📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা 📄 খেজুর বৃক্ষের হারতাম

📄 খেজুর বৃক্ষের হারতাম


ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, কুতাইবা বিন সাঈদ ইয়াকুব বিন আব্দুর রহমান আল ইসকানদার রানী থেকে এবং তিনি আবু হাযেম বিন দিনার থেকে শুনেছেন যে, কিছু মানুষ হযরত সাহাল বিন সায়াদুস সায়েদীর (রাঃ) নিকট এলো। তারা পরস্পর রাসুলের (সঃ) মিম্বর সম্পর্কে আলোচনা করছিল। এই মিম্বর কি কাঠ দিয়ে বানানো হয়েছিল? তাই তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল। তারা যখন হযরত সাহালকে (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন তখন তিনি জবাব দিলেন, "খোদার কসম! আমি ভালোভাবে জানি যে এই মিম্বর কি কাঠ দিয়ে বানানো হয়েছিল। যেদিন এটা তৈরী হয়ে এসেছিল এবং হুজুর (সঃ) প্রথমবার তার ওপর তাশরীফ রেখেছিলেন সেদিন অমি সেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলাম।”
প্রিয় নবী (সঃ) জনৈক মহিলার নিকট একজনকে প্রেরণ করেছিলেন। উদ্ধেশ্য ছিল তিনি তার কাঠমিস্ত্রি গোলামকে দিয়ে মিম্বর বানিয়ে দেয়। যাতে খুতবা দানের সময় তিনি এই মিম্বরের ওপর বসতে পারেন। মহিলাটি জঙ্গলের সর্বোত্তম কাঠ দিয়ে মিম্বর তৈরীর জন্য গোলামকে নির্দেশ দিলেন। সুতরাং সে মিম্বর তৈরী করলো এবং সেই মহিলা সাহাবী তা মসজিদে পাঠিয়ে দিলেন। মিম্বরটি সেখানে রাখা হলো। অতপর আমি হুজুরে আকরামকে (সঃ) সেই চবুতরাসদৃশ মিম্বরের ওপর নামায পড়তে দেখলাম। নামায শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে বললেনঃ
"হে লোকেরা! এই উচু মিম্বর এজন্য তৈরী করা হয়েছে যে, তোমরা আমার ইমামতে নামায পড়বে এবং আমাকে নামায পড়তে দেখে নামাযের তালিম নেবে।"
ইমাম বুখারী (রঃ) হযরত জাবের বিন (রাঃ) আব্দুল্লাহর রাওয়ায়েতের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, একজন মহিলা আনসার সাহাবী হুজুরের (সঃ) নিকট আরজ করলেন যে, তাঁর একজন কারিগর গোলাম অছে। এই গোলাম কাঠের নিপূণ কাজ করতে পারে। সুতরাং আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে তাকে দিয়ে একটি মিম্বর বানিয়ে দিই। খুতবা বা ভাষণদানের সময় আপনি তার ওপর বসে খুতবা দিতে পারবেন। হুজুর (সঃ) বললেন, "তুমি যা চাও।”
তিনি বললেন, সেই মহিলা মিম্বর বানিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। জুময়ার দিনে প্রিয় নবী (সঃ) সেই মিম্বরের ওপর বসলেন। এ সময় খেজুরের সেই ডাল যার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি খুতবা দিতেন কাঁদতে লাগলো। তার চিৎকার ও আহাজারি এত করুণ ছিল যে, মনে হতো যেন দুঃখে সে ফেঠে পড়বে।
হুজুর (সঃ) মিম্বর থেকে নেমে সেই ডালকে ধরলেন। অতপর তাকে নিজের শরীরের সঙ্গে লাগালেন। সে চুপ মেরে গেল। কিন্তু ক্রন্দনরত শিশু যেমন চুপমারার হিচকী টানতে থাকে তেমনি তার হিচকী চলছিলোই।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা 📄 রাসূলের (সাঃ) দোয়া

