📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 নজীদ মহিলা

📄 নজীদ মহিলা


তিনি হলেন উম্মে ওয়ারকা বিনতে আবদুল্লাহ বিন হারিছ বিন উয়াইম আনসারিয়া। হুজুরে আকরাম (সঃ) তাঁদের বাড়ীতে প্রায়ই যেতেন এবং তাঁকে শহীদ মহিলা হিসেবে ডাকতেন। বদর যুদ্ধের সময় তিনি হুজুরের (সঃ) নিকট আরজ করেছিলেন, " হে আল্লাহর রাসূল। আমাকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের সুযোগ দিন। আমি আহতদের চিকিৎসা করবো। সম্ভবত আল্লাহ তায়ালা আমাকেও শাহাদাতের মর্যাদা দিতেপারেন।"
হুজুর (সঃ) ইরশাদ করলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাকে শাহাদাত দান করবেন। তুমি বাড়ীতে আরামের সঙ্গে বসে থাকো। তুমি শহীদ।"
হুজুর (সঃ) এই সাহাবিয়াকে নিজের পরিবার পরিজন এবং নিকট প্রতিবেশী মহিলাদেরকে বাড়ীতে জামায়াতের সঙ্গে নামায পড়ানো এবং নিজে ইমামতি করার বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর একজন মুয়াজ্জিনও ছিল। তাঁর নিকট একজন গোলাম এবং একজন দাসী ছিল। তিনি তাদেরকে বলে রেখেছিলেন যে, তাঁর ওফাতের পর তারা আযাদ হয়ে যাবে। তারা উভয়ে ষড়যন্ত্র করে সেই সাহাবিয়াকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এটা ছিল হযরত ওমরের (রাঃ) খিলাফতকাল। তিনি হত্যাকারীদেরকে পাকড়াও করে হাজির করার নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে গ্রেফতার করে আনা হলো এবং শূলে চড়ানো হলো। মদীনায় এটাই ছিল প্রথম ফাঁসি।
হযরত ওমর (রাঃ) উম্মে ওয়ারকার (রাঃ) শাহাদাতে বললেন, "হুজুর (স): ঠিকই বলেছিলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, এসো শহীদের নিকট হাজিরা দিয়ে আসি।"

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 রাসূলে পাকের (সাঃ) জ্ঞাত থাকা

📄 রাসূলে পাকের (সাঃ) জ্ঞাত থাকা


ইমাম বুখারী (রঃ) আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ, মালিক, আবিজ জিনাদ, আ'রাজ এবং হযরত আবু হুরায়রার (রাঃ) মাধ্যম দিয়ে হুজুরের (সঃ) হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ফরমিয়েছেন, "তোমরা কি এখানে আমাকে কিবলামুখী হতে দেখছো। খোদার কসম! আমার নিকট থেকে তোমাদের খুশু এবং খুজু ও রুকু-সিজদা অবশ্যই গোপন থাকেনা। আমি আমার পেছনেও দেখতে পারি।”
ইমাম বুখারী (রঃ) ইয়াহিয়া বিন সালেহ থেকে তিনি ফালিহ বিন সোলায়মান থেকে তিনি হিলাল বিন আলী থেকে তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হুজুর (সঃ) আমাদেরকে নামায পড়ালেন। অতপর তিনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেনঃ "আমি যেভাবে তোমাদেরকে সামনে দেখতে পাই তেমনি তোমাদেরকে নামাযে ও রুকুতে পেছনেও দেখতে পাই।”

