুলো আবার চুপ মেরে গেল। তিনি পাথর গুলো ওসমানকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো ওসমানের (রাঃ) হাতেও অন্যান্য হযরতের মুঠোয় যেনম তসবিহ পাঠ করেছিল তেমনি তসবিহ পাঠ করলো। অতপর নবী পাক (সাঃ) সেই পাথর গুলো নিয়ে মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন এবং পাথর গুলো পুনরায় চুপ মেরে গেল।
হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকী বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আজ-জুহলী মুহাম্মদ বিন শিহাব আজ জুহুরীর হাদিস সমূহ আজ জুহরিয়াতে আবুল ইয়ামনের জবানীতে লিখেছেল। অবুল ইয়ামান শুয়াইব থেকে শুনেছেন। তিনি ওয়ারিদ বিন সুয়াইদ থেকে এবং তিনি বনু সলিমের এক ব্যক্তি থেকে শুনেছেন। তার সঙ্গে হযরত আবু যরের (রাঃ) সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি রাবযাহতে হযরত আবু যরের (রাঃ) মজলিশে একদিন বসেছিলেন। এসময় হযরত ওসমানের (রাঃ) প্রসঙ্গ আলোচনা শুরু হয়ে গেল।
সালমা বলেন যে, হযরত ওসমান (রাঃ) যেহেতু সাইয়েদেনা আবু যরকে (রাঃ) মদীনা থেকে রাবযাতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং হযরত আবু যরের (রাঃ) হযরত ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সেহেতু মজলিশে উপস্থিত সকলেই ধারণা করলেন যে তিনি সেই অভিযোগ প্রকাশ করবেন। কিন্তু হযরত আবু যর (রাঃ) বললেন, "ওসমানের (রাঃ) ব্যাপারে উত্তম কথা ছাড়া কিছু বলো না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এমন দৃশ্য দেখেছি যা মৃত্যু পর্যন্ত ভুলতে পারবো না।"
আমি হজুরে আকরামের (সাঃ) নেকযুগে তাঁর সঙ্গে একাকি মিলিত হয়ে প্রশ্নাদি জিজ্ঞেস করার চেষ্টায় থাকতাম। গ্রীষ্মকালে একদিন আমি হজুরের (সাঃ) সম্পর্কে দ্বিপ্রহরের সময় খাদেমের নিকট জিজ্ঞাসা করলাম। সে জানালো যে তিনি অমুক স্থানে তাশরীফ নিয়ে গেছেন। আমি সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে, নবী পাক (সাঃ) একাকী বসে রয়েছন। আমি ধারণা করলাম যে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু আমি সালাম করলাম। তিনি জবাব দিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "কোন বস্তু তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে?” আমি আরজ করলাম, "শুধু আল্লাহ এবং তার রসূলের ভালোবাসা।” তিনি আমাকে বসার নির্দেশ দিলেন। আমি তার পাশে বসে গেলাম। আমি চুপচাপ বসে রইলাম। আমি তাকে কিছু জিজ্ঞাসাও করলাম না। তিনিও আমাকে জিছু বললেন না। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হতে না হতেই আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) দ্রুতগতিতে সেখানে পৌঁছলেন এবং সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দানের পর সেই প্রশ্নই জিজ্ঞেস করলেন যা আমাকে জিজ্ঞেস করে ছিলেন। তিনি বললেন, "কি উদ্দেশ্যে এসেছ?” তিনিও আমার মতই জবাব দিলেন যে আল্লাহ ও তার রাসূলের (সাঃ) মুহাব্বাত এখানে টেনে এনেছে। তিনি তাঁকে বসার ইশারা করলেন। তিনি তাঁর সামনে বসলেন। তিনি তাঁকে আমার সঙ্গে বসার ইঙ্গিত করলেন। সুতরাং তিনি আমার ডান পাশে বসলেন। অতপর কিছুক্ষণ পর ওমর (রাঃ) এবং ওসমানও (রাঃ) আসলেন। তাঁদের সঙ্গেও উপরোল্লিখিত একই সওয়াল জওয়াৰ হলো।
