📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সকল মুক্তিই নিষ্পতিত হলো

📄 সকল মুক্তিই নিষ্পতিত হলো


ইবনে ইসহাক লিখেছেন, মক্কা বিজয়ের দিন হুজুরে আকরাম (সাঃ) নিজের উটনীর ওপর সওয়ার হয়ে হেরেম শরীফে দাখিল হলেন এবং কা'বা শরীফ তাওয়াফ করলেন। কাবার দেওয়ালের সঙ্গে সীসা দিয়ে মূর্তি লাগানো ছিল। হুজুরের (সাঃ) হাতে একটি খেজুরের ছড়ি ছিল। তিনি সেই ছড়ি দিয়ে মূর্তিগুলোর দিকে ইশারা করছিলেন এবং এই আয়াত পড়ছিলেনঃ
جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا.
"হক এসেছে এবং বাতিল ধ্বংস হয়েছে। অবশ্যই বাতিল ধ্বংস হয়ে যাবে।"
ইবনে আব্বাস বলেছেন, যে, মূর্তির চেহারার দিকে ইঙ্গিত করতেন সেই মূর্তি গ্রীবার ওপর নিপতিত হতো এবং যে মূর্তির গ্রীবার দিকে ইঙ্গিত করতেন সেই মূর্তি মুখ থুবড়ে মাটির ওপর নিপতিত হচ্ছিল। এমনিভাবে সকল মূর্তিই নিপতিত হলো এবং একটিও অবশিষ্ট রলো না।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ফুদলার (রাঃ) বিন উমায়ের

📄 ফুদলার (রাঃ) বিন উমায়ের


ইবনে হিশাম আহলে ইলমের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন, "ফুজালাহ বিন উমায়ের বিন মালুহ আল-লায়সী মক্কা বিজয়ের বছরে হুজুরে আকরামকে (সাঃ) তাওয়াফকালে শহীদ করার ইরাদা করলো। সে যখন রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকটে এলো তখন তিনি বললেন, "ফুজালা নাকি?” সে আরজ করলো, "জ্বী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল।”
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি এখন কি চিন্তা করছিলে? সে বললো, "কিছুই না। বাস, আল্লাহর জিকিরে মশগুল ছিলাম।” একথা শুনে হুজুরে আকরাম (সাঃ) হাসতে লাগলেন। অতপর বললেন, "আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও।” তারপর তার বুকের ওপর হাত রাখলেন। তার অন্তর শান্ত হলো। ফুজালাহ (রাঃ) বলতেন, " খোদার কসম যেই তিনি হাত উঠালেন সেই তিনি আসমান ও যমিনের প্রতিটি বস্তুর আমার নিকট প্রিয় হয়ে গেলেন। অথচ পূর্বে সকল সৃষ্টির মধ্যে তিনিই আমার নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় ছিলেন। অতপর আমি নিজের পরিবার পরিজনের দিকে রওয়ানা হলাম। পথিমধ্যে সেই মহিলার সঙ্গে দেখা হলো যার সঙ্গে জাহেলী যুগে আমার কথা বার্তা ছিল। সে আমাকে বললো, "এসো, কিছু কথা বলো।” আমি বললাম, "না।” তারপর ফুজালাহ একটি কবিতা বললেনঃ
قالت هلم إلى الحديث فقلت لا يابي عليك الله الاسلام!
لوما رأيت محمداً وقبيله بالفتح كيف تكسر الاصنام
لرأيت دين الله اضحى بيننا والشرك يغشى وجهه الاطلام
"সে বললো, এসো আমার সঙ্গে গল্পসল্প করো। আমি বললাম, তা হয় না, আল্লাহ এবং দীনে ইসলাম তা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। তুমি যদি মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর সঙ্গীদেরকে বিজয়ের দিন দেখতে তাহলে তুমি জানতে যে মূর্তিকে কিভাবে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছিলো। তুমি হৃদয়ঙ্গম করতে পারতে যে, আল্লাহর দীন কিভাবে আমাদের মধ্যে প্রোজ্জ্বল হয়েছিল এবং শিরক কিভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে ধ্বংস হয়েছিল।"