📄 রাসূলের (সাঃ) দোয়া


ইমাম বুখারী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর থেকে আবু ওমর, তাঁর থেকে ইসহাক বিন আবি তালহা এবং তাঁর থেকে হযরত আনাস বিন মালিক এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। হুজুরের (সাঃ) যুগে প্রচন্ড দূর্ভিক্ষ পড়লো। এক জুমার দিনে রাসূলে পাক (সাঃ) খুতবা দান শুরু করলেন। এ সময়ে একজন গ্রামবাসী দাঁড়িয়ে গেল। সে বললো, "ধন সম্পদ ও চতুষ্পদ জন্তু সবই হালাক হয়ে গেছে এবং পরিবার পরিজন ক্ষুধার তাড়নায় অস্থির হয়ে আছে। হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য বৃষ্টির দোয়া করুন।"
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, "রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দোয়ার জন্য হাত তুললেন। দূর দূর পর্যন্ত আকাশের কোথাও মেঘের নাম-নিশানা ছিল না। সেই সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার জীবন। তিনি হাত তখনও নামাননি। এমন সময় আকাশে বড় বড় মেঘ ছেয়ে গেল। তিনি মিম্বর থেকে না নামতেই আমি বৃষ্টি হতে দেখলাম এবং দেখলাম রাসূলের (সাঃ) পবিত্র দাড়ি বেয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়তে লাগলো। এমনকি পরবর্তী জুমা এসে গেলো।”
এই জুমায় সেই বেদুঈন অথবা অন্য কোন গ্রামবাসী দাড়াঁলো এবং বললো, "হে আল্লাহর রাসূল। বাড়ী-ঘর পড়ে গেছে। সম্পদ ও জন্তু জানোয়ার ডুবে যাচ্ছে। আপনি আমাদের জন্য দোয়া করুন।"
হুজুর (সাঃ) হাত তুললেন এবং দোয়া করলেন, "হে মাওলা। এই বৃষ্টি আশে-পাশের শুকনো এলাকায় বর্ষণ করুন এবং আমাদের ওপর বর্ষণ করবেন না।" অতপর তিনি মেঘমালার দিকে যে দিকেই ইঙ্গিত করলেন তা সেদিকেই চলে গেলো। মদীনা পুকুর হয়ে গিয়েছিল এবং উপত্যকায় মাস যাবৎ পানির প্রবাহ অব্যাহত ছিল। কোন দিক থেকে যে কেউই আসতো মুষলধারে বৃষ্টির খবর দিত।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা 📄 জাবেরের (রাঃ) পিতার ঋণ

📄 জাবেরের (রাঃ) পিতার ঋণ


সহিহ বুখারীতে ইমাম বুখারী (রাঃ) আবদান, জারির, মুগিরাহ, শা'বী এনং জাবের (রাঃ) বিন আব্দুল্লাহর মাধ্যমে এই রাওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন। জাবের (রাঃ) বলেন, "আমার পিতা আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম ওহোদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন এবং তাঁর কিছু ঋণ ছিলো। আমি হুজুরের (সাঃ) নিকট আরজ করলাম যে তিনি যেন আমার পিতার ঋণদাতাদের নিকট তেকে ঋণ মাফ করে দেন। হুজুর (সাঃ) তাদের সঙ্গে কথা বললেন। কিন্তু তারা ঋণ মাফ করতে রাজি হলো না।
রাসূলে পাক (সাঃ) আমাকে বললেন, "যাও তোমার খেজুর বিভিন্ন শ্রেণীর ভিত্তিতে পৃথক করে স্তূপ করো। তার পর আমাকে ডাকবে।”
আমি তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী খেজুরের মান অনুযায়ী পৃথক পৃথক স্তুপ করলাম এবং তাঁকে খবর দিলাম। তিনি তাশরীফ আনলেন এবং খেজুরের মাঝখানে বসে গেলেন। অতপর তিনি বললেন, "ঋণদাতাদেরকে মেপে মেপে দেয়া শুরু করো।"
জাবের (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন যে, তিনি সকল ঋণদাতাদেরকে মেপে মেপে খেজুর দিলেন এবং সকলের ঋণ পরিশোধ করলেন। কিন্তু খেজুরের স্তূপ তারপরও যেমন ছিল তেমনই পড়ে রইলো। যেন তাতে কোন কমতি হয়নি।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা 📄 সফরের খানা

📄 সফরের খানা


ইমাম বুখারী (রাঃ) আবু নু'মান থেকে, তিনি মু'তামার বিন সুলায়মান থেকে, তিনি নিজের পিতা থেকে এবং তিনি আবু ওসমান থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুর রহমান বিন আবু বকর (রাঃ) তাকে এই ঘটনা শুনিয়েছেন, "আমরা একশ ৩০ জন সাহবী (রাঃ) নবী করিমের (সাঃ) সঙ্গে সফরে গিয়েছিলাম। একস্থানে হুজুর (সাঃ) আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদের কারোর নিকট কি কোন খাবার বস্তু আছে?"
এক ব্যক্তির নিকট এক ছা' পরিমাণ আটা ছিল। সেই আটা গলানো হলো। তৎক্ষণাৎ এক লম্বা বেঢঙ্গা উস্কো খুস্কো চেহারার একজন মুশরিক বকরীর পাল নিয়ে উপস্থিত হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "এইসব বকরী কি বিক্রির জন্য না উপঢৌকনের জন্য?" সে বললো, "বিক্রির জন্য"। তিনি (সাঃ) তার নিকট থেকে একটি বকরী কিনে নিলেন। তা জবেহ করা হলো এবং গোশত তৈরী হয়ে গেলো। হুজুর (সাঃ) বললেন, বকরীর কলিজা এবং গুরদা ভুনা হোক। ভুনার পর হুজুর (সাঃ) প্রত্যেককে তা থেকে গোশতের টুকরা কেটে কেটে দিলেন। যারা সেখানে উপস্তিত ছিলেন তাদেরকে তা দিয়ে দেয়া হলো এবং যারা অনুপস্থিত ছিলেন তাদের অংশ রেখে দেয়া হলো।
অবশিষ্টদের গোশত নাম বলে পিয়ালায় রাখা হলো। আমরা দু পেয়ালা খেলাম এবং সকলেই আসুদাহ হয়ে গেলেন। দুই পেয়ালা বেঁচে গেলো। আমরা তা উটে উঠালাম এবং রওয়ানা দিলাম।

ফন্ট সাইজ
15px
17px