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 খেজুর বৃক্ষের হারতাম

📄 খেজুর বৃক্ষের হারতাম


ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, কুতাইবা বিন সাঈদ ইয়াকুব বিন আব্দুর রহমান আল ইসকানদার রানী থেকে এবং তিনি আবু হাযেম বিন দিনার থেকে শুনেছেন যে, কিছু মানুষ হযরত সাহাল বিন সায়াদুস সায়েদীর (রাঃ) নিকট এলো। তারা পরস্পর রাসুলের (সঃ) মিম্বর সম্পর্কে আলোচনা করছিল। এই মিম্বর কি কাঠ দিয়ে বানানো হয়েছিল? তাই তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল। তারা যখন হযরত সাহালকে (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন তখন তিনি জবাব দিলেন, "খোদার কসম! আমি ভালোভাবে জানি যে এই মিম্বর কি কাঠ দিয়ে বানানো হয়েছিল। যেদিন এটা তৈরী হয়ে এসেছিল এবং হুজুর (সঃ) প্রথমবার তার ওপর তাশরীফ রেখেছিলেন সেদিন অমি সেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলাম।”
প্রিয় নবী (সঃ) জনৈক মহিলার নিকট একজনকে প্রেরণ করেছিলেন। উদ্ধেশ্য ছিল তিনি তার কাঠমিস্ত্রি গোলামকে দিয়ে মিম্বর বানিয়ে দেয়। যাতে খুতবা দানের সময় তিনি এই মিম্বরের ওপর বসতে পারেন। মহিলাটি জঙ্গলের সর্বোত্তম কাঠ দিয়ে মিম্বর তৈরীর জন্য গোলামকে নির্দেশ দিলেন। সুতরাং সে মিম্বর তৈরী করলো এবং সেই মহিলা সাহাবী তা মসজিদে পাঠিয়ে দিলেন। মিম্বরটি সেখানে রাখা হলো। অতপর আমি হুজুরে আকরামকে (সঃ) সেই চবুতরাসদৃশ মিম্বরের ওপর নামায পড়তে দেখলাম। নামায শেষ করে তিনি লোকদের দিকে মুখ করে বললেনঃ
"হে লোকেরা! এই উচু মিম্বর এজন্য তৈরী করা হয়েছে যে, তোমরা আমার ইমামতে নামায পড়বে এবং আমাকে নামায পড়তে দেখে নামাযের তালিম নেবে।"
ইমাম বুখারী (রঃ) হযরত জাবের বিন (রাঃ) আব্দুল্লাহর রাওয়ায়েতের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, একজন মহিলা আনসার সাহাবী হুজুরের (সঃ) নিকট আরজ করলেন যে, তাঁর একজন কারিগর গোলাম অছে। এই গোলাম কাঠের নিপূণ কাজ করতে পারে। সুতরাং আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে তাকে দিয়ে একটি মিম্বর বানিয়ে দিই। খুতবা বা ভাষণদানের সময় আপনি তার ওপর বসে খুতবা দিতে পারবেন। হুজুর (সঃ) বললেন, "তুমি যা চাও।”
তিনি বললেন, সেই মহিলা মিম্বর বানিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। জুময়ার দিনে প্রিয় নবী (সঃ) সেই মিম্বরের ওপর বসলেন। এ সময় খেজুরের সেই ডাল যার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি খুতবা দিতেন কাঁদতে লাগলো। তার চিৎকার ও আহাজারি এত করুণ ছিল যে, মনে হতো যেন দুঃখে সে ফেঠে পড়বে।
হুজুর (সঃ) মিম্বর থেকে নেমে সেই ডালকে ধরলেন। অতপর তাকে নিজের শরীরের সঙ্গে লাগালেন। সে চুপ মেরে গেল। কিন্তু ক্রন্দনরত শিশু যেমন চুপমারার হিচকী টানতে থাকে তেমনি তার হিচকী চলছিলোই।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 রাসূলের (সাঃ) দোয়া

📄 রাসূলের (সাঃ) দোয়া


ইমাম বুখারী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর থেকে আবু ওমর, তাঁর থেকে ইসহাক বিন আবি তালহা এবং তাঁর থেকে হযরত আনাস বিন মালিক এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। হুজুরের (সাঃ) যুগে প্রচন্ড দূর্ভিক্ষ পড়লো। এক জুমার দিনে রাসূলে পাক (সাঃ) খুতবা দান শুরু করলেন। এ সময়ে একজন গ্রামবাসী দাঁড়িয়ে গেল। সে বললো, "ধন সম্পদ ও চতুষ্পদ জন্তু সবই হালাক হয়ে গেছে এবং পরিবার পরিজন ক্ষুধার তাড়নায় অস্থির হয়ে আছে। হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য বৃষ্টির দোয়া করুন।"
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, "রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দোয়ার জন্য হাত তুললেন। দূর দূর পর্যন্ত আকাশের কোথাও মেঘের নাম-নিশানা ছিল না। সেই সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার জীবন। তিনি হাত তখনও নামাননি। এমন সময় আকাশে বড় বড় মেঘ ছেয়ে গেল। তিনি মিম্বর থেকে না নামতেই আমি বৃষ্টি হতে দেখলাম এবং দেখলাম রাসূলের (সাঃ) পবিত্র দাড়ি বেয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়তে লাগলো। এমনকি পরবর্তী জুমা এসে গেলো।”
এই জুমায় সেই বেদুঈন অথবা অন্য কোন গ্রামবাসী দাড়াঁলো এবং বললো, "হে আল্লাহর রাসূল। বাড়ী-ঘর পড়ে গেছে। সম্পদ ও জন্তু জানোয়ার ডুবে যাচ্ছে। আপনি আমাদের জন্য দোয়া করুন।"
হুজুর (সাঃ) হাত তুললেন এবং দোয়া করলেন, "হে মাওলা। এই বৃষ্টি আশে-পাশের শুকনো এলাকায় বর্ষণ করুন এবং আমাদের ওপর বর্ষণ করবেন না।" অতপর তিনি মেঘমালার দিকে যে দিকেই ইঙ্গিত করলেন তা সেদিকেই চলে গেলো। মদীনা পুকুর হয়ে গিয়েছিল এবং উপত্যকায় মাস যাবৎ পানির প্রবাহ অব্যাহত ছিল। কোন দিক থেকে যে কেউই আসতো মুষলধারে বৃষ্টির খবর দিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00