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 শাদীর তোহফা

📄 শাদীর তোহফা


ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আনাস (রাঃ) বিন মালিক বনি রাফায়ার মসজিদে তাশরীফ নিলেন এবং বললেন, "হুজুর আকরাম (সাঃ) উম্মে সুলাইমের মহল্লা অতিক্রমের সময় উম্মে সুলাইমের নিকট তাশরীফ নিতেন এবং তাঁকে সালাম করতেন।"
তারপর আনাস বিন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, "রাসুল পাক (সাঃ) যখন যয়নব (রাঃ) বিনতে জাহাশকে বিয়ে করলেন তখন (আমার মা) উম্মে সুলাইম আমাকে বললেন, "আমরা হুজুরে আকরামের (সাঃ) নিকট কেন কিছু হাদিয়া পাঠাবো না?” আমি বললাম, "অবশ্যই পাঠানো উচিত।”
আমার মা ছাতু, পণির, খেজুর ও ঘির হালুয়া তৈরী করলো। তা পাথরের একটি হাড়িতে রাখলো এবং আমাকে বললো, "নিয়ে যাও।" আমি উপস্থিত হলে তিনি (সাঃ) বললেন, "এখানে রাখো।” অতপর তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, "অমুক অমুক ব্যক্তিকে ডেকে আনো। বরং যাকে পাও তাকেই দাওয়াত দাও।”
আমি লোকদেরকে ডাকলাম। ঘরে লোক ভরে গেল। আমি দেখলাম যে, রাসুলে পাক (সাঃ) সেই হালুয়ার ওপর হাত রাখলেন এবং কিছুক্ষণ পর্যন্ত পড়তে লাগলেন। তারপর তিনি দশ জন করে ডাকা শুরু করলেন এবং হালুয়া খাওয়ার দাওয়াত দিলেন। তিনি বললেন, "প্রত্যেক ব্যক্তি আল্লাহর নাম নিয়ে নিজের সামনে থেকেখাবে।
তারা পালাক্রমে খেতে লাগলেন এমনকি সকলেই পেট পুরে খেলেন। খাওয়ার পর কিছু মানুষ তো চলে গেলেন এবং এক দল সেখানে বসেই গল্পে লেগে গেলেন।
আমিও অস্বস্তি প্রকাশ করলাম। তার পর হুজুর (সঃ) মজলিস থেকে উঠে হুজরার দিকে গেলেন। আমিও তাঁর পেছনে গেলাম এবং বললাম, "তারা চলে গেছে।” সুতরাং তিনিও (সাঃ) ফিরে এলেন এবং নিজের প্রাইভেট কামরায় প্রবেশ করলেন। আমি বাইরের কামরায় ছিলাম। হুজুর (সাঃ) পর্দা লটকাতে লটকাতে সূরায়ে আহযাবের আয়াত পড়লেন।
হে ঈমানদাররা, নবী পাকের ঘরসমূহে সেই সময় পর্যন্ত প্রবেশ করো না, যতক্ষণ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া না হয়। খাওয়ার সময় উকি মেরো না। হাঁ, খাবার জন্য যদি তোমাদেরকে ডাকা হয় তাহলে অবশ্যই আসবে। কিন্তু খাবার পর চলে যাবে। গল্পে লেগে থেকো না। তোমাদের এই আচরণ নবীকে (সাঃ) কষ্ট দেয়। কিন্তু লজ্জার কারণে তিনি কিছু বলতে পারেন না এবং আল্লাহ হক কথা বলতে লজ্জা পাননা।"

