📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 জাবেরের (রাঃ) পিতার ঋণ

📄 জাবেরের (রাঃ) পিতার ঋণ


সহিহ বুখারীতে ইমাম বুখারী (রাঃ) আবদান, জারির, মুগিরাহ, শা'বী এনং জাবের (রাঃ) বিন আব্দুল্লাহর মাধ্যমে এই রাওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন। জাবের (রাঃ) বলেন, "আমার পিতা আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম ওহোদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন এবং তাঁর কিছু ঋণ ছিলো। আমি হুজুরের (সাঃ) নিকট আরজ করলাম যে তিনি যেন আমার পিতার ঋণদাতাদের নিকট তেকে ঋণ মাফ করে দেন। হুজুর (সাঃ) তাদের সঙ্গে কথা বললেন। কিন্তু তারা ঋণ মাফ করতে রাজি হলো না।
রাসূলে পাক (সাঃ) আমাকে বললেন, "যাও তোমার খেজুর বিভিন্ন শ্রেণীর ভিত্তিতে পৃথক করে স্তূপ করো। তার পর আমাকে ডাকবে।”
আমি তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী খেজুরের মান অনুযায়ী পৃথক পৃথক স্তুপ করলাম এবং তাঁকে খবর দিলাম। তিনি তাশরীফ আনলেন এবং খেজুরের মাঝখানে বসে গেলেন। অতপর তিনি বললেন, "ঋণদাতাদেরকে মেপে মেপে দেয়া শুরু করো।"
জাবের (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন যে, তিনি সকল ঋণদাতাদেরকে মেপে মেপে খেজুর দিলেন এবং সকলের ঋণ পরিশোধ করলেন। কিন্তু খেজুরের স্তূপ তারপরও যেমন ছিল তেমনই পড়ে রইলো। যেন তাতে কোন কমতি হয়নি।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সফরের খানা

📄 সফরের খানা


ইমাম বুখারী (রাঃ) আবু নু'মান থেকে, তিনি মু'তামার বিন সুলায়মান থেকে, তিনি নিজের পিতা থেকে এবং তিনি আবু ওসমান থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুর রহমান বিন আবু বকর (রাঃ) তাকে এই ঘটনা শুনিয়েছেন, "আমরা একশ ৩০ জন সাহবী (রাঃ) নবী করিমের (সাঃ) সঙ্গে সফরে গিয়েছিলাম। একস্থানে হুজুর (সাঃ) আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদের কারোর নিকট কি কোন খাবার বস্তু আছে?"
এক ব্যক্তির নিকট এক ছা' পরিমাণ আটা ছিল। সেই আটা গলানো হলো। তৎক্ষণাৎ এক লম্বা বেঢঙ্গা উস্কো খুস্কো চেহারার একজন মুশরিক বকরীর পাল নিয়ে উপস্থিত হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "এইসব বকরী কি বিক্রির জন্য না উপঢৌকনের জন্য?" সে বললো, "বিক্রির জন্য"। তিনি (সাঃ) তার নিকট থেকে একটি বকরী কিনে নিলেন। তা জবেহ করা হলো এবং গোশত তৈরী হয়ে গেলো। হুজুর (সাঃ) বললেন, বকরীর কলিজা এবং গুরদা ভুনা হোক। ভুনার পর হুজুর (সাঃ) প্রত্যেককে তা থেকে গোশতের টুকরা কেটে কেটে দিলেন। যারা সেখানে উপস্তিত ছিলেন তাদেরকে তা দিয়ে দেয়া হলো এবং যারা অনুপস্থিত ছিলেন তাদের অংশ রেখে দেয়া হলো।
অবশিষ্টদের গোশত নাম বলে পিয়ালায় রাখা হলো। আমরা দু পেয়ালা খেলাম এবং সকলেই আসুদাহ হয়ে গেলেন। দুই পেয়ালা বেঁচে গেলো। আমরা তা উটে উঠালাম এবং রওয়ানা দিলাম।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সমুদ্রে সফরকারিণী

📄 সমুদ্রে সফরকারিণী


হযরত ইমাম বুখারী (রাঃ) আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে এবং তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, "রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হযরত উম্মে হারাম (রাঃ) বিনতে মিলহানের বাড়ী যাতায়াত করতেন এবং তিনি হুজুরের (সাঃ) জন্য খাবার তৈরী করে পেশ করতেন (উম্মে হারাম হযরত উবাদাহ (রাঃ) বিন সামাতের স্ত্রী এবং হযরত আনাসের (রাঃ) খালা ছিলেন)। একদিন রাসূলে পাক (সাঃ) তাঁর নিকট তাশরীফ আনলেন। তিনি খাবার খাওয়ালেন। অতপর হুজুরের (সাঃ) মাথার চুল বিলি দিয়ে দেখতে লাগলেন উকুন আছে কিনা। হুজুর (সাঃ) ইত্যবসরে ঘুমিয়ে গেলেন। যখন তাঁর ঘুম ভাঙ্গলো তখন তিনি হাসছিলেন।”
হযরত উম্মে হারাম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসছিলেন কেন?” তিনি বললেন, "নিদ্রায় আমাকে আমার উম্মতের কিছু যুদ্ধ দেখানো হয়। তারা জিহাদের খাতিরে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে সফর রত ছিলেন। এই সফর ঠিক তেমন যেমন বাদশাহ সিংহাসনে বসে থাকেন।” তিনি আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য দোয়া করুন, যাতে আমি তাদের সঙ্গে জিহাদে অংশ নিতে পারি।" হুজুর (সাঃ) তাঁর জন্য দোয়া করলেন। অতপর তিনি পুনরায় নিদ্রা গেলেন। এবারও তিনি ঘুম থেকে জেগে হাসতে লাগলেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কোন কথায় হাসছেন?” তিনি পুনরায় প্রথম কথা অর্থাৎ মুজাহিদদের সামুদ্রিক সফরে রওয়ানা হওয়ার কথা বললেন। হযরত উম্মে হারাম (রাঃ) পুনরায় তাঁর জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য দোয়া করার কথা বললেন। তিনি বললেন, "তুমি সেই মুজাহিদদের প্রথম কাতারে রয়েছ।"
হযরত আমীর মাবিয়ার (রাঃ) শাসনকালে একটি নৌবাহিনী যুদ্ধে রওয়ানা হলো। হযরত উম্মে হারাম (রাঃ) সেই বাহিনীতে শামিল ছিলেন। যখন নৌকাটি একটি বন্দরে থামলো এবং সৈন্যরা মাটিতে নেমে এলো তখন হযরত উম্মে হারাম (রাঃ) নিজের সওয়ারী থেকে পড়ে গেলেন এবং শাহাদত প্রাপ্তা হলেন। কাবরাস উপত্যকায় তার কবর রয়েছে।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 উমাইয়া বিন খালফকে হত্যা

