📄 তায়ামূল আযাযাব
আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে তাঁর থেকে মুহাম্মদ বিন আলা, তাঁর থেকে ইবনে ইদরিস তাঁর থেকে আছেম বিন কুলাইব, তাঁর থেকে তাঁর পিতা এবং তাঁর থেকে একজন আনসারী সাহাবী বর্ণনা করেছেন, "আমরা রাসূলের (সাঃ) সঙ্গে এক জানাযার নামাজের জন্য বের হলাম। আমি রাসূলকে (সাঃ) দেখলাম যে তিনি কবরের কিনারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং কবর খোদাইকারীদেরকে বলছিলেন, "পায়ের দিকে আরো খোঁড়ো এবং মাথার দিকেও আরো একটু প্রশস্ত কর।"
জানাযাহ এবং দাফনের পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনা ফিরে এলেন। এ সময় একজন মহিলার দূত তাঁর পক্ষ থেকে হুজুরকে (সাঃ) খাওয়ার দাওয়াত দিলো। তিনি তার সঙ্গে তাশরীফ নিলেন। তাঁর সামনে খাবার পেশ করা হলো। তিনি খাবারের মধ্যে হাত রাখলেন এবং উপস্থিত অন্যান্য সকলেও হাত বাড়ালেন। লোকজন খেতে লাগলেন। এ সময় আমাদের বুজুর্গরা দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এক লোকমা মুখে দিয়ে তা মুখের মধ্যে ঘোরাচ্ছেন ফিরাচ্ছেন। তারপর বললেন, "আমি অনুভব করছি যে মালিকের অনুমতি ছাড়াই এই বকরীর গোশত রান্না করা হয়েছে।"
সেই মহিলা একথা শুনে বলে পাঠালেন, "হে আল্লাহর রাসূল। আমি জনৈক প্রতিবেশীকে একটি বকরী ক্রয়ের জন্য বাকীতে প্রেরণ করেছিলাম। কিন্তু সে বকরী পায়নি। অতঃপর আমি প্রতিবেশীটির নিকট আমার প্রদত্ত অর্থ ফেরত চেয়ে পাঠালাম। কিন্তু সেসময় সে বাড়ী ছিল না। আমি তার স্ত্রীর নিকট অর্থ দাবী করলাম। তখন সে এই বকরী পাঠিয়ে দিয়েছিল। প্রতিবেশী বকরীটি নিজের জন্য ক্রয় করেছিল।" রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, "এই গোশত কয়েদীদের খাইয়ে দাও।"
📄 ছুয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল ইয়াফির মদীনা আগমন
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, "ছুরাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইযদি এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে হুজুরে পাকের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলেন এবং ইসলাম কবুল করলেন। নবী পাক (সাঃ) হযরত ছুরাদকে তার কওমের مسلمانوں আমীর নিয়োগ করলেন এবং বললেন যে ইয়েমেনের গোত্রসমূহের চারপাশের ও পার্শ্ববর্তী মুশরিক গোত্রসমূহের বিরুদ্ধে নিজের কবিলা এবং অন্যান্য আশপাশের মুসলমানের সঙ্গে মিলে জিহাদ করো।
ছুরাদ বিন আব্দুল্লাহ রাসূলে পাকের (সাঃ) নির্দেশ অনুযায়ী বের হলেন এবং ইয়েমেনের জারাশ এলাকায় গিয়ে পৌঁছলেন। সে যুগে জারাশ একটি বদ্ধ শহর ছিল। শহরটির চারপাশে প্রাচীর দেওয়া ছিল। তাতে ইয়েমেনের কতিপয় গোত্র বাস করতো এবং বনু খাছায়াম গোত্রের কিছু মানুষও তাদের নিকট আশ্রয় নিয়েছিল। তারা মুসলমানদের আগমনের খবর পেয়ে ইয়েমেনীদের সঙ্গে দূর্গে আবদ্ধ হয়ে গেল।
