📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 হাতিবের পত্র

📄 হাতিবের পত্র


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, "মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সঃ) যখন মক্কা বিজয়ের ইচ্ছা করলেন তখন সাহাবীদেরকে (রাঃ) প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে নিজের পরিবারের লোকদেরকে সফরের সামান ও জিহাদের সরঞ্জাম তৈরী করে নেয়ার নির্দেশ দিলেন। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) হুজুরের (সঃ) গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখলেন যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) তাঁর সামান তৈরী করছেন। জিজ্ঞাসা করলেন, "বেটি! রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কি প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন?” তিনি জবাব দিলেন, "জ্বী হ্যাঁ।” জিজ্ঞাসা করলেন, "কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করেছেন?” তিনি বললেন, "খোদার কসম। আমি তা জানি না।” সে সময় পর্যন্ত কেউ জানতো না যে, কোন দিকে যেতে হবে।
প্রস্তুতির পর তিনি লোকদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, মক্কার দিকে যেতে হবে। তিনি বলে দিলেন যে, কাউকে যেন মক্কা গমনের কথা প্রকাশ করা না হয়। দোয়াও করলেন যে, "হে মাওলায়ে করিম। কোরেশের গোয়েন্দা ও এজেন্টদেরকে বে-খবর রেখ। যাতে আমি সেখানে পৌঁছাতে পারি।”
ইবনে ইসহাক মুহাম্মদ বিন জা'ফর বিন যোবায়ের থেকে হযরত উরওয়াহ (রাঃ) বিন যোবায়েরের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, "রাসূলুল্লাহ (রাঃ) যখন মক্কা রওয়ানার প্রস্তুতি সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করলেন তখন হাতিব বিন আবি বালতায়া কোরেশের নামে একটি পত্র লিখলেন। এই পত্রে রাসূলের (সঃ) প্রস্তুতি এবং মক্কা রওয়ানার কথা উল্লেখ করলেন। অতপর এই পত্র এক মহিলার হাতে মক্কার সরদারের নামে প্রেরণ করলেন। তিনি এই কাজের বিনিময় প্রদানের ব্যাপারে মহিলাটির সঙ্গে একটি সিদ্ধান্তে আসেন। মহিলাটি পত্র নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল।
হুজুরে আকরাম (সঃ) এই ঘটনার খবর আসমান থেকে পেলেন। তিন হযরত আলি (রাঃ) এবং হযরত যোবায়েরকে (রাঃ) প্রেরণ করলেন এবং সেই মহিলার নিকট থেকে পত্র উদ্ধারের নির্দেশ দিলেন। তারা দ্রুতগামী সওয়ারীতে আরোহণ করে মক্কার দিকে রওয়ানা হলেন এবং রাস্তায় সেই মহিলাকে ধরে ফেললেন। তারা সেই পত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করলো। তার সকল সামান তল্লাশী করা হলো। কিন্তু পত্র পাওয়া গেল না। হযরত আলী (রাঃ) তাকে বললেন, "আমি আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, রাসূলের (সঃ) কথা মিথ্যা হতে পারে না এবং আমরাও মিথ্যা বলছি না। হয় পত্র আমাদের নিকট দিয়ে দাও নচেৎ তোমার কাপড় খুলে তল্লাশী চালাবো।"
মহিলাটি যখন এই অবস্থা দেখলো তখন বললো, “একটু ওদিকে সরে যাও।” তারা একটু ওদিকে হলে সে তার মাথার চুলের বেনি খুললো এবং পত্র বের করে দিয়ে দিল। তারা পত্রটি নিয়ে এলেন এবং হুজুরের (সঃ) খিদমতে পেশ করে দিলেন। পত্র প্রাপ্তির পর তিনি হাতিবকে ডেকে পাঠালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, “হে হাতিব! তুমি এই কাজ কেন করেছ?”
হযরত হাতিব জবাব দিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! খোদার কসম আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সত্যিকার ওফাদার এবং মুমিন। আমি ওফাদারীও পরিবর্তন করিনি। আমার ঈমানও বদলায়নি। প্রকৃত পক্ষে কথা হলো যে, মক্কায় আমার কোন খান্দান ও কবিলা নেই। কিন্তু আমার পরিবার পরিজন মক্কায় রযেছে। এ জন্য আমি কোরেশদেরকে বাধিত করার উদ্দেশ্যে এই পত্র লিখেছি যাতে আমার ছেলে- মেয়েদের কোন ক্ষতি না হয়।”
হযরত ওমর (রাঃ) আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল। এই ব্যক্তি মুনাফিক হয়ে গেছে। আমাকে তার গর্দান উড়িয়ে দেয়ার অনুমতি দিন।”
তিনি ইরশাদ করলেন, “ওমর। তুমি কি জানো, হতে পারে যে, আল্লাহ আহলে বদর মনে করে বলে দেবেন যে, তোমরা যাই করো না কেন আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।” হযরত হাতিব (রাঃ) বদরী সাহাবী ছিলেন।
এই সময় আল্লাহ তায়ালা সূরায়ে আল মুমতাহিনার এই আয়াত নাযিল করলেনঃ
“হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা যদি আমার পথে জিহাদ 'করার জন্য ও আমার সন্তোষ লাভের মানসে (দেশ ছেড়ে ঘর থেকে) বের হয়ে থাকো, তা হলে আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধু বানিও না। তোমরা তো তাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন কর অথচ যে সত্য তোমাদের নিকট এসেছে তা মেনে নিতে তারা ইতিপূর্বেই অস্বীকার করেছে। আর তাদের আচরণ এই যে, তারা রাসূল এবং স্বয়ং তোমাদেরকে শুধু এই কারণে দেশ থেকে নির্বাসিত করে যে, তোমরা তোমাদের রব আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছ। তোমরা গোপনে তাদেরকে বন্ধুত্বপূর্ণ বাণী পাঠাও অথচ তোমরা যা কিছু গোপনে কর, আর যা কর প্রকাশ্যে, প্রত্যেকটি ব্যাপারই আমি আল্লাহ ভালোভাবে জানি।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 আত্তাব ও হারিসের ইসলাম গ্রহণ

