📄 সায়াদের ব্যাধি
ইমাম বুখারী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, মাক্কি বিন ইবরাহীম আমাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা জাঈদ থেকে শুনেছেন। তাঁরা আয়েশা (রাঃ) বিনতে সায়াদ (রাঃ) বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে শুনেছেন। তিনি বলতেন, তাঁর পিতা সায়াদ (রাঃ) বিন আবিওয়াক্কাস মক্কায় কঠোর ব্যধিতে আক্রান্ত হন। বাঁচার আর কোন আশা ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর সেবা করার জন্য তাশরীফ আনলেন। এ সময় তিনি আরজ করলেনঃ "হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রচুর ধন সম্পদ রয়েছে। অথচ আমার একটি মাত্র কন্যা। আমি আমার সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ খোদার পথে ওয়াকফ করতে চাই।”
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, "না, এত পরিমাণ ওয়াকফ করবে না” আমি বললাম, 'ঠিক আছে, অর্ধেক আল্লাহর পথে ওসিয়ত করছি এবং অর্ধেক রেখে দিচ্ছি।” তিনি তাতেও বললেন, "না।” আমি আরজ করলাম, "তাহলে এক তৃতীয়াংশ ওসিয়ত করছি এবং দুই তৃতীয়াংশ কন্যার জন্য রেখে দিচ্ছি। "তিনি বললেন, হ্যাঁ, এক তৃতীয়াংশের ওসিয়ত কর এবং এক তৃতীয়াংশও বেশী।”
সায়াদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, "হুজুর (সাঃ) তারপর নিজের পবিত্র হাত আমার কপালের ওপর রাখলেন। আমার চেহারা ও পেটের ওপর নিজের হাত দিয়ে মসেহ করলেন এবং দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! সায়াদকে (রাঃ) আরোগ্য কর এবং তার হিজরতকে পূর্ণ করে দাও।” আমি নবীয়ে আকরামের (সাঃ) হাতের শীতলতা নিজের হৃদপিন্ডে আজও অনুভব করি।
অতপর আল্লাহ তায়ালা সায়াদকে (রাঃ) আরোগ্য দান করলেন এবং তিনি দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন। আল্লাহ পাক তাঁকে অনেক সন্তানও দান করেছিলেন।
📄 সকল মুক্তিই নিষ্পতিত হলো
ইবনে ইসহাক লিখেছেন, মক্কা বিজয়ের দিন হুজুরে আকরাম (সাঃ) নিজের উটনীর ওপর সওয়ার হয়ে হেরেম শরীফে দাখিল হলেন এবং কা'বা শরীফ তাওয়াফ করলেন। কাবার দেওয়ালের সঙ্গে সীসা দিয়ে মূর্তি লাগানো ছিল। হুজুরের (সাঃ) হাতে একটি খেজুরের ছড়ি ছিল। তিনি সেই ছড়ি দিয়ে মূর্তিগুলোর দিকে ইশারা করছিলেন এবং এই আয়াত পড়ছিলেনঃ
جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا.
"হক এসেছে এবং বাতিল ধ্বংস হয়েছে। অবশ্যই বাতিল ধ্বংস হয়ে যাবে।"
ইবনে আব্বাস বলেছেন, যে, মূর্তির চেহারার দিকে ইঙ্গিত করতেন সেই মূর্তি গ্রীবার ওপর নিপতিত হতো এবং যে মূর্তির গ্রীবার দিকে ইঙ্গিত করতেন সেই মূর্তি মুখ থুবড়ে মাটির ওপর নিপতিত হচ্ছিল। এমনিভাবে সকল মূর্তিই নিপতিত হলো এবং একটিও অবশিষ্ট রলো না।
📄 ফুদলার (রাঃ) বিন উমায়ের
ইবনে হিশাম আহলে ইলমের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন, "ফুজালাহ বিন উমায়ের বিন মালুহ আল-লায়সী মক্কা বিজয়ের বছরে হুজুরে আকরামকে (সাঃ) তাওয়াফকালে শহীদ করার ইরাদা করলো। সে যখন রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকটে এলো তখন তিনি বললেন, "ফুজালা নাকি?” সে আরজ করলো, "জ্বী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল।”
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি এখন কি চিন্তা করছিলে? সে বললো, "কিছুই না। বাস, আল্লাহর জিকিরে মশগুল ছিলাম।” একথা শুনে হুজুরে আকরাম (সাঃ) হাসতে লাগলেন। অতপর বললেন, "আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও।” তারপর তার বুকের ওপর হাত রাখলেন। তার অন্তর শান্ত হলো। ফুজালাহ (রাঃ) বলতেন, " খোদার কসম যেই তিনি হাত উঠালেন সেই তিনি আসমান ও যমিনের প্রতিটি বস্তুর আমার নিকট প্রিয় হয়ে গেলেন। অথচ পূর্বে সকল সৃষ্টির মধ্যে তিনিই আমার নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় ছিলেন। অতপর আমি নিজের পরিবার পরিজনের দিকে রওয়ানা হলাম। পথিমধ্যে সেই মহিলার সঙ্গে দেখা হলো যার সঙ্গে জাহেলী যুগে আমার কথা বার্তা ছিল। সে আমাকে বললো, "এসো, কিছু কথা বলো।” আমি বললাম, "না।” তারপর ফুজালাহ একটি কবিতা বললেনঃ
قالت هلم إلى الحديث فقلت لا يابي عليك الله الاسلام!
