📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সুদ্দান আমর (রাঃ)

📄 সুদ্দান আমর (রাঃ)


ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন যে, আমর বিন আখতাব (রাঃ) হুজুরে আকরামের (রাঃ) সঙ্গে কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। একবার হজুর (রাঃ) তাঁর মাথার ওপর হাত বুলালেন এবং সুদর্শন হওয়ার জন্য দোয়া করলেন।
হযরত আমর (রাঃ) একশ' বছরের বেশী বয়স পেয়েছিলেন এবং তিনি শেষ সময় পর্যন্ত খুব সুদর্শন ছিলেন। তাঁর মাথা ও দাড়ির আঙ্গুলে গোনা কয়েকটি চুল সাদা হওয়া ছাড়া অবশিষ্ট সম্পূর্ণ কালো ছিল।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 জাবির ওয়ালী

📄 জাবির ওয়ালী


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, হযরত আওফ বিন মালিক আশজায়ী বলেছেন, হুজুর (সঃ) এক বাহিনী রওয়ানা করলেন। এই বাহিনীর আমীর ছিলেন আমর (রাঃ) বিন আস। এটা ছিল জাতুস সালাসিলের যুদ্ধ এবং হযরত আবু বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) আমাদের সঙ্গে শামিল ছিলেন। সফরকালে আমি কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তারা একটি উট জবেহ করে রেখেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে কারোরই তার গোশত ছাড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল না। আমি এই কাজে খুব পটু ছিলাম। আমি তাদেরকে বললাম, "আমি এই কাজ করতে পারি। শর্ত হলো গোশতের একটি অংশ আমাকেও দিতে হবে।" তারা এই শর্ত মেনে নিল।
আমি গোশত বানিয়ে দিলাম এবং নিজের অংশ নিয়ে সঙ্গীদের নিকট এলাম। আমরা গোশত রান্না করলাম এবং খেলাম। আবুবকর (রাঃ) এবং ওমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আওফ! তুমি এই গোশ্ত কোথা থেকে এনেছিলে? আমি তা তাদেরকে বললাম। তাঁরা আমার কাজকে ভালো মনে করলেন না এবং উভয়ে নিজেদের গলার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বমি করে ফেললো।
সৈন্য বাহিনী মদীনা ফিরে এলে আমি সর্বপ্রথম মদীনা পৌঁছে গেলাম। অন্যরা তখনো অনেক পেছনে ছিল। হুজুরের (সঃ) খিদমতে হাজির হলাম। তিনি তখন নামায পড়ছিলেন। নামায থেকে ফারেগ হলে আমি অগ্রসর হয়ে সালাম করলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কি আওফ বিন মালিক (রাঃ)?” আমি আরজ কললাম, "জ্বী হ্যাঁ।” তিনি বললেন, "জবিহা ওয়ালা আওফ।” এ ছাড়া আর রাসূলে করীম (সঃ) কিছু বললেন না।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 চিঠি দেওয়াকারী

📄 চিঠি দেওয়াকারী


কায়েস বিন আবি হাযেম ইয়াযিদ (রাঃ) বিন আবি শায়বা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (ইয়াযিদ) বলতেন, "আমি মদীনার এক অপ্রশস্ত গলি দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। আমার পাশ দিয়ে একজন মহিলা অতিক্রম করছিল। আমি তার আচল ধরে নিজের দিকে টানলাম এবং তার রানে চিমটি দিলাম। পরের দিন হুজুরে আকরাম (সাঃ) লোকদের নিকট বাইয়াত গ্রহণ করতে লাগলেন। আমিও বাইয়াতের জন্য হাজির হলাম।
আমি যখন হাত বাড়ালাম হুজুর (সাঃ) তখন নিজের হাত পিছনে নিলেন এবং বললেন, "তুমি কি সেই ব্যক্তি নও গতকাল যে চিমটি দিয়েছিলে?” আমি আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল। আমার বাইয়াত কবুল করুন। খোদার কসম। ভবিষ্যতে আমি আর এমন করবো না।” একথা শুনে হুজুর (সাঃ) আমার বাইয়াত গ্রহণকরলেন।"

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 মারয়াদার হত্যাকারী

📄 মারয়াদার হত্যাকারী


ওয়াকেদী (রাঃ) ইয়াহিয়া বিন আবদুল্লাহ বিন আবি কাতাদা থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (আবু কাতাদা (রাঃ) হারিছ বিন রাবয়ীল আনসারী) (সঃ) নির্দেশে জিকারদ ঝরনার নিকট আইনিয়া বিন হাসন এবং তার লুটপাটকারী সাথীদের বিরুদ্ধে মুকাবিলার জন্য গেলেন। সফল হয়ে মদীনা ফিরলে রাসূলের (সঃ) সঙ্গে রাস্তায় সাক্ষাত হলো। তিনি আমাকে দেখে বললেন, "হে আল্লাহ! তার দৈহিক শক্তি এবং চেহারার সৌন্দর্যে বরকত দাও।” তারপর আরো দোয়া করলেন এবং বললেন, " তোমার চেহারা আলোকিত হোক অর্থাৎ তুমি বিখ্যাত মানুষ হয়ে যাও।” জবাবে আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল। আপনিও খ্যাতিমান হোন।”
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি মাসয়াদা কাফেরকে হত্যা করেছো?" আমি আরজ করলাম, "জী হ্যাঁ। হে আল্লাহর রাসূল।”
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার চেহারার ওপর এটা কি?” আমি আরজ করলাম, "শত্রুরা তীর মেরেছে। আর তা আমার চেহারাকে আহত করেছে।"
তিনি বললেন, "এদিকে আমার নিকট এসো” আমি তাঁর নিকটে গেলাম। তিনি আমার ক্ষতের ওপর তাঁর পবিত্র মুখের লালা লাগিয়ে দিলেন। আমার সেই ক্ষত সম্পূর্ণ সেরে গেল এবং তারপর আমি আর কোনদিন আহত হইনি।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00