📄 আত্তাব ও হারিসের ইসলাম গ্রহণ
ইবনে হিশামকে কতিপয় আহলি ইলম ব্যক্তি এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। "মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সঃ) কা'বা শরীফে প্রবেশ করলেন। সে সময সাইয়েদেনা বেলাল (রাঃ) তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি তাঁকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
সে সময় হেরেম শরীফের বারান্দায় অনেক মানুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে আবু সুফিয়ান বিন হারব, আত্তাব বিন উসাইদ এবং হারিছ বিন হিশাম এক স্থানে এক সঙ্গে বসেছিলেন। আযানের আওয়াজ শুনে আত্তাব নিজের পিতার প্রসঙ্গে বললো, "উসাইদকে আল্লাহ তায়ালা দয়া প্রদর্শন করেছেনা। এই আওয়াজ শুনার পূর্বেই সে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে গেছে। এই আওযাজ শুনলে সে দুঃখ পেতো।”
হারিছ বিন হিশাম বললো, "খোদার কসম। আমি যদি জানতাম যে, সে হকের ওপর রয়েছে, তাহলে তার আনুগত্য করতাম।
আবু সুফিয়ান তাদের কথা শুনে বললো, "আমিতো কিছুই বলবো না। আমি যদি মুখ খুলি তা হলে এই পাথরসমূহ তাকে খবর পৌঁছে দেবে।”
কিছুক্ষণ পর রাসূলে আকরাম (সঃ) তাদের নিকট এলেন এবং বললেন, "তোমরা যা কিছু বলেছ তা আমি জেনে ফেলেছি।” অতপর তিনি তাদের আলাপ আলোচনার কথা শুনিয়ে দিলেন। তা শুনেই হারিছ এবং আত্তাব কালেমায়ে শাহাদাত পড়লেন এবং বললেন, "খোদার কসম। এ কথার খবর শুধু আল্লাহই আপনাকে দিতে পারেন। কেননা আমাদের নিকট কোন চতুর্থ ব্যক্তি উপস্থিতই ছিল না যে, আমরা মনে করবো সে আপনাকে তা বলে দিয়েছে।
📄 সায়াদের ব্যাধি
ইমাম বুখারী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, মাক্কি বিন ইবরাহীম আমাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা জাঈদ থেকে শুনেছেন। তাঁরা আয়েশা (রাঃ) বিনতে সায়াদ (রাঃ) বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে শুনেছেন। তিনি বলতেন, তাঁর পিতা সায়াদ (রাঃ) বিন আবিওয়াক্কাস মক্কায় কঠোর ব্যধিতে আক্রান্ত হন। বাঁচার আর কোন আশা ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর সেবা করার জন্য তাশরীফ আনলেন। এ সময় তিনি আরজ করলেনঃ "হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রচুর ধন সম্পদ রয়েছে। অথচ আমার একটি মাত্র কন্যা। আমি আমার সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ খোদার পথে ওয়াকফ করতে চাই।”
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, "না, এত পরিমাণ ওয়াকফ করবে না” আমি বললাম, 'ঠিক আছে, অর্ধেক আল্লাহর পথে ওসিয়ত করছি এবং অর্ধেক রেখে দিচ্ছি।” তিনি তাতেও বললেন, "না।” আমি আরজ করলাম, "তাহলে এক তৃতীয়াংশ ওসিয়ত করছি এবং দুই তৃতীয়াংশ কন্যার জন্য রেখে দিচ্ছি। "তিনি বললেন, হ্যাঁ, এক তৃতীয়াংশের ওসিয়ত কর এবং এক তৃতীয়াংশও বেশী।”
সায়াদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, "হুজুর (সাঃ) তারপর নিজের পবিত্র হাত আমার কপালের ওপর রাখলেন। আমার চেহারা ও পেটের ওপর নিজের হাত দিয়ে মসেহ করলেন এবং দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! সায়াদকে (রাঃ) আরোগ্য কর এবং তার হিজরতকে পূর্ণ করে দাও।” আমি নবীয়ে আকরামের (সাঃ) হাতের শীতলতা নিজের হৃদপিন্ডে আজও অনুভব করি।
অতপর আল্লাহ তায়ালা সায়াদকে (রাঃ) আরোগ্য দান করলেন এবং তিনি দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন। আল্লাহ পাক তাঁকে অনেক সন্তানও দান করেছিলেন।
📄 সকল মুক্তিই নিষ্পতিত হলো
ইবনে ইসহাক লিখেছেন, মক্কা বিজয়ের দিন হুজুরে আকরাম (সাঃ) নিজের উটনীর ওপর সওয়ার হয়ে হেরেম শরীফে দাখিল হলেন এবং কা'বা শরীফ তাওয়াফ করলেন। কাবার দেওয়ালের সঙ্গে সীসা দিয়ে মূর্তি লাগানো ছিল। হুজুরের (সাঃ) হাতে একটি খেজুরের ছড়ি ছিল। তিনি সেই ছড়ি দিয়ে মূর্তিগুলোর দিকে ইশারা করছিলেন এবং এই আয়াত পড়ছিলেনঃ
جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا.
