📄 মুখাম্মদ (রাঃ) বিন হাবিব
হযরত ইমাম বুখারী (রঃ) রাবীদের একটি ধারা বর্ণনা করে এই রাওয়ায়েত মুহাম্মদ বিন হাতিবের মাতা উম্মে জামিলের জবানীতে লিখেছেন। তিনি স্বীয় পুত্র মুহাম্মদ বিন হাতিবকে বললেন, "আমি তোমাকে নিয়ে হাবশা থেকে রওয়ানা হলাম। মদীনা থেকে দুই দিনের দূরত্বে আমরা যাত্রা বিরতি করলাম। আমি খাবার তৈরী করলাম। তুমি গরম হাঁড়ি নিজের ওপর উল্টে নিলে। তাতে তোমার বাহু ঝলসে গেল। আমি মদিনা পৌঁছলাম এবং হুজুরের (রা) খিদমতে হাজির হলাম।
আমি আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! এ হলো মুহাম্মাদ বিন হাতিব। এই প্রথম সন্তান। তার নাম আপনার পবিত্র নামের সঙ্গে সাদৃশ্য করে রাখা হয়েছে।" তিনি একথা শুনে তোমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমাকে বরকতের দোয়া দিলেন। অতপর তোমার মুখে তিনি থুথু দিলেন। তারপর তিনি তোমার হাতে থুথু দিতে থাকলেন এবং এই দোয়া করলেন,
اذهب البأس رب الناس، اشف انت الشافي . لا شفاء الاشفاءك شفاء لا يغادر سقما
"হে মানুষের সৃষ্টি কর্তা। কষ্ট দূর করে দাও। সুস্থতা দান কর। তুমিই সুস্থতা দানকারী। তুমি ছাড়া কারোর হাতে শিফা নেই। এমন শিফা দাও যা অসুস্থতাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দেয়।” আমি হুজুরের (সঃ) নিকট থেকে উঠলাম। এ সময় তোমার হাত সম্পূর্ণ ঠিক হয়েগিয়েছিল।
📄 সুদ্দান আমর (রাঃ)
ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন যে, আমর বিন আখতাব (রাঃ) হুজুরে আকরামের (রাঃ) সঙ্গে কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। একবার হজুর (রাঃ) তাঁর মাথার ওপর হাত বুলালেন এবং সুদর্শন হওয়ার জন্য দোয়া করলেন।
হযরত আমর (রাঃ) একশ' বছরের বেশী বয়স পেয়েছিলেন এবং তিনি শেষ সময় পর্যন্ত খুব সুদর্শন ছিলেন। তাঁর মাথা ও দাড়ির আঙ্গুলে গোনা কয়েকটি চুল সাদা হওয়া ছাড়া অবশিষ্ট সম্পূর্ণ কালো ছিল।
📄 জাবির ওয়ালী
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, হযরত আওফ বিন মালিক আশজায়ী বলেছেন, হুজুর (সঃ) এক বাহিনী রওয়ানা করলেন। এই বাহিনীর আমীর ছিলেন আমর (রাঃ) বিন আস। এটা ছিল জাতুস সালাসিলের যুদ্ধ এবং হযরত আবু বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) আমাদের সঙ্গে শামিল ছিলেন। সফরকালে আমি কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তারা একটি উট জবেহ করে রেখেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে কারোরই তার গোশত ছাড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল না। আমি এই কাজে খুব পটু ছিলাম। আমি তাদেরকে বললাম, "আমি এই কাজ করতে পারি। শর্ত হলো গোশতের একটি অংশ আমাকেও দিতে হবে।" তারা এই শর্ত মেনে নিল।
আমি গোশত বানিয়ে দিলাম এবং নিজের অংশ নিয়ে সঙ্গীদের নিকট এলাম। আমরা গোশত রান্না করলাম এবং খেলাম। আবুবকর (রাঃ) এবং ওমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আওফ! তুমি এই গোশ্ত কোথা থেকে এনেছিলে? আমি তা তাদেরকে বললাম। তাঁরা আমার কাজকে ভালো মনে করলেন না এবং উভয়ে নিজেদের গলার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বমি করে ফেললো।
সৈন্য বাহিনী মদীনা ফিরে এলে আমি সর্বপ্রথম মদীনা পৌঁছে গেলাম। অন্যরা তখনো অনেক পেছনে ছিল। হুজুরের (সঃ) খিদমতে হাজির হলাম। তিনি তখন নামায পড়ছিলেন। নামায থেকে ফারেগ হলে আমি অগ্রসর হয়ে সালাম করলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কি আওফ বিন মালিক (রাঃ)?” আমি আরজ কললাম, "জ্বী হ্যাঁ।” তিনি বললেন, "জবিহা ওয়ালা আওফ।” এ ছাড়া আর রাসূলে করীম (সঃ) কিছু বললেন না।
📄 চিঠি দেওয়াকারী
কায়েস বিন আবি হাযেম ইয়াযিদ (রাঃ) বিন আবি শায়বা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (ইয়াযিদ) বলতেন, "আমি মদীনার এক অপ্রশস্ত গলি দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। আমার পাশ দিয়ে একজন মহিলা অতিক্রম করছিল। আমি তার আচল ধরে নিজের দিকে টানলাম এবং তার রানে চিমটি দিলাম। পরের দিন হুজুরে আকরাম (সাঃ) লোকদের নিকট বাইয়াত গ্রহণ করতে লাগলেন। আমিও বাইয়াতের জন্য হাজির হলাম।
আমি যখন হাত বাড়ালাম হুজুর (সাঃ) তখন নিজের হাত পিছনে নিলেন এবং বললেন, "তুমি কি সেই ব্যক্তি নও গতকাল যে চিমটি দিয়েছিলে?” আমি আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল। আমার বাইয়াত কবুল করুন। খোদার কসম। ভবিষ্যতে আমি আর এমন করবো না।” একথা শুনে হুজুর (সাঃ) আমার বাইয়াত গ্রহণকরলেন।"