হযরত ছুরাদ এবং তার সঙ্গীরা তাদেরকে এক মাস অবরোধ করে রাখলো কিন্তু দুর্গ কবজা করা গেল না। হযরত ছুরাদ অবশেষে অবরোধ উঠিয়ে নিলেন এবং স্থান ত্যাগ করে চলে গেলেন। অবরুদ্ধরা ধারনা করলো যে হামলাকারীরা পরাজিত হয়ে চলে গেছে। সুতরাং তারা দুর্গ থেকে বের হয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করতে চাইলো। হযরত ছুরাদ যখন শাকার নামক পাহাড়ের নিকট পৌঁছলেন তখন জারাশ বাসীরা তার ওপর হামলা করে বসলো। হযরত ছুরাদ পিছু ফিরে এমনভাবে সেই হামলার জবাব দিলেন যে দুশমনরা গাজর কাটা হয়ে গেল। ব্যাপক সংখ্যায় তরা নিহত হলো।
তার পূর্বে জারাশবাসী পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য মদীনায় দুজন প্রতিনিধি প্রেরণ করেছিল। প্রতিনিধিদ্বয়কে তারা এই বলে পাঠিয়েছিল যে তারা মদীনার শাসককে কেমন পেয়েছিল তা ফিরে এসে তাদেরকে জানাবে। এই দুই ব্যক্তি নবী পাকের (সাঃ) নিকট বসেছিলেন। এমন সময় তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, "শাকার কোন দেশে এবং এলাকায় অবস্থিত?" 'তারা জবাব দিল, "হে আল্লাহর রাসূল। আমাদের এলাকায় একটি পাহাড় আছে। তাকে কাশার বলে।” (জারাশবাসী শাকারকে কাশারই বলে থাকতো) তিনি বললেন, "এটা কাশার নয় শাকার।” তারা জিজ্ঞেস করলো, কেন? কোন বিশেষ কথা আছে কি?" তিনি বললেন, "এ মুহূর্তে সেই পাহাড়ের উপর কুরবানীর পশু জবেহ হচ্ছে।”
আসরের নামাযের পর এই আলোচনা হলো। এ কথা শুনে তারা দু'জন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) অথবা হযরত ওসমান গণির (রাঃ) নিকট গেল। এ সময় তারা (আবু বকর (রাঃ) অথবা ওসমান (রাঃ)) তাদেরকে বললেন, "তোমাদের ধ্বংস হোক। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তোমাদেরকে তোমাদের কওমের কতলে আমের খবর দিয়েছেন। তোমরা উঠে দাঁড়াও এবং হুজুরের (সাঃ) খিদমতে গিয়ে আরজ করো যে, তিনি যেন তোমাদের কওমের পক্ষে দোয়া করেন। যাতে তাদের ওপর থেকে এই আজাব বা শাস্তি দূর হয়। এ কথা শুনে তারা কাল বিলম্ব না করে রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকট উপস্থিত হল এবং দোয়ার আবেদন জানাল। রাসূলে পাক (সাঃ) দোয়া করলেনঃ "হে আল্লাহ! তাদের কওমের ওপর থেকে মুসিবত দূর করো।"
সে সময়ই তারা রাসুলে পাকের (সাঃ) নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে স্বগৃহে রওয়ানা হল। সেখানে পৌঁছে তারা খবর পেল যে, সেই দিন এবং সেই সময় তাদেরকে ছুরাদ বিন আব্দুল্লাহ যুদ্ধে ধরাশায়ী করে ফেলেন এবং যারা জীবিত ছিল তারা পালিয়ে জীবন রক্ষা করে।
📄 ইবনে নাযিহ আল-হাজবীকে হত্যা
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, মুহাম্মদ বিন জাফর বিন যোবায়ের আমার নিকট থেকে হযরত আব্দুল্লাহ বিন আনিসের হাদিস বর্ণনা করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ বলেন, "নবীয়ে আকরাম (সাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, সুফিয়ান বিন নাবিহ আল-হাজলী আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৈন্য একত্রিত করে রেখেছে বলে খবর পেয়েছি। সে বর্তমানে নাখলা অথবা আরনায় অবস্থান করছে। তুমি যাও এবং তাকে হত্যা কর।"