তারপর নবী পাক (সাঃ) এমন কিছু কালমাহ বললেন যা আমার বোধগম্য হলো না। তিনি আবার বললেন, "তা কমই থাকবে অথবা কমই রযেছে।” একথা বলে তিনি হাতে কয়েকটি পাথর নিলেন। পাথর গুলোর সংখ্যা সাত কিম্বা ন' হবে। তিনি মুষ্টি বদ্ধ করলেন এবং পাথর গুলো তসবিহ পাঠ শুরু করলো। আমরা তাদের থেকে তেমন আওয়াজ শুনলাম যেমন মৌমাছি গুণগুণ করে। আমি নবীর (সাঃ) একদম সঙ্গে বসেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে রেখে পাথর গুলো আবু বকরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো হযরত আবু বকরের (রাঃ) মুঠোতেও তেমনি তসবিহ পাঠ করলো যেমন হুজুরে করিমের (সাঃ) হাতে পাঠ করেছিল। আবু বকরের (রাঃ) নিকট থেকে নবী পাক (সাঃ) পাথর গুলো নিয়ে নিলেন এবং মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথরগুলো সম্পূর্ণ চুপ মেরে গেল। অতপর তিনি সেই পাথর গুলো ওমরকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো তাঁর মুঠোতেও তসবিহ পাঠ করলো। আমরা তা শুনলাম। তার পর তিনি তাঁর নিকট থেকে পাথর গুলো নিয়ে দ্বিতীয়বার মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন। পাথর গুলো আবার চুপ মেরে গেল। তিনি পাথর গুলো ওসমানকে (রাঃ) দিলেন। পাথর গুলো ওসমানের (রাঃ) হাতেও অন্যান্য হযরতের মুঠোয় যেনম তসবিহ পাঠ করেছিল তেমনি তসবিহ পাঠ করলো। অতপর নবী পাক (সাঃ) সেই পাথর গুলো নিয়ে মাটির ওপর নিক্ষেপ করলেন এবং পাথর গুলো পুনরায় চুপ মেরে গেল।
📄 জুনদুব ও যাদুকর
ইবনে আব্দুল বার বর্ননা করেছেন যে, ইবনে জুরাইহ আমর বিন দিনার থেকে রাওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি বাজালাতুত তামিমীকে এই হাদিস বর্ননা করতে শুনেছিলেনঃ প্রত্যেক যাদুকর পুরুষ ও মহিলা কে হত্যা করে ফেলো।। কুফাতে আবু বুসতান নামক একজন পারসিক যাদুকর ছিলো। কেউই তার মুকাবিলা করতে পারতো না। নবী পাক (সাঃ) একবার সাহাবী জুনদুবের ব্যাপারে বলেছিলেন। "জুন্দুব! জুন্দুবের কথা আর বলতে কি। সে এমন আঘাত হানবে যাতে আল্লাহ হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যের সীমা রেখা টেনে দিবেন।
আবু বুসতান সম্পর্কে আমাদেরকে জাবির বিন আব্দুল হামদি আ'মাশের মুখে এবং আমাশ ইবরাহিমের মুখে রাওয়ায়েত শুনিয়েছেন যে সে বড় যাদুকর ছিল এবং নিজের যাদু দিয়ে মানুষের মনোরঞ্জনের খোরাক বোগাতো। একবার সে কুফার গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবার আমলে নিজের যাদুর কিরিশমা দেখাচ্ছিল। লোকজন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল যে সে করছে কি আর কেমন করে করছে।
মানুষের চোখের সামনে দেখাচ্ছিল যে যেন সে একটি গাধার মুখ দিয়ে তার পেটে প্রবেশ করছে এবং তার পাছা দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর পাছা দিয়ে গাধার পেটে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর সে লোকদেরকে যাদুর মাধ্যমে বিশ্বাস করাচ্ছিলো, সে স্বয়ং নিজের মাথা কেটে দূরে ফেলে দেয় এবং তা উঠিয়ে শরীরের সঙ্গে জুড়ে দেয়। অতপর সব ঠিক ঠাক।
