📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 আবু রাফে ইহুদীকে হত্যা

📄 আবু রাফে ইহুদীকে হত্যা


ইমাম বুখারী (রাঃ) হযরত বারার (রাঃ) এই রাওয়ায়েত ইউসুফ বিন মুসা, উবায়েদুল্লাহ বিন মুসা ইসরাইল এবং আবু ইসহাকের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন। হযরত বারা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, 'রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আনসারের কিছু মানুষকে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বিন আতিকের নেতৃত্বে আবু রাফে ইহুদীকে হত্যার জন্য প্রেরন করেন। আবু রাফে রাসূলুল্লাহকে (সঃ) কবিতার মাধ্যমে দূঃখ দিতো এবং তার দুশমনকে সাহায্য করতো। 'হেজাযের মাটিতে তার একটি দুর্গ ছিল। তাতে সে অবস্থান করতো। এই সাহাবীরা (রাঃ) যখন সেখানে পৌঁছলেন তখন সূর্য ডুবে গিয়েছিল এবং মানুষেরা নিজেদের আলয়ে ফিরে গিয়েছিল। আব্দুল্লাহ সঙ্গীদেরকে বললেন, "তোমরা এখানে বসো। আমি দরজায় যাচ্ছি এবং পাহারাদারকে তোয়াজ তামিল করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালাই।" অতপর তিনি দরজার নিকট পৌঁছলেন।
ঘটনাক্রমে সে সময় কিছু মানুষ মোমবাতি হাতে নিয়ে দুর্গের বাইরে এলো। তারা একটি নিখোঁজ গাধার খোঁজ করছিল। হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন যে, আমাকে চিনে না ফেলে এই সন্দেহ হলো আমার। বস্তুতঃ আমি আমার চাদর বিছিয়ে বসে পড়লাম। আমার বসাটা ছিল পায়খানায় বসার মত। মশালবাহী লোকেরা ফিরে গেলে দারোয়ান চেঁচিয়ে বললো, "যারা বাইরে রয়েছ তারা শিঘ্র ভেতরে এসো। তা না হলে আমি দরজা বন্ধ করে দেব।"
একথা শুনতেই আমি দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম এবং দূর্গের দরজার নিকটেই লুকিয়ে রইলাম। লোকজন আবু রাফের নিকট রাতের খাবার পর বসে কথা বলছিল। এই অবস্থায় রাতের একটি অংশ কেটে গেলো। অতপর তারা সেখান থেকে উঠে যার যার বাড়ী ফিরে গেল। যখন কোন দিক থেকেই আর কোন সাড়া শব্দ পেলাম না, তখন আমি বাইরে বেরুলাম। দূর্গে প্রবেশের সময় দারোয়ান চাবি কোথায় রেখেছিল তা আমি দেখেছিলাম। দরজার সাথেই রক্ষিত আলোকপাত্রে সে চাবি রেখেছিল। আমি সেই চাবি নিলাম এবং তালা খুললাম। অতপর দরজা বন্ধ করে দিলাম এবং খুব সন্তর্পনে লোকদের ঘরের দিকে গেলাম ও দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলাম। অতপর সিড়িতে চড়লাম। এই সিড়ি আবু রাফের (রাঃ) মহলের দিকে চলে গিয়েছিল। আমি তার দরজায় পৌঁছলাম। তখন সেখানে অন্ধকার ছিল। আবু রাফে কোথায় তা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। তারপর আমি বললাম, "হে আবু রাফে।" সে বললো কে? যেই আমি তার আওয়াজ শুনলাম সেই দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তার ওপর তরবারীর আঘাত হানলাম। সে চেঁচিয়ে উঠলো। আমার আঘাত তাকে মামুলী ধরনের আহত করেছিল। আমি আমার কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে তাকে পুনরায় ডাকলাম।
• আমি এমনভাবে ডাকলাম যে, আমি যেন তাকে সাহায্য করতে এসেছি। আমি বললাম, "আবু রাফে' কি হয়েছে।” সে বললো, "তোমার মা'র মৃত্যু হোক। তুমি কি জানোনা যে, এখানে এক ব্যক্তি ঢুকে পড়েছে এবং সে আমার ওপর তরবারীর আঘাত হেনেছে।” তখন আমি আবার তার দিকে অগ্রসর হলাম এবং দ্বিতীয়বার আঘাত হানলাম। এই আঘাতও খুব কার্যকর হলো না এবং সে পুনরায় চেঁচিয়ে উঠলো। সে সময় তার পরিবার-পরিজনও জেগে গিয়েছিল। আমি পুনরায় তার দিকে অগ্রসর হলাম। সে মাটিতে পড়েছিল। আমি তার পেটে তরবারী ঢুকিয়ে দিলাম। এসময় হাড় কেটে যাওয়ার শব্দ পেলাম। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে তার ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে গেছে। আমি খুব তাড়াতাড়ি সিঁড়ির দিকে দৌড় দিলাম। কিন্তু আমার পা ফসকে গেল এবং আমি পড়ে গেলাম। তাতে আমার পা মচকে গেল। অতপর আমি পা বেঁধে যেমন তেমন করে আমার সঙ্গীদের নিকট পৌছে গেলাম। পায়ে মচকান লাগার কারণে অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আস্তে আস্তে এই দূরত্ব অতিক্রম করলাম।
আমি বন্ধুদেরকে বললাম, "তোমরা গিয়ে রাসূলকে (সাঃ) সুসংবাদ দাও। কিন্তু আমিতো সে সময় পর্যন্ত এখান থেকে নড়বোনা যতক্ষণ মাতমকারীদের আওয়াজ শুনতে না পাবো। সুবহে সাদিকের সময় মাতমকারী প্রাচীরের ওপর আরোহণ করলো এবং ঘোষণা করলো, "হে লাকেরা। হাজ্জাজের বণিক ও অঞ্চলের সরদার মারাগেছে।” তার কথা শুনেই আমি মদীনা রওয়ানা দিলাম এবং সঙ্গীদের মদীনায় পৌঁছার পূর্বেই তাদের সাথে গিয়ে মিলিত হলাম। আমি যখন রাসূলের (সঃ) খিদমতে হাজির হলাম এবং ঘটনার খবর দিলাম তখন তিনি বললেন, "তোমার পা প্রসারিত কর। আমি পা সামনে অগ্রসর করলাম। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার ওপর হাত ঘুরালেন। এই সময় আমার পা সম্পূর্ণ ঠিক-ঠাক ছিল। যেন তাতে কোন ব্যথা কোন সময়ই ছিলনা।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 মুখাম্মদ (রাঃ) বিন হাবিব