📄 আত্তাব ও হারিসের ইসলাম গ্রহণ


ইবনে হিশামকে কতিপয় আহলি ইলম ব্যক্তি এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। "মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সঃ) কা'বা শরীফে প্রবেশ করলেন। সে সময সাইয়েদেনা বেলাল (রাঃ) তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি তাঁকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
সে সময় হেরেম শরীফের বারান্দায় অনেক মানুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে আবু সুফিয়ান বিন হারব, আত্তাব বিন উসাইদ এবং হারিছ বিন হিশাম এক স্থানে এক সঙ্গে বসেছিলেন। আযানের আওয়াজ শুনে আত্তাব নিজের পিতার প্রসঙ্গে বললো, "উসাইদকে আল্লাহ তায়ালা দয়া প্রদর্শন করেছেনা। এই আওয়াজ শুনার পূর্বেই সে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে গেছে। এই আওযাজ শুনলে সে দুঃখ পেতো।”
হারিছ বিন হিশাম বললো, "খোদার কসম। আমি যদি জানতাম যে, সে হকের ওপর রয়েছে, তাহলে তার আনুগত্য করতাম।
আবু সুফিয়ান তাদের কথা শুনে বললো, "আমিতো কিছুই বলবো না। আমি যদি মুখ খুলি তা হলে এই পাথরসমূহ তাকে খবর পৌঁছে দেবে।”
কিছুক্ষণ পর রাসূলে আকরাম (সঃ) তাদের নিকট এলেন এবং বললেন, "তোমরা যা কিছু বলেছ তা আমি জেনে ফেলেছি।” অতপর তিনি তাদের আলাপ আলোচনার কথা শুনিয়ে দিলেন। তা শুনেই হারিছ এবং আত্তাব কালেমায়ে শাহাদাত পড়লেন এবং বললেন, "খোদার কসম। এ কথার খবর শুধু আল্লাহই আপনাকে দিতে পারেন। কেননা আমাদের নিকট কোন চতুর্থ ব্যক্তি উপস্থিতই ছিল না যে, আমরা মনে করবো সে আপনাকে তা বলে দিয়েছে।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সায়াদের ব্যাধি

