📄 আল-হানিউল যাহনী
ইমাম বুখারী (রঃ) বলেন, "আমার থেকে ইয়াহিয়া, তাঁর থেকে ইসমাঈল এবং তাঁর থেকে কায়েস বর্ণনা করেছেন। কায়েস হযরত জারির বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে শুনেছেন। তিনি বলতেন যে তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "হে জারির! তুমি কি জিল খালহা মূর্তিকে ধ্বংস করে আমাকে আরাম প্রদান করবে না?" বন্ধু খাছয়াম এবং বনু বাজিলা একটি গৃহ বানিয়েছিল। এই গৃহে অন্য মূর্তির সঙ্গে এই মূর্তিও রাখা হয়েছিল। তার নাম ছিল কা'বাতুল ইয়ামানিয়া।"
জারির বর্ণনা করেন, "আমি দেড়শ' সওয়ার সহ এই অভিযানে রওয়ানা হলাম। আমার সাথীরা বনু আহমাসের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। তারা সকলেই দক্ষ ঘোড়সওয়ার ছিলো। আমি ঘোড়ার পিঠে খুব শক্তভাবে বসতে পারছিলাম না। একথা আমি হুজুরকে (সাঃ) বললাম। তিনি তাঁর হাত সজোরে আমার বুকের ওপর মারলেন। ফলে আমার বুকের ওপর তার আঙ্গুলের ছাপ আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। অতপর তিনি দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ। তাকে ঘোড়ার পিঠে মজবুতভাবে বসার যোগ্য এবং হাদি ও মাহদি বানিয়ে দাও।"
হযরত জারির (রাঃ) বৃত খানা বা মূর্তি গৃহ জ্বালিয়ে ছারখার করে দিলেন এবং মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে খান খান করে ফেললেন। অতপর একজন দূতকে হুজুরে আকরামের (সাঃ) খিদমতে সুসংবাদ শোনানোর জন্য রওয়ানা করলেন। দূতটি হুজুরের (সাঃ) দরবারে এসে আরজ করলো," হে আল্লাহর রাসূল। সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে হকসহ প্রেরণ করেছেন। আমি সেখান থেকে সেই সময় পর্যন্ত রওয়ানা দিইনি যতক্ষণ মূর্তি জ্বলে খালসাকে জ্বালিয়ে ছারখার করা হয়নি। এখন তার অবস্থা খোস পাঁচরা ওয়ালা উটের মত।
এসময় হজুরে আকরাম (সাঃ) খুব খুশী হলেন এবং সমগ্র আহমাস কবিলা এবং তাদের ঘোড়সওয়ারদের পক্ষে পাঁচবার বরকতের দোয়া করলেন।
📄 উম্মে ফুহাইরের বিয়ের গল্প
হাফেজ আবু ইয়ালা রাওয়ায়েত করেছেন, "আমার থেকে শায়বান, তাঁর থেকে মুহাম্মদ বিন যিয়াদুল বারজামি, তাঁর থেকে আবু তালাল এবং তাঁর থেকে হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। আনাস (রাঃ) বলতেন, "আমার মা আমাকে বলেছিলেন যে তাঁর একটি দুধের বকরী ছিল। তার দুধের ছানা উঠিয়ে তিনি ঘি বানিয়ে একটি পাত্রে রাখতেন। এক সময় সেই পাত্র ঘিতে পূর্ণ হয়ে গেল। তাঁর একজন কাজের মেয়ে ছিল। তিনি তাঁকে সেই ঘিয়ের পাত্র হুজুরে আকরামকে (সাঃ) দিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন। যাতে তিনি তা দিয়ে রুটি খেতে পারেন।
মেয়েটি ঘিয়ের পাত্র নিয়ে নবী করিমের (সাঃ) নিকট হাজির হয়ে আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল। উম্মে সুলাইম এই ঘি প্রেরণ করেছেন।” সুতরাং নবী পাক (সাঃ) বাড়ীর লোকদেরকে ঘিয়ের পাত্র খালি করে তা মেয়েটিকে দিয়ে দিতে বললেন।"