আমি আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল। তার কিছু আলামত এবং হুলিয়া সম্পর্ক আমাকে বলে দিন। যাতে আমি তাকে চিনতে পারি।"
তিনি বললেন, "তুমি যখন তাকে দেখবে তখন তোমার শয়তানের চেহারা স্মরণ হবে এবং তোমার ও তার মধ্যে মজবুত নিদর্শন এই হবে যে তাকে দেখে একবার তোমার শরীরে কাঁপন অনুভূত হবে।”
আমি নিজের তরবারীসহ বের হয়ে পড়লাম এবং তার নিকট গিয়ে পৌঁছলাম। আমি দেখলাম যে সে হাওদায় সওয়ার নিজের স্ত্রীদেরকে নীচে নামাচ্ছে এবং তাঁবুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সময়টি ছিল আসরের সময়। আমি যেই তাকে দেখলাম সেই আমার মনে সেই অনুভূতি জাগ্রত হলো যা হুজুর (সাঃ) ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আমি কাঁপনও অনুভব করলাম। যাহোক আমি তার দিকে অগ্রসর হলাম। হঠাৎ করে আমার ধারণা হলো যে আমার এবং তার মধ্যেকার ব্যাপারটি সাঙ্গ হতে যেন বেশী সময় না নেয় ও আসরের নামাজ যেন কাজা হয়ে না যায়। আমি পৃথক হয়ে নামাজ আদায় করলাম। অতপর সোজা তার দিকে অগ্রসর হলাম। আমি যখন তার নিকট পৌছলাম তখন সে জিজ্ঞাসা করলো, "তুমি কে?”
জবাবে বললাম, "আমি একজন আরব। আমি তোমার ব্যাপারে অনেক কিছু শুনেছি। তুমি "সেই ব্যক্তির মুকাবিলা করার জন্য যে সার্থক বিরাট সেনা বাহিনী প্রস্তুত করেছ তার খ্যাতি আমাকে তোমার প্রতি আগ্রহান্বিত করেছে এবং আমি তোমার নিকট হাজির হয়ে গেছি।”
সে অমার কথা শুনে গর্বের সঙ্গে বলতে লাগলো, "তুমি যা কিছু শুনেছ তা সঠিক। আমি তার বিরুদ্ধে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।” আমি তার সাথে সাথে কিছু দূরে গেলাম। আমি যখন অনুভব করলাম যে সে আমার তরবারীর আওতায় রয়েছে তখন আমি তার ওপর তরবারী চালালাম এবং তাকে হত্যা করে ফেললাম। তাকে হত্যা করে আমি আমার পথ নিলাম এবং তার স্ত্রীদের শোকে মাথা কূটতে দেখে তাদের সামনে থেকে গায়েব হয়ে গেলাম।
আমি যখন মদীনা মুনাওয়ারাতে হুজুরে আকরামের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলাম তখন তিনি আমাকে দেখেই বললেন, "চেহারাতো সফল হিসেবেই মনে হচ্ছে।” আমি আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল। আমি তাকে কতল করে এসেছি।” তিনি বললেন, "তুমি ঠিকই বলেছ।”
তারপর রাসূলে মকবুল (সাঃ) আমাকে সঙ্গে করে নিজের বাড়ি নিয়ে গেলেন এবং একটি লাঠি দিয়ে বললেন, "হে আব্দুল্লাহ বিন আনিস। এই লাঠি নাও এবং তা নিজের কাছে রেখো।"
আমি নবীর (সাঃ) গৃহ থেকে সেই লাঠি নিয়ে বাইরে এলাম। এ সময় লোকজন আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। তারা আমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলো, "এই লাঠি কি জন্য?"