হযরত জুনদুব (রাঃ) বিন কাব (রাঃ) সবকিছু দেখলেন। এর পরে তিনি নিজের তরবারীকে সুতীক্ষ্ণ ও ধারালো করার জন্য একজন শানকারীকে দিয়েছিলেন। তিনি সেই শানকারের নিকট গেলেন এবং বললেন "তোমার প্রতিদানও ওয়াজিব হয়ে গেছে। আমাকে আমার তরবারী দাও।” তাকে সমস্ত মুজুরী দিলেন এবং তরবারি নিয়ে নিলেন। তরবারী নিয়ে যাদুকরের নিকট গেলেন এবং যেখানে সে যাদু প্রদর্শন করছিল সেই ভরপুর মাজমাতে তার গর্দান এক আঘাতেই কেটে গেল। অতপর লোকদেরকে বললেন, "এখন তাকে বলুন যে মাথা শরীরের সঙ্গে জুড়ে দিক এবং নিজেকে দ্বিতীয়বার জীবিত করে দেখাক।”
গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবা হয়রত জুনদুবকে (রাঃ) গ্রেফতার করে জেলখানায় পুরলেন এবং আমীরুল মুমিনিন ওসমান ইবনে আফফানের (রাঃ) খিদমতে ঘটনা লিখে পাঠালেন।। তার জবাবে তিনি লিখলেন, "তাকে ছেড়ে দাও।”
ইবনে আব্দুল বার বর্ননা করেছেন যে, ইবনে জুরাইহ আমর বিন দিনার থেকে রাওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি বাজালাতুত তামিমীকে এই হাদিস বর্ননা করতে শুনেছিলেনঃ প্রত্যেক যাদুকর পুরুষ ও মহিলা কে হত্যা করে ফেলো।। কুফাতে আবু বুসতান নামক একজন পারসিক যাদুকর ছিলো। কেউই তার মুকাবিলা করতে পারতো না। নবী পাক (সাঃ) একবার সাহাবী জুনদুবের ব্যাপারে বলেছিলেন। "জুন্দুব! জুন্দুবের কথা আর বলতে কি। সে এমন আঘাত হানবে যাতে আল্লাহ হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যের সীমা রেখা টেনে দিবেন।
আবু বুসতান সম্পর্কে আমাদেরকে জাবির বিন আব্দুল হামদি আ'মাশের মুখে এবং আমাশ ইবরাহিমের মুখে রাওয়ায়েত শুনিয়েছেন যে সে বড় যাদুকর ছিল এবং নিজের যাদু দিয়ে মানুষের মনোরঞ্জনের খোরাক বোগাতো। একবার সে কুফার গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবার আমলে নিজের যাদুর কিরিশমা দেখাচ্ছিল। লোকজন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল যে সে করছে কি আর কেমন করে করছে।
মানুষের চোখের সামনে দেখাচ্ছিল যে যেন সে একটি গাধার মুখ দিয়ে তার পেটে প্রবেশ করছে এবং তার পাছা দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর পাছা দিয়ে গাধার পেটে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর সে লোকদেরকে যাদুর মাধ্যমে বিশ্বাস করাচ্ছিলো, সে স্বয়ং নিজের মাথা কেটে দূরে ফেলে দেয় এবং তা উঠিয়ে শরীরের সঙ্গে জুড়ে দেয়। অতপর সব ঠিক ঠাক।
হযরত জুনদুব (রাঃ) বিন কাব (রাঃ) সবকিছু দেখলেন। এর পরে তিনি নিজের তরবারীকে সুতীক্ষ্ণ ও ধারালো করার জন্য একজন শানকারীকে দিয়েছিলেন। তিনি সেই শানকারের নিকট গেলেন এবং বললেন "তোমার প্রতিদানও ওয়াজিব হয়ে গেছে। আমাকে আমার তরবারী দাও।” তাকে সমস্ত মুজুরী দিলেন এবং তরবারি নিয়ে নিলেন। তরবারী নিয়ে যাদুকরের নিকট গেলেন এবং যেখানে সে যাদু প্রদর্শন করছিল সেই ভরপুর মাজমাতে তার গর্দান এক আঘাতেই কেটে গেল। অতপর লোকদেরকে বললেন, "এখন তাকে বলুন যে মাথা শরীরের সঙ্গে জুড়ে দিক এবং নিজেকে দ্বিতীয়বার জীবিত করে দেখাক।”
গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবা হয়রত জুনদুবকে (রাঃ) গ্রেফতার করে জেলখানায় পুরলেন এবং আমীরুল মুমিনিন ওসমান ইবনে আফফানের (রাঃ) খিদমতে ঘটনা লিখে পাঠালেন।। তার জবাবে তিনি লিখলেন, "তাকে ছেড়ে দাও।”