لوما رأيت محمداً وقبيله بالفتح كيف تكسر الاصنام
لرأيت دين الله اضحى بيننا والشرك يغشى وجهه الاطلام
"সে বললো, এসো আমার সঙ্গে গল্পসল্প করো। আমি বললাম, তা হয় না, আল্লাহ এবং দীনে ইসলাম তা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। তুমি যদি মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর সঙ্গীদেরকে বিজয়ের দিন দেখতে তাহলে তুমি জানতে যে মূর্তিকে কিভাবে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছিলো। তুমি হৃদয়ঙ্গম করতে পারতে যে, আল্লাহর দীন কিভাবে আমাদের মধ্যে প্রোজ্জ্বল হয়েছিল এবং শিরক কিভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে ধ্বংস হয়েছিল।"
📄 শাদীর তোহফা
ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আনাস (রাঃ) বিন মালিক বনি রাফায়ার মসজিদে তাশরীফ নিলেন এবং বললেন, "হুজুর আকরাম (সাঃ) উম্মে সুলাইমের মহল্লা অতিক্রমের সময় উম্মে সুলাইমের নিকট তাশরীফ নিতেন এবং তাঁকে সালাম করতেন।"
তারপর আনাস বিন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, "রাসুল পাক (সাঃ) যখন যয়নব (রাঃ) বিনতে জাহাশকে বিয়ে করলেন তখন (আমার মা) উম্মে সুলাইম আমাকে বললেন, "আমরা হুজুরে আকরামের (সাঃ) নিকট কেন কিছু হাদিয়া পাঠাবো না?” আমি বললাম, "অবশ্যই পাঠানো উচিত।”
আমার মা ছাতু, পণির, খেজুর ও ঘির হালুয়া তৈরী করলো। তা পাথরের একটি হাড়িতে রাখলো এবং আমাকে বললো, "নিয়ে যাও।" আমি উপস্থিত হলে তিনি (সাঃ) বললেন, "এখানে রাখো।” অতপর তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, "অমুক অমুক ব্যক্তিকে ডেকে আনো। বরং যাকে পাও তাকেই দাওয়াত দাও।”
আমি লোকদেরকে ডাকলাম। ঘরে লোক ভরে গেল। আমি দেখলাম যে, রাসুলে পাক (সাঃ) সেই হালুয়ার ওপর হাত রাখলেন এবং কিছুক্ষণ পর্যন্ত পড়তে লাগলেন। তারপর তিনি দশ জন করে ডাকা শুরু করলেন এবং হালুয়া খাওয়ার দাওয়াত দিলেন। তিনি বললেন, "প্রত্যেক ব্যক্তি আল্লাহর নাম নিয়ে নিজের সামনে থেকেখাবে।
তারা পালাক্রমে খেতে লাগলেন এমনকি সকলেই পেট পুরে খেলেন। খাওয়ার পর কিছু মানুষ তো চলে গেলেন এবং এক দল সেখানে বসেই গল্পে লেগে গেলেন।
আমিও অস্বস্তি প্রকাশ করলাম। তার পর হুজুর (সঃ) মজলিস থেকে উঠে হুজরার দিকে গেলেন। আমিও তাঁর পেছনে গেলাম এবং বললাম, "তারা চলে গেছে।” সুতরাং তিনিও (সাঃ) ফিরে এলেন এবং নিজের প্রাইভেট কামরায় প্রবেশ করলেন। আমি বাইরের কামরায় ছিলাম। হুজুর (সাঃ) পর্দা লটকাতে লটকাতে সূরায়ে আহযাবের আয়াত পড়লেন।
হে ঈমানদাররা, নবী পাকের ঘরসমূহে সেই সময় পর্যন্ত প্রবেশ করো না, যতক্ষণ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া না হয়। খাওয়ার সময় উকি মেরো না। হাঁ, খাবার জন্য যদি তোমাদেরকে ডাকা হয় তাহলে অবশ্যই আসবে। কিন্তু খাবার পর চলে যাবে। গল্পে লেগে থেকো না। তোমাদের এই আচরণ নবীকে (সাঃ) কষ্ট দেয়। কিন্তু লজ্জার কারণে তিনি কিছু বলতে পারেন না এবং আল্লাহ হক কথা বলতে লজ্জা পাননা।"