তাঁরা পাত্র খালি করে দিয়ে দিলেন। মেয়েটি পাত্র নিয়ে এসে খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখলো। উম্মে সুলাইম কোন কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলেন "আমি কি তোমাকে ঘিয়ের পাত্র রাসূলকে (সাঃ) দিয়ে আসার নির্দেশ দিইনি?” জবাবে সে বললো, "হাঁ আমি ঘি দিয়ে এসেছি।” উম্মে সুলাইম বললেন, পাত্র থেকে তো ঘি ফোটায় ফোটায় পড়ছে।” মেয়েটি আরজ করলো, "আপনি রাসূলের (সাঃ) নিকট গিয়ে সত্যতা যাচাই করুন।"
উম্মে সুলাইম মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে নবীর (সাঃ) নিকট গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাস করলেন। তিনি বললেন, মেয়েটি ঘি দিয়ে গেছে। একথা শুনে উম্মে সুলাইম আরজ করলেন, "সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য ও হক দীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন। পাত্রটি তো পূর্ণ রয়েছে এবং তা থেকে ফোটায় ফোটায় ঘি পড়ে যাচ্ছে।”
রাসূলে পাক (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "উম্মে সুলাইম! আল্লাহ তায়ালা নিজের নবীকে (সাঃ) যেমন রিযক দিয়েছেন তেমনি তোমাকেও নিজের রহমতের মাধ্যমে রিযক প্রদান করেছেন। তাতে কি তুমি বিস্মিত হয়েছো? খাও, পান কর এবং শুকর আদায়কর।"
• উম্মে সুলাইম বলতেন, "আমরা সেই পাত্র থেকে অমুকের অমুকের বাড়ীতে পেয়ালা ভরে ঘি প্রেরণ করলাম এবং আমরা নিজেরা অবশিষ্ট ঘি দিয়ে দুই মাস রুটি খেলাম।"
📄 ওয়াফসাহ (রাঃ) আসাদীর ঘটনা
ইমাম আহমদ (রঃ) বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, "আমার থেকে আফফান, তাঁর থেকে হাম্মাদ বিন সালমা তাঁর থেকে যোবায়ের বিন আব্দুস সালাম এবং তাঁর থেকে আইয়ুব বিন আব্দুল্লাহ বিন মাকরায বর্ননা করেছেন। আইয়ুব বলতেন যে ওয়াবিসাহ আসদীর সঙ্গী এই ঘটনা ওয়াবিসার (রাঃ) মুখে শুনাতেন। ওয়াবিসা (রাঃ) বলতেন, "আমি রাসূলের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলাম। আসার পূর্বেই আমি মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম যে, নবীর (সাঃ) নিকট নেকী ও বদি সম্পর্কে সকল প্রশ্ন করবো। যাতে কোন নেক কাজ আমার নিকট গোপন না থাকে এবং কোন খারাব কাজ সম্পর্কে আমি অনবহিত না থাকি। আমি যখন সেখানে পৌঁছলাম তখন রাসূলের (সাঃ) চারপাশে মুসলমানদের একটি দল বসেছিলেন। তারা রাসূলের (সাঃ) নিকট প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছিলেন। আমি লোকদের মাথার ওপর দিয়ে আগে যেতে চাচ্ছিলাম। লোকেরা আমাকে বললো যে, এভাবে মাথার ওপর দিয়ে লাফ দিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। আমি বললাম, "আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে রাস্তা দাও। আমি রাসূলে করিমের (সাঃ) নিকট যেতে চাই। তিনি আমার নিকট দুনিয়ার সকল মানুষের চেয়ে বেশী প্রিয়।"
নবী পাক (সাঃ) অত্যন্ত স্নেহ ও ভালোবাসার সঙ্গে বললেন, "ওয়াবিসাকে ছেড়ে দাও, ওয়াবিসা আমার নিকট এসো।” তিনি একথা দুই তিনবার বললেন। লোকজন আমার রাস্তা ছেড়ে দিলো এবং আমি নবীর (সাঃ) সম্পূর্ণ সামনে গিয়ে বসলাম। তিনি বললেন, "তুমি কি নিজে জিজ্ঞেস করবে অথবা আমি বলবো যে তুমি কোন উদ্দেশ্যেএসেছ?"