ইবনে আব্দুল বার বর্ননা করেছেন যে, ইবনে জুরাইহ আমর বিন দিনার থেকে রাওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি বাজালাতুত তামিমীকে এই হাদিস বর্ননা করতে শুনেছিলেনঃ প্রত্যেক যাদুকর পুরুষ ও মহিলা কে হত্যা করে ফেলো।। কুফাতে আবু বুসতান নামক একজন পারসিক যাদুকর ছিলো। কেউই তার মুকাবিলা করতে পারতো না। নবী পাক (সাঃ) একবার সাহাবী জুনদুবের ব্যাপারে বলেছিলেন। "জুন্দুব! জুন্দুবের কথা আর বলতে কি। সে এমন আঘাত হানবে যাতে আল্লাহ হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যের সীমা রেখা টেনে দিবেন।
আবু বুসতান সম্পর্কে আমাদেরকে জাবির বিন আব্দুল হামদি আ'মাশের মুখে এবং আমাশ ইবরাহিমের মুখে রাওয়ায়েত শুনিয়েছেন যে সে বড় যাদুকর ছিল এবং নিজের যাদু দিয়ে মানুষের মনোরঞ্জনের খোরাক বোগাতো। একবার সে কুফার গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবার আমলে নিজের যাদুর কিরিশমা দেখাচ্ছিল। লোকজন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল যে সে করছে কি আর কেমন করে করছে।
মানুষের চোখের সামনে দেখাচ্ছিল যে যেন সে একটি গাধার মুখ দিয়ে তার পেটে প্রবেশ করছে এবং তার পাছা দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর পাছা দিয়ে গাধার পেটে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসছে। তারপর সে লোকদেরকে যাদুর মাধ্যমে বিশ্বাস করাচ্ছিলো, সে স্বয়ং নিজের মাথা কেটে দূরে ফেলে দেয় এবং তা উঠিয়ে শরীরের সঙ্গে জুড়ে দেয়। অতপর সব ঠিক ঠাক।
হযরত জুনদুব (রাঃ) বিন কাব (রাঃ) সবকিছু দেখলেন। এর পরে তিনি নিজের তরবারীকে সুতীক্ষ্ণ ও ধারালো করার জন্য একজন শানকারীকে দিয়েছিলেন। তিনি সেই শানকারের নিকট গেলেন এবং বললেন "তোমার প্রতিদানও ওয়াজিব হয়ে গেছে। আমাকে আমার তরবারী দাও।” তাকে সমস্ত মুজুরী দিলেন এবং তরবারি নিয়ে নিলেন। তরবারী নিয়ে যাদুকরের নিকট গেলেন এবং যেখানে সে যাদু প্রদর্শন করছিল সেই ভরপুর মাজমাতে তার গর্দান এক আঘাতেই কেটে গেল। অতপর লোকদেরকে বললেন, "এখন তাকে বলুন যে মাথা শরীরের সঙ্গে জুড়ে দিক এবং নিজেকে দ্বিতীয়বার জীবিত করে দেখাক।”
গবর্ণর ওয়ালিদ বিন উকবা হয়রত জুনদুবকে (রাঃ) গ্রেফতার করে জেলখানায় পুরলেন এবং আমীরুল মুমিনিন ওসমান ইবনে আফফানের (রাঃ) খিদমতে ঘটনা লিখে পাঠালেন।। তার জবাবে তিনি লিখলেন, "তাকে ছেড়ে দাও।”
📄 সোহায়েল (রাঃ) বিন আমরের স্থান
ওয়াকেদী বর্ণনা করেছেনঃ বদরের যুদ্ধে সোহায়েল বিন আমর গ্রেফতার হয়ে যুদ্ধ বন্দীদের সঙ্গে মদীনা পৌঁছলেন। এ সময় হযরত ওমর (রাঃ) রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকট আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, তার দাঁত ভেঙ্গে দিন। তার যবান ইসলামের বিরুদ্ধে আগুন ঝরায়। দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার পর সে আপনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেনা।।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "আমি যদি তার শরীরের কোন অংশ কেটে ফেলি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমার শরীরের অংশ কেটে ফেলবেন। অথচ আমি আল্লাহর সত্য নবী। তোমরা কি জানো যে ঐ যবান ও বক্তৃতার মাধ্যমে কোন দিন সে এমন ভূমিকা পালন করবে যাতে তোমরা খুশী হয়ে যাবে। ইবনে ইসহাক লিখেছেন, "রাসূলের (সাঃ) যখন ওফাত হলো তখন مسلمانوں ওপর মুসিবতের পাহাড় আপতিত হলো। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলতেন যে, হজুরে আকরামের (রাঃ) ইন্তেকালের সময় مسلمانوں অবস্থা রক্ষকবিহিন বকরীর পালের মত হয়ে গিয়েছিল। আরব গোত্রসমূহ মুরতাদ হয়ে গেল। ইহুদী ও খৃষ্টানরা ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিল এবং মুনাফিকরা আস্তিনের মধ্যে থেকে শিকল কাটার ব্যাপারে তৎপর ছিল। এই অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষ রহমতে মুসলিম উম্মাহকে হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) নেতৃত্বে একত্রিত করে তাদেরকে শৃংখলাবদ্ধকরলেন।”
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেন, "আবু ওবায়দা এবং অন্যান্য আহলে ইলম আমরার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাকের (সাঃ) ইন্তেকারের পর মক্কা বাসীরা ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার কথা চিন্তা করছিল। মক্কার গবর্ণর ইতাব বিন উসাইয়্যিদ একদিকে হুজুরের (সাঃ) ইন্তেকালে শোকাহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। অন্যদিকে মক্কাবাসীর ধ্যান ধারনায় খুব খারাব অনুভব করছিলেন এবং মক্কার বাইরে গিয়ে কোন উপত্যকায় বসে রলেন। এই নাযুক মুহূর্তে সোহায়েল (রাঃ) বিন আমর মক্কাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে এমন জোরদার বক্তৃতা দিলেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানার পর রাসুলের (সাঃ) আয়াতের উল্লেখ করলেন। অতপর অত্যন্ত শক্তি ও বাহাদুরীর সাথে ঘোষণা করলেন, "হুজুরের (সাঃ) বিদায় গ্রহন অবশ্যই দুঃখের কারণ। কিন্তু তাতে ইসলাম দুর্বল হবেনা। বরং ইসলামের শক্তি ইনশাল্লাহ বৃদ্ধি পাবে। যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাইবে আমরা তার গর্দান উড়িয়ে দেবো।”
সোহায়েলের (রাঃ) আবেগপূর্ণ বক্তৃতার খুব প্রভাব পড়লো, তিনি লোকদেরকে নীরব করিয়ে রাখলেন। ইসলামের ওপর কায়েম থাকা ও তার আনুগত্য করা ছাড়া খারাপ ধারণা পোষণকারীদের আর অন্য কোন পথ খোলা রইলোনা। সমগ্র আরব ফিতনায় ভরে গিয়েছিল। কিন্তু মক্কা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ছিল খবর জানতে পেরে হযরত ইতাবও (রাঃ) মক্কা চলে এলেন। হুজুরে আকরামের (সাঃ) কথায় এই ইঙ্গিতই ছিল যে সোহায়েলের ভাষণ মুসলমানদেরকে খুশী করবে।
এই ঘটনার কথা মদীনায় যখন হয়রত ওমরের (রাঃ) নিকট পৌঁছলো তখন তিনি খুব প্রভাবিত হলেন এবং আনন্দে বলে উঠলেন, "আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।"
ওয়াকেদী বর্ণনা করেছেনঃ বদরের যুদ্ধে সোহায়েল বিন আমর গ্রেফতার হয়ে যুদ্ধ বন্দীদের সঙ্গে মদীনা পৌঁছলেন। এ সময় হযরত ওমর (রাঃ) রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকট আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, তার দাঁত ভেঙ্গে দিন। তার যবান ইসলামের বিরুদ্ধে আগুন ঝরায়। দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার পর সে আপনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেনা।।