আমি বললাম, "রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে এটা দিয়ে দিয়েছেন এবং তা আমার নিকট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।" তারা বললো, "তুমি কি হুজুরের (সাঃ) নিকট ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করবে না যে তিনি এই লাঠি কেন দিয়েছেন?” আমি তার নিকট ফিরে গেলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম, "ইয়া রাসূলুল্লাহ। আপনি আমাকে এই পবিত্র লাঠি কেন প্রদান করেছেন? তিনি ইরশাদ করলেন, "এটা আমার ও তোমার মধ্যে কিয়ামতের দিন নিদর্শন হবে। সেদিন খুব কম মানুষই ঠেস দেওয়ার জন্য কোন কিছুর সাহায্য পাবে। তুমি এই লাঠির ওপর ঠেস দিয়ে চলো এবং কিয়ামতের দিনও এই লাঠিসহ আমার সঙ্গে মিলিত হবে।"
ইবনে ইসহাক আরো বলেছেন, "আব্দুল্লাহ বিন আনিস নিজের তরবারী ও সেই লাঠি সব সময় নিজের নিকট রাখতেন। মৃত্যুর সময়ও এই লাঠি তাঁর নিকট ছিল। তিনি ওসিয়ত করেছিলেন যে, লাঠিটি তার কাফনের সঙ্গে লেপ্টে দিতে হবে এবং তা সমেতই দাফন করতে হবে। বস্তুত তার ওসিয়ত অনুযায়ী এমনি করা হয়েছিল।
📄 হামাযা নামক করেয়ী
ওয়াকেদী বর্ননা করেছেন যে, আবু বকর বিন সোলায়মান বিন আবি হাছমা রাওয়ায়েত করেছেন, হুজুরে পাক (সাঃ) নবম হিজরীর রজব মাসে হযরত আলা বিন হাজরামীকে মানযার বিন সাবীর নামে একটি পত্র দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন। মানযার ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আলা ফিরে আসেন। ফেরার পথে ইয়ামামা অতিক্রম করছিলেন। এ সময় ইয়ামামার সরদার ছামামা বিন আছাল তাকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কি মুহাম্মদের (সাঃ) দূত? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ছামামা ক্রোধান্বিত হয়ে বললো, এখন তুমি তার নিকট জীবিত ফিরে যেতে পারবে না। সে তাকে হত্যার হুমকি দিতে লাগলো। তার চাচা আমের তাকে বললো, ছামামা বুদ্ধির পরিচয় দাও। সেই ব্যক্তির (মুহাম্মাদ) সঙ্গে তোমার কি বিবাদ রয়েছে?
আমেরের হস্তক্ষেপে ছামামা হযরত আলা'কে ছেড়ে দিলো এবং তিনি মদীনা পৌঁছে হুজুরে পাকের (সাঃ) খিদমতে সকল ঘটনা বর্ননা করলেন। তিনি দোয়া করলেন, হে খোদা! আমেরকে হেদায়াত দান করো এবং ছামামার ওপর আমাকে বিজয় দান কর।
ইমাম বুখারী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে হযরত আবু হুরায়রার (রাঃ) হাদিস আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ সাঈদ বিন আবি সাঈদের রাওয়ায়েত থেকে শুনিয়েছেন। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলতেন, নবী পাক (সাঃ) নাজদের দিকে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। তারা বনু হানিফার এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলো এবং তাকে এনে মসজিদে নববীর একটি খুঁটিরসঙ্গে বেঁধে রাখলো। তার নাম ছিল ছামামা বিন আছাল।
রাসূলে পাক (সাঃ) ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদে এলেন। এ সময় তিনি কয়েদীকে তার নাম ধরে জিজ্ঞাসা করলেন, ছামামা কেমন আছো"?