📄 সায়াদের ব্যাধি


ইমাম বুখারী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, মাক্কি বিন ইবরাহীম আমাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা জাঈদ থেকে শুনেছেন। তাঁরা আয়েশা (রাঃ) বিনতে সায়াদ (রাঃ) বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে শুনেছেন। তিনি বলতেন, তাঁর পিতা সায়াদ (রাঃ) বিন আবিওয়াক্কাস মক্কায় কঠোর ব্যধিতে আক্রান্ত হন। বাঁচার আর কোন আশা ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর সেবা করার জন্য তাশরীফ আনলেন। এ সময় তিনি আরজ করলেনঃ "হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রচুর ধন সম্পদ রয়েছে। অথচ আমার একটি মাত্র কন্যা। আমি আমার সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ খোদার পথে ওয়াকফ করতে চাই।”
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, "না, এত পরিমাণ ওয়াকফ করবে না” আমি বললাম, 'ঠিক আছে, অর্ধেক আল্লাহর পথে ওসিয়ত করছি এবং অর্ধেক রেখে দিচ্ছি।” তিনি তাতেও বললেন, "না।” আমি আরজ করলাম, "তাহলে এক তৃতীয়াংশ ওসিয়ত করছি এবং দুই তৃতীয়াংশ কন্যার জন্য রেখে দিচ্ছি। "তিনি বললেন, হ্যাঁ, এক তৃতীয়াংশের ওসিয়ত কর এবং এক তৃতীয়াংশও বেশী।”
সায়াদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, "হুজুর (সাঃ) তারপর নিজের পবিত্র হাত আমার কপালের ওপর রাখলেন। আমার চেহারা ও পেটের ওপর নিজের হাত দিয়ে মসেহ করলেন এবং দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! সায়াদকে (রাঃ) আরোগ্য কর এবং তার হিজরতকে পূর্ণ করে দাও।” আমি নবীয়ে আকরামের (সাঃ) হাতের শীতলতা নিজের হৃদপিন্ডে আজও অনুভব করি।
অতপর আল্লাহ তায়ালা সায়াদকে (রাঃ) আরোগ্য দান করলেন এবং তিনি দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন। আল্লাহ পাক তাঁকে অনেক সন্তানও দান করেছিলেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সকল মুক্তিই নিষ্পতিত হলো

📄 সকল মুক্তিই নিষ্পতিত হলো


ইবনে ইসহাক লিখেছেন, মক্কা বিজয়ের দিন হুজুরে আকরাম (সাঃ) নিজের উটনীর ওপর সওয়ার হয়ে হেরেম শরীফে দাখিল হলেন এবং কা'বা শরীফ তাওয়াফ করলেন। কাবার দেওয়ালের সঙ্গে সীসা দিয়ে মূর্তি লাগানো ছিল। হুজুরের (সাঃ) হাতে একটি খেজুরের ছড়ি ছিল। তিনি সেই ছড়ি দিয়ে মূর্তিগুলোর দিকে ইশারা করছিলেন এবং এই আয়াত পড়ছিলেনঃ
جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا.
"হক এসেছে এবং বাতিল ধ্বংস হয়েছে। অবশ্যই বাতিল ধ্বংস হয়ে যাবে।"
ইবনে আব্বাস বলেছেন, যে, মূর্তির চেহারার দিকে ইঙ্গিত করতেন সেই মূর্তি গ্রীবার ওপর নিপতিত হতো এবং যে মূর্তির গ্রীবার দিকে ইঙ্গিত করতেন সেই মূর্তি মুখ থুবড়ে মাটির ওপর নিপতিত হচ্ছিল। এমনিভাবে সকল মূর্তিই নিপতিত হলো এবং একটিও অবশিষ্ট রলো না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00