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 আহলে নু ভোক্তার দুধ

📄 আহলে নু ভোক্তার দুধ


ইমাম বুখারী (রঃ) হযরত আবু হুরায়রার (রাঃ) এই রাওয়ায়েত মুজাহিদের হাওয়ালা দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, "সেই আল্লাহর কসম যিনি ছাড়া আর কোন আল্লাহ নেই। ক্ষুধার তাড়নায় আমি কয়েকবার অস্থির হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম এবং প্রচন্ড ক্ষুধায় পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম।"
একদিন আমি সেই রাস্তার ওপর বসে গেলাম যে রাস্তা দিয়ে সাহাবীরা যাতায়াত করতেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে কুরআন মজিদের কোন আয়াতের ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। আমি এই প্রশ্ন শুধু এ জন্য করেছিলাম যে, তিনি আমাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে খাবার খাইয়ে দেবেন। তিনি আমাকে খাবার দাওয়াত দিলেন না। (তাঁর গৃহেও সকলে অভূক্ত ছিলেন)। অতপর হযরত ওমর (রাঃ) সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর নিকটও আমি একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। এবারও আমার ধারণা ছিল যে, ওমর (রাঃ) আমাকে খাবার খাওয়াবেন। তিনি দাওয়াত দিলেন না (তাঁর গৃহেও সকলে অভূক্ত ছিলেন)। তারপর হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সাঃ) সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন। তিনি বুঝে ফেললেন যে, আমি কি বলতে চাই এবং আমার চেহারা কি বলছে। তিনি বললেন, "হে আবু হের।"
আমি আরয করলাম, “লাব্বাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ।” তিনি বললেন, "এসো, আমার সঙ্গে এসো।” আমি তাঁর সঙ্গে চললাম। তিনি ঘরে ঢুকলেন। তারপর আমাকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। ঘরে দুধ ভর্তি একটি পেয়ালা ছিল (কোন আনসার সাহাবী তোহফা দিয়ে গিয়েছিলেন)। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন," এই দুধ কোথা থেকে এসেছে? তাঁর ঘরের লোকজন বললেন যে, অমুক পুরুষ বা অমুক মহিলা হাদিল্লা পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, "আবু হের।” আমি আরয করলাম, “লাব্বাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ।” তিনি বললেন, "আসহাবে সুফফার নিকট যাও এবং তাদের সকলকে ডেকে নিয়ে এসো।"
আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বলতেন, "আসহাবে সুফফাহ ইসলামের সিপাহী এবং আল্লাহর মেহমান ছিলেন। না ছিল তাদের ঘর-বাড়ী, না ছিল পরিবার পরিজন। না তারা দুনিয়া অর্জনের চেষ্টা করতেন না সম্পদের লোভ করতেন। তারা এলেম অর্জনকারী এবং মুজাহিদ ফী সাবিলিল্লাহ ছিলেন। হুজুরের (সাঃ) নিকট যদি সাদকার মাল আসতো তাহলে সম্পূর্ণটাই আসহাবে সুফফার জন্য ব্যয় করতেন এবং নিজেও তা থেকে কিছু নিতেন না এবং যদি কোথাও থেকে হাদিয়া আসতো তাহলে আসহাবে সুফফাকেও দিতেন এবং নিজেও তা থেকে অংশ নিতেন।
তাঁর নির্দেশ পেয়ে আমি আসহাবে সুফফাকে ডাকতে চললাম। কিন্তু আমার ভালো লাগলো না। আমি চিন্তা করলাম যে, এই সামান্য দুধ দিয়ে আসহাবে সুফফার কি হবে। কতই না ভালো হতো যদি হুজুরে আকরাম (সাঃ) আমাকে এই দুধ পান করিয়ে দিতেন। আমি তো আসুদা হতাম। যাহোক, সব আসহাবে সুফফা এসে বসে গেলেন। তিনিও তাশরীফ নিলেন এবং আমাকে একদিক থেকে পান করানোর নির্দেশ দিলেন। এই ধরনের ঘটনায় সব সময় আমার ওপরই বন্টনের দায়িত্ব বর্তাতো। আমি পান করাতে শুরু করলাম। আমার ধারণা হলো যে আমার পালা না আসতেই এই দুধ শেষ হয়ে যাবে। আমি লোকদেরকে পালাক্রমে দুধ পান করালাম। প্রত্যেকেই পেট পুরে পান করলো এবং অন্যের পালা আসলো। সকলের পান করা শেষ হলে আমি পেয়ালা নিয়ে হুজুরে আকরাম (সাঃ)-এর খিদমতে পৌঁছলাম।
তিনি পেয়ালা নিজের হাতে ধরলেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। তারপর বললেন, “আবা হির।” আমি আরয করলাম, “লাব্বাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ।” তিনি বললেন, “সকলেই পান করেছে। এখন আমি আর তুমি রয়ে গেছি।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল। আপনি ঠিক বলেছেন।"
তিনি বললেন, "বস এবং পান কর।” বস্তুত আমি বসে পড়লাম এবং দুধ পান করলাম। তিনি বললেন, "আরো পান কর।" আমি আরো পান করলাম। তিনি বারবার বলতে লাগলেন, "আরো পান কর এবং আরো পান কর।" আমি অবশেষে আরয করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে হকের সঙ্গে নবী বানিয়ে প্রেরণ করেছেন। আমি আর খেতে পারছি না।"
তাতে তিনি বললেন, "আনো এবং আমাকে দাও"। "আমি পেয়ালা তাঁকে দিয়ে দিলাম। তিনি আল্লাহর হামদ বর্ণনা করলেন এবং বিসমিল্লাহ পড়ে পেয়ালার অবশিষ্ট দুধ পান করে নিলেন। সকলের শেষে তিনি পান করলেন।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00