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "আমি যদি তার শরীরের কোন অংশ কেটে ফেলি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমার শরীরের অংশ কেটে ফেলবেন। অথচ আমি আল্লাহর সত্য নবী। তোমরা কি জানো যে ঐ যবান ও বক্তৃতার মাধ্যমে কোন দিন সে এমন ভূমিকা পালন করবে যাতে তোমরা খুশী হয়ে যাবে। ইবনে ইসহাক লিখেছেন, "রাসূলের (সাঃ) যখন ওফাত হলো তখন مسلمانوں ওপর মুসিবতের পাহাড় আপতিত হলো। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলতেন যে, হজুরে আকরামের (রাঃ) ইন্তেকালের সময় مسلمانوں অবস্থা রক্ষকবিহিন বকরীর পালের মত হয়ে গিয়েছিল। আরব গোত্রসমূহ মুরতাদ হয়ে গেল। ইহুদী ও খৃষ্টানরা ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিল এবং মুনাফিকরা আস্তিনের মধ্যে থেকে শিকল কাটার ব্যাপারে তৎপর ছিল। এই অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষ রহমতে মুসলিম উম্মাহকে হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) নেতৃত্বে একত্রিত করে তাদেরকে শৃংখলাবদ্ধকরলেন।”
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেন, "আবু ওবায়দা এবং অন্যান্য আহলে ইলম আমরার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাকের (সাঃ) ইন্তেকারের পর মক্কা বাসীরা ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার কথা চিন্তা করছিল। মক্কার গবর্ণর ইতাব বিন উসাইয়্যিদ একদিকে হুজুরের (সাঃ) ইন্তেকালে শোকাহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। অন্যদিকে মক্কাবাসীর ধ্যান ধারনায় খুব খারাব অনুভব করছিলেন এবং মক্কার বাইরে গিয়ে কোন উপত্যকায় বসে রলেন। এই নাযুক মুহূর্তে সোহায়েল (রাঃ) বিন আমর মক্কাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে এমন জোরদার বক্তৃতা দিলেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানার পর রাসুলের (সাঃ) আয়াতের উল্লেখ করলেন। অতপর অত্যন্ত শক্তি ও বাহাদুরীর সাথে ঘোষণা করলেন, "হুজুরের (সাঃ) বিদায় গ্রহন অবশ্যই দুঃখের কারণ। কিন্তু তাতে ইসলাম দুর্বল হবেনা। বরং ইসলামের শক্তি ইনশাল্লাহ বৃদ্ধি পাবে। যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাইবে আমরা তার গর্দান উড়িয়ে দেবো।”
সোহায়েলের (রাঃ) আবেগপূর্ণ বক্তৃতার খুব প্রভাব পড়লো, তিনি লোকদেরকে নীরব করিয়ে রাখলেন। ইসলামের ওপর কায়েম থাকা ও তার আনুগত্য করা ছাড়া খারাপ ধারণা পোষণকারীদের আর অন্য কোন পথ খোলা রইলোনা। সমগ্র আরব ফিতনায় ভরে গিয়েছিল। কিন্তু মক্কা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ছিল খবর জানতে পেরে হযরত ইতাবও (রাঃ) মক্কা চলে এলেন। হুজুরে আকরামের (সাঃ) কথায় এই ইঙ্গিতই ছিল যে সোহায়েলের ভাষণ মুসলমানদেরকে খুশী করবে।
এই ঘটনার কথা মদীনায় যখন হয়রত ওমরের (রাঃ) নিকট পৌঁছলো তখন তিনি খুব প্রভাবিত হলেন এবং আনন্দে বলে উঠলেন, "আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।"
ওয়াকেদী বর্ণনা করেছেনঃ বদরের যুদ্ধে সোহায়েল বিন আমর গ্রেফতার হয়ে যুদ্ধ বন্দীদের সঙ্গে মদীনা পৌঁছলেন। এ সময় হযরত ওমর (রাঃ) রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকট আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, তার দাঁত ভেঙ্গে দিন। তার যবান ইসলামের বিরুদ্ধে আগুন ঝরায়। দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার পর সে আপনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেনা।।
