📄 রাসূলের (সাঃ) দোয়া
ইমাম বুখারী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর থেকে আবু ওমর, তাঁর থেকে ইসহাক বিন আবি তালহা এবং তাঁর থেকে হযরত আনাস বিন মালিক এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। হুজুরের (সাঃ) যুগে প্রচন্ড দূর্ভিক্ষ পড়লো। এক জুমার দিনে রাসূলে পাক (সাঃ) খুতবা দান শুরু করলেন। এ সময়ে একজন গ্রামবাসী দাঁড়িয়ে গেল। সে বললো, "ধন সম্পদ ও চতুষ্পদ জন্তু সবই হালাক হয়ে গেছে এবং পরিবার পরিজন ক্ষুধার তাড়নায় অস্থির হয়ে আছে। হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য বৃষ্টির দোয়া করুন।"
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, "রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দোয়ার জন্য হাত তুললেন। দূর দূর পর্যন্ত আকাশের কোথাও মেঘের নাম-নিশানা ছিল না। সেই সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার জীবন। তিনি হাত তখনও নামাননি। এমন সময় আকাশে বড় বড় মেঘ ছেয়ে গেল। তিনি মিম্বর থেকে না নামতেই আমি বৃষ্টি হতে দেখলাম এবং দেখলাম রাসূলের (সাঃ) পবিত্র দাড়ি বেয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়তে লাগলো। এমনকি পরবর্তী জুমা এসে গেলো।”
এই জুমায় সেই বেদুঈন অথবা অন্য কোন গ্রামবাসী দাড়াঁলো এবং বললো, "হে আল্লাহর রাসূল। বাড়ী-ঘর পড়ে গেছে। সম্পদ ও জন্তু জানোয়ার ডুবে যাচ্ছে। আপনি আমাদের জন্য দোয়া করুন।"
হুজুর (সাঃ) হাত তুললেন এবং দোয়া করলেন, "হে মাওলা। এই বৃষ্টি আশে-পাশের শুকনো এলাকায় বর্ষণ করুন এবং আমাদের ওপর বর্ষণ করবেন না।" অতপর তিনি মেঘমালার দিকে যে দিকেই ইঙ্গিত করলেন তা সেদিকেই চলে গেলো। মদীনা পুকুর হয়ে গিয়েছিল এবং উপত্যকায় মাস যাবৎ পানির প্রবাহ অব্যাহত ছিল। কোন দিক থেকে যে কেউই আসতো মুষলধারে বৃষ্টির খবর দিত।
📄 জাবেরের (রাঃ) পিতার ঋণ
সহিহ বুখারীতে ইমাম বুখারী (রাঃ) আবদান, জারির, মুগিরাহ, শা'বী এনং জাবের (রাঃ) বিন আব্দুল্লাহর মাধ্যমে এই রাওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন। জাবের (রাঃ) বলেন, "আমার পিতা আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম ওহোদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন এবং তাঁর কিছু ঋণ ছিলো। আমি হুজুরের (সাঃ) নিকট আরজ করলাম যে তিনি যেন আমার পিতার ঋণদাতাদের নিকট তেকে ঋণ মাফ করে দেন। হুজুর (সাঃ) তাদের সঙ্গে কথা বললেন। কিন্তু তারা ঋণ মাফ করতে রাজি হলো না।
রাসূলে পাক (সাঃ) আমাকে বললেন, "যাও তোমার খেজুর বিভিন্ন শ্রেণীর ভিত্তিতে পৃথক করে স্তূপ করো। তার পর আমাকে ডাকবে।”
আমি তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী খেজুরের মান অনুযায়ী পৃথক পৃথক স্তুপ করলাম এবং তাঁকে খবর দিলাম। তিনি তাশরীফ আনলেন এবং খেজুরের মাঝখানে বসে গেলেন। অতপর তিনি বললেন, "ঋণদাতাদেরকে মেপে মেপে দেয়া শুরু করো।"
জাবের (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন যে, তিনি সকল ঋণদাতাদেরকে মেপে মেপে খেজুর দিলেন এবং সকলের ঋণ পরিশোধ করলেন। কিন্তু খেজুরের স্তূপ তারপরও যেমন ছিল তেমনই পড়ে রইলো। যেন তাতে কোন কমতি হয়নি।
📄 সফরের খানা
ইমাম বুখারী (রাঃ) আবু নু'মান থেকে, তিনি মু'তামার বিন সুলায়মান থেকে, তিনি নিজের পিতা থেকে এবং তিনি আবু ওসমান থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুর রহমান বিন আবু বকর (রাঃ) তাকে এই ঘটনা শুনিয়েছেন, "আমরা একশ ৩০ জন সাহবী (রাঃ) নবী করিমের (সাঃ) সঙ্গে সফরে গিয়েছিলাম। একস্থানে হুজুর (সাঃ) আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদের কারোর নিকট কি কোন খাবার বস্তু আছে?"