📄 মুখাম্মদ (রাঃ) বিন হাবিব


হযরত ইমাম বুখারী (রঃ) রাবীদের একটি ধারা বর্ণনা করে এই রাওয়ায়েত মুহাম্মদ বিন হাতিবের মাতা উম্মে জামিলের জবানীতে লিখেছেন। তিনি স্বীয় পুত্র মুহাম্মদ বিন হাতিবকে বললেন, "আমি তোমাকে নিয়ে হাবশা থেকে রওয়ানা হলাম। মদীনা থেকে দুই দিনের দূরত্বে আমরা যাত্রা বিরতি করলাম। আমি খাবার তৈরী করলাম। তুমি গরম হাঁড়ি নিজের ওপর উল্টে নিলে। তাতে তোমার বাহু ঝলসে গেল। আমি মদিনা পৌঁছলাম এবং হুজুরের (রা) খিদমতে হাজির হলাম।
আমি আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! এ হলো মুহাম্মাদ বিন হাতিব। এই প্রথম সন্তান। তার নাম আপনার পবিত্র নামের সঙ্গে সাদৃশ্য করে রাখা হয়েছে।" তিনি একথা শুনে তোমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমাকে বরকতের দোয়া দিলেন। অতপর তোমার মুখে তিনি থুথু দিলেন। তারপর তিনি তোমার হাতে থুথু দিতে থাকলেন এবং এই দোয়া করলেন,
اذهب البأس رب الناس، اشف انت الشافي . لا شفاء الاشفاءك شفاء لا يغادر سقما
"হে মানুষের সৃষ্টি কর্তা। কষ্ট দূর করে দাও। সুস্থতা দান কর। তুমিই সুস্থতা দানকারী। তুমি ছাড়া কারোর হাতে শিফা নেই। এমন শিফা দাও যা অসুস্থতাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দেয়।” আমি হুজুরের (সঃ) নিকট থেকে উঠলাম। এ সময় তোমার হাত সম্পূর্ণ ঠিক হয়েগিয়েছিল।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সুদ্দান আমর (রাঃ)

📄 সুদ্দান আমর (রাঃ)


ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন যে, আমর বিন আখতাব (রাঃ) হুজুরে আকরামের (রাঃ) সঙ্গে কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। একবার হজুর (রাঃ) তাঁর মাথার ওপর হাত বুলালেন এবং সুদর্শন হওয়ার জন্য দোয়া করলেন।
হযরত আমর (রাঃ) একশ' বছরের বেশী বয়স পেয়েছিলেন এবং তিনি শেষ সময় পর্যন্ত খুব সুদর্শন ছিলেন। তাঁর মাথা ও দাড়ির আঙ্গুলে গোনা কয়েকটি চুল সাদা হওয়া ছাড়া অবশিষ্ট সম্পূর্ণ কালো ছিল।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 জাবির ওয়ালী

📄 জাবির ওয়ালী


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, হযরত আওফ বিন মালিক আশজায়ী বলেছেন, হুজুর (সঃ) এক বাহিনী রওয়ানা করলেন। এই বাহিনীর আমীর ছিলেন আমর (রাঃ) বিন আস। এটা ছিল জাতুস সালাসিলের যুদ্ধ এবং হযরত আবু বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) আমাদের সঙ্গে শামিল ছিলেন। সফরকালে আমি কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তারা একটি উট জবেহ করে রেখেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে কারোরই তার গোশত ছাড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল না। আমি এই কাজে খুব পটু ছিলাম। আমি তাদেরকে বললাম, "আমি এই কাজ করতে পারি। শর্ত হলো গোশতের একটি অংশ আমাকেও দিতে হবে।" তারা এই শর্ত মেনে নিল।
আমি গোশত বানিয়ে দিলাম এবং নিজের অংশ নিয়ে সঙ্গীদের নিকট এলাম। আমরা গোশত রান্না করলাম এবং খেলাম। আবুবকর (রাঃ) এবং ওমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আওফ! তুমি এই গোশ্ত কোথা থেকে এনেছিলে? আমি তা তাদেরকে বললাম। তাঁরা আমার কাজকে ভালো মনে করলেন না এবং উভয়ে নিজেদের গলার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বমি করে ফেললো।
সৈন্য বাহিনী মদীনা ফিরে এলে আমি সর্বপ্রথম মদীনা পৌঁছে গেলাম। অন্যরা তখনো অনেক পেছনে ছিল। হুজুরের (সঃ) খিদমতে হাজির হলাম। তিনি তখন নামায পড়ছিলেন। নামায থেকে ফারেগ হলে আমি অগ্রসর হয়ে সালাম করলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কি আওফ বিন মালিক (রাঃ)?” আমি আরজ কললাম, "জ্বী হ্যাঁ।” তিনি বললেন, "জবিহা ওয়ালা আওফ।” এ ছাড়া আর রাসূলে করীম (সঃ) কিছু বললেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00