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "আমি যদি তার শরীরের কোন অংশ কেটে ফেলি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমার শরীরের অংশ কেটে ফেলবেন। অথচ আমি আল্লাহর সত্য নবী। তোমরা কি জানো যে ঐ যবান ও বক্তৃতার মাধ্যমে কোন দিন সে এমন ভূমিকা পালন করবে যাতে তোমরা খুশী হয়ে যাবে। ইবনে ইসহাক লিখেছেন, "রাসূলের (সাঃ) যখন ওফাত হলো তখন مسلمانوں ওপর মুসিবতের পাহাড় আপতিত হলো। সাইয়েদাহ আয়েশা সিদ্দিকাহ (রাঃ) বলতেন যে, হজুরে আকরামের (রাঃ) ইন্তেকালের সময় مسلمانوں অবস্থা রক্ষকবিহিন বকরীর পালের মত হয়ে গিয়েছিল। আরব গোত্রসমূহ মুরতাদ হয়ে গেল। ইহুদী ও খৃষ্টানরা ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিল এবং মুনাফিকরা আস্তিনের মধ্যে থেকে শিকল কাটার ব্যাপারে তৎপর ছিল। এই অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষ রহমতে মুসলিম উম্মাহকে হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) নেতৃত্বে একত্রিত করে তাদেরকে শৃংখলাবদ্ধকরলেন।”
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেন, "আবু ওবায়দা এবং অন্যান্য আহলে ইলম আমরার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলে পাকের (সাঃ) ইন্তেকারের পর মক্কা বাসীরা ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হওয়ার কথা চিন্তা করছিল। মক্কার গবর্ণর ইতাব বিন উসাইয়্যিদ একদিকে হুজুরের (সাঃ) ইন্তেকালে শোকাহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। অন্যদিকে মক্কাবাসীর ধ্যান ধারনায় খুব খারাব অনুভব করছিলেন এবং মক্কার বাইরে গিয়ে কোন উপত্যকায় বসে রলেন। এই নাযুক মুহূর্তে সোহায়েল (রাঃ) বিন আমর মক্কাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে এমন জোরদার বক্তৃতা দিলেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানার পর রাসুলের (সাঃ) আয়াতের উল্লেখ করলেন। অতপর অত্যন্ত শক্তি ও বাহাদুরীর সাথে ঘোষণা করলেন, "হুজুরের (সাঃ) বিদায় গ্রহন অবশ্যই দুঃখের কারণ। কিন্তু তাতে ইসলাম দুর্বল হবেনা। বরং ইসলামের শক্তি ইনশাল্লাহ বৃদ্ধি পাবে। যে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাইবে আমরা তার গর্দান উড়িয়ে দেবো।”
সোহায়েলের (রাঃ) আবেগপূর্ণ বক্তৃতার খুব প্রভাব পড়লো, তিনি লোকদেরকে নীরব করিয়ে রাখলেন। ইসলামের ওপর কায়েম থাকা ও তার আনুগত্য করা ছাড়া খারাপ ধারণা পোষণকারীদের আর অন্য কোন পথ খোলা রইলোনা। সমগ্র আরব ফিতনায় ভরে গিয়েছিল। কিন্তু মক্কা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ছিল খবর জানতে পেরে হযরত ইতাবও (রাঃ) মক্কা চলে এলেন। হুজুরে আকরামের (সাঃ) কথায় এই ইঙ্গিতই ছিল যে সোহায়েলের ভাষণ মুসলমানদেরকে খুশী করবে।
এই ঘটনার কথা মদীনায় যখন হয়রত ওমরের (রাঃ) নিকট পৌঁছলো তখন তিনি খুব প্রভাবিত হলেন এবং আনন্দে বলে উঠলেন, "আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।"