"হক এসেছে এবং বাতিল ধ্বংস হয়েছে। অবশ্যই বাতিল ধ্বংস হয়ে যাবে।"
ইবনে আব্বাস বলেছেন, যে, মূর্তির চেহারার দিকে ইঙ্গিত করতেন সেই মূর্তি গ্রীবার ওপর নিপতিত হতো এবং যে মূর্তির গ্রীবার দিকে ইঙ্গিত করতেন সেই মূর্তি মুখ থুবড়ে মাটির ওপর নিপতিত হচ্ছিল। এমনিভাবে সকল মূর্তিই নিপতিত হলো এবং একটিও অবশিষ্ট রলো না।
📄 ফুদলার (রাঃ) বিন উমায়ের
ইবনে হিশাম আহলে ইলমের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন, "ফুজালাহ বিন উমায়ের বিন মালুহ আল-লায়সী মক্কা বিজয়ের বছরে হুজুরে আকরামকে (সাঃ) তাওয়াফকালে শহীদ করার ইরাদা করলো। সে যখন রাসূলে পাকের (সাঃ) নিকটে এলো তখন তিনি বললেন, "ফুজালা নাকি?” সে আরজ করলো, "জ্বী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল।”
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি এখন কি চিন্তা করছিলে? সে বললো, "কিছুই না। বাস, আল্লাহর জিকিরে মশগুল ছিলাম।” একথা শুনে হুজুরে আকরাম (সাঃ) হাসতে লাগলেন। অতপর বললেন, "আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও।” তারপর তার বুকের ওপর হাত রাখলেন। তার অন্তর শান্ত হলো। ফুজালাহ (রাঃ) বলতেন, " খোদার কসম যেই তিনি হাত উঠালেন সেই তিনি আসমান ও যমিনের প্রতিটি বস্তুর আমার নিকট প্রিয় হয়ে গেলেন। অথচ পূর্বে সকল সৃষ্টির মধ্যে তিনিই আমার নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় ছিলেন। অতপর আমি নিজের পরিবার পরিজনের দিকে রওয়ানা হলাম। পথিমধ্যে সেই মহিলার সঙ্গে দেখা হলো যার সঙ্গে জাহেলী যুগে আমার কথা বার্তা ছিল। সে আমাকে বললো, "এসো, কিছু কথা বলো।” আমি বললাম, "না।” তারপর ফুজালাহ একটি কবিতা বললেনঃ
قالت هلم إلى الحديث فقلت لا يابي عليك الله الاسلام!
لوما رأيت محمداً وقبيله بالفتح كيف تكسر الاصنام
لرأيت دين الله اضحى بيننا والشرك يغشى وجهه الاطلام
"সে বললো, এসো আমার সঙ্গে গল্পসল্প করো। আমি বললাম, তা হয় না, আল্লাহ এবং দীনে ইসলাম তা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। তুমি যদি মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর সঙ্গীদেরকে বিজয়ের দিন দেখতে তাহলে তুমি জানতে যে মূর্তিকে কিভাবে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছিলো। তুমি হৃদয়ঙ্গম করতে পারতে যে, আল্লাহর দীন কিভাবে আমাদের মধ্যে প্রোজ্জ্বল হয়েছিল এবং শিরক কিভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে ধ্বংস হয়েছিল।"