সে জবাব দিল, হে মুহাম্মদ। আমি ভালো আছি। অপনি যদি আমাকে হত্যা করেন তাহলে এমন এক ব্যক্তি নিহত হবে যার রক্তের মূল্য রয়েছে। যদি আমার ওপর ইহসান করেন তাহলে এমন ব্যক্তির ওপর ইহসান হবে যে, ইহসানে প্রতিদান দিতে জানে। আর যদি আপনার ধন সম্পদের প্রয়োজন হয় তাহলে যত ইচ্ছা চেয়ে নিতেপারেন।
হুজুরে আকরাম (সাঃ) পরের দিন তার নিকট এলেন এবং পূর্বের প্রশ্নের পুনরুক্তি করলেন। সেও তার একই জবাব পেশ করলো। তৃতীয় দিনও এই সওয়াল জবাব হলো। ছামামার জবাব শুনে হুজুরে আকরাম (সাঃ) সাহাবাদেরকে (রাঃ) ছামামাকে মুক্তির জন্য নির্দেশ দিলেন। সুতরাং তাকে মুক্ত করে দেওয়া হলো। মুক্তির পর সে মসজিদ সন্নিকটে একটি খেজুরের বাগানে গেল। সেখানে গোসল করলো এবং পুনরায় মসজিদে এসে কালেমায়ে শাহাদাত পড়ল।
মুসলমান হওয়ার পর ছামামা হুজুরের (সাঃ) নিকট আরজ করলেন, খোদার কসম, হে মুহাম্মদ! এই ধরাধামে আপনার চেহারা থেকে বেশী অন্য কারো চেহারার প্রতি আমার ঘৃণা ছিল না। আর এখন দুনিয়ার সকলের চেহারা থেকে আপনার চেহারা আমার নিকট বেশী প্রিয়। আপনার দীন থেকে বেশী দুনিয়ার অন্য দীনের প্রতি আমার শত্রুতা ছিলনা। আজ দুনিয়ার সকল দীনের চেয়ে আপনার দীন সবচেয়ে বেশী ভালো লাগছে। অন্য শহরের চেয়ে আপনার শহরের প্রতিই আমার ঘৃণা বেশী ছিল। কিন্তু আজ আপনার শহরই সমগ্র দুনিয়া থেকে বেশী প্রিয় হয়ে গেছে।
আপনার ঘোড় সওয়াররা আমাকে যখন গ্রেফতার করে তখন আমি ওমরার জন্য মক্কা যাচ্ছিলাম। এখন আপনার নির্দেশ কি?
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ছামামাকে সুসংবাদ এবং ওমরাহ করার জন্য মক্কা মুকাররামা গমনের নির্দেশ দিলেন। তিনি যখন মক্কা পৌঁছলেন তখন কোরেশরা তার চারপাশে একত্রিত হয়ে বললো তুমি কি ধর্মান্তর হয়ে গেছো? তিনি জবাব দিলেন, না। আমি বরং মুহাম্মাদের (সাঃ) সঙ্গে দীনে ইসলামে দাখিল হয়েছি। তোমরা শূনে নাও, খোদার কসম। ইয়ামামা থেকে তোমরা এখন একটি কণা পরিমাণ শস্যও পাবে না। হ্যাঁ, আল্লাহর নবী (সাঃ) যদি অনুমতি দান করেন তাহলে খাদ্য শস্য পাবে।
ইয়ামামা ফিরে গিয়ে তিনি মক্কাবাসীদের খাদ্য বন্ধ করে দিলেন। তারা হুজুরের (সাঃ) সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। কিন্তু বাধ্য হয়ে রাসুলের (সাঃ) খিদমতে হাজির হয়ে ইয়ামামা থেকে তাদের খাদ্য সরবরাহ বহাল করার ব্যাপারে আবেদন জানালো। বস্তুত হুজুরের (সাঃ) নির্দেশে খাদ্য সরবরাহ বহাল হলো।