এক ব্যক্তির নিকট এক ছা' পরিমাণ আটা ছিল। সেই আটা গলানো হলো। তৎক্ষণাৎ এক লম্বা বেঢঙ্গা উস্কো খুস্কো চেহারার একজন মুশরিক বকরীর পাল নিয়ে উপস্থিত হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "এইসব বকরী কি বিক্রির জন্য না উপঢৌকনের জন্য?" সে বললো, "বিক্রির জন্য"। তিনি (সাঃ) তার নিকট থেকে একটি বকরী কিনে নিলেন। তা জবেহ করা হলো এবং গোশত তৈরী হয়ে গেলো। হুজুর (সাঃ) বললেন, বকরীর কলিজা এবং গুরদা ভুনা হোক। ভুনার পর হুজুর (সাঃ) প্রত্যেককে তা থেকে গোশতের টুকরা কেটে কেটে দিলেন। যারা সেখানে উপস্তিত ছিলেন তাদেরকে তা দিয়ে দেয়া হলো এবং যারা অনুপস্থিত ছিলেন তাদের অংশ রেখে দেয়া হলো।
অবশিষ্টদের গোশত নাম বলে পিয়ালায় রাখা হলো। আমরা দু পেয়ালা খেলাম এবং সকলেই আসুদাহ হয়ে গেলেন। দুই পেয়ালা বেঁচে গেলো। আমরা তা উটে উঠালাম এবং রওয়ানা দিলাম।
📄 সমুদ্রে সফরকারিণী
হযরত ইমাম বুখারী (রাঃ) আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে এবং তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, "রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হযরত উম্মে হারাম (রাঃ) বিনতে মিলহানের বাড়ী যাতায়াত করতেন এবং তিনি হুজুরের (সাঃ) জন্য খাবার তৈরী করে পেশ করতেন (উম্মে হারাম হযরত উবাদাহ (রাঃ) বিন সামাতের স্ত্রী এবং হযরত আনাসের (রাঃ) খালা ছিলেন)। একদিন রাসূলে পাক (সাঃ) তাঁর নিকট তাশরীফ আনলেন। তিনি খাবার খাওয়ালেন। অতপর হুজুরের (সাঃ) মাথার চুল বিলি দিয়ে দেখতে লাগলেন উকুন আছে কিনা। হুজুর (সাঃ) ইত্যবসরে ঘুমিয়ে গেলেন। যখন তাঁর ঘুম ভাঙ্গলো তখন তিনি হাসছিলেন।”
হযরত উম্মে হারাম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসছিলেন কেন?” তিনি বললেন, "নিদ্রায় আমাকে আমার উম্মতের কিছু যুদ্ধ দেখানো হয়। তারা জিহাদের খাতিরে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে সফর রত ছিলেন। এই সফর ঠিক তেমন যেমন বাদশাহ সিংহাসনে বসে থাকেন।” তিনি আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য দোয়া করুন, যাতে আমি তাদের সঙ্গে জিহাদে অংশ নিতে পারি।" হুজুর (সাঃ) তাঁর জন্য দোয়া করলেন। অতপর তিনি পুনরায় নিদ্রা গেলেন। এবারও তিনি ঘুম থেকে জেগে হাসতে লাগলেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কোন কথায় হাসছেন?” তিনি পুনরায় প্রথম কথা অর্থাৎ মুজাহিদদের সামুদ্রিক সফরে রওয়ানা হওয়ার কথা বললেন। হযরত উম্মে হারাম (রাঃ) পুনরায় তাঁর জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য দোয়া করার কথা বললেন। তিনি বললেন, "তুমি সেই মুজাহিদদের প্রথম কাতারে রয়েছ।"
হযরত আমীর মাবিয়ার (রাঃ) শাসনকালে একটি নৌবাহিনী যুদ্ধে রওয়ানা হলো। হযরত উম্মে হারাম (রাঃ) সেই বাহিনীতে শামিল ছিলেন। যখন নৌকাটি একটি বন্দরে থামলো এবং সৈন্যরা মাটিতে নেমে এলো তখন হযরত উম্মে হারাম (রাঃ) নিজের সওয়ারী থেকে পড়ে গেলেন এবং শাহাদত প্রাপ্তা হলেন। কাবরাস উপত্যকায় তার কবর রয়েছে।