📄 উমাইয়া বিন খালফকে হত্যা


ইমাম বুখারী (রাঃ) অনেক সনদ বর্ণনা করে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের (রাঃ) মুখ দিয়ে এই রাওয়ায়েত নকল করেছেন, "সায়াদ বিন মায়াজ (রাঃ) বদরের কিছুদিন পূর্বে ওমরা করার জন্য মক্কা মুকাররামা গেলেন। তিনি উমাইয়া বিন খালফের মেহমান ছিলেন। উমাইয়াও সিরিয়া সফরের সময় মদিনা মুনাওয়ারাতে সায়াদ (রাঃ) বিন মায়াজের মেহমান হতেন। উমাইয়া নিজের মেহমানকে বললো, "রাত গভীর হতে দাও। লোকজন যখন বাড়ী চলে যাবে তখন হেরেম শরীফ গিয়ে তাওয়াফ করে নিও।”
হযরত সায়াদ (রাঃ) তাওয়াফ করছিলেন। এমন সময় আবু জেহেল এসে উপস্থিত। সে বললো, "এ কে তাওয়াফ করছে? হযরত সায়াদ (রাঃ) জবাব দিলেন, "আমি সায়াদ বিন মায়াজ।” আবু জেহেল ক্রোধান্বিত হয়ে বললো, "তোমরা মুহাম্মদ (সাঃ) ও তার সাথীদেরকে নিজেদের নিকট আশ্রয় দিয়ে রেখেছো। তারপরও এই সাহস কোথেকে এলো যে, তুমি এখানে নির্ভয়ে তাওয়াফ করছো?” তিনি বললেন হ্যাঁ, এ রকমই।
উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়ে গেল। উমাইয়া সায়াদকে (রাঃ) বললো, "আবুল হাকামের সামনে উঁচু গলায় কথা বলো না। সে এই উপত্যকার সরদার।” হযরত সায়াদ (রাঃ) তার কোন পরওয়া না করে বললেন, "খোদার কসম! তুমি যদি আমাকে তাওয়াফ করায় বাধা দাও তাহলে আমি তোমার বানিজ্যিক কাফেলা সিরিয়া গমনে বাধা দেবো।"
উমাইয়া হযরত সায়াদকে (রাঃ) অব্যাহত ভাবে কণ্ঠস্বর উঁচু করতে নিষেধ করলেন। সে হযরত সায়াদের (রাঃ) হাতও ধরলো। হযরত সায়াদের (রাঃ) ছিল সুক্ষ্ম মর্যাদাবোধ। তিনি রাগান্বিত হয়ে উমাইয়াকে বলতে লাগলেন, "আরে যা যা। নিজের কাজ কর। আমার তোর নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। আমি মুহাম্মমদকে (সাঃ) বলতে শুনেছি যে, সে তোমাকে হত্যা করবে।" উমাইয়া বললো, "সেকি আমাকে হত্যা করবে?" "হযরত সায়াদ (রাঃ) বললেন, "হ্যাঁ, তোমাকে কতল করবে।"
উমাইয়া বললো, "খোদার কসম। মুহাম্মদ (সাঃ) কখনো মিথ্যা বলেন নি* তারপর সে নিজের স্ত্রীর কাছে এলো এবং তাকে হযরত সায়াদের (রাঃ) কথা বললো। সেও শুনে বললো, "খোদার কসম! মুহাম্মদ (সাঃ) কখনো মিথ্যা কথা মুখ দিয়ে বের করেননি।”
বদরের যুদ্ধে গমনের জন্য কোরাইশরা যখন ঢ্যাঁড়া পিটে দিল তখন উমাইয়ার স্ত্রী তাকে স্মরণ করিয়ে দিল, "তোমার ইয়াসরাবী ভাই যা বলেছিল তা তোমার স্মরণ আছে কি? উমাইয়া সে কথা স্মরণ করে যুদ্ধে গমনের ইচ্ছা পরিত্যাগ করলো। আবু জেহেল এ কথা জানতে পেরে তার নিকট এলো এবং বললো, "তুমি উপত্যকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তুমি যদি না যাও তাহলে আর কে যাবে? তুমি আমাদের সঙ্গে এক-দুদিনের রাস্তা পর্যন্ত চলো। তার পর চুপিসারে ফিরে এসো।”
সে তাদের সঙ্গে চললো এবং বদরে পৌঁছলো। সেখানে সে নিহত হলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00