আমি আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনিই বলে দিন।”
তিনি বললেন, "তুমি নেকী ও বদী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছ?”
আমি আরজ করলাম, 'জ্বী, হ্যাঁ।”
তারপর নবী করিম (সাঃ) নিজের আঙ্গুলগুলো একত্রিত করে আমার বুকের ওপর চেপে ধরলেনএবং তিনবার এরশাদ করলেন, "হে ওয়াবিসা। নিজের দিল ও নফসের নিকট জিজ্ঞাসা করো। নেকী তাকে বলে যাতে তোমার অন্তর মুতমায়েন হয়। আর বদী হলো তা যা তোমার দিলে খটকা ও সন্দেহের মধ্যে নিক্ষেপ করে। এই মৌলনীতি সব সময় সামনে রাখবে। যদিও মানুষ এ ব্যাপারে ফতওয়া দিতে থাকবে।"
📄 তায়ামূল আযাযাব
আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে তাঁর থেকে মুহাম্মদ বিন আলা, তাঁর থেকে ইবনে ইদরিস তাঁর থেকে আছেম বিন কুলাইব, তাঁর থেকে তাঁর পিতা এবং তাঁর থেকে একজন আনসারী সাহাবী বর্ণনা করেছেন, "আমরা রাসূলের (সাঃ) সঙ্গে এক জানাযার নামাজের জন্য বের হলাম। আমি রাসূলকে (সাঃ) দেখলাম যে তিনি কবরের কিনারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং কবর খোদাইকারীদেরকে বলছিলেন, "পায়ের দিকে আরো খোঁড়ো এবং মাথার দিকেও আরো একটু প্রশস্ত কর।"
জানাযাহ এবং দাফনের পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনা ফিরে এলেন। এ সময় একজন মহিলার দূত তাঁর পক্ষ থেকে হুজুরকে (সাঃ) খাওয়ার দাওয়াত দিলো। তিনি তার সঙ্গে তাশরীফ নিলেন। তাঁর সামনে খাবার পেশ করা হলো। তিনি খাবারের মধ্যে হাত রাখলেন এবং উপস্থিত অন্যান্য সকলেও হাত বাড়ালেন। লোকজন খেতে লাগলেন। এ সময় আমাদের বুজুর্গরা দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এক লোকমা মুখে দিয়ে তা মুখের মধ্যে ঘোরাচ্ছেন ফিরাচ্ছেন। তারপর বললেন, "আমি অনুভব করছি যে মালিকের অনুমতি ছাড়াই এই বকরীর গোশত রান্না করা হয়েছে।"
সেই মহিলা একথা শুনে বলে পাঠালেন, "হে আল্লাহর রাসূল। আমি জনৈক প্রতিবেশীকে একটি বকরী ক্রয়ের জন্য বাকীতে প্রেরণ করেছিলাম। কিন্তু সে বকরী পায়নি। অতঃপর আমি প্রতিবেশীটির নিকট আমার প্রদত্ত অর্থ ফেরত চেয়ে পাঠালাম। কিন্তু সেসময় সে বাড়ী ছিল না। আমি তার স্ত্রীর নিকট অর্থ দাবী করলাম। তখন সে এই বকরী পাঠিয়ে দিয়েছিল। প্রতিবেশী বকরীটি নিজের জন্য ক্রয় করেছিল।" রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, "এই গোশত কয়েদীদের খাইয়ে দাও।"